দাদীকে কেমন ভালবাসতাম তা প্রকাশ করা সম্ভব নয়। আমার জন্মের পর থেকেই দাদীকে অসুস্থ দেখি। তিনি স্ট্রোক করেছিলেন। স্ট্রোক করার পর তিনি বেঁচে ছিলেন প্রায় ৮ বছর। কিন্তু আমার প্রতি দাদীর ভালবাসা এবং তার প্রতি আমার ভালবাসা ছিল প্রচুর। প্রতিনিয়ত দাদীর একটি করে শক্তি শেষ হচ্ছিলো। একজন মানুষের জীবন প্রদীপ কিভাবে আস্তে আস্তে নিভে যায় তা আমি দেখেছিলাম আমার দাদীকে দিয়ে। সে আমাদের বাসায় আমার চোখের সামনে ছিল দীর্ঘ সময়। সময় পেলেই আমি আমার প্রিয় দাদীর কাছে গিয়ে বসতাম। দেখতাম প্রিয় মানুষটির কষ্ট। দেখতে হত। কিছুই করার ছিল না। দাদীকে প্রায়ই আঙ্গুর খাওয়াতাম। এই একটা জিনিস আমার দাদী সবচেয়ে ভাল করে খেতে পারতো। তাও প্রস্তুত করে দিতে হত। আঙ্গুরের উপরের পাতলা আবরণটাকেও সে গিলতে পারতো না। তাই সেটাকে ফেলে তারপর দিতে হত।
আমার দাদীকে আমি যতটুকু ভালবাসতাম তার থেকে অনেক বেশি ভালবাসতো আমার বড় দুইভাই। তারা দুইজন বড় হয়েছিল দাদীর স্নেহ নিয়ে। আমার মা কখনো আমার বড় ভাইদেরকে মারলে বা কিছু বললে তারা সরাসরি আমার দাদীর কাছে গিয়ে নালিশ করতো। তখন আমার দাদী আমার আম্মুকে বকতো।
************************************
আমার দাদী যেদিন মারা গেলেন সেদিন বিকাল তেকেই বোঝা যাচ্ছিলো যে তার ভিতরে কিছু একটা হচ্ছে। শ্বাস নেওয়ার সময় ভীষণ শব্দ হচ্ছিলো। আমি একটু পরপর গিয়েই দেখছিলাম দাদীর অবস্থা। আমার দাদীর শ্বাসের সাথে ঘড়ঘড় করে শব্দ হচ্ছিল। শব্দটি এখনো আমার কানে বাজে। আমার দাদীর অবস্থা খারাপ হয়েছিল বিকাল ৪টা থেকে। সে মারা গেল সবাই আসার পরে। তখন ঘড়িতে প্রায় ৭:৩০টা বাজে। এই প্রথম আমি কাউকে নিজের চোখের সামনে মারা যেতে দেখলাম। সেই প্রথম ব্যক্তিটি আমার প্রিয় দাদী.......
আজ দাদীকে খুব বেশি মনে পড়ছে। দাদী উঠতে বসতে না পারায় তার বিছানা থেকে সবসময় একটা গন্ধ আসতো। সেই গন্ধটাকে সরানোর জন্য আমরা একটা রুম স্প্রে ইউজ করতাম। আজকে বাসায় শুটকি নিয়ে আম্মু কি যেন করছে। শুটকির গন্ধ সরানোর জন্য আমি রুমে নিজের অজান্তেই দাদীর স্প্রেটাকে দিলাম। সঙ্গে সঙ্গে মনে পড়লো আমার দাদীকে। মনে হল আমার সামনের বিছানায়ই আমার দাদী শুয়ে আছে.......
আল্লাহ আমার দাদীকে বেহেশত নসিব করুক.....

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

