somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার বন্ধুসমগ্র !! (রিপোস্ট)

১১ ই জুন, ২০২১ রাত ১০:০৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মানুষ হিসেবে ছোটবেলা থেকেই আমি কিছুটা আত্বকেন্দ্রিক, সবার সাথে মিশতে পারতাম না। ঘরকুণো আর বইয়ের পোকা এই ছিল আমার খেতাব। দুর্মূখরা বলতেন ও হবে বংশের কুলাঙ্গার, কাজকর্ম কিছু করবে না, শুধু অন্ন ধ্বংস করবে। আজ বুঝি কথাটায় কিছুটা হলেও সত্যতা বিদ্যমান।

যাক সেসব কথা। আগেই বলেছি আমি অমিশুক ছিলাম। আমার বাবা ও মা দুজনেই পেশায় চিকিৎসক এবং সরকারী চাকুরিজীবি ছিলেন। তাদের কর্মস্থল ছিল ভিন্ন ভিন্ন জেলা্য়, আর আমি ছিলাম একটা সাধারন বিন্দু যেটাতে এসে মিলিত হতেন তাঁরা। মানে সপ্তাহান্তে দেখা হত আমার সাথে বাবা ও মার। সেদিন ও তার পরদিন হত আমার জন্য খুব উৎসবমুখর কেননা ওঁরা আমার জন্য প্রতি সপ্তাহে আনতেন উপহার আর বই আর আমি সেগুলো গলাধঃকরণ করতাম নির্মিনিষে। সুতরাং, তাঁরা ছিলেন আমার প্রথম এবং অকৃত্রিম বন্ধু হয়ে। আজ আর বাবা নেই রয়ে গেছে শুধু কিছু অমূল্য স্মৃতি।

আমি বড় হয়েছি একজন তত্ত্বাবধায়কের অধীনে, যার উপর আমাকে লালনপালন করার গুরুদায়িত্ব সমার্পন করেছিলেন আমার বাবা, মা। তিনি পড়ালেখা খুব বেশিদূর করতে পারেন নি । সংসারের বড় ছেলে হয়ে হাল ধরার সুবাদে তাঁর তাত্ত্বিক বিষয়ে বুৎপত্তি না থাকলেও বৈষয়িক বিষয়াদি সম্পর্কে ছিল প্রখর জ্ঞান । তিনি ছিলেন একাধারে দই বিক্রেতা, সবজি বিক্রেতা ও চাল ব্যবসায়ী । আমার মার বংশের অনুন্নত অংশের প্রতিনিধি ছিলেন তিনি। আমি তাকে ডাকতাম "বেদাই মামা" (আমি ল উচ্চারণ করতে পারতাম না ছোটবেলায়)। এই ব্যক্তিটির উপর আমার ভার ছেড়ে দিয়ে গোটা সপ্তাহ জুড়ে নিশ্চিন্ত থাকতেন বাবা, মা। আমার গৃহশিক্ষক এর দিয়ে যাওয়া বাড়ির কাজ ও স্কুলের বাড়ির কাজগুলোও আদা্য় করে নিতেন তিনি। কিছুটা কড়া মেজাজের মানুষ ছিলেন তিনি এবং বকাঝকা করতেন প্রচুর। কিন্তু স্নেহ আর ভালবাসা দিয়ে আবার ভুলিয়ে দিতেন সমস্ত মান, অভিমান। তিনি আমার আরেক বন্ধু, যার সাথে আজও রয়েছে অটুট আর নিঃস্বার্থ বন্ধুত্ব।

আমার ছেলেবেলার বন্ধু ছিল এনাম আর ফজল। পরে যোগ দিয়েছিল বিল্লাহ ও মাহমুদ। সবচেয়ে দুরন্ত ছিল ফজল এবং সবচেয়ে নিরীহ ছিল এনাম। আমি ছিলাম তাদের ভাষায় আম্বলটু :):)। মানে সব সময় তাদেরকে ব্যতিব্যস্ত রাখতাম আমার দূর্বোধ্য (তাদের ভাষায়) সব বাণী দিয়ে, যেমন আমি তৃতীয় শ্রেণীতে পড়ার সময় বলেছিলাম " আসলে পৃথিবীর সব কিছুই আপেক্ষিক, আমরা হলাম আপেক্ষিকতার নিয়ামক" :D:D:D। এই কথা শুনে তারা :-/ :-/ :-/ । আমি স্বপক্ষে যুক্তি দিলাম, " আমরা ক্লাসে আসি বলেই শিক্ষকরা ক্লাস নেন, আর তাঁরা বেতন পান, বাজার করেন আর দেশের অর্থনীতি সচল থাকে, দেশ কে কম ঋণ নিতে হয়, আর আমরা স্বনির্ভরতার দিকে আগাই" আমার মুখে একথা শুনে তারা আমাকে "আঁতেল" বলে বিশেষায়িত করলো। আজ সবাই স্ব স্ব ক্ষেত্রে ভাস্বর। খুব বেশী অভাব অনুভব করি এই বন্ধুত্বটাকে।

বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় গড়ে উঠল যে বন্ধুত্ব তার ছিল না কোন মাত্রা। কি না করি নাই তার হিসাব নাই। ছাত্ররাজনীতি করতাম না কিন্তু সব রাজনৈতিক দলের বন্ধু ছিল আর তাদের সুবাদে আমিও ছিলাম একজন কেউকেটা গোছের। শুধুমাত্র এসময়ে এসে কিছুটা বন্ধুবৎসল ছিলাম। বন্ধুদের মধ্যে ছিল সুমন, মিশুক, আসিফ, মেহদি, তৌফিক। আজ আর তারা কি মনে রেখেছে এই বন্ধুকে!! কে জানে হয়তো বা, হয়তো বা নয়।

উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ার জন্য চলে আসলাম প্রবাসে, গুটিকতক বন্ধু হল। দুইজন খুব কাছাকাছি চলে এল আর পরিতাপের বিষয় এই যে, দুটিই মেয়ে এবং ভিনদেশি। পরিতাপের বিষয় এ কারণে যে তারা খুব রন্ধনপারদর্শী। আর যেকনো রান্না করলেই সবার আগে আমাকে বগলদাবা করে নিয়ে যাওয়া হত। আমার চাখনির মর্যাদা তারা ঠিকই অনুধাবন করেছিল কিন্তু হায়, সে সুখ কপালে বেশীদিন সইলো না, চলে গেল সব প্রেমিকের হাত ধরে, আর আমি হলাম দূরগ্রহের প্রানি।:(:(:(

মেয়ে ব্ন্ধুদের মধ্যে পারিসা ছিল আমার খুব কাছের একজন। সে জাতে ইরানি ছিল কিন্তু খুব সংস্ক্বতিমনা ছিল, একদিন গালে টুক করে চুমু দিয়ে বলল "جان، من دوست دارم نوید، اما من هم تو را دوست دارم، به طوری که، چه کاری باید انجام دهم؟" ceaser jan, I love naveed, but i also love you" আমি আমতা আমতা করে ভাল মানুষটি সাজলাম এবং তাকে বললাম আমাদের সাংস্কৃতিক পার্থক্যের কথা, ভাষা এবং আরো আনেক কিছু, সে কি বুঝল জানিনা শুধু চোখের কোণে কিছুটা অশ্রু দেখলাম এবং কিছু না বলে চলে গেল আর আমি হারালাম আরেক বন্ধুকে। :(:(:(

তবে সময়ের কালক্রমে বন্ধুর বিবর্তন ঘটলেও আমার ছবি তোলার সাথি এবং যান্ত্রিক বন্ধুরা আজও আমাকে সহা্য়তা করছে সকল প্রতিকূলতার মাঝে। আমার প্রাণপ্রিয় ক্যামেরা, ঘড়ি আর যন্ত্রগণক। তোমরাই রইলে হে!!! আর সব বিলীন হলো মহাকালের স্রোতে।

ভাল থাকুন, সবাই।

(২০১৩ সালে ব্লগে প্রকাশিত)
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই জুন, ২০২১ রাত ১০:২২
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দেশে শিক্ষিত বেয়াদব ধান্দাবাজ লোকের সংখ্যা ক্রমেই বেড়ে চলছে

লিখেছেন হাসান কালবৈশাখী, ২৪ শে জুন, ২০২১ দুপুর ১২:৫১




আমাদের দেশে শিক্ষিত বেয়াদব ধান্দাবাজ লোকের সংখ্যা ক্রমেই বেড়ে চলছে। সত্যি চিন্তার বিষয়।।

নওম চমস্কি পৃথিবীর অন্যতম জীবিত দার্শনিক, বুদ্ধিজীবী, বলা যায়, উনি একটি প্রতিষ্ঠান।
এত বড় একজন মহামানবকে যে সাক্ষাৎকার... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছবি ব্লগ প্রতিযোগিতা সম্পর্কিত কিছু আপডেট এবং বিচারক প্যানেল।

লিখেছেন কাল্পনিক_ভালোবাসা, ২৪ শে জুন, ২০২১ সন্ধ্যা ৬:০৯

প্রিয় ব্লগার বৃন্দ,
ছবি ব্লগ প্রতিযোগিতা ২০২১কে অভাবনীয় সাফল্যমন্ডিত করার জন্য আপনাদের সবাইকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও কৃতজ্ঞতা। ছবি ব্লগ সংক্রান্ত কিছু গুরুত্বপূর্ন আপডেট এখানে যুক্ত করা হলোঃ

১। ইতিপূর্বে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছবি ব্লগ ২:

লিখেছেন সুমন জেবা, ২৪ শে জুন, ২০২১ সন্ধ্যা ৭:১০

ছবি ১: ঝুমকোলতা ফুল
ঝুমকো লতা কানের দুল, উঠল ফুটে বনের ফুল



ছবি ২: জারুল
তোমায় দিলাম অযূত জারুল ফুল।



ছবি ৩:রঙ্গন
ফুল যদি নিয়ে আসো... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছবি প্রতিযোগিতা ২ (আমার দেশের বাড়ি ভ্রমণ)

লিখেছেন রানার ব্লগ, ২৪ শে জুন, ২০২১ রাত ৯:২৯



চাঁদের হাসি




বলুনতো এটা কি ফুল, আমি জীবনে প্রথম দেখেছি।




আকাশ মেঘে ঢাকা।




কচি, একদম কচি।



পথ চিরদিন সাথি হয়ে রইবে আমার




অনেক হলো পরিশ্রম,... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছবি ও ক্যামেরার গল্প!

লিখেছেন শেরজা তপন, ২৪ শে জুন, ২০২১ রাত ১১:১৩


গল্পটা ছোটবেলার! মফস্বলে ছিলাম বলে শহর থেকে(বিশেষ করে ঢাকা থেকে) অনেকখানি পিছিয়ে ছিলাম আমরা- তাই সময়টা খুব বেশি পেছনের না হলেও বেশ পুরনো বলেই মনে হবে।
আমাদের ওখানে একমাত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

×