সাধারণ জনগণ থেকে শুরু করে প্রধানমন্ত্রী, সবার ‘কথা’ নিয়ে শুধু হিসাব করলে দেশপ্রেমের যে যোগফল আসবে তাতে করে দেশে এখন কোন সমস্যাই থাকার কথা না।
দুর্ঘটনা ঘটছে। এরপর আমরা কষ্টে কাতর হচ্ছি, গালিগালাজ করছি দেশ চালানো হর্তাকর্তাদের, পরামর্শ দিচ্ছি রাষ্ট্রপ্রধানদের। দেশের মন্ত্রীরা হাসপাতালে যাচ্ছেন আহতদের সান্ত্বনা দিতে, শহীদ মিনারে যাচ্ছেন নিহতদের দেখতে, অনেক বাণী এবং সমাধান দিচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছেন গত ৯/১০ বছরের সড়ক বাবদ খরচের রিপোর্ট বের করে দেখতে, রাস্তা ঠিক করতে যত টাকা লাগে দিবেন।
এত দেশপ্রেমের ছড়াছড়ি, তবুও কেন এই হতভাগা দেশ হতভাগাই থেকে যাচ্ছে? দেশের জন্য এত ভালবাসা, তাও কেন যথেষ্ট হচ্ছে না?
আমাদের দেশপ্রেম হচ্ছে মৌসুমী দেশপ্রেম, এটা জেগে উঠার জন্য কিছু একটা ঘটতে হয়। যেকোন একটা বড় ঘটনা হলেই হঠাৎ করে জোয়ারের মত দেশপ্রেম ভিড় করে। অল্প কিছু ডিরেক্ট ভিক্টিম, আর অতি উদ্যোগী মানুষ ছাড়া বাকিদের দেশপ্রেমটা আবার ভাটার মতই চলে যায়। এই ভাটা পড়ার কারণও অনেকঃ
“সময়”। মা-বাবার মৃত্যুর কষ্টই সময়ের স্রোতে হারিয়ে যায়, আর জাতীয় সমস্যা!
“এইসব নিয়ে সারাবছর পড়ে থাকলে কি আর পেট চলবে”। পেটের টানে অনেককিছুই পেছনে ফেলে যেতে হয়, আমরাও যাই।
“দেশের রাজনৈতিক পটভুমি পরিবর্তন না হলে কিছু হবে না”। যেহেতু রাজনৈতিক পটভুমি পরিবর্তনের কোন রাস্তা আমরা বের করতে পারছি না, তাই কোন কিছু নিয়েই চেষ্টা করে শেষ পর্যন্ত কোন লাভ নেই, সেটা আমরা ভালভাবেই বুঝে গিয়েছি, মেনেও নিয়েছি।
“ঈদের আনন্দের মধ্য দিয়ে আমরা আমাদের সকল দুঃখ কষ্ট ভুলে যাব, সেজন্যইতো ঈদ”। এখন ঈদে যাওয়া-আসার টিকেট পাওয়ার ঝামেলা, নিরাপদে বাড়িতে গিয়ে আবার ফিরে আসা, আনন্দ নিয়ে ঈদ কাটানো, এতকিছুর পর জাতীয় সমস্যা নিয়ে দুঃখ বহুদুরে পালিয়ে যাবে।
... ... ...
এইরকম আরো অসংখ্য কারণ আছে যেগুলো আমাদের যাবতীয় কষ্ট ভুলিয়ে দেবে, কোন একটা ঘটনায় তৈরী হওয়া সাময়িক দেশপ্রেমটাকে ফিকে করে দেবে।
আর হাতে যদি কোন তরতাজা ঘটনা না থাকে তাহলেতো আমাদের দেশের জন্য, অন্যের জন্য কোন প্রকার কোন অনুভূতি থাকার প্রশ্নই আসে না। ঘরে বসে ঘন্টার পর ঘন্টা সময় নষ্ট করতে পারলেও রাস্তায় নেমে আমরা ১০ মিনিট অতিরিক্ত খরচ করতে চাই না। নিজের সেই মহামুল্যবান সময়টা বাঁচানোর জন্য অন্য সবাই গোল্লায় গেলেও আমাদের কিছু আসে যায় না। আমরা সবসময় “আমার...” নিয়ে চিন্তিত থাকি, “আমাদের...” নিয়ে কোন মাথাব্যাথা করি না। অন্যদের দেশপ্রেম নিয়ে, মানুষের প্রতি অনুভূতি নিয়ে প্রশ্ন তুললেও, নিজে যখন রাস্তায় নামি তখন নিজের ব্যাপারে ওইসব প্রশ্ন তৈরী হয় না।
সত্যিই দেশের জন্য কিছু করতে চাইলে, অবস্থার পরিবর্তন চাইলে সবার আগে নিজেকে জিজ্ঞেস করা প্রয়োজন,
দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য নিজের জায়গায় দাঁড়িয়ে এখন পর্যন্ত কাজের কাজ কি করেছি?
দেশের জন্য কিছু করতে পারব এমন একটা অবস্থায় নিজেকে নিয়ে যাওয়ার কতটা চেষ্টা করে দেখেছি?
অন্য মানুষের কাজকর্ম, দায়িত্ব পালনের ব্যার্থতা থেকে তাদের দেশপ্রেম মাপার চেষ্টাতো অনেক করেছি; নিজের কাজ আর দায়িত্ব পালনের হিসাব মিলিয়ে কতটুকু দেশপ্রেম পেয়েছি?
সুমন_সাস্ট
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে আগস্ট, ২০১১ দুপুর ১:৩৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



