somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রশ্ন

০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ ভোর ৪:৫৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

লেজার টিউবটা কিট বক্সে রেখে টি-৩২৮৪ উঠে দাঁড়ালো। শরীরের গঠনটা নিঁখুত। সিলঝিনিয়ানের ঝকঝকে দেহ। চৌম্বক এবং তড়িৎ অপরিবাহী হাত। যে কোন মেয়ে রোবটের ইমোশনাল সার্কিটে ব্রেকডাউন ঘটানোর জন্য যথেষ্ট। ফটোসেলের চোখে পুরো গ্যারজটাতে কিছু একটা খুঁজছিলো সে। এমন সময় বিকট শব্দ করে গ্যারেজে ঢুকলো একটা কিউ-৩ মডেলের ঝরঝরা গাড়ি। দড়জাটা শব্দ করে খুলে একটি পঞ্চম প্রজন্মের রোবট বের হয়ে এলো। টি-৩২৪ এর দিকে তাকিয়ে ধমকের সুরে বললো, কাল সকালের মধ্যে আমি আমার গাড়িটা ঠিক দেখতে চাই। বিকটা শব্দ যেন পুরোপুরি দূর হয়ে যায়। মনে থাকে যেন, কালকে সকালের মধ্যে।‘ বলেই ধুপ ধাপ করে গ্যারেজ থেকে বের হয়ে গেলো সে।

কিউ-৩ গাড়িটা দিকে তাকিয়ে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললো টি-৩২৮৪ । কেন যে তাকে একটা মোটরমেকানিক রোবট হিসেবে তৈরী করা হলো।
তারপরও সে মন দিয়ে কাজ কর যায়। কারন তাকে তৈরী্ই করা হয়েছে গাড়ি মেরামত করার জন্য। যেমন ইঞ্জিনিয়ার রোবটদের তৈরী করা হয়েছে হাইওয়ে আর এয়ারওয়ে টিউবগুলো ঠিক করার জন্য, মেডিক রোবটগুলোকে তৈরী করা হয়েছে নষ্ট রোবটগুলোকে ঠিক করার জন্য। নববিংশ শতাব্দীর এই পৃথিবীতে পুরো পৃথিবী জুড়ে যে সত্তর মিলিয়ন রোবট রয়েছে সবাইকেই কোন না কোন কাজে তৈরী করা হয়েছে । যাকে যে কারনে তৈরী করা হয়েছে তাকে তো সে কাজ করতেই হবে।

বিকেল বেলা কাজ শেষে যখন টি-৩২৮৪ যখন তার গ্যারেজ বন্ধ করতে যাবে তখনই গ্যারেজের সামনে একটা গাড়ি এসে থামলো। চতুর্থ প্রজন্মের একটা রোবট গাড়ি থেকে নেমে গাড়ির পেছনের গেটটা খুলে দিলো। সেখান থেকে এক অদ্ভুত জিনিস নামলো। পুরো দেহ ফিনফিনে একটা জিনিস দিয়ে মোড়ানো। চতুর্থ প্রজন্মের রোবটটা টি-৩২৮৪ কে এসে বললো, ‘এই গাড়ির পাওয়ার সেল এ কিছু একটা সমস্যা হয়েছে। দেখে দাও তো।'

টি-৩২৮৪ তখনো অদ্ভুত বস্তুটটার দিতে তাকিয়ে আছে। সে অদ্ভুত জিনিসটার দিকে এগিয়ে গেলো।
-তুমি কোন প্রজাতীর রোবট?
প্রশ্ন শুনে মনে হয় সেটা অবাক হলো।
-আমি রোবট নই।আমি মানুষ।

কি আশ্চর্য! মানুষ।টি-৩২৮৪ আগে কখনো মানুষ দেখেনি। শুনেছে মানুষ বলে এক জাতীয় প্রাণী আছে। তাদের নাকি বেচেঁ থাকার জন্য পাওয়ার সেল কিনতে হয় না। আগে পৃথিবীতে নাকি অনেক অনেক মানুষ ছিলো। এখন বেশীর ভাগই সাইবর্গে পরিনত হয়েছে যারা নানা রকম কাজের সুবিধার জন্য নিজেদেরকে সাইবার্গে পরিবর্তন করেছে।অল্প কিছু মানুষ এখনো আছে। টি-৩২৮৪ আগে অনেক সাইবর্গ দেখেছে। কিন্তু সত্যিকারের মানুষ দেখেনি।

টি-৩২৮৪ অবাক হয়ে মানুষটা কে দেখতে থাকে। হঠাৎ করে একটা প্রশ্ন জাগে তার মাথায়।
-তোমাকে কোন কাজের জন্য তৈরী করা হয়েছে?
মানুষটা অবাক হয়ে তার প্রশ্নে।
-মানে?
-মানে হলো আমাকে যেমন মোটরগাড়ি মেরামতের জন্য তৈরী করা হয়েছে। তেমনি তোমাকে কেন তৈরী করা হয়েছে।
মানুষটা এবার বিরক্ত হলো মনে হয়। আমাকে তো কোন কিছুর জন্য তৈরী করা হয় নি। আমি মানুষ । আমরা আছি বলেই তোমরা রোবটরা তৈরী হয়েছো। আমরাই জ্ঞান বিজ্ঞানের বিকাশ ঘটিয়েছি।
-কিন্তু জ্ঞান বিজ্ঞানের গবেষনার জন্য তো গবেষক রোবট আছে।
-আমরা আছি বলেই শিল্প আছে, গান আছে, কবিতা আছে।
-কিন্তু সাহিত্য তৈরীর জন্যও তো ক্রিয়েটিভ রোবট তৈরী করা হয়েছে। তাহলে তোমাদের কেন তৈরী করা হয়েছে? তোমাদের কাজ কী?

মানুষটা বুঝতে পারে না কি উত্তর দিবে।মানুষটা অবাক হয়ে ভাবতে থাকে আসলেই তো তাকে ঠিক কি কাজের জন্য তৈরী করা হয়েছে। নববিংশ শতাব্ব্দী এই রোবট ময় পৃথিবীতে সে তার কোন প্রয়োজন খুঁজে বের করতে পারে না অনেক ভেবেও।তাই তৃতীয় প্রজন্মের এই সামান্য রোবটের এই অত্যন্ত যৌক্তিক প্রশ্নটার কোন উত্তর সে খুঁজে পায় না।


সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সকাল ১১:১২
২০টি মন্তব্য ২০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

এই তো আছি বেশ

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২১ দুপুর ১২:২১




বেশ হয়েছে বেশ করেছি
কানে দিয়েছি তুলো
জগত সংসার গোল্লায় যাক
আমি বেড়াল হুলো

আরাম করে হাই তুলে
রোজই দেখি পেপার
দেশ ভর্তি অরাজকতা
আচ্ছা!! এই ব্যাপার

কার ঘরেতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাবনিক~২য় পর্ব (তৃতীয় খন্ড)

লিখেছেন শেরজা তপন, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২১ দুপুর ১:৩৯


আগের পর্বের জন্যঃ Click This Link
ভোরের শুরু থেকে রাতের দ্বি-প্রহর পুরোটা সময় আমার এলিনার কাছে পিঠে থাকতে হয়। অল্প বয়সীরা যা হোক আকার ইঙ্গিত আর অতি ভাঙ্গা ইংরেজি বুঝে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অন্বিষ্ট

লিখেছেন শিখা রহমান, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২১ বিকাল ৪:৫৮


আজকাল কোন কিছুই আর অবাক করে না।
রাজপথে ফুটপাতে হেঁটে যাওয়া অগণিত মানুষের গল্প
খুব সাদামাটা মনে হয়;
কোন কবিতাই অবাক করে না আর,
উপমা-উৎপ্রেক্ষা শব্দের ব্যাঞ্জনা আশ্চর্য করে না আজকাল।

মহামারীতে উজাড় হয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কথায় কথায় ধর্মকে গালি ও উপহাস করবেন না.........

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২১ বিকাল ৫:১২

কথায় কথায় ধর্মকে গালি ও উপহাস করবেন না.........

ধর্মীয় উগ্রবাদ ও সংখ্যালঘুদের উপর অনাকাংখিত হামলার জন্য যে কোন ধর্মকে গালাগালি করা বা ধর্মকে দোষারোপ করা বন্ধ করুন।

১। মুসলমানদের মধ্যে একদল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্মীয়গ্রন্হ কে কিনতে পারবে, বহন করতে পারবে, কোথায় রাখতে পারবে?

লিখেছেন চাঁদগাজী, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২১ সন্ধ্যা ৬:২১



কে ধর্মীয় বই কিনতে পারবেন, পড়তে পারবেন, কোথায় রাখতে পারবেন, কোথায় ফেলে দিতে পারবেন, এই নিয়ে কোন নিয়ম কানুন আছে?

আমি বাংলাদেশের কথা জানি না, নিউইয়র্কের কথা বলি;... ...বাকিটুকু পড়ুন

×