পূর্ব প্রকাশের পর-
Click This Link ২য় পর্বের লিংক
ক্যাডেট কলেজ থেকে প্রথম যখন বাড়ি ফিরতাম বন্ধের দিনগুলোকে অনেক মধুর মনে হত।আমার বাসায় অবশ্য সঙ্গী বলতে তেমন কেউ ছিল না।সারাদিন টেলিভিশনে খেলা দেখে আমার সময় কেটে যেত।ক্যাডেট কলেজে যাবার আগে এলাকায় বন্ধু বলতেও তেমন কেউ ছিল না।তাই আমার বসবাস ছিল একা একদম একা।ক্যাডেট কলেজ আমাকে শিখিয়েছে বন্ধুত্ব অর্জন করতে।আমার বন্ধু বাৎসল্যের সূচনা ক্যাডেট কলেজেই।আর যতই সিনিয়র হতে থাকি বাড়ির মত ক্যাডেট কলেজও আমার প্রিয় হয়ে উঠতে থাকে।আমি আমার বন্ধুদের সঙ্গ উপভোগ করতে শুরু করি।ক্যাডেট কলেজের দিন গুলো আমার ভালো লাগতে শুরু করে।
ক্লাশ নাইন ক্যাডেট কলেজের শ্রেষ্ঠ সময়। সেভেনের মত সিনিয়রদের যন্ত্রনা এসময় থাকে না আবার এইটের মত জুনিয়র নিয়েও মাথা ঘামাতে হয় না।পড়ালেখার চাপ থাকে না টুয়েলভ আর টেনের মত আবার ইলেভেনের মত কলেজ প্রশাসনের নজরে পড়তে হয় না।আর আমার বন্ধুদের সাথে থেকে শান্ত সুবোধ বালক থেকে আমি হতে থাকি দুষ্টু চঞ্চল। কিশোরের চাপল্য আমার মাঝে প্রবেশ করতে থাকে অনেকের চেয়ে দেরিতে কিন্তু অনেক দ্রুত।মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজ সাক্ষী আমাদের বহু দূরন্ত অতীতের। কলেজের নিয়ম ভাঙার তাগিদে বৃহস্পতিবার অযথা কলেজ থেকে বের হওয়া ডাইনিং হল থেকে খাবার চুরি করে রাত্রে খাওয়া
কোন অবসর বিকেলে হাসপাতালের পিছনে আম চুরি করতে যাওয়া এসব নৈমিত্তিক ঘটনা হয়ে যেতে লাগল।তা এমনি একদিনের ঘটনা বলি।
বৃহস্পতিবার সেদিন।স্টেজ কম্পিটিশন না থাকায় আমরা ৫ম পিরিয়ডের পর হাউসে।বৃষ্টি নামে নামে ভাব।তো আমাদের মাথায় জোগালো ভিপির বাসার সামনে থেকে আম চুরি করব।অমনি যেমন ভাবা তেমন কাজ।আমরা চারজন বৃষ্টি উপেক্ষা করে রওয়ানা হলাম।আমি আলম আরেফিন আর সাদ ভাই-আমাদের এক ব্যাচ সিনিয়র।সাদ ভাই আর আলম দুজনে মিলে একরকম কাধে ধরে আরেফিনকে গাছে তুলে দিল।আর আমার দায়িত্ব থাকল পাহারা দেয়া কেউ আসে কিনা।এক পা সাদ ভাইয়ের কাধে আর এক পা আলমের কাধে রেখে আরেফিন আম পেড়ে যাচ্ছে।এমন সময় আমি হঠাৎ আমাদের এডজুটেন্ট সাহেবের চকচকে টাক দেখতে পেলাম।গেছি এইবার!এডজুটেন্ট বলে আমি সতর্ক করতেই আলম ভয় পেয়ে পালাবার পথ কুজল আর এতে ব্যালেন্স হারিয়ে আরেফিন গেল পড়ে।জগতের সব দৃশ্যের মধ্যে পতনের দৃশ্যই সবচেয়ে মজার ।আমি হো হো করে হেসে আরেফিনকে ধরতে গেলাম আলম ও ফিরে এসেছে আরেফিনকে সাহায্য করতে।ওদিকে টাক মাথা এসে পড়েছে ধরাছোয়ার দুরত্বে।আমরা ভয়ে ঠান্ডা হয়ে গেলাম।
এমন সময়। তোমরা কা...রা?একি এতো আমাদের সোজা সাপ্টা জা.আলম স্যারের গলা।আসলে স্যারের টাক আর এডজুটেন্টের টাক একরকম বলে আমি গরমিল করে ফেলেছি।আলম এ অবস্থায় বলে উঠলো স্যআর আমি আ..লম।আপনার মিতা।আলম স্যারের ভংগি এমন নকল করল যে হাসি আটকানো দায়।সেই ঘটনার পর অবশ্য সে নিজেই তার নাম আলমের পরিবর্তে জালম করে ফেল্লো।
এভাবে হঠাৎ করে চোখ ফুটা মুরগীর মত হয়ে গেল আমার গতিবিধি। তাই বন্ধে আমার দিন আগের মত সুখময় হচ্ছিলো না।আর তখন টেলিফোন না থাকায় আমার বন্ধুদের সাথে যোগাযোগও সম্ভব ছিল না।বন্ধে কলেজ ফ্রেন্ডের সান্নিধ্য পেতে কোচিং সেন্টার একমাত্র সমাধান বলে মনে হলো।এবং তা আরো লোভনীয় করে দিল আমাদের ছেলেদের থেকে শোনা ম্যাবস নামক কোচিং এর দিনের কথকতা।মাশরুর নামে আমার এক বন্ধু প্থম ম্যাবসের খোজ আনল।ফল হিসাবে ওর নাম হয়ে গেল মঞ্জু আংকেল।সবাই এই নামে ওকে খেপাতাম।তা পরের বার আমি একা হয়ে গেলাম।কেননা বন্ধ থেকে এসে আলম সহ আমার আরো কিছু বন্ধু যারা মাশরুরকে খেপাত তারা ঘোষনা দইল সবাই মঞ্জু আংকেল হয়ে গেছে।অর্থাৎ কিনা সবাই ম্যাবসে পড়ে।সেখানে বিভিন্ন ক্যাডেট কলেজের অনেকে পড়ে।সবচেয়ে হাইলাইটেড হলো অবশ্য গার্লস ক্যাডেটই।
এবার আমার কাছে মনে হতে থাকে বন্ধুগুলো একবন্ধে কেমন যেন বদলে গেছে।কি যেন একটা চেঞ্জ।তা নারীর সান্নিধ্যই বদলে দিয়েছে এই চপল ছেলেগুলোকে।এমনি যাদু তার।সবচেয়ে বদলে গেল আলম ই।তার খাতায় পাতায় লেখা হতে থাকল R+S.ওর ডাকনাম রুশোর আর আর এস কে?জিজ্ঞেস করলে সে কেমন যেন এক রহস্যময় হাসি দেয়।সে আমাকে একটা নাম্বার মনে রাখতে বলল।আমার স্মৃতি শক্তির উপর আস্থা রাখল আর কী?তা এর মাহাত্ম্য টের পেলাম দুইদিন পর।যখন সে চিঠি লিখতে শুরু করল গার্লস ক্যাডেট বরাবর.......।
সে আরেক নতুন গল্পের শুরু।
.....চলবে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


