আজ বাংলাদেশ প্রতিদিন প্রতিকায় একটি কুইক রেন্টাল নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে । যদিও প্রতিবেদনটি বড় তবুও আমি হেডিং দেখে পড়া শুরু করি ভাল গেগে য়ায় এবং সম্পূণ পড়ি । প্রতিবেদনটি কে লিখেছে তা আমি আগে দেখিনি কিন্তু পড়ার শেষে দেখলাম এটি বিএনপির সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী লিখেছেন । যদিও প্রতিবেদনটি বড় তবে আমার বিশ্বাস মনেোযোগ সহকারে সম্পূর্ণ পড়লে ভালো লাগবে।
হোজ্জার বিড়ালের গল্প ও কুইক রেন্টাল
যানজটে রাস্তায় আটকে আছি। তখন বিবিসির সান্ধ্যকালীন অনুষ্ঠান চলছে। বিবিসির ফোনালাপের ওই অনুষ্ঠানে মোহাম্মদপুরের এক নারী শ্রোতা বলছিলেন, বিএনপি আমলে দৈনিক গড়ে প্রায় চারঘণ্টা লোডশেডিং হতো। তখন বিল দিতাম ৩০০ টাকা। আর এখন একই পরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যবহার করে বিল দেই ৮৫০ টাকা। তাহলে কি ৫৫০ টাকার অতিরিক্ত বিল কেবল দুই ঘণ্টার জন্য দিচ্ছি! ২০ সেপ্টেম্বর আবার বিদ্যুতের দাম ১৫ শতাংশ বাড়ানো হলো। 'যা আপামর জনতার জন্য 'মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা'।
বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকায় দেখছিলাম, ১৩ সেপ্টেম্বর যখন বেগম খালেদা জিয়া দুপুরে গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ১৬ মাস পরে রায় ঘোষণার বৈধতা নিয়ে কথা বলছিলেন, তখন দশবারের জন্য বিদ্যুৎ চলে যায়। বিপরীতে সরকার দাবি করছে, দেশে বিদ্যুতের অভাব নেই। অপরদিকে আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা তোফায়েল আহমেদ বিগত সময়ে সংসদ অধিবেশনে বললেন, এত বিদ্যুৎ গেল কোথায়...! তখনই আমার নাসিরউদ্দিন হোজ্জার গল্পটি মনে পড়ে যায়_ "নাসিরউদ্দিন হোজ্জার খুব গোশত খেতে ইচ্ছা হলো। বাজার থেকে এক কেজি গোশত কিনে গিনি্নকে রাঁধতে দিয়ে কাজে চলে গেলেন তিনি। যাওয়ার সময় গিনি্নকে বললেন, চর্বিওয়ালা গরুর ভালো গোশত কিনেছি। সঙ্গে গোশতের মসলা কিনতেও ভুলিনি। আদা, রসুন, পিয়াজ, গোলমরিচ, হলুদ, মরিচ, জিরা-ধনিয়া, দারুচিনি-এলাচি পাটায় পিশে খাঁটি সরিষার তেল দিয়ে ডেকচিতে করে সে গোশত উনুনে বসালেন গিনি্ন। গোশতের সুঘ্রাণ যখন বেরুতে শুরু করল, গিনি্ন তখন রান্নায় নুন ঠিক হয়েছে কিনা দেখতে গিয়ে চেটে চেটে গোশত খেতে শুরু করেন। এক সময় গিনি্ন টের পেলেন, ঝোল ছাড়া হাঁড়ির গোশত সব সাবার। যাই হোক, গিনি্ন তখন মহাচিন্তিত হয়ে মনে মনে একটি গল্প তৈরি করলেন স্বামীর জন্য। হোজ্জা বাড়ি ফিরে খেতে বসলে গিনি্ন আমতা আমতা করে বললেন, বিড়ালে সব গোশত খেয়ে ফেলেছে। হোজ্জা বুঝলেন গিনি্ন ঠিক কথাটি বলছেন না। তিনি দৌড়ে এসে বিড়ালটি ধরে পাল্লায় উঠিয়ে বাটখারা দিয়ে মেপে দেখলেন, বিড়ালের ওজন মাত্র এক কেজি। এবার গিনি্নকে হোজ্জার মেজাজি প্রশ্ন, বিড়ালের ওজন যদি এক কেজি হয় তাহলে গোশত কোথায়? আর গোশতের ওজন যদি এক কেজি হয় তাহলে বিড়াল কোথায়?"
কথাগুলো আমার এ জন্যই বার বার মনে পড়ছে, বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধানের জন্য বিএনপি আমলে এক হাজার ২৮০ মেগাওয়াট নতুন বিদ্যুৎ সংযোজনের কাজ প্রায় শেষ হয়েছিল। অপরদিকে প্রতিদিন চার হাজার ৩০০ মেগাওয়াট মেইন গ্রিডে সঞ্চালন হতো, এর সঙ্গে আছে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ডিজিটাল কুইক রেন্টাল। এ খাত থেকে আরও নতুন তিন হাজার ৮০০ মেগাওয়াট সংযোজন হওয়ার কথা। বর্তমানে পিক আওয়ারে হাইয়েস্ট ডিমান্ড হলো সাড়ে ছয় হাজার মেগাওয়াট। তাই বিষয়টি অনেকটা হোজ্জার গল্পের মতোই গরমিল।
১৯৫৫ সালের পহেলা নভেম্বর থেকে ৩০ এপ্রিল ১৯৭৫ সাল, সায়গনের পতন পর্যন্ত উনিশ বছর পাঁচ মাস, চার সপ্তাহ একদিন। উত্তর ভিয়েতনামের সঙ্গে ছিল কমিউনিস্টরা আর দক্ষিণ ভিয়েতনামের সঙ্গে ছিল আমেরিকা ও তার সাম্রাজ্যবাদী মিত্রশক্তি। সেই ভয়াবহ যুদ্ধে ৫৮ হাজার ২৬০ আমেরিকান সৈন্য আর দুই লাখ ভিয়েতনামির রক্তের বন্যা যখন বইছিল, সে সময়ে আমেরিকান সেনাদের বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে এগিয়ে এলো এগ্রিকো নামক আমেরিকান এক কোম্পানি। সঙ্গে নিয়ে এলো বহনযোগ্য, গ্যাস, ডিজেল বা ফার্নেস অয়েল দিয়ে চালানোর মতো অস্থায়ী বিদ্যুৎ প্লান্ট। যাকে আজ ব্যাপক আলোচিত কুইক রেন্টাল পাওয়ার প্লান্ট বলা হয়। এটা কোনো স্থায়ী প্রকল্প নয়। উন্নত দেশগুলোর নিজস্ব কিছু বিদ্যুৎ কেন্দ্র থাকে, যেগুলো তারা ভাড়া খাটায়। স্বাভাবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ২৫ বছরের জন্য বসানো হয়। কিন্তু কুইক রেন্টাল সাধারণত এক জায়গায় এক বছর, ছয় মাসের বেশি থাকে না। জেনারেটর ভাড়া করার মতো।
সাধারণত কোনো দেশে স্বাভাবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র কাজ না করলে দ্রুত ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করা হয়। ফিলিপাইনেও একবার কুইক রেন্টাল স্থাপন করা হয়েছিল। চুরির জন্য পাকিস্তানের সুপ্রিমকোর্ট সে দেশে কুইক রেন্টাল বন্ধ করে দিয়েছেন। শ্রীলঙ্কায় আসার কথা ছিল কিন্তু তারা চালায়নি। মালয়েশিয়ায় মাহাথির মোহাম্মদ ক্ষমতায় থাকাকালীন একবার কুইক রেন্টাল প্রকল্প নিয়েছিলেন। তিনি সবকিছু বিবেচনা করেই এটা করেছিলেন। কারণ তিনি দেখেছেন, তার ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রোথ বেশি হচ্ছে, আর ডিমান্ডের চেয়ে বিদ্যুতের মাত্র অর্ধেক ক্যাপাসিটি আছে। একজন দেশপ্রেমিক হিসেবে তিনি এটা করেছিলেন। তবে তিনি শর্ত দিয়েছিলেন, এক বছরের ভেতরে চলে যেতে হবে।
২০০৯ সালে মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই দেশকে ২০১২ সালের মধ্যে লোডশেডিংমুক্ত করার ঘোষণা দেয়। এক্ষেত্রে তারা বরাবরই বলে আসছে বর্তমানে দেশের বিভিন্ন বিদ্যুৎ কেন্দ্রের অবকাঠামোগত অবস্থা খুব নাজুক। তাহলে দ্রুত বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য কি করা যায়? ঠিক এ সময়ে জাতির ঘাড়ে সিন্দাবাদের ভূতের মতো সওয়ার হলো এক ভূত। তিনি জাতির জন্য উপহার দিলেন 'গলার কাঁটা ডিজিটাল কুইক রেন্টাল'। প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি উপদেষ্টা তৌফিক-ই-এলাহীর পরামর্শে দীর্ঘমেয়াদি বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোকে বাদ দিয়ে দ্রুত উৎপাদনের নামে কুইক রেন্টাল স্থাপন করা হয়। তেলভিত্তিক এসব বিদ্যুৎকেন্দ্র তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে উৎপাদনে আসবে এমন কথা থাকলেও কোনোটাই ঠিক সময়ে উৎপাদনে আসতে পারেনি। ঠিক সময়ে উৎপাদনে আসতে না পারায় দেশ এনার্জিকে চার কোটি টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অঁবির কোয়ান্টাম পাওয়ার সিস্টেমকে করা হয়েছে ২০০ কোটি টাকা জরিমানা। কিন্তু ওই জরিমানার টাকা সরকার এখনো আদায় করতে পারেনি। টেংরাটিলায় দুর্ঘটনা ঘটানো নাইকোর থেকেও বাংলাদেশ ক্ষতিপূরণ পায়নি। অধ্যাপক আনু মুহাম্মদের গবেষণা অনুযায়ী অঙ্েিডন্টাল এবং নাইকোর কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ বাবদ বাংলাদেশের পাওয়া উচিত ৪৫ হাজার কোটি টাকা। এ ক্ষতিপূরণ বিষয়ে কোনো দিন একটি কথাও বলেননি ড. তৌফিক-ই-এলাহী চৌধুরী। তার পরও তিনি জ্ঞানী, বিশেষজ্ঞ। আর যারা এ বিষয়ে কথা বলেন তারা অজ্ঞ, জ্ঞানপাপী, দেশবিরোধী! অঙ্েিডন্টালের অদক্ষতা, অযোগ্যতায় মাগুরছড়া গ্যাসকূপে যে ক্ষতি হয়েছিল তার তদন্ত রিপোর্ট গুম হয়েছিল। ড. চৌধুরী তখন ছিলেন জ্বালানি সচিব। বর্তমান সরকার ৩৩টি কুইক রেন্টাল পাওয়ার প্লান্টের সঙ্গে বিদ্যুৎ উৎপাদনের চুক্তি করেছে বিনা টেন্ডারে। তার মধ্যে ১৭টি হচ্ছে সরকারের নিকটাত্দীয়দের। যাদের লাইসেন্স দেওয়া হয় তাদের আগের কোনো অভিজ্ঞতা ছিল না। তাদের লক্ষ্য আগামী পাঁচ বছরে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিমাণ সাত হাজার মেগাওয়াটে উত্তীর্ণ করা। কিন্তু কুইক রেন্টাল পাওয়ার প্লান্ট নিয়ে সরকারের এ ভূমিকা তাদের ইতোমধ্যে সমালোচনার মুখে ফেলেছে। কারণ বেসরকারি এ খাত থেকে বিদ্যুৎ কিনতে সরকারের খরচ হচ্ছে ৯ টাকা ৭৫ পয়সা থেকে শুরু করে ২২ টাকা পর্যন্ত।
সরকার বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপন করতে গিয়ে গ্যাস উত্তোলনকে গতিশীল না করে, পুরনো বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলোকে রক্ষণাবেক্ষণ না করে, সহজ পন্থা হিসেবে স্বল্প সময়ে বিদ্যুৎ দেওয়ার নাম করে বেসরকারি খাতে ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করার অনুমতি দেয়। বিশেষজ্ঞদের অভিমত, পুরনো বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো (শুধু ঘোড়াশালই) রক্ষণাবেক্ষণ ও আধুনিকায়ন করলে আমরা ১৬০০ মে.ওয়াট বিদ্যুৎ পেতাম, যার ফলে বিপুল ব্যয়বহুল ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র বসানোর প্রশ্ন আসত না। চারদলীয় জোট সরকারের প্রথম পৌনে চার বছরে বিদ্যুৎ খাতে যেখানে মোট দুই হাজার ৪০১ কোটি ৬৪ লাখ টাকা ভর্তুকি বা লোকসান দিতে হয়েছে, সেখানে বর্তমান মহাজোট সরকারের পৌনে চার বছরে এর পরিমাণ দাঁড়াচ্ছে ৩৩ হাজার ৭৫৭ কোটি ৬২ লাখ টাকা, যা বিএনপি সরকারের সময়ের চেয়ে ১৪ গুণেরও বেশি। লোকসানের এ ধারা অব্যাহত থাকলে ২০১৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত আরও ৩৫ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হবে। কুইক রেন্টাল ও রেন্টাল থেকে সরকার উচ্চমূল্যে বিদ্যুৎ কিনে একশ্রেণীর ব্যবসায়ী-শিল্পপতিকে মুনাফা লোটার সুযোগ করে দেওয়ায় এ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের দাম দফায় দফায় বাড়িয়ে গ্রাহকের কাছ থেকেই এই ভর্তুকির টাকা আদায় করা হচ্ছে। রেন্টালের ভর্তুকি সামাল দিতে দফায় দফায় শুধু বিদ্যুতের মূল্য নয়, বাড়ছে জ্বালানি তেলের দামও। বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের পুরো মেয়াদকালে যেখানে একবার মাত্র বিদ্যুতের দাম বাড়ে, সেখানে আওয়ামী লীগ সরকার এবার ক্ষমতায় এসে ছয়বারের মতো বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছে। আরও এক বছর ক্ষমতায় আছে সরকার। এ সময়ে অতীতের সব রেকর্ড ভঙ্গ করবে হয়তো।
বাংলাদেশে বর্তমানে বিদ্যুতের চাহিদা কম-বেশি ছয় হাজার মেগাওয়াট। অথচ স্থায়ী সমাধানে না গিয়ে রেন্টাল বিদ্যুতের মাধ্যমেই অর্ধেকের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, যার পরিমাণ ছিল তিন হাজার ৩০০ মেগাওয়াট! যদিও জ্বালানির (ডিজেল ও ফার্নেস অয়েল) অভাবে বর্তমানে উৎপাদন হচ্ছে গড়ে প্রায় এক হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। আর এই এক হাজার মেগাওয়াটের জন্য বছরে ভর্তুকি দিতে হচ্ছে ২৮ হাজার কোটি টাকা। যদি চাহিদামতো পুরো তেল সরবরাহ করা যেত, তাহলে কুইক রেন্টালের উৎপাদন ক্ষমতা ৩০০০ মেগাওয়াটের বিপরীতে ভর্তুকি হতো ৮৪ হাজার কোটি টাকা! 'তহবিলশূন্য' সরকার এখন আর তেলের জোগান যথাযথ দিতে পারছে না বলে বার্ষিক গড় ভর্তুকি এখন ২৮ হাজার কোটি টাকা! তেল না পাওয়ায় ইতোমধ্যে বেশ কিছু ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র বসে আছে। কোনো ধরনের উৎপাদন না করলেও এরা অবশ্য ভাড়া ঠিকই পেয়ে যাচ্ছে চুক্তিমতো! দরিদ্র দেশের উন্নয়নের নামে এমন আগ্রাসী লুণ্ঠন! রাজার হস্তে কাঙালের ধন চুরি কাকে বলে!
বর্তমান সরকার প্রায় সাড়ে তিন হাজার মেগাওয়াট নতুন বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করেছে বলে দাবি করলেও তা থেকে সুফল পাচ্ছে না মানুষ। পিডিবির হিসাব অনুযায়ী বর্তমানে সাড়ে সাত হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা আছে। সেই হিসাবে প্রতিদিন গড়ে দেড় হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুতের লোডশেডিং হয়। অথচ প্রধানমন্ত্রী জাতীয় সংসদে তামাশা করে বলেন, তিনি পিডিবিকে নির্দেশ দিয়েছেন, প্রতিদিন দুই ঘণ্টা করে লোডশেডিং দেওয়া হয়। মানুষ যেন মনে রাখে লোডশেডিংয়ের যন্ত্রণা কি?
ছয় গুণ বেশি দামে যদি বিদ্যুৎ কিনতে হয় জনগণকে, তাহলে শিল্প কারখানা বন্ধ করা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকতে পারে না। যদিও গার্মেন্ট ব্যবসায়ী সাবেক এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি দেশ এনার্জির স্বত্বাধিকারী উচ্চ গলায় বলেছিলেন, দেশে কুইক রেন্টাল না থাকলে এত দিনে ১০ রিখটাল স্কেলের ভূমিকম্প হয়ে যেত। জিডিপি অর্ধেকে নেমে আসত। ১৫ বিলিয়ন এঙ্পোর্ট কম হতো। বর্তমান সরকারের সময়ে নির্মিত ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র বা কুইক রেন্টাল প্ল্যান্টগুলোই দেশের অর্থনীতিকে বাঁচিয়ে রেখেছে।
কুইক রেন্টালের মাধ্যমে লুটপাটের আরেকটি উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এ ধরনের বিদ্যুৎ প্লান্টগুলো থেকে সরকার উচ্চ মূল্যে বিদ্যুৎ কিনছে আবার বিশেষ ভর্তুকির মাধ্যমে প্লান্টের মালিকের কাছে ডিজেল বিক্রি করছে। এ ছাড়া বিলের জালিয়াতি তো আছেই। নুন আনতে পানতা ফুরায় অবস্থা যে দেশের, সে জাতির শত শত কোটি টাকা লোপাট হয়ে যাচ্ছে কুইক রেন্টাল জালিয়াত চক্রের কারণে। উদ্যোক্তাদের সঙ্গে সরকারের চুক্তির পরিণতিতে কুইক রেন্টাল কেন্দ্রগুলো শাঁখের করাত হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর চেয়ে একজন উপদেষ্টার দাপট বেশি থাকায় তার ইচ্ছা-অনিচ্ছার শিকার হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ এ খাতটি। বিদ্যুৎ খাতের অপচয়ের দায় কাটাতে সংসদে দায়মুক্তির অধ্যাদেশ পাস করতে হয়েছে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ ও জ্বালানিবিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-এলাহী চৌধুরী সম্পর্কে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) পাওয়ার সেলের সাবেক মহাপরিচালক বিডি রহমতউল্লাহ বলেছেন, তৌফিক-ই-এলাহীকে এখনই ঠেকাতে না পারলে দেশ ধ্বংস হয়ে যাবে। তিনি জাতিকে ধ্বংস করার কাজ করে যাচ্ছেন। জাতিকে ধ্বংস করছেন। নিজের বিত্তবৈভব বাড়ানোর জন্য কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্র বসিয়েছেন। যার ফল দেশের মানুষ হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে। অথচ সরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো সংস্কার করলে কম টাকায় আরও বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব ছিল।
জ্বালানি উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-এলাহীর স্বপ্নের কুইক রেন্টাল দেশের অর্থনীতির জন্য আজ অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এতে দেশের অর্থনীতি যেমন বিপর্যস্ত হচ্ছে, তেমনি কিছু ব্যবসায়ী দুই হাতে কামিয়ে নিলেও দেশের ১৫ কোটি মানুষ আজ বিদ্যুৎ ছাড়াই পরিশোধ করছে হাজার কোটি টাকার বিল। একেই বলা হয় ডিজিটাল সিন্ডিকেট অব লুটারস। দেশটিকে নিয়ে যাচ্ছে অকার্যকর রাষ্ট্রের দিকে। হঠাৎ মনে পড়ল যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কের এভিনিউ অব দা আমেরিকা (৬ঃয আাবহঁব) এবং ৩৪ঃয স্ট্রিটের সাউথওয়েস্ট কর্নারের একটি বিশাল ডিজিটাল বিলবোর্ডের কথা। প্রতিটি মুহূর্তেই নিয়ন সাইনের অংকগুলো পরিবর্তন হতে থাকে। প্রতিটি নবজাতক বিশ্বের এই সেরা দেশটির অঙ্েিজন নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তাকে গুনতে হয় রাষ্ট্রীয় কোষাগারের তার দেনার অংকটি। যাতে লেখা ওঠে, আজকের এই সময়টিতে আমেরিকায় প্রতিটি নবজাতক জন্ম নিচ্ছে প্রায় ৫১ হাজার ডলারের রাষ্ট্রীয় ঋণ নিয়ে। স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়, প্রতিটি শিশুকে তার ঋণের পরিমাণ। আজ বাংলাদেশে একটি নবজাতক শিশুকে জন্মের সঙ্গে সঙ্গেই শুধু কুইক রেন্টালের জন্য গুনতে হবে বার্ষিক (৪০ হাজার কোটি/১৫ কোটি) ২৭০০ টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে তার ঋণের পরিমাণ। জাতি আজ অপেক্ষমাণ দায়হীন, চৌকস আমলা ড. তৌফিক-ই-এলাহীকে কখন কুইক রেন্টালের ডিজিটাল উদ্ভাবক হিসেবে দেশপ্রেমিকের মেডেল পরিয়ে দেবেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী?
লেখক : বিএনপির আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী
ই-মেইল : [email protected]

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



