বঙ্গাব্দ ব্যবহার শুরু হয়েছে এদেশের ফসলের মৌসুমকে কেন্দ্র করে। মুঘল সম্রাটদের রাজকার্য পরিচালনার জন্য তা অনিবার্য হয়ে পড়েছিল।
মুঘল সম্রাট আকবর বাংলা সনের প্রচলন করেন। তার সময়ে ভারতবর্ষে প্রচলিত ছিল বেশ কয়েকটি সন। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে শকাব্দ, গুপ্তাব্দ, লক্ষণ সন, বিক্রম সন ইত্যাদি। সনগুলো রাজকার্য পরিচালনার সুবিধার্থে চালু করা হয়েছিল। এর সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক ছিল খুবই কম। প্রচলিত সনগুলোর মধ্যে কোনটা সৌর রীতিতে, আবার কোনোটা চন্দ্র রীতিতে গণনা করা হত। সনগুলোর মধ্যে ছিল দিনক্ষণের গরমিল। সাধারণ মানুষের কাছে দিন ও বছরের হিসাব করে কাজ সম্পন্ন করার বিষয়টি হয়ে উঠেছিল জটিল ও দুরূহ।
সম্রাট আকবর প্রধানত দু’টি কারণে সন পুর্নবিনস্ত করার কথা ভেবেছিলেন। প্রথমত তার আমলে বেশিরভাগ সন গণনা করা হতো চান্দ্র রীতিতে। ভারতীয় গণনা অনুসারে বারোচান্দ্র মাসে ধরা হতো ৩৬০ তিথি। অর্থাত সৌর সনের চেয়ে এক চান্দ্র বছরে দিনের সংখ্যা কম ছিল। এই গরমিল দূর করতে জ্যোতিষীরা তিন বছর অন্তর অন্তর অরিরিক্ত এক মাস যোগ করে দিতেন। এতে সৌর সনের সংগে দিনের ব্যবধান দূর হলও তা কার্যকরভাবে ব্যবহার করার বিষয়টি জনগণের কাছে স্পষ্ট ছিল না। দ্বিতীয়ত সৌর বছরের ব্যবহারও সর্বত্র এক ছিল না। ফলে ভারতবর্ষের জন্য চাদ্র ও সৌর দু’টি সনেরই পুনর্বিন্যাসের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়।
শাহী দরবারে চালু ছিল হিজরি সন। সম্রাট আকবর হিজরি সনের সঙ্গে সংগতি বিধান করে একটি সৌর সন জারির বিধান ঘোষণা করেন। তার ঘোষণানুসারে চাদ্র সনের সঙ্গে সৌর সনের সমন্বয় ঘটিয়ে নতুন সন চালু করা হয়। তখন বাংলায় প্রচলিত ছিল লক্ষন সন। সম্রাট আকবরের নির্দেশে আমীর ফতেহ উল্লাহ সিরাজী নতুন সনের পরিবর্তন ঘটান। সনটি ফসলি সন বা বঙ্গাব্দ হিসাবে চালু হয়।
বাংলায় প্রাচুর্যের উতস ছিল কৃষি সম্পদ। কৃষি কাজকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয়েছে এদেশের জনগণের জীবনধারা। এ কারণে ফসলি সন হিসাবে চালু হয়েছে বঙ্গাব্দ। বঙ্গাব্দের সূচনা পর্বটি নির্ধারণ করার জন্য প্রয়োজন হয় সম্রাট আকবরের সিংহাসনে আরোহণের ইংরেজী সন বা খৃস্টাব্দ এবং হিজরি সন। সম্রাট আকবর সিংহাসনে আরোহন করেন সন ১৫৫৬(খৃ
কৃষি ভিত্তিক বাংলাদেশের বঙ্গাব্দ নাম বিবর্তনের মধ্য দিয়ে একটি সুসংহত রূপ পরিগ্রহণ করে। চৈত্র সংক্রান্তির মধ্য দিয়ে বাংলা মাস শেষ হয়। নতুন বছর শুরু হয় বৈশাখী উতসবের মধ্য দিয়ে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



