মায়ের কঠোর আদেশ ছিলো বাড়িতে কোন গালাগালি চলবেনা। বাবা কথা বলতেন পুরোপুরি পশ্চিমবঙ্গীয় বাংলায়, বাস থেকে তিনি নামতেন না - নাবতেন। আমিও বাড়ির বাইরে যাবার স্বাধীনতা পেতাম কদাচিৎ, আর তাই আমার ভাষাতেও শুদ্ধ বইয়ের মতো বাক্যমালা তৈরী হতো। কখনোই গালি দেবার অবকাশ ছিলো না জীবনে। কুকুরকে কুত্তা বলতেও দ্বিধা ছিলো বেশ, আর তাই পাড়ার বখাটে ছেলেরা যখন গালি দিতো, তাদের সামনে থেকে নাক সিটকে বাউলি কেটে বেড়িয়ে আসতাম কোনমতে।
এসএসসি পরীক্ষার পর পর আমাকে ভালো কলেজে ভর্তি হতে হবে বলে কোচিং শুরু করলাম পুরোদমে। সেই প্রথম আমি মেশার সুযোগ পেলাম বাইরের সেইসব 'পাড়ার' ছেলেদের সাথে। যাদের ছোটবেলায় রাস্তার উপরেই দেখতাম ডাঙ্গুলি খেলে সময় কাটাতে। ওরাও আমার মতোই ভাল কলেজে ভর্তি হবার আশায় দিন কাটাতো।
এসময়টাতেই আমি জীবনের সবচেয়ে নিষিদ্ধ বিষয়টা নিয়ে আবারো ভাবতে শুরু করলাম। নতুন বন্ধুরা আমার সামনেই যখন গোপন যৌনতা নিয়ে কথা বলতো কেমন যেন লাগতো আমার। মায়ের মুখটা মনে পড়তেই, অনেক ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও এড়িয়ে চলার চেষ্টা করলাম ক'দিন। কিন্তু কিছুদিন পর নিজেকে আর আটকে রাখতে পারলাম না। আমিও 'পাড়ার' ছেলেতে পরিণত হলাম। নিজের সেই পুরোন জীবনটাকে চুদি না বলে, নিজেকে পাল্টে ফেলতে শুরু করলাম।
যৌনতাকে কেন গালি হিসাবে ব্যবহার করা হবে তা আমার তখনো খুব একটা মাথায় ঢুকে নি, আজো একই প্রশ্ন রয়ে গেছে প্রাণে। কিন্তু ক্ষোভ প্রকাশের জন্য এর চেয়ে ভাল কোন শব্দ আজ আর মনে পড়ে না। যখন বোকার মতোন কিছু করতে দেখি কাউকে, তাকে আচোদা ছাড়া আর কিছু ভাবতে পারি না। পুরুষ হলে মনে হয় পাছা মারি আর মেয়ে হলে চুদে গাঙ করে দিই।
মনে মনে এমন অনেক কিছুই ভাবি আজকাল। বিড়বিড় করে বলি প্রায়শই। যদিও আজকাল বাংলাটা অনেক সময় বলা হয় না পরিবেশের ভিন্নতায়, তখন চীৎকার করেই বলি - ফাক ইউ!! ফাক দিস সোসাইটি এন্ড অল!!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

