ঘটনা-১ :
কাঁচা বাজারে গরুর মাংস কিনতে যাই আমি । ৫কেজি মাংস কিনলাম আমি । দাম পড়লো ৯০০টাকা । আবারো বলছি ৯০০টাকা । আমার পাশে এক মহিলা দাঁড়িয়ে চুপচাপ দেখছে আমার বাজার করা । আমি তখন কিছু বুঝিনি । মহিলাকে দেখে বুঝা যায় খুবই নিম্ন আয়ের । আমি পাশেই সবজির দোকানে সবজি কিনতে ব্যস্ত হয়ে পড়লাম । হঠাৎ চোখ গেল ঐ মাংসের দোকানে । মহিলাটা মাংসের দোকানদারকে ২টা ১০টাকার নোট আর একটা ৫টাকা সিকি আর দুইটা দুই টাকার নোট দিল । মানে ২৯টাকা দিল । এই টাকা দিয়ে যতটুকু মাংস পাওয়া যায় তা যেন দেয়া হয় । ঘরে নাকি বাচ্চা ছেলে কাঁদছে মাংস দিয়ে ভাত খাবে । আমি বাকরুদ্ধ হয়ে পড়ি । আমার খুব ইচ্ছে করছিল আমার সব মাংস দিয়ে দিই । কিন্তু আমি পারিনি ।
ঘটনা-২ :
সব বাজার শেষ করে রিকসা করে বাসায় ফিরছিলাম । আমার পাশ দিয়ে একটা আর্মির গাড়ি ছুটে যায় । আর্মির জন্য বাজার করা হয়েছে । ঝুড়িতে কয়েকশো ডিম দেখলাম । আর মাংস তো আছেই । হয়তো বা গরু,খাসি,মুরগীর মাংসও ছিল ।
ঘটনা-৩ :
বাসায় গরুর মাংস রান্না হয়েছে । কিন্তু আমি খেতে পারিনি । আমার চোখে কেবল ঐ মহিলার কয়েক পিস মাংস ছবি ভেসে উঠছিল । সারাক্ষণ ভেবেছি, মাংস রান্না করার মসলা কি মহিলা ক্রয় করতে পেরেছিল ।
ঘটনা-৪ :
দ্রব্যমূল্য উচ্চহারে বৃদ্ধি পাচ্ছে । এ ব্লগের মানুষদের তা আঁচ করে না হয়তো । কারণ যারা ব্লগিং করে তারা হয়তো বা উচ্চ আয়ের ব্লগার । সবাই হয়তো বা নয় সচ্চল পরিবারের । তারপরও আমি ধরে নিতে পারি আমাদের কোন ব্লগারের অবস্থা ঐ মহিলার মতো নয় । ঐ আর্মির খাদ্যের টাকা আমার বাবার দেয়া ট্যাক্সের টাকা থেকে হয় । ঐ আর্মিদের খাবার,পোশাক, বুট সবই আমাদের মতো "ব্লাডি সিভিলিয়ান" এর কষ্টের উপার্জিত টাকায় কেনা হয় । কিন্তু বিনিময়ে আমরা কি পেলাম ? আর্মি আমাদেরকে কি দিয়েছে ? এ দেশের সাধারণ মানুষ কেন আর্মিকে পিটায় এখন ? আর্মির উপর এদের এতো ক্ষোভ কেন ? প্রশ্নগুলোর উত্তর জানার দরকার নেই আমার । আমরা সাধারণ মানুষ অন্তত সপ্তাহে একদিন মাংস দিয়ে ভাত খেতে চাই । তিনবেলা নয়, মাত্র একবেলা । আর্মিরা কি খাওয়াবে ? ওদেরকে তো দেশ স্বাধীনের পর থেকে আমরা "ব্লাডি সিভিলিয়ান" রা খাওয়াচ্ছি । এখন তো সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী তারা । এবার তাদের পালা ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

