ডিসক্লেইমারঃ আমরা জানি দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থা, আমরা জানি দেশের রাজনীতিবিদদের অবস্থা। আমরা জানি দেশের সরকারগুলো, রাজনৈতিক দলগুলো, রাজনীতিবিদেরা কতটুকু প্রতিহিংসা পরায়ণ। সেই ভয়ে, আতংকে বর্তমান আওয়ামীলীগ সরকারের কিছু কার্যক্রম নিয়ে ভবিষ্যতের কথা ভাবতেই শিওরে উঠছি। তাই এ লেখাটার প্রয়োজন অনুভব করছি।
ফাঁসির দণ্ড পাওয়া ২০ জনকে রাষ্ট্রপতির ক্ষমাঃ
সাবেক উপমন্ত্রী রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুর ভাতিজা গামা হত্যা মামলায় ফাঁসির রায় প্রাপ্ত ২০ জন আসামীকে গত ৬ই সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতি ক্ষমা করে দেন। আমরা জানি রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক ক্ষমতা নিয়ে বিতর্কের অবকাশ নেই।তাই এ লেখার লেখক হিসাবে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। তবুও বিতর্ক থেমে নেই। আমরা জানি সাজা মওকুফে সংবিধানের ৪৯ ধারায় রাষ্ট্রপতিকে এ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি কোনো আদালত, ট্রাইব্যুনাল বা অন্য কোনো কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রদত্ত যেকোনো দণ্ড মওকুফ, স্থগিত বা হ্রাস করতে পারেন। কিন্তু উচ্চ আদালতের প্রক্রিয়াগুলোকে স্বাভাবিক নিয়মে চলতে না দিয়ে যেভাবে গামা হত্যা মামলার আসামিদের ক্ষমা করা হয়েছে, তাতে জনমনে প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে যে এটি পূর্বপরিকল্পিত কি না। ব্যারিষ্টার রফিকুল ইসলাম মিয়ার একটি উদ্ধৃতি দিচ্ছি, ‘আদালতের প্রক্রিয়া শেষ না করে এভাবে দণ্ড মওকুফের ফলে রাষ্ট্রপতিকে বিতর্কিত করা হয়েছে। এরূপ প্রক্রিয়া আইনের শাসনের পরিপন্থী। এর ফলে জনমনে প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।’
নাটোরের গামা হত্যা মামলায় বিচারিক আদালতের দেওয়া রায় এবং সেই রায়ে এত বেশিসংখ্যক (২০ জন) আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করা, ফাঁসির দণ্ড দেওয়াটা প্রশ্নাতীত নয়। ওই মামলার বিচারে রাজনৈতিক প্রভাব সম্ভবত একটি ভূমিকা পালন করেছিল। তবে হয়তো সেখানেও সাক্ষীর কারণে আদালত এমন একটা অস্বাভাবিক রায় দিতে বাধ্য হয়েছিলেন। সম্ভবত আপিলে বিচারিক আদালতের রায়ের অসংগতিগুলো উঠে আসত এবং অনেকেই নির্দোষ প্রমাণিত হতেন।
যদি ধরেও নিই বিচারিক আদালত এ মামলার বিচারে ভুল করেছিলেন। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার জন্য ক্ষমতাসীন ব্যক্তিরা আমাদের আইন ও বিচার ব্যবস্থার অপব্যবহার করেছিলেন। সে কারণে এ মামলার দণ্ড পাওয়া আসামিদের সাজা মওকুফ ও মার্জনা যৌক্তিক। তা হলেও যে প্রক্রিয়ায় এটা করা হলো, সেটার ফলে মহামান্য রাষ্ট্রপতি এবং আমাদের আইন, বিচার তথা রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় জনগণের আস্থা কি বাড়বে? সোজা উত্তর, না। বরং জনমনে ক্রমশ রাষ্ট্রের প্রতিটি পদক্ষেপ ক্রমান্বয়ে প্রশ্নবিদ্ধ হবে। এটা আমাদের সবার জন্য অমঙ্গলজনক। সেই সাথে তাহলে গামা হত্যার প্রকৃতি হত্যাকারী কে? গামা হত্যার পরবর্তী অরাজাকতা, লুটতরাজের কি হবে? এবং এই ক্ষমা ও মার্জনার বিস্তারিত কারণ ও যুক্তি আমরা জানি না। ফলে এখন রাষ্ট্রপতির এই ক্ষমতার প্রয়োগ অর্থাৎ ক্ষমা ও মার্জনা প্রদর্শন প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে গেল।
আরেকটি ভয়াবহ ব্যাপার হলো খুনের মামলায় ফাঁসির দণ্ড থেকে মুক্তি পাওয়া ২০ জনের মধ্যে ১৪ জন ঢাকা ও রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে নাটোরে পৌছালে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আহাদ আলী সরকার এবং আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতারা তাদেরকে ফুলের মালা দিয়ে বরণ করে নেয়। যা নিঃসন্দেহে আরেকটি কালো ধিক হয়ে রইলো।
সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর ছেলে শাহদাব আকবর ওরফে লাবুর সাজাও মওকুফ করেছেন রাষ্ট্রপতিঃ
বর্তমান মন্ত্রী, শেখ হাসিনার বেয়ার যাকে ফরিদপুরের গডমাদার হিসাবে সম্বোধন করে সেই সাজেদা চৌধুরীর ছেলে শাহদাব আকবর লাবুর ১৮ বছরের জেল মওকুফ করে দেয়। ১/১১ তত্ত্বাবাধয়ক সরকারের আমলে দুর্নীতি দমন কমিশনারের মামলায় লাবুর এই সাজা হয়েছিলো।
এ ক্ষমা আগামী দিন গুলোতে অনেক বড় প্রভাব ফেলতে পারে। পরবর্তী সরকার গুলো প্রতিহিংসা পরায়ণয়তায় সাজা প্রাপ্ত নেতা কর্মীদের মুক্তি দিয়ে দিতে পারে। ইতিমধ্যে আমরা দেখেছি গত জোট সরকার কতটা নির্লজ্জভাবে রাষ্ট্রপতিকে প্রধান উপদেষ্টা নিয়োগ করেছিলো। যার ফলশ্রুতিতে আগামী দিন গুলোতে নেতা-কর্মীরা যে কোন ধরণের অপরাধে উৎসাহী হয়ে যেতে পারে। দেলুর পোলা হাবলু-লাবলু হয়ে উঠতে পারে বেপোরোয়া! মায়ার ছেলে জুয়েল হয়ে উঠতে পারে বেপোরোয়া! এ রকম অনেক নেতার সন্তানরাই অপরাধে উৎসাহী হয়ে উঠতে পারে।
গোপালগঞ্জে স্বাস্থ্য উপদেষ্টা দলীয় কর্মীদের স্বাস্থ্য বিভাগে নিয়োগ করা হবেঃ
প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক উপদেষ্টা মোদাচ্ছের আলী বলেছেন, সারা দেশে আওয়ামী লীগের পরীক্ষিত কর্মীদের মধ্য থেকে সাড়ে ১৩ হাজার জনকে কমিউনিটি হেলথ সার্ভিস প্রোভাইডার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হবে। মোদাচ্ছের আলী বলেন, নিয়োগের ক্ষেত্রে সরকারি দলের বাইরে কেউ যাতে সুযোগ না পায়, তা নিশ্চিত করা হবে। তিনি বলেন, ‘দলের পরীক্ষিত কর্মীরাই যাতে চাকরি পায়, সে জন্য আমি মোটামুটি একটা সিস্টেম করেছি। আমি তো আমার অফিসারকে বলে দেব, আমার লোককে চাকরি দিতে হবে।’
কি ভয়াবহ খবর! মেধার তাহলে আর মূল্য নেই? পড়াশোনা করে আর কি হবে? রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়লেই হলো! পরবর্তী সরকারও যদি একই পথে হাঁটে তাহলে মেধাশূণ্য, রাজনীতি জ্ঞানে পরিপূর্ণ কর্মজীবিই পাবো আমরা।
তথ্যসূত্রঃ প্রথম আলো, ব্যারিষ্ট্রার রফিকুল ইসলাম মিয়ার উদ্ধৃতি, শাহ্দীন মালিকের কলাম এবং উদ্ধৃতি।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


