চরের দখল-বেদখল নিয়ে চর আনন্দ এলাকায় নারকীয় সব তাণ্ডব চলছেই। আট মাসেরও বেশি সময় ধরে টানা হামলা পাল্টা হামলা, বাড়িঘর ভেঙে লুটে নেওয়া, আগুন লাগানো, কারও পা কেটে ফেলা, কারও হাত ভেঙে দেওয়া, সম্ভ্রম লুটের মতো নানা বর্বরতার ঘটছে।
জেলা সদর থেকে ১৪।৫ কিলোমিটার দূরবর্তী 'চর আনন্দ' এলাকার অবস্থান। পাঁচ শতাধিক পরিবারের দুই সহস্রাধিক মানুষের বসবাস। এ জায়গার জবরদখল নিয়ে দুটি গ্রুপের তাণ্ডব চলছে দীর্ঘদিন ধরে। তবে বর্তমানে উভয় গ্রুপের লাঠিয়াল বাহিনীর সদস্যরা একজোট হয়ে রফিক মাল-ভুট্টো গ্রুপ হিসেবে দখলদার সেজেছে। তারাই এখন চর আনন্দ এলাকার ভাগ্যনিয়ন্তা হয়ে দাঁড়িয়েছে। লাঠিয়াল বাহিনীর হামলা ও মামলার শিকার কয়েকশ পুরুষ সদস্য দীর্ঘদিন ধরেই জীবন বাঁচাতে বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে বেড়াতে বাধ্য হচ্ছেন। এ সুযোগটাই লুফে নিচ্ছে দখলদাররা। প্রভাবশালী মহলের ইন্ধন আর থানা পুলিশের সঙ্গে দহরম-মহরমের ভিত্তিতে চিহ্নিত লাঠিয়াল সন্ত্রাসী ও জলদস্যুরা ঢুকে পড়ে চর আনন্দ জনপদে। দফায় দফায় বাড়িঘর ভেঙে জিনিসপত্র সব লুটে নেয়। ঘরগুলোতে ধরিয়ে দেওয়া হয় আগুন। কি দিন কি রাত, অভিন্ন স্টাইলে চলে পৈশাচিকতা।
সর্বস্বহারা পরিবারের কেউ যাতে ওই এলাকায় থাকতে সাহস না পান এ জন্য শুরু করা হয়েছে আরও জঘন্য বর্বরতা। সেই বীভৎসতার শিকার শদেড়েক নারী ইতোমধ্যে পরিবার-পরিজন ছেড়ে দূরে চলে গেছেন। যারা এলাকা ছেড়ে যাওয়ার কোনো উপায় খুঁজে পাননি, তারা রাত-দিন লাঠিয়াল ও তাদের সহযোগীদের নির্মম লালসার শিকার হচ্ছেন, ভোগ করছেন নারকীয় সব নির্মমতা। সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসীরা যখন-তখন যে কোনো বাড়িতে হানা দিয়ে আশপাশের পাঁচ-সাত বাড়ি থেকে জোরপূর্বক তুলে আনে নারীদের। এমনকি মায়ের বুকে ঘুমিয়ে থাকা পঞ্চম শ্রেণী পড়ুয়া শিশুকন্যাকে পর্যন্ত তুলে নিয়ে বীভৎস বর্বরতায় মেতে ওঠার অভিযোগ রয়েছে। ( এ যেন ছবির কাহিনীর মতো)
১৩ সেপ্টেম্বর শনিবার সারা দিন ও রাত সাড়ে ১২টা থেকে ভোর সোয়া ৪টা পর্যন্ত নারীদের সর্বস্ব কেড়ে নেওয়া হয় ।পরদিন ১৪ সেপ্টেম্বর ইলিশা ইউনিয়নেরই একটি বাড়িতে প্রাণ বাঁচাতে আশ্রয় নেওয়া সম্ভ্রম হারানো ৭৩ জন নারীর বক্তব্য জানা যায় , ৮ থেকে ১২ সেপ্টেম্বর ভোর রাত পর্যন্ত মাত্র পাঁচ দিনে ৮০ জনের বেশি নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। গত আট মাসে এ ধরনের বর্বরতার শিকার হয়েছেন চার শতাধিক নারী। এদের প্রায় আড়াইশ জনই গৃহবধূ। বাকিরা নাবালিকা স্কুলছাত্রী, বিবাহযোগ্য কন্যা, বয়স্ক নারী কিংবা বেড়াতে আসা আত্দীয়া।
হায় রে বাংলাদেশ !
সুত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন(আংশিক)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



