কিছুদিন ধরে দেশে নারীর সমঅধিকার নিয়ে খুব লাফালাফি হচ্ছে । এটা বলে ধর্ম বহির্ভূত । কিন্তু আমি প্রথম থেকেই নারীর সমঅধিকার সমর্থন করি । এটার পিছনে কিছু কারনও আছে । আজ আমি সেইগুলো তুলে ধরব । আর একটা কথা । ইদানিং কিছু ছাগু মেয়েদের বোরখা পড়ানোর জন্য উঠেপড়ে লেগেছে । সেই সম্পরকেও কিছু বলব ।
যাই হোক প্রথমে বলি সমঅধিকার এর কথা। কোন দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী । একজন সাধারন মানুষ ও বুঝতে পারবে যে অর্ধেক জনগোষ্ঠীকে আঁটকে রেখে কোন দেশ এগোতে পারবে না । কিন্তু ছাগুরা বুঝে না । তাদেরকে বলতাছি, মামারা একটা কি উন্নত দেশ দেখাতে পারবেন, যেখানে মেয়েদের সমঅধিকার নাই । মেয়েরা ছেলেদের সাথে তাল মিলিয়ে কাজ করে না । হ্যাঁ পারবেন । সৌদি আরব, ইরান ইত্যাদি । কিন্তু এদের তেল শেষ হোক তারপর দেখেন কি হয় । সমঅধিকার না পেলে মেয়েরা ছেলেদের মত কাজ করতে পারবে না। তারা পিছিয়ে যাবে । যেমন ধরুন একটা ছেলে পিতার কাছ থেকে যে সম্পত্তি পেলো, মেয়েটা পেলো তার অর্ধেক । এক্ষেত্রে ছেলেটা তার টাকা ইনভেষ্ট করে যে লাভ পেল, মেয়েটা ইনভেষ্ট করে পাবে তার অর্ধেক । সে কিন্তু ছেলেটার চেয়ে পিছিয়ে গেলো । তার সাথে পারিপার্শ্বিক বিভিন্ন সমস্যা তো আছেই । এখানে শুধু সম্পত্তির কথা বলা হল । আরও অনেক সমস্যা তো আছেই । কিন্তু একটা দেশের এগিয়ে যাওয়ার জন্য ছেলেদের পাশাপাশি মেয়েদের সমানভাবে কাজ করতে হবেই ।
এতক্ষণ বললাম সমান অধিকার এর কথা। এখন বলব বোরখার কথা । একটা মেয়ের সমান অধিকার বলতে বুঝায় মেয়েটা ছেলেদের যেসব অধিকার আছে তার সবগুলাই পাবে । ছেলেরা যা যা করতে পারে তাই তাই করতে পারবে । সেইভাবে একটা ছেলে সাইকেল চালাতে পারলে সেও সাইকেল চালাতে পারবে । একটা ছেলে সার্ফিং করতে পারলে সেও পারবে । কিন্তু বোরখা পড়ে কি আগুলা সম্ভব?
এগুলো ধরুন বাদ দিলাম । একটা মেয়ে কি বোরখা পড়ে পুলিশের চাকরি করতে পারবে? পারবে অপরাধির পিছনে দৌড়াতে ? গ্রীষ্মকালে ৩৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রায় নেকাব পড়ে রাস্তায় রোদের মধ্যে পত্রিকা বিক্রি করতে পারবে ? পারবে না । প্রথম দিন পারলেও ২য় দিন পারবে না । এরকম অনেক উদাহরন দেয়া যাবে । আর সবচেয়ে বড় কথা বোরখা বা নেকাব কোণটি বাঙ্গালী সংস্কৃতির অংশ নয় ।এখন অনেকেই বলবেন যে শাড়ি তো বাঙ্গালী সংস্কৃতির অংশ । ওইটি পড়েও তো মেয়েরা সব কাজ করতে পারবে না । আমি বলব যেসব পড়ে তার সুবিধা হয় সেসব পরুক । বোরখাতে তো কোন সুবিধা হয় না। উল্টা অসুবিধা ।
তাহলে আমি কি মেয়েদের নগ্ন বা অর্ধনগ্ন হয়ে ঘুরতে বলছি? না আমি বলছি তারা তাদের সুবিধা বা পছন্দমত ড্রেস পড়ুক । কিন্তু সেটাতে যেন শালীনতা বজায় থাকে । অতিরিক্ত কোন কিছুই ভাল না ।
সবার শেষে একটা কথা বলতে চাই, কোন মেয়ে কি ড্রেস পরবে সেটা দেখার দায়িত্ব আপনার বা আমার না। তার নিজের । সে যদি নিজে থেকেই বোরখা পড়ে সাবলীল বোধ করে তাহলে পড়ুক । কিন্তু ধর্মের কথা শুনিয়ে বা চাপ দিয়ে তাকে বোরখা পরানো কোনভাবেই যুক্তিযুক্ত নয় । বরং তার অধিকার লঙ্ঘন । ধন্যবাদ ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



