প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতেই একটি অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতির মধ্যে এই বাগযুদ্ধ চলে।গতকাল শনিবার রাজধানীর কাকরাইলে বিচারপতিদের জন্য নতুন বহুতল ভবন তৈরির উদ্বোধনী অনুষ্ঠান উপলক্ষে ওই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
বিচার বিভাগ স্বাধীন হলেও কোনো অগ্রগতি নেই বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদ। তাঁর অভিযোগ, এভাবে চললে অচিরেই বিচার-ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে। তবে প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক নানা সংকটের কথা তুলে বলেছেন, বিচার বিভাগ হাত-পা বেঁধে সাঁতার কাটার মতোই স্বাধীনতা পেয়েছে।
অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী মামলাজটসহ বিচার বিভাগের বিদ্যমান পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘২০০৭ সালের নভেম্বরে বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে আলাদা করে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ করে দেওয়া হয়। কিন্তু এই স্বাধীনতার ফলে ৬৪ জেলার বিচারকদের তদারকি কে করছেন? সময়মতো বিচারকেরা এজলাসে কি বসছেন, কী পরিমাণ মামলা তাঁরা নিষ্পত্তি করছেন?’
আইনমন্ত্রী আরও বলেন, ‘বিচারকেরা ঢাকায় চলে আসার জন্য বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই হাঁস-ফাঁস করতে থাকেন। ছুটি কাটিয়ে তাঁরা রোববার ফিরে গিয়ে দুপুর ১২টার আগে কাজ শুরু করতে পারেন না। সময়মতো কাজটি করলে প্রতিদিনই একেকজন বিচারক এক ডজন মামলার বিচার সম্পন্ন করতে পারতেন।’
আইনমন্ত্রীর বক্তব্যের পর প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক বলেন, ‘বিচার বিভাগ হাত-পা বেঁধে সাঁতার কাটার মতোই স্বাধীনতা পেয়েছে।’ প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘মাননীয় আইনমন্ত্রী, আগে আপনার ঘর সামাল দেন। আপনার দায়িত্ব আগে পালন করেন। বিচারকেরা অবশ্যই তাঁদের দায়িত্ব পালন করছেন এবং ভবিষ্যতে করবেন।’
প্রধান বিচারপতি প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্টের জজ সাহেবদের গাড়ি নেই। রাস্তার মধ্যে গাড়ি বন্ধ হয়ে যায়, গাড়ি ঠেলতেও হয়...এটা কি আইনমন্ত্রী জানেন?’
প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘যাঁরা এসি রুমে বসে কাজ করেন, তাঁরা বিচারকদের এ কষ্ট বুঝতে পারবেন না। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে গাউন গায়ে তাঁদের কাজ করতে হয়। চারজন ম্যাজিস্ট্রেটকে এক কক্ষে বসতে হয়। চারজন ম্যাজিস্ট্রেটকে একটি বাথরুম ব্যবহার করতে হয়। এসবের জবাব কে দেবে?’

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

