সে সূত্রে নতুন নতুন ছবিতে অভিনয়ের প্রস্তাব এখন নিত্যই কড়া নাড়ছে তার দরজায়। সব মিলিয়ে বলা যায়, ছোট পর্দার চেয়ে রুমানার ব্যস্ততা এবং আগ্রহের মাত্রাটা এখন বড় পর্দাতেই বেশি। তাহলে কি রুমানা চলচ্চিত্রেই স্থায়ীভাবে খুঁটি গাড়ছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, চলচ্চিত্রের দর্শকরা যদি চায় তাহলে আমি ছোট পর্দাকে গুডবাই জানিয়ে বড় পর্দাতেই স্থায়ী হবো। দর্শকদের চাওয়া বলতে কি বুঝাচ্ছেন রুমানা?
জানতে চাইলে বলেন, দর্শকরা যদি চলচ্চিত্রে আমাকে সাদরে গ্রহণ করে নেয় তাহলে নির্দ্বিধায় টিভি মিডিয়া ছেড়ে দিবো। প্রথম ছবিটি মুক্তির অপেক্ষা আছি। দেখা যাক ভাগ্যে কি আছে? উল্লেখ্য, রুমানা এ পর্যন্ত তিনটি ছবির কাজ শেষ করেছেন। ছবি তিনটি হচ্ছে- পিএ কাজলের এক টাকার বউ, স্বামী স্ত্রীর ওয়াদা শাহীন সুমনের বিয়ে বাড়ি । তিনটি ছবিতেই তার বিপরীতে রয়েছেন শাকিব খান।
এত কাছাকাছি সময়ে তিনটি ছবিতে কাজ করতে যাওয়াকে কিভাবে দেখছেন? এমন প্রশ্ন করতেই একগাল হেসে রুমানা বলেন, এক্ষেত্রে আমি অনেক বেশি ভাগ্যবতী। কারণ আমার আগে যারা টিভি মিডিয়া থেকে ছবিতে এসেছেন তারা বেশি দিন স্থায়ী হননি। আমি নিজেকে ভাগ্যবতী মনে করছি এবং সৃষ্টিকর্তার অশেষ রহমত মনে করছি। অন্য এক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ছবি মুক্তি না পাওয়া পর্যন্ত কিছুই বলা যাচ্ছে না।
গভীর আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছি। অন্তত একটি ছবি মুক্তি পেলে বোঝা যাবে দর্শক প্রতিক্রিয়া কি হয়। কেননা আমাদের এখানে একটি কথা প্রচলিত আছে, যাদের বিনা পয়সায় টেলিভিশনে দেখা যায় তাদের ছবি দর্শক হলে গিয়ে তেমন একটা দেখে না। আমি বিষয়টি ওভাবে দেখি না। আমি মনে করি একটি ছবির গল্প, নির্মাণশৈলী যদি সে রকম হয় তাহলে দর্শক কেন দেখবে না। অবশ্যই দেখবে।
এখনও ভাল ছবি হচ্ছে এবং দর্শক সেসব ছবি হলে গিয়ে দেখছে। কোন ভয় কাজ করছে কি- এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন, কিছুটা ভয় তো কাজ করছেই। ওইভাবে যদি বলি তবে ভয় বলা যাবে না। একটু টেনশন কাজ করছে। ফিল্ম পলিটিক্সের কথা হরহামেশাই শোনা যায়, তো ফিল্ম পলিটিক্সকে মোকাবেলা করবেন কিভাবে? এই প্রশ্নের উত্তর দিতে একটু সময় নেন রুমানা। বলেন, আমি ফিল্ম পলিটিক্সকে ভয় পাই না।
আমি আমার মতো করে থাকার চেষ্টা করবো। আল্লাহ যদি আমাকে ছবিতে স্থায়ী হওয়ার ক্ষমতা দেন তাহলে আমার বিনয় দিয়েই সব কিছু মোকাবেলা করবো। যেখানে মন্দ কিছু দেখবো সেখানে যাবো না। অ্যাভয়েড করার চেষ্টা করবো। পরপর তিনটি ছবিতে কাজ করে নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাস কতোটা বেড়েছে? রুমানা বলেন, আত্মবিশ্বাস তো বাড়বেই। তবে এ বিষয়ে এখনই কিছু বলতে চাই না।
আগে দেখে নেই দর্শকরা কিভাবে আমাকে গ্রহণ করে তারপর বলবো। এ বিষয়ে তিনি আরও বলেন, দেখুন আমি এক সময় গান করতাম। মডেলিংও করতাম। মিডিয়ায় আমার বয়স ষোল বছর। গান, মডেলিং ছেড়ে এক সময় নাটকে অভিনয় শুরু করি। আস্তে আস্তে নাটকে ব্যস্ত হয়ে পড়ি। তারপর তো নিজের একটা ভাল অবস্থানও তৈরি হয়ে যায়। আমি মনে করি দর্শক আমাকে গ্রহণ করলে নাটকের মতো ছবিতেও হতে পারে।
পরপর তিন ছবির নায়ক শাকিব খান। যিনি এ সময়ের চলচ্চিত্রের সবচেয়ে ব্যস্ত নায়ক। তার সম্পর্কে রুমানা বলেন, সহশিল্পী হিসেবে অনেক অনেক ভাল। শাকিব খানের সঙ্গে কাজ করে ভাল লেগেছে। আমি টিভি মিডিয়া থেকে গিয়ে বড় পর্দায় কাজ করছি কিন্তু শাকিব খানের সঙ্গে কাজ করে তেমন মনে হয়নি। জনপ্রিয়তা তার যেমন-তেমনি শিল্পী হিসেবেও চমৎকার। অসম্ভব নাচতে পারে।
বিশেষ করে নাচের সময় আমার কারণে অনেক দৃশ্য কয়েকবার নিতে হয়েছে। আমি এ জন্য সরি বলতাম। কিন্তু সে সব কিছু সহজভাবে নিতো। চলচ্চিত্র নিয়ে টার্গেট কি- এমন প্রশ্নের জবাবে রুমানা বলেন, ভাল একজন অভিনেত্রী হতে চাই। এটাই আপাতত টার্গেট। আর ছবি করতে চাই।
সেটা কমার্শিয়াল কিংবা নন কমার্শিয়াল হিসেব করে নয়। চলচ্চিত্রের পরিবেশ সম্পর্কে জানতে চাইলে বলেন, দূর থেকে মানুষ কোন অনেক সময় অনেক কথা বলে। এসব একদম ফালতু কথা। আমি ছবিতে এসে মন্দ পরিবেশ পাইনি। বরং সবাই আমাকে অনেক আপন করে নিয়েছে।
আর তাই যদি না হতো তাহলে এতো অল্প সময়ে এতোগুলো ছবি করতে পারতাম না। নতুন ছবির ব্যাপারেও কথা হচ্ছে। কিন্তু চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত সব কিছু বলতে চাই না। এটুকু বলতে পারি- অনেক বড় বড় নির্মাতার সঙ্গে কথা হচ্ছে। চূড়ান্ত হলে সব জানাবো। উল্লেখ্য, রুমানা চলতি সময়ে হরফ নামে নতুন একটি ধারাবাহিক নাটকে অভিনয় করছেন।
আহমেদ ইউসুফ সাবেরের রচনায় নাটকটি নির্দেশনা দিচ্ছেন নান্টু। অন্যদিকে তার অভিনীত স্বপ্নমঙ্গল, একে শূন্য দশ, টমটমসহ কয়েকটি নাটক বিভিন্ন চ্যানেলে প্রচার হচ্ছে। নাটক প্রসঙ্গে রুমানা জানান, আপাতত নতুন নাটক হাতে নিচ্ছি না।
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই জুন, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:৩১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



