somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাংলাদেশের মানচিত্র পরিবর্তন করে দেয়ার অপচেষ্টা করা হচ্ছে। দেশ বাসী সাবধান হোন। নইলে ভয়াবহ বিপদ আসছে।

৩০ শে আগস্ট, ২০১১ সকাল ১১:১২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আদিবাসী ইস্যু নিয়ে বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছে সরকার। ভোটের সরল অঙ্কে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে উপজাতীয়দের আদিবাসী বলে উল্লেখ করা হলেও এখন সরকার হিসাব মিলাতে পারছে না। এ কারণে উপজাতীয়দের আদিবাসী হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেয়নি। পার্বত্য চট্টগ্রামের নৃজাতি, ক্ষুদ্র জাতিসত্তার জনগোষ্ঠীকে আদিবাসী বলে ঘোষণা করার পরই আইএলও কনভেনশন-১৬৯ ঘোষণা সরকারকে অনুমোদন করতে হবে। এর পরিণাম সম্পর্কে শঙ্কিত সরকারের নীতিনির্ধারকরা। গত ২৯শে জুলাই জেনেভায় জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ (ইকোসক)-এর সম্মেলনে বাংলাদেশের তিন পার্বত্য জেলার উপজাতীয়দের আদিবাসী হিসেবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়া হয়েছে। সরকার এতে তীব্র আপত্তি জানিয়েছে। বিচলিতও বোধ করছে। তবে সরকার তার অবস্থান থেকে সরে আসছে না। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমদ মানবজমিনকে বলেন, উপজাতীয়দের আদিবাসী ঘোষণার বিষয়টি রাষ্ট্রের নীতি নির্ধারণী বিষয়। তাঁর জানামতে সরকার এ নিয়ে চিন্তা করছে না। তিনি বলেন, বিদেশী ও দেশী কয়েকটি এনজিও ও আন্তর্জাতিক সংস্থা উপজাতীয়দের আদিবাসী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে আইএলও কনভেনশন-১৬৯ রেটিফাই করার জন্য সরকারের ওপর নানাভাবে চাপ ও প্রভাব সৃষ্টির সর্বাত্মক চেষ্টা করছে। সূত্র জানায়, রাষ্ট্রের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা সংস্থাটি এদের তৎপরতাকে ভয়াবহ ফাঁদ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়ে তারা বলেছেন, এ রেটিফিকেশন করা হলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে কঠিন মূল্য দিতে হবে। সরকারও দ্রুত এ ব্যাপারে কোন সিদ্ধান্ত নিতে চাইছে না। সকল দলের মতামত ছাড়া এককভাবে সিদ্ধান্ত না নেয়ার পক্ষে নন নীতিনির্ধারকরা।
আইন ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের শীর্ষস্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আইএলও কনভেনশন-১৬৯ অনুমোদন করা হলে তা একটা পর্যায়ে রাষ্ট্রীয় অখণ্ডতার জন্য বড় রকমের হুমকি হয়েও দেখা দিতে পারে। মানবাধিকার ও আদিবাসীদের অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে মর্মে আদিবাসীদের কাছ থেকে অভিযোগ পেলে জাতিসংঘ সরকারের সঙ্গে কথা না বলেই শান্তিরক্ষী বাহিনী পাঠাতে পারবে। যেমনটি হয়েছে দক্ষিণ সুদান ও পূর্ব তিমুরে। কনভেনশন অনুযায়ী আদিবাসীরা আপত্তি করলে সেনাবাহিনী সেখানে থাকতে পারবে না। উপজাতি জনগোষ্ঠীকে আদিবাসী হিসেবে স্বীকৃতি না দেয়ার পিছনে এটাই বড় ভীতি হয়ে কাজ করছে। সূত্র জানায়, কনভেনশন অনুযায়ী আদিবাসীরা সর্বক্ষেত্রেই আলাদা গোষ্ঠী হিসেবে বিবেচিত হবে এবং রাষ্ট্রকে তা নিশ্চিত করতে হবে। আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকায় কোন খাসজমি থাকবে না। প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণের ক্ষেত্রে তাদের মতামত প্রাধান্য পাবে। তাদের আপত্তি বা বিরোধিতার মুখে আদিবাসী এলাকা থেকে প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণ করা যাবে না। এ জনগোষ্ঠীর বাইরের কেউ এখানকার জমির মালিক হতে পারবে না।
জাতিসংঘ ঘোষণা অনুযায়ী আদিবাসীদের নিজস্ব ভূমি ও অঞ্চলের ওপর তাদের অধিকার থাকবে। অভ্যন্তরীণ ও স্থানীয় বিষয়াদির ক্ষেত্রে তাদের স্বায়ত্তশাসন বা আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার রাষ্ট্রকে দিতে হবে। তাদের অনুরোধ ছাড়া কোন ধরনের সামরিক কার্যক্রম ওই অঞ্চলে গ্রহণ করা যাবে না। আদিবাসীদের ভূমির ওপর পূর্ণ অধিকার ও আত্মনিয়ন্ত্রণ থাকবে। জাতিসংঘ তার বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে সরকারের পূর্বানুমতি ছাড়াই আদিবাসীদের জন্য সরাসরি ত্রাণসামগ্রী পাঠাতে পারবে। গত মাসে জেনেভায় অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের সংস্থার সম্মেলনে আদিবাসী অধ্যুষিত অঞ্চলে সেনাবাহিনী মানবতা বিরোধী কর্মকাণ্ড চালালে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীতে সে দেশের সামরিক বাহিনীর সদস্যদের না নেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। বাংলাদেশের ওপর এটা এক সরাসরি চাপ বলেই মনে করা হচ্ছে। পার্বত্য এলাকায় সেনাবাহিনী উন্নয়ন ও শান্তি প্রতিষ্ঠার কাজে নিবেদিত থাকলেও জনসংহতি সমিতি, ইউপিডিএফসহ স্বার্থান্বেষী মহল সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ করে আসছে। পার্বত্য জেলাগুলো থেকে সেনা সদস্যদের প্রত্যাহার করে নেয়াই তাদের উদ্দেশ্য। সরকার সি-১৬৯ অনুমোদন করলে উপজাতীয় নেতৃবৃন্দ, তাদের মদতদাতা দেশী-বিদেশী এনজিও, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা ছোটখাটো ঘটনায়, নানা ছলছুতায়ও জাতিসংঘের শরণাপন্ন হয়ে সেনা প্রত্যাহারের দাবি জানানোর অবারিত সুযোগ পাবে। এ প্রক্রিয়ায়ই দক্ষিণ সুদান ও পূর্ব তিমুরে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনী পাঠানো হয়। মিশনারি, এনজিও ও আন্তর্জাতিক সংস্থার সহায়তায় সেখানকার অধিবাসীদের খৃষ্টান হিসেবে ধর্মান্তরিত করা হয়। তারা এখন স্বাধীন রাষ্ট্র।
পার্বত্য এলাকায় ১৪৯টি এনজিও কাজ করছে। খৃষ্টান মিশনারিগুলো এখানে ব্যাপক তৎপরতা চালিয়ে আসছে। তারা প্রায় ১০০ গির্জা স্থাপন করেছে। পুরো বোরো সমপ্রদায়সহ ১৭ হাজার উপজাতীয়কে তারা ধর্মান্তরিত করেছে। আদিবাসী হিসেবে স্বীকৃতি আদায় করার পরবর্তী পর্যায়ে ইউপিডিএফ, জনসংহতি সমিতিকে ব্যবহার করে হিংসাত্মক ঘটনা ঘটানো ও তা জিইয়ে রাখার মতো দেশী-বিদেশী শক্তিশালী নেটওয়ার্ক পার্বত্য অঞ্চলে কার্যকর রয়েছে। গোয়েন্দা সংস্থাটি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছে, পার্বত্য উপজাতিরা আদিবাসী হিসেবে স্বীকৃতি পেলে তা পার্বত্য চট্টগ্রামের ব্যাপারে যথেষ্ট উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা সৃষ্টির কারণ হবে।
অত্যন্ত স্পর্শকাতর এ বিষয়টি নিয়ে সরকার দুর্ভাবনায় পড়েছে। ঐতিহাসিক বাস্তবতা ও ভবিষ্যৎ চিন্তা করেই সরকার এ ব্যাপারে ধীরে চলো নীতি নিয়েছে। আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে উপজাতীয়দের আদিবাসী বলা হলেও বিষয়টি যে সরল অঙ্কের নয় তা সরকারের নীতিনির্ধারকদের বিলম্বিত উপলব্ধিতে এসেছে। এ কারণেই পঞ্চদশ সাংবিধানিক সংশোধনীতে বিভিন্ন উপজাতি, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা, নৃগোষ্ঠী ও সমপ্রদায়ের অনন্য বৈশিষ্ট্যপূর্ণ আঞ্চলিক সংস্কৃতি, ঐতিহ্য সংরক্ষণ, উন্নয়ন ও বিকাশের কথা বলা হয়েছে। সি-১৬৯ রেটিফাই করতে হলে আবারও সংবিধান সংশোধন করতে হবে। রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন থাকায় সরকার এককভাবে সিদ্ধান্তে আসতে চাইছে না। সব দলের মতামতের ভিত্তিতেই সরকার সিদ্ধান্ত নেবে।
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমদ মানবজমিনকে বলেন- পাহাড়ি, নৃজাতি, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা ও সমপ্রদায়সমূহ ট্রাইবাল না এ্যাবঅরিজিন তা আগে নির্ধারণ করতে হবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে হাজার বছর ধরে রেড ইন্ডিয়ানরা, অস্ট্রেলিয়ার এ্যাবঅরিজিনরা রয়েছে। প্রকৃত অর্থেই তারা আদিবাসী। তাদের নিয়ে কারও মাথাব্যথা নেই। সূত্র জানায়, পার্বত্য চট্টগ্রামে ১৪টি উপজাতিসহ দেশে ৪৫টি উপজাতি রয়েছে। ভারতে রয়েছে ৬৩৫টি উপজাতি। পার্বত্য চট্টগ্রাম ঘেঁষা ভারতীয় অঞ্চলে উপজাতীয়রা রয়েছে। পাকিস্তানেও উপজাতি জনগোষ্ঠী রয়েছে। সেসব দেশে উপজাতীয়দের আদিবাসী ঘোষণার দাবি ওঠেনি।

Click This Link
৩টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিলেন মমতার দলকে?

লিখেছেন ...নিপুণ কথন..., ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:২২


শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিয়েছেন মমতা ব্যানার্জিকে। কিভাবে? দুই দফায় পানিচুক্তি হতে দেননি মমতা। কংগ্রেসের মনমোহন সিং প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন এবং বিজেপির Narendra Modi প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন দুবার দুজনই বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন, দুবারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×