......আগের পর্ব
সার্ভার রুমে বড় ধরনের গোলযোগ দেখা না দিলেও হটাৎ আবিষ্কার করলাম ১৬৭ টা ল্যাপটপ, সার্ভার ও অফিসের পিসিগুলো সব একটি খারাপ ধরনের ওয়ার্মে আক্রান্ত! পেন ড্রাইভের অনিরাপদ ব্যবহার এই অবস্থার জন্য দায়ী। মেঘ না চাইতে বৃষ্টির মত ঘটনা হলেও মেজাজ খারাপ হয়ে গেল অবস্থা দেখে। এই অবস্থা থেকে পরিত্রানের উপায় নিয়ে সন্ধ্যার পর ভাবতে বসবো ঘোষনা দিয়ে বাইরে বের হয়ে আসলাম। উদ্দেশ্য এলাকাটা আরেকটু ঘুরেদেখা। ঠিক হলো এলাকার রেজি: কেন্দ্রগুলো একটু ঘুরে দেখা হোক। এলাকার সব কর্তাব্যক্তি ও চেয়্যারমেনদের সাথে নিয়ে আমাদের গাড়ি বহর রওনা হলো। একটি রেজি: কেন্দ্র দেখে আমি আরেকবার মুগ্ধ হয়ে গেলাম। সবুউউউজ ধান ক্ষেতের মাঝখানে দ্বীপের মত একটা স্কুল। সেখানে রেজিষ্ট্রেশনের মহরা হচ্ছে। গ্রামের লোকজনও উৎসাহ নিয়ে দেখতে এসেছে। গাড়ী থেকে নেমে ঝিরঝিরে মিষ্টি বাতাস খেতে খেতে আমরাও দেখতে চললাম...
ছবি: সবুজ ধান ক্ষেতের মাঝখানে ইসকুল... এরকম স্কুলে পড়তে গেলে বেশীর ভাগ সময়টাই যে আমার ঘুমিয়ে কাটাতো, তাতে কোন সন্দেহ নেইন....
পরি(অথবা সবুজ)দর্শন শেষে যখন ক্যাম্পে ফিরে দেখি ক্রিকেট খেলার আয়োজন চলছে। এই অফিসের আরো চমৎকার একটি আকর্ষনীয় বস্তুর কথা বলতে ভুলে গিয়েছিলাম। সেটি হলো একটি অতি প্রাচীন বটগাছ। আকৃতিতে রমনার বটগাছের চাইতেও বড় হবে মনে হলো। পুরো অফিস কম্প্লেক্সে দেখার মত একটি দৃশ্য তৈরি করেছে এই অতি প্রাচীন বটবৃক্ষটি।
ছবি: অতি-বিশাল বটবৃক্ষ...
বটগাছের নিচে দাঁড়িয়ে ক্রিকেট টিম তৈরি করা হচ্ছিলো। আমার দাবী যেদল আগে ব্যাটিং করবে, আমি সেই দলেই খেলবো (আসলে সূর্যমামা তখন বিদায় জানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলো.. তাই রিস্ক নিতে চাইনি...
ছবি: রেষ্ট হাউস থেকে মূল অফিস ভবন ও বটগাছ দেখা যাচ্ছে...
এই ঘোষনা দিয়েই বটগাছের চারপাশে বাঁধানো বেদীতে ওঠে উঁকি ঝুঁকি দিতে শুরু করলাম... লক্ষ্য গাছে চড়া। আমার মতলব লক্ষ করে একজন বলে বসলো যদি গাছে চড়তে পারি, তাহলে কোক খাওয়াবে। আমি মৃদু হেসে প্রায় এক্রোবেটিক স্টাইলে বট গাছের একদম মাঝামাঝি পর্যন্ত ওঠে গেলাম। বেচারার চুপসে যাওয়া চেহারাটা গাছের অনেক উপর থেকেও লক্ষ করে হাসি পাচ্ছিলো.....
ছবি: গাছের প্রায় মাঝামাঝি (খুব ভাব নিয়ে) আমি দাঁড়িয়ে... (ছবিটা জুম করে তোলার কারনে গাছের উচ্চতা বুঝা যাচ্ছে না...
ক্রিকেট খেলা ও সন্ধ্যা পর্বের খাওয়া-দাওয়া শেষ করে সার্ভার রুমে গিয়ে ভাইরাস সমস্যার সমাধান বের করে কিভাবে কি করতে হবে দেখিয়ে দিয়ে বাইরে আসবো এমন সময় বিদ্যুত চলে গেল। সাধারনত এখানে প্রচুর বিদ্যুত সংকট থাকে। আমাদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থায় বিদ্যুত বেশী সময় রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে শুনে নিজেকে কেমন ভিআইপি ভিআইপি মালুম হলো।
ছবি: বড়ই গাছের মাথার উপর চাঁদ ওঠেছে ঐ (দুস্কিত, বাঁশ বাগান পাওয়া গেলেও সেখানে মাথার উপরে চাঁদ দেখার ব্যবস্থা ছিলো না... )
উজ্জ্বল চাঁদের আলোতে বিশুদ্ধ বাতাসে মেঠো পথ চলতে যে কত মজার, তা লিখে বোঝানোর মত ভাষাজ্ঞান আমার নেই। তাই সেই চেষ্টা না করাই ভাল। অপরুপ পরিবেশ উপভোগ করতে করতে চলছিলাম এমন সময় লক্ষ করলাম সামনে একটি ইসকুল ঘরে মিটি মিটি আলো দেখা যাচ্ছে। কাছে যেতেই অসাধারণ এক দৃশ্য দেখে চমকে গেলাম। একদল শিশু হারিকেনের আলোতে পড়ালেখা করছে ইসকুল ঘরে। আমরা সেখানে ঢুকতেই সব দাঁড়িয়ে গলার সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে আমাদের সালাম দিলো। আমরা হকচকিয়ে গিয়ে হারিকেনের অস্পষ্ট আলোতে একজন আরেকজনের মুখ চাওয়া-চাওয়ির ব্যর্থ চেষ্টা করলাম। বাচ্চারা আগেই জানতে পেরেছিলো এই এলাকায় আমাদের আগমনের খবর। সম্ভবত তারা ধারনা করেছিলো আমরা তাদের দেখতে আসবো... কিন্তু সত্যি সত্যি আমাদের পেয়ে তারা আনন্দে আত্মহারা! বাচ্চাদের সাথে বেশ চমৎকার সময় কাটলো সেখানে...
ছবি: হারিকেন আলোতে তাঁদের জ্ঞানঅর্জনের প্রচেষ্টা। এদের এই জ্ঞান পিপাশাটাকে আমার হারিকেনের আলোর চাইতেও সহস্রগুন বেশী বেশী উজ্জ্বল মনে হচ্ছিলো.... একদিন হয়তো এদের মাঝ থেকে একজনই আমাদের ভবিষ্যত প্রযন্মকে আলো দেখিয়ে সামনে নিয়ে যাবে...
রাতে ক্যাম্পে ফিরেই পরেরদিনের যাত্রার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম এমন সময় বিরক্তিকর যন্ত্রটা খবর নিয়ে এলো ভোরেই ঢাকার উদ্দেশ্য রওনা হতে হবে। এত সুন্দর একটা এলাকা থেকে ঢাকার মত বোরিং যায়গায় ফিরে যেতে কারোই ভাল লাগার কথা নয়... যদিও ক্যন্টনমেন্ট এলাকাটা অনেক সুন্দর।
ছবি: ফিরে আসার পথে... দুরে অফিস এলাকাটা দেখা যাচ্ছে যেখানে ক্যাম্প হয়েছে।
(ঢাকায় এসে সাভার ক্যন্টনমেন্ট থেকে এক স্যারের দাওয়াতে গতকাল থেকে সাভার ক্যন্টনমেন্টে আছি... এখানেও পরিবেশ অসাধারন... অনেক মজা হচ্ছে... পরে কখনো ইচ্ছে হলে (হয়তো) লিখবো.... লাঞ্চ করতে যাই.... টা টা.... )

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

