somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আহারে আমার দেশী ভাই!

০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০১৮ সন্ধ্যা ৭:২৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

তখনও বিদেশে আসবার সিদ্ধান্ত নেই নি। বরং আব্বা মাঝে মধ্যে বিদেশ যেতে বললেই কষ্ট লাগতো। না পারতাম আব্বার কথা রাখতে; না পারতাম বিদেশে যাবার জন্য মনকে রাজি করাতে। তখন, হ্যাঁ, তখন মাঝে মধ্যে ভাবতাম যে বিদেশে বসে কেউ যদি দেশী ভাই, অর্থাৎ বাংলাদেশের মানুষ পায়, তাহলে নিশ্চই খুব খুশি হয়। দু চারটা শব্দ তো বাংলায় বলা যায়।

এরপর এক সময় আব্বার ইচ্ছার বিরুদ্ধে লড়াই করা বন্ধ করে আমার নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে লড়াই করে আমি বিদেশের মাটিতে। প্রথম প্রথম কেউ সরাসরি কিছু বলে নি; কিন্তু বেশ ভালো করেই বুঝতে পারলাম যে আমার ধারণা বেশ খানিকটাই মিথ্যা। আমি যেখানে এসেছি এখানে বাংলাদেশীদের ছড়াছড়ি! তবে সবাই কেমন যেন একজন থেকে আর একজন দৌড়ে পালাতে চায়। এর কারণ আমি নিজেই ব্যাখ্যা করবার চেষ্টা করতেছিলাম, তখনই আমার সামনে একটা ঘটনা ঘটল।

এক বড় ভাইয়ের সাথে গিয়েছিলাম একটা জিনিষ কিনতে। দোকানদার ভাই বাংলাদেশী। তিনি খুব করে গল্প করলেন, আর বললেন যে ভাই, এই জিনিষ তো এদেশের লোকের কাছে ৮০-১০০ রিয়ালে বিক্রি করি; আপনি দেশী ভাই, আমাকে ৫০ রিয়াল দেন। তো ৫০ রিয়াল দিয়ে আমরা দাড়িয়ে গল্প করছি; আর তখনই ঘটল এক চরম কাকতালীয় ঘটনা!

এক সৌদী এসে দোকানদার ভাইকে বললো যে, ঠিক আছে, ৩০ বলছিলি ৩০ই সই; দে আমাকে ঐটা! প্রথমে আমি বুঝতে পারি নাই। পরে যখন বাংলাদেশী ভাই সেলফ থেকে ঐ একই জিনিষ, যেটা আমরা কিনেছি ৫০ রিয়াল দিয়ে, সেটাই বের করে দিলো এবং ঐ ভদ্রলোক ৩০ রিয়াল দিয়ে নিয়ে চলে গেলো, তখন বুঝলাম ঘটনা।

কিন্তু আমরাতো ভাই বাংলাদেশী। আমাদের কে দমায় রাখবে? আমরা কিছু বলার আগে ঐ দোকানদার ভাই বলে উঠলেন, দেখলেন ভাই; কত্ত বড়ো বোকা! ওরে বলছিলাম ৬০ টাকা দিয়ে অরিজিনালটা নিয়ে যেতে, যেটা আপনাদের দিছি ৫০ রিয়ালে; কিন্তু সে ৩০ রিয়াল দিয়ে ডুপ্লিকেটটা নিয়ে চলে গেলো! ডুপ্লিকেটটা তো বেশী দিন টিকবে না; ওরা বুঝে না।

আর একটা ঘটনা বলি; এইতো গত সপ্তাহের কথা। আমি যে অফিসে আছি, এখানে আমরা মোট ৪জন বসি; যদিও অফিস আসলে ২টি; মানে ২জনের ২টা প্রোজেক্ট; কিন্তু অফিস এক সাথে নেওয়া। খরচ কমাতে। আমার অফিসে আমি একলাই সব; আর অন্য অফিসে ৩জন। তো আমরা প্রতিদিনই সকাল ৯-১০টার দিকে হালকা নাস্তা করি; এক একদিন এক একজন কিনতে বের হয়।

আমাদের সাথে দুজন সুদানী, এক জন ইন্ডিয়ান আর আমি বাংলাদেশী। তো এই দুইজন সুদানীর একজন একটা রেষ্টুরেন্ট আবিস্কার করলেন, যেখানে মাতো ২রিয়ালে দুর্দান্ত পরিমানে খাবার দেয়। খেয়ে পেট ভরে যায়। সবাইকে চিনিয়ে দিলেন। ৩য় দিনে আমাদের একটু খটকা লেগেছিলো যে খাবার কি কমে গেলো? ৪র্থ দিন আমি যখন খাবার কিনে নিয়ে আসলাম, মনে হলো খাবার তো আসলেই কম।

আমরা মনের ভুল বলে কাটিয়ে দিলেও দেখা গেলো পরদিনই আবার খাবার বেশী। এবার আমরা এনালাইসিস করতে বসলাম। দেখা গেলো সুদানী কেউ গেলে রুটির মধ্যে মোট ৩ আইটেম ভরে; ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, আর্ধেক ডিম আর তামিয়া নামে একটা খাবার। সাথে কিছু সালাদ, সস (সাত্তা বলে) আর ক্যাচাপ। ইন্ডিয়ান ভাই আনলে দেখা গেলো ফ্রেঞ্চ ফ্রাই গায়েব। আর আমি যখন বাংলাদেশী আনতে গেলাম, ডিম আর ফ্রেঞ্চফ্রাই দুইটাই গায়েব। এর বদলে খালি তামিয়া; আর দাগা চুত্তি সালাদ আর খালি সস (সাত্তা)! ক্যাচাপও দেয় নাই।

জ্বী, ঠিক ধরেছেন; ঐ রেষ্টুরেন্টটা ১০০% বাংলাদেশী দ্বারা পরিচালিত। তো আমি উনাদের জিজ্ঞাসা করলাম ঘটনা কি? এত কম কেন? তারা বলে ২রিয়ালে এই তো অনেক! তারা নাকি সাধারণত এটা বিক্রিই করে না; ২রিয়ালে পোশায় না।

পরদিন আমরা ২জন (সুদানী আর আমি) এক সাথে রওনা দিলাম। টেষ্ট হবে কড়া টেষ্ট। প্রথমে পাঠানো হলো সুদানী ভাইকে পাঠালাম, তিনি আনলেন; আর আমি গেলাম আমিও আনলাম। এবার রেষ্টুরেন্টে দুজন এক সাথে ঢুকে দেখায় বললাম কোনটার দাম কত? তাদের মধ্যে দুজন উত্তর দিতে পারলো না; একজন বললো ওটার দাম (সুদানী ভাই যেটা নিয়েছেন) আসলে ৪ রিয়াল, ভুলে ২ রিয়াল রেখেছি। আপনার (আমাকে যেটা দিয়েছে) হাতে যেটা, সেটার আসল দাম ২রিয়াল।

আমিও তো বুঝে বসে গেলাম, আসলেই ওরা ভুল করেছে। কিন্তু সুদানী ভাই, তো বুঝবার নন। তিনি ঐ মুহুর্তে থাকা এক সৌদীকে জিজ্ঞাসা করলেন যে তার খাবারটায় কয়টা আইটেম; দেখা গেলো ২ রিয়ালে তাকেও ৩টা আইটেমই দিয়েছে!

দেশী ভাই তো, তাই আমাকে দয়া করে করুনা করে ভালোবেসে কম কম খাবার দেয়!

এমন ঘটনা যদি খুঁজেন, তাহলে শত শত নয়, লাখ লাখ পাবেন।

এখন মাঝে মধ্যে ভাবি, এই যদি দেশী ভাইয়ের উপর দরদ হয়, তাহলে চলবে ক্যামনে?
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০১৮ সন্ধ্যা ৭:২৭
৮টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কর্ণফুলী

লিখেছেন এম.. মাহমুদ, ২০ শে অক্টোবর, ২০২১ বিকাল ৩:২৬

কৃতজ্ঞ, অকৃতজ্ঞ ও কৃতঘ্ন.......

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২০ শে অক্টোবর, ২০২১ সন্ধ্যা ৬:৩২

কৃতজ্ঞ, অকৃতজ্ঞ ও কৃতঘ্নঃ

‘কৃতজ্ঞ’ হচ্ছে- যারা উপকারীর উপকার স্বীকার করেন। ‘অকৃতজ্ঞ’ হচ্ছে যারা উপকারীর উপকার স্বীকার করেন না। ‘কৃতঘ্ন’ হচ্ছে যারা উপকারীর উপকার স্বীকারতো করেনই না, বরং উপকারকারীর ক্ষতি করেন।... ...বাকিটুকু পড়ুন

শীত শুরু হয়েছে, দেখা যাক, কে টিকে থাকে?

লিখেছেন চাঁদগাজী, ২০ শে অক্টোবর, ২০২১ রাত ১০:০৩



**** কেহ ১ জন আমার পোষ্টটাকে রিফ্রেশ করছে; এসব লোকজন কেন যে ব্লগে আসে কে জানে! ****

সেপ্টেম্বর মাসে একটি টিমের সাথে ফুটবল খেলেছি; এই মাসের শেষেদিকে হয়তো... ...বাকিটুকু পড়ুন

চলো সখী বাজারে যাই.....

লিখেছেন জটিল ভাই, ২০ শে অক্টোবর, ২০২১ রাত ১১:০৯



আজ-কাল বাজার করার নেশা জাগে,
বাজারে জিনিসের দাম বড্ড ভালো লাগে।
ছায়াছবিতে দেখতাম হেরোইন দামি,
এখন বাজারেও সেই স্বাদ পাই আমি।
তাইতো দিনে-রাতে যখনই অবসর পাই,
কোনোদিকে না গিয়ে বাজারে ছুটে যাই।
সয়াবিন কিনি না, যেনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাতাস বুঝে ছুইটেন !

লিখেছেন স্প্যানকড, ২১ শে অক্টোবর, ২০২১ রাত ১:৪১

ছবি নেট।

হুমায়ুন আজাদ বলেছিলেনঃ "মানুষের ওপর বিশ্বাস হারানো পাপ, তবে বাঙালির ওপর বিশ্বাস রাখা বিপদজনক! " 

আসলেই তাই! খবরে দেখলাম ইকবাল নামের একজন ব্যক্তি পবিত্র কুরআন মুর্তির কাছে রেখে চলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×