somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

টেলিকমে মেগাদুর্নীতি : বিটিআরসির নীতিমালা লঙ্ঘন করে মন্ত্রী-এমপির প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্স

১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০১১ ভোর ৬:৪৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ রেগুলেটরি কমিশনের (বিটিআরসি) নীতিমালা ও টেন্ডারের শর্ত লঙ্ঘন করে ইন্টারন্যাশন্যাল টিরেসট্রিয়াল কেবলের (আইটিসি) লাইসেন্স দেয়ার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হয়েছে। আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষিত ও টেন্ডারে উল্লিখিত নীতিমালা লঙ্ঘন করে ৩টি প্রতিষ্ঠানের পরিবর্তে ৬টি প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্স দেয়া হচ্ছে। ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী রাজিউদ্দিন আহম্মেদ রাজু মঙ্গলবার রাতে গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। মন্ত্রী-এমপিদের প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্স দেয়া এবং অনিয়ম-দুর্নীতির কারণেই ৩টির পরিবর্তে ৬টি প্রতিষ্ঠানকে অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় লাইসেন্স দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন লাইসেন্স পাওয়া একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা। তবে অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী।
আইটিসি লাইসেন্স দেয়ার লক্ষ্যে সরকার এ বছরের ৩১ মার্চ লাইসেন্সিং গাইডলাইনের বিজ্ঞাপন প্রকাশ করে। গাইডলাইন প্রকাশের পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ৯টি কোম্পানি আইটিসি লাইসেন্স পাওয়ার জন্য বিটিআরসিতে আবেদন করে। প্রকাশিত গাইডলাইনে একটি মূল্যায়ন কমিটি গঠনের কথা উল্লেখ আছে, যারা নির্ধারিত নির্বাচনের মানদণ্ড অনুযায়ী পাওয়া নম্বরের ভিত্তিতে আবেদনকারীদের ক্রম তৈরি করে লাইসেন্স দেয়ার সুপারিশ করবে। আইটিসি লাইসেন্সিং গাইডলাইনের বিজ্ঞাপনে সর্বোচ্চ তিনটি লাইসেন্স দেয়ার কথা উল্লেখ আছে। আরও উল্লেখ আছে, সরকার এ সংখ্যা হ্রাস করার অধিকার সংরক্ষণ করে। সরকার যে এই লাইসেন্সের সংখ্যা বৃদ্ধি করতে পারবে তেমন কোনো সুযোগ আলোচ্য নীতিমালায় নেই।
বিটিআরসির আইটিসি মূল্যায়ন সংক্রান্ত চিঠির ৭৯ নম্বর অনুচ্ছেদে স্পষ্ট বলা হয়েছে, ‘লাইসেন্সের সংখ্যার বিষয়ে বিটিআরসির মতামত এবং ৭৫ নম্বর অনুচ্ছেদে বর্ণিত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে নিরবচ্ছিন্ন সুলভ ব্রডব্যান্ড সংযোগ প্রসারের লক্ষ্যে মাননীয় মন্ত্রী মহোদয় কমিটি কর্তৃক মূল্যায়নে ৮০ বা তদূর্ধ্ব নম্বরপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে লাইসেন্স ইস্যু করার নির্দেশনা প্রদান করেন। তদানুযায়ী কার্যক্রম গ্রহণ করলে ৭১ অনুচ্ছেদে ১ থেকে ৬ ক্রমিকের নিম্নবর্ণিত প্রতিষ্ঠানগুলো লাইসেন্স পাওয়ার জন্য অনুমোদন লাভ করবে।’ এরপরই অনুমোদন পাওয়া ৬টি প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করা হয়।
এখানে অফিসিয়াল নোটে স্পষ্ট মন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী পরিবর্তনটি আনা হয়েছে। বিটিআরসি চেয়ারম্যানও বলেছেন, বিষয়টি নিয়ে এখন তাদের বলার কিছু নেই। এটা মন্ত্রণালয়ের ব্যাপার। সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি বলেছেন, তারা এ নিয়ে কিছুই জানেন না। এ অবস্থায় প্রশ্ন উঠেছে, বাংলাদেশে এই মেগা টেলিকম দুর্নীতির দায়িত্ব কে নেবে? টিঅ্যান্ডটি মন্ত্রী কী এর দায় এড়াতে পারবেন। নানা ধরনের টেলিকম লাইসেন্স দিতে গিয়ে অস্বচ্ছতা, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে সম্প্রতি ভারতের টেলিযোগাযোগমন্ত্রী এ রাজা পদচ্যুত হয়ে জেলে ঢুকেছেন। বিলিয়ন ডলার ঘুষের টাকা লেনদেনের অভিযোগে বিশ্বব্যাপী নিন্দা ও বৈরী প্রচারণার মধ্যে পড়েছে ভারত সরকার। বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী রাজিউদ্দিন রাজু যেন বাংলাদেশের রাজায় পরিণত না হন।
মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ১০০ নম্বরের মধ্যে পয়েন্টের ভিত্তিতে অনুমোদনপ্রাপ্ত কোম্পানির মধ্যে প্রথম স্থানে রয়েছে নভোকম লিমিটেড (প্রাপ্ত নম্বর ৯১.৩৬), দ্বিতীয় স্থানে ওয়ান এশিয়া-এএইচজেভি (প্রাপ্ত নম্বর ৮৮.০৬), তৃতীয় স্থানে বিডি লিংক কমিউনিকেশন লিমিটেড (প্রাপ্ত নম্বর ৮৭.৮৫), চতুর্থ স্থানে ম্যাংগো টেলিসার্ভিসেস লিমিটেড (প্রাপ্ত নম্বর ৮২.৮৪), পঞ্চম স্থানে সামিট কমিউনিকেশন লিমিটেড (প্রাপ্ত নম্বর ৮১.৮৩) এবং ষষ্ঠ স্থানে ফাইবার অ্যাট হোম লিমিটেড (প্রাপ্ত নম্বর ৮০.১৯)। বাকি যে তিনটি প্রতিষ্ঠান লাইসেন্স পায়নি সেগুলো হলো বেক্সিমকো, জ্যাকফ্রুট লিমিটেড এবং কসমস।
লাইসেন্সের জন্য চূড়ান্তভাবে প্রাপ্ত ৫ নম্বর প্রতিষ্ঠান সামিট কমিউনিকেশন্স লিমিটেড হচ্ছে বাণিজ্যমন্ত্রী লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খানের পারিবারিক প্রতিষ্ঠান। একটি গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় কমিটির সভাপতি সম্পৃক্ত রয়েছেন লাইসেন্স পাওয়া একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে। আরেকটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত আছেন সরকারি দলের আরেক এমপি আবদুল কুদ্দুস, যিনি টিঅ্যান্ডটি মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির সদস্য। প্রধানমন্ত্রীর একজন প্রভাবশালী উপদেষ্টার ভাই জড়িত আছেন অপর একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে। মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানায়, লাইসেন্সপ্রাপ্ত ৬ নম্বর প্রতিষ্ঠান ফাইবার হোম লিমিটেডের জন্য জোর তদবির করেন একজন প্রভাবশালী মন্ত্রী, সংসদীয় স্থায়ী কমিটির একজন সভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রভাবশালী এক কর্মকর্তা।
তিনটির পরিবর্তে ছয়টি প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্স প্রদান ও এ নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ সম্পর্কে বক্তব্য জানার জন্য আমার দেশ-এর পক্ষ থেকে গতকাল প্রায় আড়াই ঘণ্টা টেলিযোগাযোগমন্ত্রী রাজিউদ্দিন আহমদ রাজুর অফিসে বসে থেকেও সাক্ষাত্ না পাওয়ায় তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। টেলিফোনেও তাকে পাওয়া যায়নি। যদিও একদিন আগে মঙ্গলবার রাতে বার্তা সংস্থা বিডিনিউজে প্রচারিত প্রতিক্রিয়ায় টেলিযোগাযোগমন্ত্রী রাজু বলেন, ৩টির পরিবর্তে ৬টিকে লাইসেন্স দিয়ে তিনি অবৈধ কিছু করেননি। বেশি কোম্পানিকে লাইসেন্স দিতে কোনো চাপ ছিল না বলেও তিনি মন্তব্য করেন। টেলিযোগাযোগ সচিবের সঙ্গে সাক্ষাতের চেষ্টা করে তার সঙ্গেও কথা বলা যায়নি।
একই প্রসঙ্গে বিটিআরসি চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) জিয়া আহমেদ বলেন, আইটিসির খসড়া নীতিমালা ওয়েবসাইটে মতামতের জন্য প্রকাশিত হয়েছে এবং আমাদের তৈরি খসড়া নীতিমালা চূড়ান্ত নয়। ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় মূল্যায়ন কমিটির মতামতকে গুরুত্ব দিতেই পারে। বিষয়টি নিয়ে এখন বিটিআরসির বলার কিছু নেই। এটা মন্ত্রণালয়ের ব্যাপার।
ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি হাসানুল হক ইনু আইটিসির লাইসেন্স দেয়া ও এ ক্ষেত্রে অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ সম্পর্কে আমার দেশ-কে বলেন, খবরটি পত্রিকায় দেখেছি। কী হয়েছে কী হয়নি তা আমার জানা নেই। আগামীকাল (আজ) সংসদীয় কমিটির বৈঠক আছে। বৈঠকে মন্ত্রীসহ মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা থাকবেন। অনিয়ম হয়েছে কিনা সেখানে আমরা জানতে চাইব। আর কোনো অনিয়ম মনে হলে সংসদীয় কমিটির পক্ষ থেকে আমরা আরও খোঁজ খবর নেব।
বিটিআরসির নীতিমালা লঙ্ঘন করে লাইসেন্স পাওয়ার ব্যাপারে গতকাল সামিট কমিউনিকেশন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আরিফ আল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি দাবি করেন, যে ৬টি প্রতিষ্ঠান লাইসেন্স পেয়েছে তন্মধ্যে তাদেরই কেবল অভিজ্ঞতা এবং এ ধরনের সেবা দেয়ার সামর্থ্য আছে। তিনি বলেন, আমাদের দেশব্যাপী নেটওয়ার্ক আছে। দুটি বিদেশি মোবাইল অপারেটরের সঙ্গে চুক্তি আছে। অভিজ্ঞতা এবং সামর্থ্য আমাদেরই বেশি। মূল্যায়ন সঠিকভাবে হয়নি বলেই তাদের অবস্থান ৫ নম্বরে হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। প্রতিষ্ঠানটির আর এক কর্মকর্তা বলেন, আমরা জেনুইনলি পেয়েছি। অন্য যারা লাইসেন্স পেয়েছে তাদের মধ্যে অনেকের কোম্পানির অস্তিত্ব পর্যন্ত নেই।
নীতিমালায় ৩টি কোম্পানিকে লাইসেন্স দেয়ার কথা থাকলেও মূল্যায়নে পঞ্চম স্থানে থেকে সামিট লাইসেন্স পাওয়া নীতিমালা ভঙ্গ হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, মূল্যায়ন নিয়েও আমাদের প্রশ্ন ও সন্দেহ আছে। যে নম্বর দেয়া হয়েছে তা বিটিআরসি দিয়েছে বলে আমাদের মনে হয় না।
লাইসেন্সের প্রক্রিয়াটি হয় যেভাবে : রেগুলেটরি অ্যান্ড লাইসেন্সিং গাইডলাইনস ফর বিল্ট, অপারেট ও মেনটেইন ইন্টারন্যাশন্যাল টিরেসট্রিয়াল কেবলের আওতায় সরকার ইন্টারন্যাশন্যাল টিরেসট্রিয়াল কেবল (আইটিসি) লাইসেন্স দেয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করে। যাতে লাইসেন্সপ্রাপ্ত অপারেটররা টিরেসট্রিয়াল অপটিক্যাল ফাইবার লাইনের মাধ্যমে ভারতের টেলিযোগাযোগ কোম্পানির সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে বিকল্প ব্যবস্থায় বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করতে পারে। নিরবচ্ছিন্ন ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং সেই সঙ্গে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের ক্যাপাসিটি বৃদ্ধি করাও এই লাইসেন্স প্রদানের মূল উদ্দেশ্য ছিল। আইটিসি লাইসেন্স প্রদানের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সংযোগ বৃদ্ধি এবং বিকল্প ব্যবস্থা তৈরি হলেও দেশে ব্রডব্যান্ড সেবা প্রসারের লক্ষ্যে দেশের অভ্যন্তরীণ টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি এবং আরও অধিক সংখ্যক ইন্টারন্যাশন্যাল ইন্টারনেট গেটওয়ে (আইআইজি) লাইসেন্স প্রদান করতে হবে। চূড়ান্ত লাইসেন্সিং গাইডলাইন প্রণয়নের আগে সরকার স্বার্থসংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে। জনমত বিবেচনা করার জন্য খসড়া নীতি ওয়েবসাইটে দিয়ে বিটিআরসি এবং পরে মন্ত্রণালয় সাধারণ মানুষের মতামত নিয়ে গাইডলাইন চূড়ান্ত করেছিল। পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর উদাহরণ বিবেচনায় নিয়ে সর্বোচ্চ তিনটি লাইসেন্স প্রদানের সিদ্ধান্ত হয়।
চলতি বছরের ৩১ মার্চ টিরেসট্রিয়াল ট্রান্সমিশন কেবল লাইসেন্স দেয়ার জন্য বিটিআরসি যে নীতিমালা প্রকাশ করেছিল তাতে বলা হয়েছিল, মাত্র তিনটি কোম্পানিকে লাইসেন্স দেয়া হবে। সে সময় এটিও বলা হয়েছিল যে, প্রয়োজনে এ লাইসেন্সের সংখ্যা কমানো হবে। বাড়ানোর কোনো কথাই ছিল না। গাইডলাইন প্রকাশের পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ৯টি কোম্পানি ওই লাইসেন্স নেয়ার জন্য বিটিআরসিতে আবেদন করে। গাইডলাইন অনুযায়ী বিটিআরসি ২০ সদস্য বিশিষ্ট একটি মূল্যায়ন কমিটি গঠন করে। মূল্যায়ন কমিটি গাইডলাইন নির্ধারিত নির্বাচনের পদ্ধতি অনুযায়ী মূল্যায়ন করে প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে আবেদনকারীদের ক্রম তৈরি করে লাইসেন্সিং গাইডলাইনের শর্ত অনুযায়ী প্রথম, দ্বিতীয় এবং তৃতীয় স্থান অধিকারকারী নির্বাচিত করে লাইসেন্স দেয়ার সুপারিশ করে।
এদিকে সংশ্লিষ্ট একটি প্রতিষ্ঠানের একজন কর্মকর্তা বলেছেন, আইটিসি লাইসেন্সের জন্য আবেদনকারীরা ৩টি লাইসেন্স বিবেচনায় এনে বাজারের পরিমাপ করে তাদের ব্যবসায়িক পরিকল্পনা তৈরি করে টেন্ডারে অংশ নিয়েছিল। সেই ব্যবসায়িক পরিকল্পনার ভিত্তিতেই মূল্যায়ন কমিটি আবেদনগুলো মূল্যায়ন করে। সেখানে তিনটি লাইসেন্সের জায়গায় ৬টি লাইসেন্স দেয়া হলে এর ব্যবসায়িক উপযোগিতা থাকবে না। বিনিয়োগ বিবেচনায় কোনো কোম্পানি প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারবে না। এতে সবক’টি কোম্পানিই বিশাল বিনিয়োগের বোঝা মাথায় নিয়ে রুগ্ন শিল্পে পরিণত হবে।
রাজু যেন বাংলাদেশের রাজায় পরিণত না হন : ভারতের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিবিআই এবং এনফোর্সমেন্ট বিভাগের (ইডি) ভারতের সুপ্রিমকোর্টে জমা দেয়া তাদের তদন্ত অগ্রগতি প্রতিবেদনে বলেছে, ২০০৭ সালে ভারতে কয়েকটি টেলিকম কোম্পানিকে দ্বিতীয় প্রজন্মের (টুজি) লাইসেন্স দেয়া হয়। লাইসেন্স পাওয়া কিছু কোম্পানি আগেই লাইসেন্স ফি’র একটি খসড়া পেয়ে যায়। ওই লাইসেন্স দেয়ার ক্ষেত্রে বড় ধরনের দুর্নীতি হয়। ফলে রাষ্ট্রের বিপুল পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে। এ সংক্রান্ত দুর্নীতির অভিযোগে ভারতের তত্কালীন টেলিকমমন্ত্রী এ রাজা পদত্যাগে বাধ্য হন। পরে তার ব্যক্তিগত সচিব আর কে চান্দোলিয়া, সাবেক টেলিকম-সচিব সিদ্ধার্থ বেহুরা এবং রাজার ভাই কে পেরুমলকে টুজি স্পেকট্রাম দুর্নীতি কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িত থাকার দায়ে গ্রেফতার করা হয়।
জানা গেছে, রাজা, চান্দোলিয়া, বেহুরা সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার করে টেন্ডারের নিয়ম-কানুন ভঙ্গ করে কিছু টেলিকম কোম্পানিকে অবৈধ সুবিধা দিয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। গ্রেফতারের আগে ৪৭ বছর বয়স্ক রাজাকে চারবার জিজ্ঞাসাবাদ করে সিবিআই। দুই মাস আগে এই অবৈধ সুবিধা দেয়ার বিতর্ক সৃষ্টি হলে তিনি মন্ত্রিত্ব থেকে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। টেলিকমমন্ত্রী এ রাজা আইন ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের পরামর্শ উপেক্ষা করে, টেলিকম কমিশনের সুপারিশে কান না দিয়ে ১২২টি টেলিকম কোম্পানিকে এই লাইসেন্স দেন ২০০৮ সালে ২০০১ সালের দামে অর্থাত্ বাজার দামের চেয়ে কম দামে। রাজা অবশ্য বলেছেন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং বিষয়টি জানতেন।
বাংলাদেশে টেলিকম খাতে অস্বচ্ছতা ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর বলা হচ্ছে, বিটিআরসির বিধিমালা ও নিয়ম ভঙ্গ করে সরকারি দলের প্রভাবশালীদের আইটিসি লাইসেন্স দিয়ে টেলিযোগাযোগমন্ত্রী রাজু যেন বাংলাদেশের রাজায় পরিণত না হন।
Click This Link
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিলেন মমতার দলকে?

লিখেছেন ...নিপুণ কথন..., ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:২২


শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিয়েছেন মমতা ব্যানার্জিকে। কিভাবে? দুই দফায় পানিচুক্তি হতে দেননি মমতা। কংগ্রেসের মনমোহন সিং প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন এবং বিজেপির Narendra Modi প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন দুবার দুজনই বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন, দুবারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×