somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মহাকাশে নানান জঞ্জাল এবং নতুন জটিলতা শুরু হয়েছে।।

১১ ই ডিসেম্বর, ২০১১ রাত ৮:৫৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আকাশ জয়ের স্বপ্ন অনেক দিনের। এই স্বপ্ন পূরণ করতেই একের পর এক নভোযান পাঠানো হয়েছে। চাঁদের পর মঙ্গলগ্রহেও পৌঁছে গেছে মানুষের তৈরি যন্ত্র। অন্যান্য গ্রহেও পাঠানো হচ্ছে নানা ধরনের রোবট। দারুণ দারুণ সব খবর নিয়ে আসছে এসব যান। আমাদের জ্ঞান-ভাণ্ডার সমৃদ্ধ হচ্ছে। তবে এটা করতে গিয়ে কিছু সমস্যাও সৃষ্টি হচ্ছে। সব রোবট বা মহাকাশ যান লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারছে না - কোনো কোনোটি মাঝপথেই ভেঙে পড়ছে, কোনোটি পথ হারিয়ে ফেলছে। আর এখানেই সৃষ্টি হচ্ছে নতুন একটি জটিলতা। মহাকাশও জঞ্জালে ভরে যাচ্ছে।

ব্যবহৃত রকেট, বিধ্বস্ত উপগ্রহ, সবই আছে মহাকাশে। বেশির ভাগের আয়তন এক সেন্টিমিটারেরও কম। একটার সঙ্গে আরেকটা সংঘাতে ভয়াবহ ঘটনা ঘটে যেতে পারে। মাঝে মাঝে এসব বস্তু পৃথিবীতেও আছড়ে পড়ে। সেপ্টেম্বরে ২০ বছরের পুরনো পরিত্যক্ত একটি কৃত্রিম উপগ্রহ পৃথিবীতে আছড়ে পড়ার আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছিল। ১৯৭৯ সালে স্কাইল্যাব নিয়ে মারাত্মক আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছিল।

এসব জঞ্জাল কিন্তু স্থির নেই। এগুলো যেকোনো সময় মহাকাশযানে আঘাত হেনে মারাত্মক য়তি ঘটাতে পারে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল রিসার্চ কাউন্সিলের এক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বিবিসি জানায়, এসব জঞ্জাল যেকোনো সময় কোনো মহাকাশযানে ছিদ্র সৃষ্টি করার পাশাপাশি কৃত্রিম উপগ্রহকে তিগ্রস্ত করতে পারে।

ওই প্রতিবেদনে বিভিন্ন ধরনের চৌম্বক জাল ও বৃহৎ ছাতা আকৃতির যন্ত্রাংশ মহাকাশে পাঠানোর ব্যাপারে আন্তর্জাতিক নীতিমালা এবং এসবের উপযুক্ত ব্যবহারের বিষয়ে আরো গবেষণা চালানোর সুপারিশ করা হয়েছে।

এসব জঞ্জালের মধ্যে রয়েছে মহাকাশে ফেলে আসা অতি ুদ্র যন্ত্রাংশ থেকে শুরু করে পুরনো রকেটের বুস্টার ও কৃত্রিম উপগ্রহ (স্যাটেলাইট) পর্যন্ত বিভিন্ন আকার ও আকৃতির বস্তু।

সংস্থাটি জানায়, কম্পিউটারের মাধ্যমে পাওয়া কিছু চিত্রে দেখা গেছে যে, কপথে এসব জঞ্জাল এত বেশি পরিমাণে জমেছে যে, নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষে তারা আরো খণ্ডে বিভক্ত হয়ে ছড়িয়ে পড়ছে।

তবে গত কয়েক বছরের মধ্যে ‘মহাকাশে জঞ্জাল’ কমিয়ে আনার প্রচেষ্টা শুরু হলেও তা সফল না হওয়ার পেছনে দুটি প্রধান সমস্যা চিহ্নিত করা হয়েছে।

২০০৭ সালে চীন একটি ‘অ্যান্টি-স্যাটেলাইট’ অস্ত্রের পরীা চালায়। এতে একটি আবহাওয়া স্যাটেলাইট বিধ্বস্ত হয়ে লম্বা অন্তত দেড় লাখ খণ্ডে ছড়িয়ে পড়ে। প্রতিটি খণ্ডের আকার ১ সেন্টিমিটার বা তার কাছাকাছি।

এর দুই বছর পর মহাকাশে একটি সচল এবং অপর একটি অচল স্যাটেলাইট বিধ্বস্ত হয়। এতে জঞ্জালের পরিমাণ আরো বেড়ে যায়।

এ গবেষণার প্রধান ডোনাল্ড কেসলার বলেন, এ দুটি ঘটনাতেই কপথে গত ২৫ বছরে যা জঞ্জাল জমেছিল তা দ্বিগুণ হয়েছে।

কপথে প্রায় ২২ হাজার বৃহৎ আকারের জঞ্জাল ছড়িয়ে আছে, তবে ুদ্র কোনো অংশ থেকেও বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশনকেও মাঝে মাঝে কিছু জঞ্জালের সাথে সংঘর্ষ হওয়া থেকে রা করতে হয়। এগুলোর গতি কখনো কখনো ঘণ্টায় ২৮ হাজার ১৬৪ কিলোমিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে।

গত জুনে ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশন এ ধরনের কিছু জঞ্জালের সাথে সংঘর্ষের সম্ভাবনা তৈরি হয়। ওই সময় স্টেশনটিতে অবস্থানরত ৬ মহাকাশচারী পৃথিবীতে জরুরি অবতরণের জন্য প্রস্তুতি পর্যন্ত নিয়ে ফেলেন।

কেসলার বলেন, পরিস্থিতি খুবই সঙ্কটজনক। কারণ সংঘর্ষের ফলে জঞ্জালের সংখ্যা আরো বাড়তে থাকে। এতে আমরা সেখানকার পরিবেশের উপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলছি।

অবশ্য এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার চেষ্টাও চলছে। ইতালির গবেষকরা মহাকাশ জঞ্জাল পরিষ্কার করার এক পরিকল্পনা করেছেন। পরিকল্পনা অনুসারে, গবেষকরা এমন একটি উপগ্রহ মহাকাশে পাঠাবেন যেটি মহাকাশের জঞ্জালগুলোকে একত্র করবে এবং পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে পাঠিয়ে ধ্বংস করে ফেলবে।

সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, এ পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে প্রতি বছর কম খরচেই ৫ থেকে ১০টি জঞ্জাল সরিয়ে ফেলা যাবে।

মহাকাশ কল্পনাতীত বিশাল বলে এখনো আমরা স্বস্তিতে আছি। তা ছাড়া বিষয়টা গুটিকতক দেশের হাতে সীমিত। আরো বেশি বেশি দেশ যখন মহাকাশ জয়ে নামবে, তখন পরিস্থিতি কত ভয়াবহ হতে পারে, তা ভেবে বিজ্ঞানীরা এখনই আতঙ্কিত হয়ে পড়ছেন। আর এ কারণেই তারা এখনই এ ব্যাপারে সবাইকে হুশিয়ার করে দিচ্ছেন।
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিলেন মমতার দলকে?

লিখেছেন ...নিপুণ কথন..., ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:২২


শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিয়েছেন মমতা ব্যানার্জিকে। কিভাবে? দুই দফায় পানিচুক্তি হতে দেননি মমতা। কংগ্রেসের মনমোহন সিং প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন এবং বিজেপির Narendra Modi প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন দুবার দুজনই বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন, দুবারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×