somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আন্তর্জাতিক ভদ্রবেশী অপরাধ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক ভদ্রবেশী সন্ত্রাসবাদিতা (শেষ পর্ব)

০৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০১১ সকাল ১১:১৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

যদিও ভদ্রবেশী সন্ত্রাসবাদীতা সবচে’ নগ্ন ও ন্যাক্যারজনক সন্ত্রাসবাদীতা কিন্তু এটি সত্যিকার অর্থে একটি সৃষ্টিশীল অপরাধ মাধ্যম এবং আমেরিকা তাদের সৃষ্টিশীলতার পরিচয় সফলভাবেই দিয়ে যাচ্ছেন। ৯/১১ ও তৎপরবর্তী সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ প্রকৃতপক্ষে মুসলমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ, শক্তিসম্পদ আহরণ ও বিশ্বজুড়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একনায়কতন্ত্র কায়েমই যার উদ্দেশ্য, উলঙ্গ মিথ্যেকে আশ্রয় করে ইরাক আক্রমণ, প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হুসেনের হাস্যকর বিচার, ওসামা বিন লাদেনের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে যে মেলোড্রামা, আজকাল গোটা বিশ্ববাসীর কাছে খুবই স্বচ্ছ হয়ে উঠেছে কেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এ যুদ্ধ (আগ্রাসন) চালাচ্ছে। হয়ত পিটার জোসেফের পরবর্তী ফিল্মে উঠে আসবে ওসামা বিন লাদেনের মৃত্যু বিষয়ক যে মিথ তৈরি করেছে ওবামা তার পর্দার পেছনে কোন হামলার ফন্দি এবং বিশ্ব আমেরিকার কাছ থেকে একটি বীভৎস ও নৃশংস যুদ্ধবাদী সমাজ ব্যবস্থা উপহার পাচ্ছে অথচ যারা সবচে’ বেশী মানবাধিকারের কথা বলে।
আজকে আমরা যে সভ্যতাকে আধুনিক সভ্যতা বলছি। আমরা মানবিক বিষয়ে অনেক সংবেদনশীল সেটা ঠিক। তারপরও আমাদের পঠন-পাঠন, বিজ্ঞানীদের গবেষণা ও চিন্তা-চেতনার বড় অংশ জুড়ে এখনও রয়েছে কত সহজে, আরো সূক্ষ্মভাবে, আরও নৃশংসভাবে ট্রিগারে এক টিপে কিংবা কম্পিউটারের একটি মাত্র ঈশারায় যাতে অনেকগুলো মানুষকে মেরে ফেলা যায় সেই সব গণবিদ্ধংসী অস্ত্র তৈরি করা। জানি বিষয়টা আপেক্ষিক, তবুও আমরা যদি ধরে নিই, আরো অন্য কিছু বিষয়ের মত সভ্যতার বিকাশেরও একটা সুনির্দিষ্ট সীমারেখা আছে। তাহলে আমরা কী বলতে পারি, আসলে আমরা যে সভ্যতাকে আধুনিক সভ্যতা বলছি তা আধুনিক সভ্যতা নয়। এমন কী এ সভ্যতা হয় আজও পূর্ণতা পায়নি অথবা পূর্ণতা পেয়ে এখন তার নিম্নগামীতা শুরু হয়েছে। কেননা আমরা মানবিক বিষয়গুলো বাদ দিয়ে এখনও স্বজাতিকে যতটা নৃশংসভাবে হত্যা করা যায় তার পেছনেই আমরা আমাদের মেধা, শ্রম ও অর্থ ব্যয় করছি। অন্তত উন্নত বিশ্ব তাই করছে এবং সেই সব অস্ত্র অন্যদের হাতে তুলে দিতেও যথেষ্ট সফল ও কার্যকরী পদক্ষেপ নিয়ে চলেছে। অথচ যাদের হাতে তুলে দিচ্ছে তারা এখনও নিজেদের জন্য একটা সুন্দর রাষ্ট্র ব্যবস্থা ও একটা মজবুত দৃঢ় অর্থনৈতিক ব্যবস্থা প্রণয়নে মরিয়া হয়ে লড়ছে।
National Priorities Project (NPP) হচ্ছে ১৯৮৩ সালে নর্দাম্পটন, ম্যাসাচূয়েটস এ প্রতিষ্ঠিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান যারা মূলত মার্কিন সরকারের খরচের তথ্য বিচার-বিশ্লেষণ করে প্রকাশ করে নাগরিকদের উদ্দেশ্যে যাতে তারা জানতে পারে তাদের প্রদত্ত ভ্যাট-ট্যক্স সরকার কী ভাবে খরচ করে। National Priorities Project (NPP) হিসাব মতে ইরাক ও আফগান যুদ্ধে ২০০১ থেকে আগস্ট ২৪, ২০১১ বিকেল ৪ টা ১৩ মিনিট পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মোট খরচ ১২৩৭৭৫৪৬১৯৪৯ মার্কিন ডলার। অন্যদিকে মার্কিন Center for Defense Information এর মতে ইরাক ও আফগান যুদ্ধের খরচ ২০১১ অর্থ বছরের শেষে গিয়ে দাঁড়াবে ১.২৯ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার।
আরো ভয়াবহ ব্যাপার অস্ত্রের বিক্রেতা ও খরিদ্দারদের চিত্র যদি আমরা দেখি।
২০০২ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত তথ্যচিত্রে দেখা যায় প্রতি বছর বিশ্বের মোট অস্ত্রের ৪০ শতাংশ অস্ত্র বিক্রি করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যার অর্থ মূল্য প্রায় ১৬৬.২৭৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। তেমনিভাবে রাশিয়া ৭৩.৯৬৫ (১৮ শতাংশ), ফ্রান্স ৩৫.১৭৫ (৮ শতাংশ), যুক্তরাজ্য ২৯.৩৭৯ (৭ শতাংশ), জার্মানী ১৯.৭৪২ (৫ শতাংশ), চীন ১৩.৬৫২ (৩ শতাংশ), ইতালী ১২.৫৩১ (৩ শতাংশ), ইউরোপের অন্যান্য রাষ্ট্র ৪৩.৭৫২ (১০ শতাংশ) ও অন্যান্য রাষ্ট্র ২২.৪৫৯ (৫ শতাংশ) বিলিয়ন মার্কিন ডলার
আর এই অস্ত্রের ৪১ শতাংশ যার অর্থমুল্য ১১৭.৭১৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, এর প্রধান খরিদ্দার হচ্ছে উন্নয়নশীল রাষ্ট্রসমূহ যাদের অর্থনৈতিক অবস্থা এখনও অত্যন্ত নাজুক। তেমনিভাবে সৌদি আরব ৩৯.৯ (১৪ শতাংশ), ভারত ৩২.৪ (১১ শতাংশ), সংযুক্ত আরব আমিরাত ১৭.৩ (৬ শতাংশ), মিশর ১৩.৯ (৫ শতাংশ), ভেনেজুয়েলা ১২.৭ (৪ শতাংশ), পাকিস্তান ১২.৫ (৪ শতাংশ), চীন ১১.৭ (৪ শতাংশ), দক্ষিণ কোরিয়া ৯.৮ (৩ শতাংশ), ব্রাজিল ৮.৬ (৩ শতাংশ) ও ইরাক ৮.১ (৩ শতাংশ) বিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থ মুল্যের অস্ত্র ক্রয় করে প্রতি বছর।
আমরা কী পারতাম না আমরা যত অর্থ, মেধা ও শ্রম মৃত্যু ফাঁদ তৈরির পেছনে খরচ করছি বরং তা ব্যয় করার কথা ছিল যথেষ্ট মানবিক বোধ সম্পন্ন একটা সবুজ পৃথিবী গড়ার পেছনে যে পৃথিবীতে মানুষ না খেয়ে মরে না, ধর্মের নামে মানুষ মানুষকে খুন করে না, যদি আমরা সভ্য সমাজের অধিবাসী হয়ে থাকি।

তথ্যসূত্রঃ
Sutherland, Edwin Hardin (1949): White Collar Crime. New York: Dryden Press
Pontell, H. & Tillman, R. (1998): Profit Without Honor: White-collar Crime and the Looting of America. Upper Saddle River, NJ: Prentice Hall
Stiglitz, Joseph E and Bilmes, Linda J: The Three Trillion Dollar War, the true cost of the Iraq conflict
Josepf, Peter: Zeitgeist: The Movie
সমসাময়িক জার্ণাল, আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিষয়ক সাপ্তাহিক।
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে এপ্রিল, ২০১২ রাত ১২:৫১
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

তেল-চাউলে তেলেসমাতি !

লিখেছেন সাইন বোর্ড, ২৪ শে জানুয়ারি, ২০২১ সকাল ১০:২৬


মুদি দোকানে গিয়েছিলাম বিরিয়ানির মসলা কিনতে । দোকানি আমাকে দেখে কিছুটা আফসোস করে বলল,ভাই ফাটাফাটি একটা ব্যবসা চলে গেল, দশ লাখ টাকার সয়াবিন তেল কিনে রাখলে এখন একেবারে লাল... ...বাকিটুকু পড়ুন

শীতের পিঠা ও রস

লিখেছেন মোঃ মাইদুল সরকার, ২৪ শে জানুয়ারি, ২০২১ দুপুর ১২:১৯

১।



পাটি সাপটা ঃ

শীত এলেই পিটা খাওয়ার ধুম পড়ে যায় সারা বাংলাদেশে। এছাড়াও সারা বছরই অল্প-স্বল্প পিঠা বানানো ও খাওয়া হয়। এলাকা বেধে একেক পিঠার একেক নাম আবার বানানো... ...বাকিটুকু পড়ুন

» আলোকচিত্র » বাংলাদেশের ল্যাভেন্ডার ফুল

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ২৪ শে জানুয়ারি, ২০২১ বিকাল ৪:২৪

০১।



এবার শ্বশুর বাড়ীতে এই বেগুনি বুনোফুলের দেখা পেলাম। নাম দিয়েছি বাংলাদেশের ল্যাভেন্ডার। ফসলের ক্ষেতজুড়ে এই ফুল ফুটে আছে। এখানে সেখানে থোকা থোকা বেগুনি ফুল দেখে মনটাই আনন্দে ভরে উঠেছিলো।

একটি ক্ষেত... ...বাকিটুকু পড়ুন

সোহানী আপার জীবন ও জীবিকার গল্প আমার ভীষণ ক্ষতি করে দিয়ে গেলো... :-B

লিখেছেন পদ্ম পুকুর, ২৪ শে জানুয়ারি, ২০২১ বিকাল ৫:৩৯


ছোটবেলা থেকেই ‘আউট বই’ পড়ার মারাত্মক নেশা ছিলো। সে নেশা এমনই যে এসএসসি পরীক্ষা চলাকালীন এক সন্ধ্যায় হুমায়ূনের নতুন একটা বই হাতে আসলো, যেটা আবার পরদিনই ফেরত দিতে হবে, অতএব... ...বাকিটুকু পড়ুন

নতুন প্রেসিডেনট বাইডেন প্রথমদিন মারাত্মক কিছু ভুল করেছেন।

লিখেছেন চাঁদগাজী, ২৪ শে জানুয়ারি, ২০২১ রাত ৮:৪৬



অভিষেকের দিন(২০ই জানু ), বিকেলবেলা হোয়াইট হাউসে ঢুকে জো বাইডেন ১৭ টি এক্সেকিউটিভ অর্ডার সাইন করেছেন; ইহা করে তিনি ভয়ংকর ধরণের বড় ভুল করেছেন বলে আমার মনে হচ্ছে!... ...বাকিটুকু পড়ুন

×