চট্টগ্রাম বন্দর নিয়ে উত্তেজনা শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক সংঘর্ষে রূপ নিয়েছে। সাবেক মেয়র মহিউদ্দিন চৌধুরীর লোকজন হামলা চালিয়েছে সাংসদ এম এ লতিফের ওপর। এ সময় সাংসদ চেয়ার তুলে হামলাকারীদের প্রতিহত করেন। গতকাল বৃহস্পতিবার নগরের আগ্রাবাদ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ক্ষমতাসীন গোষ্ঠীর দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার সময় চেম্বার ভবনের নিচতলায় দুটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের কাচ ভাঙচুর করা হয়। বন্ধ হয়ে যায় যানবাহন চলাচল। ব্যাংক ও অফিসগুলোতে স্বাভাবিক কাজকর্ম বিঘ্নিত হয়। সাধারণ মানুষ পড়ে দুর্ভোগে। (এসব রাজনীতি বিদ নাকি দেশ ও দশের দরদী)
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালের (এনসিটি) দরপত্র নিয়ে নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর সঙ্গে স্থানীয় সাংসদ এম এ লতিফের বিরোধ থেকে ঘটনার সূত্রপাত। স্থানীয়ভাবে সাংসদ লতিফের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি ও জাতীয় পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান মোরশেদ মুরাদ ইব্রাহিম।
পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে ঘিরে গতকাল সকালেই বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয় চেম্বার ভবন ও আশপাশের এলাকায়। সকাল সাড়ে নয়টার দিকে চট্টগ্রাম চেম্বারের ব্যানারে ব্যবসায়ীরা প্রতিবাদ সভা শুরু করেন। সভায় চেম্বারের সভাপতি মোরশেদ মুরাদ ইব্রাহিম, সহসভাপতি মাহবুবুল আলমসহ দুই শতাধিক ব্যবসায়ী ও সাংসদ লতিফের নির্বাচনী এলাকার লোকজন উপস্থিত ছিলেন। সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত তাঁদের প্রতিবাদ কর্মসূচি চলার কথা ছিল। পুলিশের অনুরোধ উপেক্ষা করে ব্যবসায়ীরা সভার কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন।
বেলা পৌনে ১১টায় ব্যবসায়ীদের সভা থেকে একজন বক্তা বলেন, ‘সাংসদ লতিফের ওপর কোনো আক্রমণ হলে আমরা জীবন দিয়ে হলেও তা প্রতিহত করব।’ মাইকে এ বক্তব্য প্রচারের পর মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুসারীরা ‘ধর ধর’ বলে সভায় হামলা চালায়। এ সময় মোরশেদ মুরাদ ইব্রাহিম দৌড়ে চেম্বার ভবনের ভেতরে গিয়ে আশ্রয় নেন। তাঁকে অনুসরণ করে অন্যরাও দৌড়ে ভবনের দিকে ছুটে যান। কিন্তু সাংসদ লতিফ সভাস্থলেই দাঁড়িয়ে থাকার চেষ্টা করছিলেন। এলোপাতাড়ি হামলার মধ্যে এক যুবক সাংসদ লতিফের দিকে তেড়ে যান এবং তাঁকে শারীরিকভাবে নাজেহাল করেন।
পুলিশের ডবলমুরিং অঞ্চলের সহকারী কমিশনার আরেফিন জুয়েল প্রথম আলোকে বলেন, সকাল সাড়ে ১০টার মধ্যে চেম্বারের প্রতিবাদ সভা শেষ করার কথা ছিল। তাঁরা সভা শেষ না করে বক্তৃতা দিয়ে যাচ্ছিলেন। এর মধ্যেই ১৪ দলের নেতা-কর্মীরা মিছিল নিয়ে এলে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পুলিশ দুই পক্ষের মাঝখানে অবস্থান নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখে।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাজী ইনামুল হকের নেতৃত্বে জোটের স্থানীয় নেতারা একের পর এক বক্তব্য দেন। বক্তারা সাংসদ লতিফকে মাফিয়া চক্রের সহযোগী অভিহিত করে তাঁকে প্রতিহত করার ঘোষণা দেন। তাঁরা বলেন, এনসিটি দরপত্র নিয়ে বড় ধরনের কারসাজির চেষ্টা চলছে। দরপত্রের শর্ত শিথিল করে সাইফ পাওয়ারটেক লিমিটেড নামের একটি মাফিয়া প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। লতিফ এই কাজে সহযোগিতা করে বন্দর ধ্বংসের চেষ্টা চালাচ্ছেন। ( আমাদের মাননীয় দেশনেত্রী কি এব অনিয়নে দেখেন না , না জানেন না )
সুত্র : প্রথম আলো (আংশিক)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



