মনে করুন আপনি বসে আছেন বাসের সিটে। এবং আপনার পাশে বসে আছেন একজন... এভাবে বাসভর্তি মানুষ। জ্যামে পড়ে সবাই হাশফাঁস করছে। কিন্তু কেউ কোনো কথা বলছে না। বাসটা পড়েছে মগবাজারের জ্যামে। হঠাৎ একজনের মোবাইল বেজে উঠলো। লোকটা পকেট থেকে মোবাইলটা বের করলো এবং স্ক্রণে নম্বর দেখেই সিটে দাঁড়িয়ে গিয়ে মোবাইল রিসিভ করে বলল, স্যার আমি তো এখনও কাকলী মোড়ে আটকে আছি। গাড়ি একইঞ্চিও নড়ছে না। গাড়ির সব লোক এই কথা শুনে তার দিকে তাকিয়ে রইলো। লোকটির অব্শ্য এসবদিকে কোনো খেয়াল নেই। লোকটির পরের কথাটি এরকম, স্যার এসি গাড়িতে চড়েছিতো, মোটামুটি গরমটা কম। লোকজন আবার তার দিকে তাকিয়ে দেখলো লোকটা দরদর করে ঘামছে। জ্বি স্যার, জ্বি স্যার, আমি তাড়াতাড়ি আসার চেষ্টা করছি, এইজন্যই তো কাউন্টারের গাড়িতে টিকিট কাটছি। লোকজন এবার রীতিমতো তার দিকে চোখ গেঁথে রাখলো। লোকটা মোবাইলে কথা শেষ করে সেটটা পকেটে রেখে আশেপাশে তাকালো এবং সবাইকে দেখে নিয়ে ফিক করে হেসে ফেললো। এবং তৎক্ষণাৎ আরেকটি লোকের ফোন বেজে উঠলে সে ফোন রিসিভ করেই বললো, জ্বি স্যার আমি এখন কাকলীর মোড়ে আটকে আছি, জ্বি স্যার এসি গাড়িতে।
এতো গেল সাধারণ, মামুলি একটি ব্যাপার যা হরহামেশাই ঘটছে। কিন্তু তার চেয়ে বড় ব্যাপার হলো, আমাদের চোখের সামনে নয়, সমাজের আভ্যন্তরীণ স্রোতের যে চোরাবালি সেখানে এমত মিথ্যার কত বালু ঘুরে বেড়াচ্ছে, উড়ে বেড়াচ্ছে এবং প্রতিনিয়ত জন্ম দিচ্ছে এক অন্য সংস্কৃতির যা দিনে দিনে আমাদের মূল সংস্কৃতিকে আস্তে আস্তে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে। বিষয়টি এমন যে, একটি মেয়েকে একটি ছেলে ফোন দিলো এবং মেয়েটি ফোনটা কেটে দিল। এভাবে অনেকক্ষণ জ্বালানোর পর একপর্যায়ে মেয়েটি ফোনটি ধরে তার বিরক্তি প্রকাশ করে। তখন ছেলেটি জানায়, আমি তো আপনার বিরক্তিই উৎপাদন করতে চেষ্টা করছি। অমনি ফিক করে হেসে ফেলে মেয়েটি। এবং আমার জানামতে একদিন ঐ ছেলেটির সাথে মেয়েটির বিয়ে হয়।
একটি মেয়ে বোরকা পরে ঘুরে বেড়ায়। তার মুখটা কেউ দেখতে পায় না। একদিন একটা ছেলে তার মোবাইল নম্বর নিয়ে তাকে ফোন করে এবং একপর্যায়ে তার বন্ধুতা অর্জন করে। কিন্তু বাস্তবতা হলো এই যে, এই মেয়েটির কারো সাথে কথা বলারও স্কোপ নেই। মোবাইল না থাকলে হয়তো কোনোদিনও ঐ মেয়েটির সাথে ঐ ছেলেটির কথা হতো না। বন্ধুত্ব গড়ে উঠতো না, এবং একদিন রাতের আঁধারে স্বামী ও ২ ছেলেমেয়েকে ফেলে ফোনপ্রেমিকের হাত ধরে পালাতো না।
এ সবই হচ্ছে, হবে। আর এর পেছনে অমোঘ এক বিষয় কাজ করছে যার নাম মোবাইল। আধুনিক যুগের এই মোবাইল সংস্কৃতি এখনো ভালোভাবে আয়ত্ত করতে না পারা, অতি ঔৎসুক্যতা, কোনো বিশেষ ব্যক্তির প্রতি লক্ষ্য নির্ণয়, কাজের চাপ ইত্যাদি মোবাইলে একজন লোককে মিথ্যা বলিয়ে নিচ্ছে আর লোকটিও মিথ্যা বলে যাচ্ছে।
এতসব বলার পেছনে একটি কথাকে আমি গুরুত্ব দিতে চাচ্ছি আর তা হলো, মোবাইল আমাদের উপকার করেছে অনেক, কিন্তু পরিবর্তন করছে আমাদের সংস্কৃতি যার আধার হলো মিথ্যা।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

