বিশ্বকাপ ক্রিকেট উন্মাদনায় সারাদেশ যখন কাঁপছে, তখন চোখের সামনেই রচিত হচ্ছে আগামী দিনের কলঙ্কিত কোন অধ্যায়। সারা ঢাকা সেজেছে সবুজ সাদার কম্বিনেশনে। হয় সবুজ ব্যাকগ্রাউন্ডে সাদা কিংবা সাদা ব্যাকগ্রাউন্ডে সবুজ রঙ্গে লেখা ইসলামী ব্যাংকের নাম। বিশ্বকাপ উপলক্ষে যতগুলো বোর্ড ও সজ্জা দেখা যাচ্ছে সব জায়গাতেই পাকিস্তানের পতাকার রঙ্গে আমাদের সরকারী সাজ। সদ্য কৈশোরে পা দেয়া ক্রিকেটপ্রেমী ছেলে-মেয়েরা জানে, বিশ্বকাপ ক্রিকেটের ভেন্যু হিসেবে তাদের দেশটি সারা পৃথিবীতে নিজের অবস্থান আলোকিত করবে। আর এই আলোকিত অবস্থানকে উপস্থাপন করতে দেশের পাশে দাঁড়িয়েছে এ দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় ব্যাংক ইসলামী ব্যাংক। তারা ১০ কোটি টাকা দিয়ে আমাদের রাজধানী ঢাকাকে স্বর্গের আদলে সাজিয়েছে। লোডশেডিং এর এই দেশে বর্ণিল আলোকচ্ছটা। সারা রাত শুধু আলোর বিচ্ছুরণ। আমাদের সেই আগামী প্রজন্ম বুঝতে পারলো, এত বড় আয়োজনে এ দেশকে সমর্থন করার জন্য শুধূমাত্র ইসলামী ব্যাংক ই ছিল, যা আমাদের এই স্বাধীন দেশটির সম্মান রক্ষা করেছে বিদেশী মেহমানদের কাছে। তাই তারা আজীবনের কৃতজ্ঞতা জানাবে ইসলামী ব্যাংককে। তাদের হৃদয়ের মণিকোঠায় লেখা থাকবে এই ব্যাংকের নাম। তাদের মনের সুপ্ত এবং বিকশিত উভয় দেশ প্রেমেই তাদের মনে লেখা থাকবে এই ব্যাংকের পরিচালক ও পরিচালিত সংগঠনকে। মানে, মীর কাসেম আলী আর জামাত ইসলামীকে। যাদের নিয়ে চক্রান্তকারীরা বলে, পরিচালকেদের কেউ কেউ যুদ্ধাপরাধের সাথে জড়িত, বলে এই ব্যাংক জঙ্গীদের অর্থায়নে জড়িত, রাজাকারের ব্যাংক।
একদিকে যুদ্ধপরাধের বিচারের কথা, অন্যদিকে তাদের অর্থায়নে ও বিজ্ঞাপনে ঢাকা সাজানো......। যে সরকার ১৪০ কোটি টাকায় শুধুমাত্র একটা নাম (জিয়া আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর) বদল করতে পারে, সে সরকার মাত্র ১০ কোটি টাকার জন্য দেশের লাখো মুক্তিযোদ্ধাকে অপমান করলো......!!! কি দরকার তবে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান করার? দেশের সম্মান বাঁচাতে তো তারা ১টা টাকাও দিতে পারেনি, দিয়েছে রাজাকাররা। কারণ, সরকার তাদেরকেই বেশী বিশ্বাস করেছে সহযোগী হিসেবে। আরো একটি কথা, ঢাকা সাজানোর কাজটি কিন্তু ইসলামী ব্যাংক কোন টেন্ডারের মাধ্যমে পায় নি। এ ব্যাপারে কোন টেন্ডারও ডাকা হয়নি। আল্লাহই জানে, ১০ কোটি টাকার কাজ কত কোটিতে ম্যানেজ হয়েছে!!! আরো একটা কথা, দেশের যে বুদ্ধিজীবী, সাংস্কৃতিক জোট, চেতনা, প্রজন্ম, অমুক, তমুক.... যারা যুদ্ধাপরাধ নিয়ে সারাদিন মানুষের ঘুম নষ্ট করে, তারা কিন্তু এ ব্যাপারে নিশ্চুপ ভূমিকা পালন করেছে.... কোথায় আজ শাহরিয়ার কবীর, ড. মোহাম্মদ জাফর ইকবাল, মাহমুদুজ্জামান বাবু, আব্দুল গাফ্ফার, সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, প্রজন্ম একাত্তর, ৭১ এর ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি, কবীর চৌধৃরী, সুচিন্তা ফোরাম...... নাকি এখানেও ম্যানেজ কোন অজ্ঞাত সমঝোতায়!!! শুধুমাত্র সাপ্তাহিক কেন যেনো একটা ছবি দিয়েছে ৪০ সংখ্যার ১৩ নং পৃষ্ঠায়।
আগামী প্রজন্মের সন্তানেরা কিন্তু ইসলামী ব্যাংক, জামাতী ইসলামীকে দেশের প্রধান বন্ধু হিসেবেই নিচ্ছে। আর তাদের এই মানসিকতার জন্য আমরাই উৎসাহিত করছি, নিজেদের অসুস্থ মানসিকতা দিয়ে।##

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


