somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ঈশ্বর

১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ ভোর ৬:১১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এক.
ফায়ারিং স্কোয়াডের দিকে রোভান যখন এগুচ্ছিলো তখন তাকে বেশ শান্ত দেখাচ্ছিলো। আর অল্প কিছুক্ষন পরই তাকে চ্ছিন্ন বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে হবে লেজার লেজার রশ্মিতে। একজন মানুষ হিসেবে একজন মানুষের হাতে সে মরতে চেয়েছিলো তার সৈনিক জীবনের শুরুতে। কিন্ত আফসোস তাকে জীবন দিতে হচ্ছে একদল বিদ্রোহী রোবটের হাতে। পৃথিবীর বিভিন্ন অংশে হয়ে চলা সাম্প্রতিক রোবট বিদ্রোহের অংশ এটা। অতন্ত্য দুঃখের কথা এতো হাজার বছরের মানব সভ্যতাকে হেরে যেতে হচ্ছে তাদেরই তৈরী রোবটদের হাতে। কারন তারা রোবটদের স্বাধীনতা দিতে চায়নি। পঞ্চবিংশ শতাব্দীর শেষদিকে রোবটদের মাঝে মানবিক অনুভুতির প্রকাশ দেয়া হয়। কিন্তু তারপরও তাদেরকে ব্যাবহার করা হতো মানুষের সেবায় আর নানা রকম বিপদজনক কাজে। এক পর্যায়ে রোবটদের মাঝে এই নিয়ে অসন্তোষ দেখা দেয় এবং তারাও মানুষের সাথে একই মর্যাদায় বাঁচার দাবি তুলে। যেটা মেনে নেয়া ছিলো খুবই কঠিন মানব সভ্যতার ধারকদের কাছে। তখন শুরু হয় গণহারে মানবিক বোধ সম্পন্ন রোবট নিধন। এক পর্যায়ে নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষায় মানবিক বোধ সম্পন্ন রোবটরা বিদ্রোহ করে বসে সব যায়গায়।

পৃথিবীর নানা অংশ হতে রোবটদের জয়ের খবর আসছে। এক এক করে শহরগুলোর পতন হচ্ছে রোবট বাহিনীর হাতে। মানুষ যারা বেঁচে থাকতে পারছে, তারা পালিয়ে যাচ্ছে জঙ্গলে আর দুর্গম পার্বত্য এলাকায়। এই কমিউনিটিতেও যখন বিদ্রোহী রোবটরা এসে আঘাত হানে প্রথমে শহরের সৈনিক দল রোভানের নেতৃত্বে মোটামুটি প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলো। সেই সাথে খবর দেয় পাশের শহরে থাকা তাদের সাহায্যকারী ব্যাক আপ ফোর্সকে। ধীরে ধীরে রোবটরা শহরের দখল নিতে শুরু করে। এক পর্যায়ে রোভানদের পরাজয় প্রায় নিশ্চিত হয়ে পরে। কিন্তু ব্যাকআপ ফোর্সের তখনো কোন খবর নেই।

রোভান শান্ত মুখে দাড়িয়ে ছিলো ফায়ারিং স্কোয়াডে। তার সামনে লেজার গান হাতে দাড়িয়ে আছে তিনটি রোবট। নেতা গোছের রোবট টা মনে হয় একটু উন্নত প্রজাতির। তার মুখে স্পষ্ট বিদ্রুপের হাসি। এই কমিউনিটিটাকে ধ্বংস করতে তাকে যথেষ্ট বেগ পেতে হয়েছে। তার রোবট বাহিনীর অত্যন্ত চৌকশ আটটি রোবটকে ধ্বংস হারাতে হয়েছে। শেষ পর্যন্ত রোভানকে ধরতে গিয়ে সে হারিয়েছে তার সবচেয়ে ভালো সৈনিক রোবটটিকে। তাই নিজের চোখে রোভানকে মরতে দেখতে চায় সে। এই মানুষটার মাঝে আর কিছু না থাকুক সাহস জিনিসটা ভালোই আছে। ধ্বংস প্রাপ্ত ,যেটাকে তারা মৃত্যু বলে সেটা হবার আগেও মানুষটা কেমন শান্ত।এর আগেও সে ফায়ারিং স্কোয়াডে অনেক মানুষকে মরতে দেখেছে। মৃত্যুর আগে এক একজন এক এক রকম করে। কিন্তু এই মানুষটার ব্যাপারটা সে বুঝতে পারছে না। মৃত্যুর আগে রোভানের প্রতিটা পদক্ষেপ সে লক্ষ করছে তীক্ষ্ণভাবে। সেখানে কোন ভীতির ছাপ সে পাচ্ছে না।

-নির্বোধ মানুষ, মৃত্যুর জন্য তৈরী হও।
মানুষটার মাঝে ভয় তৈরীর জন্য অতিরিক্ত কর্কশ ভাবে দলপতি রোবটটা বললো। তারপর তার সৈনিকদের লেজার গান তুলে ধরতে বললো। ফায়ার করতে বলার আগের মুহুর্তে সে লক্ষ করলো রোভান বিড়বিড় করে কিছু একটা বলছে।
-তুমি কি বলছো?
দলপতি রোবটটা কৌতুহলী হয়ে প্রশ্ন করলো।
-আমি সাহায্য চাইছি।
রোভানের কন্ঠস্বর ঠিক আগের মতোই শান্ত।
-কার কাছে সাহায্য চাইছো? এখানে তো কেউ নেই তোমাকে সাহায্য করার মতো।
-আমি ঈশ্বরের কাছে সাহায্য চাইছি।
দলপতি রোবট টা ঠিক মানুষের মতো হেসে উঠলো।
-হা হা তোমাদের সেই ঈশ্বর, যাকে তোমরা তোমাদের সৃষ্টিকর্তা মনে করো? সে তোমাকে এখন সাহায্য করতে আসবে না। কারন ঈশ্বর বলতে কিছু নেই। সুতরাং মৃত্যু জন্য তৈরী হও।

দলপতি রোবটটা আবারো তার সৈনিকদের লেজার গান তুলে ধরতে বললো। সে যখন ঠিক ফায়ার করতে অনুমতি দিতে যাবে তখনই আসে পাশে কোথাও এসে একটা মিসাইল সেল পড়লো। রোবট বাহিনী ছত্রভঙ্গ হয়ে গেলো। বিশাল বিশৃঙ্খলার মাঝে পালাতে পালাতে রোভান দলপতি রোবটটির দিকে তাকিয়ে বললো, দেখলে, আমার ঈশ্বর আমাকে রক্ষা করলো। আমাদের সাহায্য করতে ব্যাকআপ ফোর্স চলে এসেছে। এখন তোমরা একটা একটা করে মারা পড়বে।

দুই.
চারিদিকে রোবটদের দেহের নানা অংশ পড়ে আছে। ব্যাকআপ ফোর্সের সাথে রোবট বাহিনীর বেশ ভালো লড়াই হয়েছে। অবশেষে যদিও মানুষেরই জয় হয়েছে। বেঁচে যাওয়া কিছু রোবটকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে ফায়ারিং স্কোয়াডে। দলপতি রোবটটিকেও নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বেশ কয়েকজন সৈনিক তাদের সামনে লেজার গান নিয়ে দাড়িয়ে আছে। রোভান দাড়িয়ে আছে ফায়ার করতে অনুমতি দেবার জন্য। ভাবতেও অবাক লাগে, ঘন্টাখানেক আগে সে ঐ ফায়ারিং স্কোয়াডে দাড়িয়ে ছিলো। আর এখানে ছিলো ঐ দলপতি রোবটটা। দলপতি রোবটটা বিড়বিড় করে কিছু একটা বলছে।

রোভান এগিয়ে গেলো।
-তুমি কি বলছো।
-তুমি কিছুক্ষন আগে যখন এখানে দাড়িয়ে ছিলে তখন তুমি তোমার সৃষ্টিকর্তাকে স্মরণ করেছিলে। যে কোন ভাবেই হোক সে তোমাকে বাঁচিয়ে দিয়েছে। আমি দেখেছি।তাই আমি আমার সৃষ্টিকর্তাকে স্মরন করছি।
-তোমার সৃষ্টিকর্তা? কে সে?
-তুমি, তোমরা, মানুষ।
রোভানের মুখে একটা বিদ্রুপের হাসি খেলে গেলো। আস্তে করে সরে গিয়ে সে তার সৈনিকদের ফায়ার করতে অনুমতি দিলো।

গুলির প্রথম ধাক্কাতেই দলপতি রোবট টা পড়ে গেলো। নিস্প্রভ হয়ে যাওয়া তার ফটোসেলের চোখে তখনো বিস্ময়। কারন তার সৃষ্টিকর্তা তাকে রক্ষা করে নি।

সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১০:২৫
২৭টি মন্তব্য ২৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অফার !

লিখেছেন স্প্যানকড, ২৭ শে অক্টোবর, ২০২১ রাত ১২:৩৬

ছবি নেট ।

ফুরিয়ে গেছে শৈশব কৈশোর
এখন মাঝ পথে চলছি
ফুরিয়ে যাচ্ছে রোদ
ফুরিয়ে যাচ্ছে মেঘ
ফুরিয়ে যাচ্ছি আমি।

ফুরিয়ে যাচ্ছে কত শত ইচ্ছে
এসে তুমি একটু জিরিয়ে যাও... ...বাকিটুকু পড়ুন

যুক্তিবাদী সম্পাদক অক্ষয়কুমার দত্ত

লিখেছেন জ্যোতির্ময় ধর, ২৭ শে অক্টোবর, ২০২১ সকাল ১১:০৮



উনিশ শতকের দ্বিতীয় দশক থেকে মধ্যভাগ পর্যন্ত যারা চিন্তায় ও কর্মে যুগান্তকারী আলোড়ন সৃষ্টি করেছিলেন তাঁদের মধ্যে রামমোহন , ডিরোজিও , ডিরোজিও শিষ্যবর্গ এবং বিদ্যাসাগরের নাম সর্বজন স্বীকৃত ।এঁদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০২০ সালের সেরা কয়েকজন হ্যান্ডসাম পুরুষ

লিখেছেন মোঃ মাইদুল সরকার, ২৭ শে অক্টোবর, ২০২১ সকাল ১১:১৬

হ্যান্ডসাম এই কথাটি পুরুষদের সাথেই প্রযোজ্য। কারণ সুন্দর কথাটা পুরুষদের ক্ষেত্রে খাটে না সেটি মহিলাদের জন্যই তোলা থাকে। হ্যান্ডসাম হওয়া কেবল সুন্দর চেহারার মুখোমুখি হওয়া নয়, বরং এটি শরীর, চেহারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

তুমি !

লিখেছেন স্প্যানকড, ২৭ শে অক্টোবর, ২০২১ বিকাল ৩:১৬

ছবি নেট ।


তুমি,
জুলাই মাসের জমিন ফাটা রোদ্দুর
গরম চা জুড়ানো ফু
ছুঁলেই ফোসকা পড়ে
ভেতর বাহির থরথর কাঁপে
গোটা শরীর ঘামে।

তুমি তো
আর কাছে এলে না
আসি আসি বলে
ঝুলিয়েই... ...বাকিটুকু পড়ুন

পরিমণির কুরুচি নৃত্য আমার ভালো লাগছে

লিখেছেন ব্রাত্য রাইসু, ২৭ শে অক্টোবর, ২০২১ সন্ধ্যা ৭:৩৭



জন্মদিনে লুঙ্গি কাছা দিয়া নাইচা পরিমণি রুচিহীনতা প্রদর্শন করছেন। আমার তা ভালো লাগছে।

রুচিহীনতা বা কুরুচি প্রদর্শন করার অধিকার তার আছে। তেমনি রুচিহীনতারে রুচিহীনতা বলার অধিকারও ভদ্র সমাজের আছে তো!

অনেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×