আওয়ামীলীগ কর্মী ইব্রাহিম আহমেদ ভোলার উপনির্বাচনে নির্বাচিত এমপি শাওনের পাজেরো জিপের ভিতরে শাওনেরই লাইসেন্সকৃত পিস্তলের গুলিতে মৃত্যুবরণ করেন। পুলিশ এবং গাড়ির ড্রাইভারের ভাষ্যমতে - ইব্রাহিম শাওনের পাজেরো জিপে রাখা লাইসেন্সকৃত পিস্তল নাড়াচাড়া করতে গিয়ে চোয়ালে গুলিবিদ্ধ হোন। ধরে নিলাম এই ভাষ্যই সঠিক। তাহলে
১। শাওন কেন পিস্তল নিয়ে এমপি হোস্টেলের ৬ নাম্বার ব্লকে প্রবেশ করলো?
২। ধরে নিলাম এমপিরা নিজেদের লাইসেন্সকৃত পিস্তল নিয়ে এমপি হোস্টেলের ব্লকে যেতে পারে। তাহলে পিস্তলটি কেন অসাবধানতাভাবে গাড়িতে রেখে গেলো?
গাড়ী চালক কামাল পুলিশকে জানায়, শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে জিপে করে ( ঢাকা মেট্রো ঘ-১৪-১৪০০) সংসদ সদস্য শাওন ও ইব্রাহীমকে নিয়ে তিনি জাতীয় সংসদ ভবনের ৬ নম্বর ব্লকের সামনে যান। শাওনকে হোস্টেল কক্ষে পৌঁছে দিয়ে তার সঙ্গে ফিরে আসে ইব্রাহিম।
এরপর গাড়ি চালক জিপটি পরিস্কার করতে থাকেন বলে পুলিশকে জানিয়েছেন। এ সময় ইব্রাহীম এসে গাড়িতে রাখা শাওনের লাইসেন্স করা পিস্তল নাড়াচাড়া করার একপর্যায়ে তা থেকে গুলি বেরিয়ে যায় বলে পুলিশকে লিখিতভাবে জানিয়েছে কামাল। সূত্র-বিডিনিউজ
ব্লগাররা ভালোভাবে খেয়াল করুন-শাওনকে হোস্টেলে পৌছে দেওয়ার পর কামাল গাড়ী পরিষ্কার করছিলো। তাহলে ইব্রাহিম কেনইবা গাড়িতে ঢুকে পিস্তল নাড়াচাড়া করতে গেলো?
বলা হচ্ছে ঘটনার সময় নুরুন্নবী সাহেব গাড়ির কাছে ছিলেন না। যখন তিনি গাড়িতে ছিলেন না তখন নিশ্চয়ই কারও না কারও জিম্মায় পিস্তলটা দিয়ে গিয়েছিলেন। গুলিভর্তি পিস্তল তো আর যেখানে-সেখানে ফেলে রেখে যাওয়ার জিনিস নয়। সেই পিস্তল ইব্রাহিম কোথায় পেল। আর সেটা নিয়ে নাড়াচাড়াই বা করতে যাবে কেন? পিস্তল তো খেলনা না।’
সূত্র-প্রথম আলো
কামাল দাবি করেন উনি একটি মাইক্রোবাসে করে গুলিবিদ্ধ ইব্রাহিমকে মেডিকেলে নিয়ে যান। কিন্তু হাসপাতাল কতৃপক্ষ দাবি করেন - গত শুক্রবার রাতে আওয়ামী লীগ কর্মী ইব্রাহিমের লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ফেলে পালিয়ে যায় কয়েকজন লোক।
ধরে নিলাম গাড়ি চালক সঠিক। তাহলে উনি বা সাংসদ শাওন কেনো ইব্রাহিমের পরিবারের সাথে তৎক্ষণাত যোগাযোগ করলোনা?
তাহলে মামলা প্রসঙ্গে বলা যায়- ‘চালকের বিরুদ্ধেই তো মামলা হওয়া উচিত। তিনি ইব্রাহিমের লাশ কেন ঢাকা মেডিকেলে ফেলে এলেন? তিনি কেন পরিবারের কাউকে কিছু জানালেন না? সবাইকে না জানিয়ে তিনি থানায় মামলা করতে গেলেন কী মনে করে? যে চালক হাসপাতালে লাশ ফেলে পালালেন, তিনিই কিনা মামলার বাদী। আর পুলিশই বা মামলা নিল কীভাবে?’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন পুলিশ কর্মকর্তার মাধ্যমে জানা যায়, ইব্রাহিমের মৃত্যুর ব্যাপারে অপমৃত্যু মামলা নিতে থানা পুলিশ প্রথমে আপত্তি জানিয়েছিল। পরে চাপের মুখে পুলিশ মামলা নিতে বাধ্য হয়। সরকারি দলের একজন প্রভাবশালী নেতা ওই ঘটনায় মামলা নেওয়ার জন্য পুলিশের ওপর চাপ প্রয়োগ করেন। তাঁর কারণেই পরিবারের সদস্যদের মামলা না নিয়ে পুলিশ সাংসদের গাড়িচালকের মামলা গ্রহণ করে।
ইব্রাহিমের মৃত্যুর ব্যাপারে যদি এমপি শাওন কিছু না জানতো তাহলে কেনো এই ঘটনায় চালকের বিরুদ্ধে মামলা হলোনা? কেনো একজন প্রভাবশালী চালকের মামলা নিতে পুলিশকে চাপ প্রয়োগ করে? কেনইবা এমপি শাওন মৃতের পরিবারকে ২৫ লাখ টাকা দিতে চাচ্ছে?
এটার একটা সুষ্ঠ তদন্ত হওয়া উচিত।না হলে আমরা যতই সোনার বাংলার স্বপ্ন দেখিনা কেন তা স্বপ্নই থেকে যাবে। আইনের শাসনকে স্বাভাবিকগতিতে প্রতিষ্টা পাওয়াতে হবে। সেজন্য গাড়ী চালকের গ্রেপ্তার দাবি করছি। সুষ্ঠ এবং সঠিক তদন্তের দাবি করছি।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


