সদ্য পাওয়া একটা বই পড়ে শেষ করতে রাত সাড়ে তিনটা বেজে গেল। টেবিলে রাখা ঠাণ্ডা ভাত কোনোমতে খেয়ে এসে ঘর চেক করে লাইট অফ করে শোয়ে পড়লাম। শোয়ার আগে ঘর চেক করি কারণ দরজা প্রায়ই খোলা থাকে আর এ সুযোগে যদি কোনো চোর ঘরে ঢুকে লুকিয়ে থাকে। শোয়ে ঘুম আসছে না। ভাবছি রাত জেগে বই পড়া ছেড়ে দিব, তার পরিবর্তে দিনের বেলায় পড়লে ক্ষতি কি! কিন্তু রাত জেগে বই পড়া আমার ছোট বেলার আভ্যাস, এত সহজে কি ছাড়া যাবে, তারচেয়ে বরং থাক না কিছু বদঅভ্যেস। চোখে কিছুটা ঘুম আসতেই শুনলাম কে যেন আমার চেয়ারটা উল্টে দিয়েছে। আমি পড়লাম বেশ সমস্যায়। শোয়ার সময় ভালো করেই ঘর চেক করে নিয়েছি আর চেয়ার তো নিজে নিজে উল্টে যেতে পারে না। নিশ্চয়ই ভুতের কাজ। যে আমি অলৌকিকতায় ঘোর অবিশ্বাসী সে কিনা পড়ল ভুতের খপ্পরে। হায় হায়! লেপ দেয়ে মুখ ঢেকে মনে মনে ভাবছি কি করা যায়। আচ্ছা লাইট জ্বালিয়ে দিলে কেমন হয়। না, তা টিক হবে না। কিছু অদ্ভুত ঘটনা ঘটছে তা আমাকে আগে বুঝতে হবে। কিছুক্ষণের মধ্যে তীব্র শীত সত্ত্বেও আমি ঘেমে একাকার। আস্তে করে হাত বাড়িয়ে বিছানার নিচে রাখা লাটিটায় এক হাত দিয়ে ধরে আসন্ন যুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়ে অপেক্ষা করছি। এদিকে হার্টবিট বেড়ে বুকের ভেতর যেন হাতুড়ির আঘাত হচ্ছে। এমন সময় মানুষের হাঁটার শব্দ পেলাম। এখনই একশনে যেতে হবে –রেডি! আমি কি তবে ভুতের সাথে যুদ্ধ করতে যাচ্ছি? যাই হোক, শুভকর কিছু যে এগুলো ঘটাবে না তা তো নিশ্চিত। হাঁটার শব্দটা আবার শুনতে পেলাম। আমি শব্দটা ঠাণ্ডা মাথায় নিরীক্ষণ করলাম। আসলে শব্দটা মানুষের হাঁটার না, একটু অন্যরকম। এখন আবার মনে হচ্ছে কেউ যেন আমার বইপত্র নাড়াচাড়া করছে, কি আশ্চর্য। একটা বই টেবিল থেকে ধপ করে পড়ে গেল। আমি একদম রেডি। আর দেরি করা টিক হবে না –একশন! এমন সময় শুনতে পেলাম –ম্যাও!!
হ্যা, পাশের বাসার হুলো বিড়াল।
যদি বিড়ালটা এসব অঘটন ঘটিয়ে আমার আগোচরে কোনোভাবে রুম থেকে পালিয়ে যেতে পারত তবে হয়ত এটাই হত আমার জীবনে ঘটা একমাত্র অলৌকিক ঘটনা।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

