somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

হিরো আলম আমার নায়ক!

২০ শে ডিসেম্বর, ২০১৮ রাত ১২:১৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ইসি সচিব নির্জলা বর্ণবাদী বক্তব্য দিয়েছেন। সচিবের আচরণ ঘোরতর বর্ণবাদী। এই মানসিকতার নেপথ্যে আছে কথিত আভিজাত্যবোধ, জ্যাতাভিমান। ব্রাহ্মণ্যবাদী সামন্ত মানসিকতা। ব্যক্তিজীবনে সচিব মহোদয় যেমনই হননা কেন রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনে এহেন বর্ণবাদী আচরণ তিনি করতে পারেন না। রাষ্ট্রের চাকর হয়ে রাষ্ট্রের মালিকের সাথে এমন আচরণ শাস্তিযোগ্য অপরাধও বটে।

উল্লেখ্য, জনাব হিরো আলম এমন কোন বক্তব্যই দেননি হাইকোর্টের রায়ে প্রার্থীতা ফিরে পাবার পর। অতি উৎসাহি মিডিয়া এমন কথা ছড়িয়েছে যা জনাব হিরো আলম পরবর্তীতে তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট করেছেন। এ নিয়ে ভিডিও আছে।

ভুলে যাওয়া উচিত নয়, সচিব বা এ জাতীয় যারা আছেন তারা জনাব হিরো আলমদের মত মানুষেদেরই দেয়া ট্যাক্সের পয়সায় চলা স্কুল কলেজে পড়াশুনা করে বড় হয়েছেন। এদের বেতন- ভাতা জনাব হিরো আলমদের দেয়া ট্যাক্সের টাকাতেই হয়।

জনাব হিরো আলম নিঃসন্দেহে এই মূহুর্তে এদেশের সবচাইতে বেশি আলোচিত সাধারণের একজন। এ সমাজের অতি সাধারণদের প্রতিনিধি তিনি। অতি সাধারণদের একজন তিনি।
জনাব হিরো আলমের রুচি, চলন নিয়ে যাদের উষ্মা ও আপত্তি জানান, জনাব হিরো আলমের রুচি যেমনই হোক না কেন, সেটা বিনির্মাণে উষ্মা ও আপত্তি প্রকাশকারীদেরই দায় বেশি। বলাবাহুল্য, অন্যের নিরীহ রুচি বা রুচির মান নিয়ে তারা কথা বলেন কোন অধিকারে? কোন এখতিয়ারে তারা এটা করেন?

আমাদের অসভ্যতার শেষ নেই। লাইভ অনুষ্ঠানেও জনাব হিরো আলমকে একই কায়দায় অপদস্ত করার চেস্টা করা হয়েছে।
জনাব হিরো আলম নিঃসন্দেহে সহজ সরলদের একজন। প্রান্তিক সাধারণের জীবন ও চলন তাঁর। তাঁর সেই সহজ সরল চিন্তাই তাঁকে অনন্য করেছে। যতবার তাঁকে আঘাত অপদস্ত করার চেস্টা করা হয়েছে ততবারই তিনি তাঁর সহজ সরল কথা দিয়ে মানুষের মন জয় করেছেন। এখানেই জনাব হিরো আলম অনন্য ও অসাধারণ। এভাবেই জনাব হিরো আলম নিজেকে প্রান্তিক মানুষের আইকন ও প্রকৃত প্রতিনিধি হিসেবে গড়ে তুলেছেন। চোর ছ্যাচড়ার দেশে জনাব হিরো আলম এমপি নির্বাচিত হলে সংসদে গ্রামের সাধারণ ভাষায় সাধারণ মানুষের কথাই বলবেন। কোন কিছু পাবার আশায় না। নিজে সাধারণের একজন হিসেবেই বলবেন। আমাদের এমপিরা আর যাই হোক নিজেদের সাধারণ ভাবেন না। নিজেদের অপকর্মে আদতে তারা অসাধারণও বটে। জনাব হিরো আলম এমপি নির্বাচিত হলে আক্ষরিক অর্থেই একজন সাধারণকে আমরা সংসদে পাবো। যে নিজেকে শুধু সাধারণই ভাবেন না, আদতে তিনি সাধারণই। জনাব হিরো আলমের এমপি নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে (যদি হয়) বহু যুগ পর আমাদের সংসদে অন্তত একজন সাধারণকে আমরা এমপি হিসেবে পাবো। আমরা ও আমাদের সংসদ গৌরাবান্বিত হবে। জনাব হিরো আলমের নির্বাচনে প্রার্থীতা আরেক বিবেচনাতেও তাৎপর্যপূর্ণ। অতি সাধারণদের, কথিত রুচিবান কথিত ভদ্ররা সব সময়ই উপেক্ষা অবজ্ঞা অযন্ত করে অভ্যস্ত। জনাব হিরো আলমের প্রার্থীতা এসবের বিরুদ্ধে প্রতিবাদও। সাধারণকে দাবায় রাখার বিরুদ্ধে এটা একটা লড়াই। জনাব হিরো আলম এই লড়াইয়ের সেনানী। সাধারণেরা তাঁর শক্তি ও ভরসা। এই লড়াইয়ে জনাব হিরো আলমের সাথে আছি। পাশে আছি। সাধারণের একজন যেহেতু আমি নিজেও। জনাব হিরো আলম আমার ভাই। জনাব হিরো আলম আমার নায়ক। হিরো আলমের জয় হোক।

শেষ করবো শুরুর কথা দিয়ে। রাষ্ট্রের অভব্য চাকরটির শুভ বুদ্ধির উদয় হোক। রাষ্ট্রের মালিকের একজন জনাব হিরো আলমের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থণা করুক। জনাব হিরো আলম উদার মানুষ। সাধারণেরা যেমনটা হন। ক্ষমা চাইবার আগেই চাকরটিকে জনাব হিরো আলম ক্ষমা করে দেবেন, আমি নিশ্চিত। আর ক্ষমা না চাইলে, রাষ্ট্রের মালিকের মান রক্ষায় সর্বোচ্চ আদালত স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে এই চাকরটিকে মালিক চিনিয়ে দিক সেই কামনা করবো।


হিরো আলমের জয় হোক।


https://www.prothomalo.com/bangladesh/article/1570744/হিরো-আলম-পর্যন্ত-হাইকোর্ট-দেখায়-বোঝেন-অবস্থা
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে ডিসেম্বর, ২০১৮ বিকাল ৪:২২
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আত্মজৈবনিক উপন্যাসঃ স্বপ্ন বাসর (পর্ব-১১)

লিখেছেন আবুহেনা মোঃ আশরাফুল ইসলাম, ১৪ ই নভেম্বর, ২০১৯ ভোর ৬:১৩




আত্মজৈবনিক উপন্যাসঃ স্বপ্ন বাসর (পর্ব-১০)


কেহ উঁকি মারে নাই তাহাদের প্রাণে
ভাঙ্গিয়া দেখে নি কেহ, হৃদয়- গোপন-গেহ
আপন মরম তারা আপনি না জানে।

দুপুর আড়াইটার মধ্যে আমরা পৌঁছে গেলাম... ...বাকিটুকু পড়ুন

বায়োস্কোপ জীবন

লিখেছেন সুলতানা শিরীন সাজি, ১৪ ই নভেম্বর, ২০১৯ সকাল ১১:১৬


যেখানে রাস্তাটা উঁচু হয়ে গেছে অনেকদূর।
যেখানে উঠলেই বাড়িগুলোর ছাদ দেখা যেতো রাস্তা থেকে।
ছয় মিনিটের সেই পথটুকু শেষ হোক চাইনি কখনো!
কিছু পথ থাকে,যেখানে গেলে চেনা গন্ধর মত তুমি।
সেখানেই দেখা হয়েছিল আমাদের।
তুমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

পিয়াজ কথন

লিখেছেন জুন, ১৪ ই নভেম্বর, ২০১৯ দুপুর ১:১৫

.

একটু আগে কর্তা মশাই বাজার থেকে ফোন করলো "শোনো পিয়াজের কেজি দুইশ টাকা, দেশী পিয়াজ আধা কেজি আনবো কি"?
'না না না কোন দরকার নাই বাসায় এখনো বড় বড়... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝলমলে সোভিয়েত শৈশব: বিপদ তারণ পাঁচন

লিখেছেন স্বপ্নবাজ সৌরভ, ১৪ ই নভেম্বর, ২০১৯ দুপুর ২:০৪



শুভ অপরাহ্ন। এই দুপুরে ঘুমঘুম চোখে খুব সহজেই কিন্তু শৈশবে ফিরে যাওয়া যায়। আমার দিব্যি মনে আছে দুপুরের খাওয়ার পর রাশিয়ান বই পড়তে পড়তেই ঘুমিয়ে যেতাম... ...বাকিটুকু পড়ুন

কিরপিনের ডিম ভাজা রেসিপি

লিখেছেন মা.হাসান, ১৪ ই নভেম্বর, ২০১৯ রাত ৮:২৩






ঘটক এক সাত্ত্বিক ব্রাহ্মণের কন্যার জন্য পাত্রের খবর নিয়ে এসেছে। পাত্র কেমন জানতে চাওয়ায় ঘটক বলল ---পাত্রের সবই ভালো। দোষের মধ্যে এই খালি একটু পিঁয়াজ রসুন খায়। হবু... ...বাকিটুকু পড়ুন

×