somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার লাটিম বেলা (২)

২৮ শে এপ্রিল, ২০০৮ দুপুর ১:২৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

......আগের পর্ব

সার্ভার রুমে বড় ধরনের গোলযোগ দেখা না দিলেও হটাৎ আবিষ্কার করলাম ১৬৭ টা ল্যাপটপ, সার্ভার ও অফিসের পিসিগুলো সব একটি খারাপ ধরনের ওয়ার্মে আক্রান্ত! পেন ড্রাইভের অনিরাপদ ব্যবহার এই অবস্থার জন্য দায়ী। মেঘ না চাইতে বৃষ্টির মত ঘটনা হলেও মেজাজ খারাপ হয়ে গেল অবস্থা দেখে। এই অবস্থা থেকে পরিত্রানের উপায় নিয়ে সন্ধ্যার পর ভাবতে বসবো ঘোষনা দিয়ে বাইরে বের হয়ে আসলাম। উদ্দেশ্য এলাকাটা আরেকটু ঘুরেদেখা। ঠিক হলো এলাকার রেজি: কেন্দ্রগুলো একটু ঘুরে দেখা হোক। এলাকার সব কর্তাব্যক্তি ও চেয়্যারমেনদের সাথে নিয়ে আমাদের গাড়ি বহর রওনা হলো। একটি রেজি: কেন্দ্র দেখে আমি আরেকবার মুগ্ধ হয়ে গেলাম। সবুউউউজ ধান ক্ষেতের মাঝখানে দ্বীপের মত একটা স্কুল। সেখানে রেজিষ্ট্রেশনের মহরা হচ্ছে। গ্রামের লোকজনও উৎসাহ নিয়ে দেখতে এসেছে। গাড়ী থেকে নেমে ঝিরঝিরে মিষ্টি বাতাস খেতে খেতে আমরাও দেখতে চললাম...

ছবি: সবুজ ধান ক্ষেতের মাঝখানে ইসকুল... এরকম স্কুলে পড়তে গেলে বেশীর ভাগ সময়টাই যে আমার ঘুমিয়ে কাটাতো, তাতে কোন সন্দেহ নেইন....

পরি(অথবা সবুজ)দর্শন শেষে যখন ক্যাম্পে ফিরে দেখি ক্রিকেট খেলার আয়োজন চলছে। এই অফিসের আরো চমৎকার একটি আকর্ষনীয় বস্তুর কথা বলতে ভুলে গিয়েছিলাম। সেটি হলো একটি অতি প্রাচীন বটগাছ। আকৃতিতে রমনার বটগাছের চাইতেও বড় হবে মনে হলো। পুরো অফিস কম্প্লেক্সে দেখার মত একটি দৃশ্য তৈরি করেছে এই অতি প্রাচীন বটবৃক্ষটি।

ছবি: অতি-বিশাল বটবৃক্ষ...


বটগাছের নিচে দাঁড়িয়ে ক্রিকেট টিম তৈরি করা হচ্ছিলো। আমার দাবী যেদল আগে ব্যাটিং করবে, আমি সেই দলেই খেলবো (আসলে সূর্যমামা তখন বিদায় জানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলো.. তাই রিস্ক নিতে চাইনি...B-))।

ছবি: রেষ্ট হাউস থেকে মূল অফিস ভবন ও বটগাছ দেখা যাচ্ছে...


এই ঘোষনা দিয়েই বটগাছের চারপাশে বাঁধানো বেদীতে ওঠে উঁকি ঝুঁকি দিতে শুরু করলাম... লক্ষ্য গাছে চড়া। আমার মতলব লক্ষ করে একজন বলে বসলো যদি গাছে চড়তে পারি, তাহলে কোক খাওয়াবে। আমি মৃদু হেসে প্রায় এক্রোবেটিক স্টাইলে বট গাছের একদম মাঝামাঝি পর্যন্ত ওঠে গেলাম। বেচারার চুপসে যাওয়া চেহারাটা গাছের অনেক উপর থেকেও লক্ষ করে হাসি পাচ্ছিলো.....

ছবি: গাছের প্রায় মাঝামাঝি (খুব ভাব নিয়ে) আমি দাঁড়িয়ে... (ছবিটা জুম করে তোলার কারনে গাছের উচ্চতা বুঝা যাচ্ছে না...


ক্রিকেট খেলা ও সন্ধ্যা পর্বের খাওয়া-দাওয়া শেষ করে সার্ভার রুমে গিয়ে ভাইরাস সমস্যার সমাধান বের করে কিভাবে কি করতে হবে দেখিয়ে দিয়ে বাইরে আসবো এমন সময় বিদ্যুত চলে গেল। সাধারনত এখানে প্রচুর বিদ্যুত সংকট থাকে। আমাদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থায় বিদ্যুত বেশী সময় রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে শুনে নিজেকে কেমন ভিআইপি ভিআইপি মালুম হলো।:D তবে পল্লী বিদ্যুতের অনেক লিমিটেশন আছে.. তাই ভিআইপিদের পাত্তা না দিয়েই বিদ্যুত মামা লাপাত্তা হলো এক ঘন্টার জন্য। সাথে সাথেই ক্যাম্পের নীরবতা ভঙ্গ করে বিকট শব্দে জেনারেটর চলতে শুরু করলো। এই বিকট শব্দ থেকে রক্ষা পেতে বাইরে এসে বিশাল বড় চাঁদ মামার সাক্ষ্যাত পেলাম। এবং পূর্ণিমা দেখার জন্য যে গ্রাম সবচেয়ে ভাল জায়গা, সেটা নতুন করে আরেকবার আবিষ্কার করলাম।

ছবি: বড়ই গাছের মাথার উপর চাঁদ ওঠেছে ঐ (দুস্কিত, বাঁশ বাগান পাওয়া গেলেও সেখানে মাথার উপরে চাঁদ দেখার ব্যবস্থা ছিলো না... )


উজ্জ্বল চাঁদের আলোতে বিশুদ্ধ বাতাসে মেঠো পথ চলতে যে কত মজার, তা লিখে বোঝানোর মত ভাষাজ্ঞান আমার নেই। তাই সেই চেষ্টা না করাই ভাল। অপরুপ পরিবেশ উপভোগ করতে করতে চলছিলাম এমন সময় লক্ষ করলাম সামনে একটি ইসকুল ঘরে মিটি মিটি আলো দেখা যাচ্ছে। কাছে যেতেই অসাধারণ এক দৃশ্য দেখে চমকে গেলাম। একদল শিশু হারিকেনের আলোতে পড়ালেখা করছে ইসকুল ঘরে। আমরা সেখানে ঢুকতেই সব দাঁড়িয়ে গলার সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে আমাদের সালাম দিলো। আমরা হকচকিয়ে গিয়ে হারিকেনের অস্পষ্ট আলোতে একজন আরেকজনের মুখ চাওয়া-চাওয়ির ব্যর্থ চেষ্টা করলাম। বাচ্চারা আগেই জানতে পেরেছিলো এই এলাকায় আমাদের আগমনের খবর। সম্ভবত তারা ধারনা করেছিলো আমরা তাদের দেখতে আসবো... কিন্তু সত্যি সত্যি আমাদের পেয়ে তারা আনন্দে আত্মহারা! বাচ্চাদের সাথে বেশ চমৎকার সময় কাটলো সেখানে...

ছবি: হারিকেন আলোতে তাঁদের জ্ঞানঅর্জনের প্রচেষ্টা। এদের এই জ্ঞান পিপাশাটাকে আমার হারিকেনের আলোর চাইতেও সহস্রগুন বেশী বেশী উজ্জ্বল মনে হচ্ছিলো.... একদিন হয়তো এদের মাঝ থেকে একজনই আমাদের ভবিষ্যত প্রযন্মকে আলো দেখিয়ে সামনে নিয়ে যাবে...


রাতে ক্যাম্পে ফিরেই পরেরদিনের যাত্রার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম এমন সময় বিরক্তিকর যন্ত্রটা খবর নিয়ে এলো ভোরেই ঢাকার উদ্দেশ্য রওনা হতে হবে। এত সুন্দর একটা এলাকা থেকে ঢাকার মত বোরিং যায়গায় ফিরে যেতে কারোই ভাল লাগার কথা নয়... যদিও ক্যন্টনমেন্ট এলাকাটা অনেক সুন্দর।

ছবি: ফিরে আসার পথে... দুরে অফিস এলাকাটা দেখা যাচ্ছে যেখানে ক্যাম্প হয়েছে।


(ঢাকায় এসে সাভার ক্যন্টনমেন্ট থেকে এক স্যারের দাওয়াতে গতকাল থেকে সাভার ক্যন্টনমেন্টে আছি... এখানেও পরিবেশ অসাধারন... অনেক মজা হচ্ছে... পরে কখনো ইচ্ছে হলে (হয়তো) লিখবো.... লাঞ্চ করতে যাই.... টা টা.... )
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে এপ্রিল, ২০১০ রাত ১০:১৩
২৪টি মন্তব্য ১৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×