নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

পরের বাড়ির পিঠা খাইতে বড়ই মিঠা ।

কিরকুট

আমি মানুষ, আমি বাঙালি। আমার মানবিকতা, আমার সংস্কৃতির উপর আঘাত হানতে চাওয়া, ক্ষতিগ্রস্ত করতে চাওয়া প্রাণী মাত্রই আমার কাছে পিশাচ। আমার দেশের উপর আঘাত হানতে চাওয়া প্রাণীদের পালনকারী, প্রশ্রয়দানকারী মাত্রই আমার কাছে পিশাচ, রাক্ষস। হোক সে যে কোনো সাম্প্রদায়িক কিংবা ঢেঁড়স চাষ পরামর্শক।

কিরকুট › বিস্তারিত পোস্টঃ

কেন আমি "না" ভোট দেব

২৬ শে জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:০৪

বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে গণভোটের প্রশ্নটি শুধু একটি প্রক্রিয়াগত বিষয় নয়, এটি ক্ষমতা, আস্থা ও রাষ্ট্র পরিচালনার ধরণ নিয়ে বড় একটি বিতর্ক। এই প্রেক্ষাপট মাথায় রাখলে গণভোটের ঝুঁকিগুলো আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর মানুষের আস্থা দুর্বল। নির্বাচন ব্যবস্থা, প্রশাসনের নিরপেক্ষতা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এসব বিষয় নিয়ে প্রশ্ন আছে। এমন অবস্থায় গণভোট আয়োজন মানেই যে তা জনগণের প্রকৃত মতামত তুলে ধরবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। বরং শক্তিশালী রাজনৈতিক পক্ষ নিজেদের পক্ষে জনমত তৈরি বা চাপিয়ে দেওয়ার সুযোগ বেশি পাবার সম্ভাবনা বাড়ে।

এ ছাড়া আমাদের সমাজে রাজনৈতিক শিক্ষা ও তথ্যভিত্তিক আলোচনা এখনও সীমিত। জটিল রাষ্ট্রীয় ইস্যু নিয়ে গভীর বোঝাপড়া তৈরি না করেই মানুষকে হ্যাঁ বা না বেছে নিতে বলা হয়। ফলে ভোট অনেক সময় যুক্তির ওপর নয়, দলীয় আনুগত্য, আবেগ, ভয় বা ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার আশঙ্কার ওপর নির্ভর করে পড়ে। এই প্রেক্ষাপটে গণভোট সচেতন সিদ্ধান্তের চেয়ে গণমুখী ম্যানিপুলেশনের হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ক্ষমতার ভারসাম্য। বাংলাদেশের মতো দেশে যেখানে সংসদ, বিচার বিভাগ ও অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে আরও শক্তিশালী ও স্বাধীন করার কথা বেশি জরুরি, সেখানে গণভোট অনেক সময় সেই প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়াকে পাশ কাটিয়ে যায়। বড় সিদ্ধান্ত যদি সরাসরি গণভোটের মাধ্যমে নেওয়া হয়, তাহলে সংসদের ভূমিকা দুর্বল হয় এবং প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্র প্রশ্নের মুখে পড়ে।

সামাজিক দিক থেকেও এর প্রভাব কম নয়। গণভোট প্রায়ই সমাজকে দ্বিখণ্ডিত করে। রাজনৈতিক মতভেদ তখন ব্যক্তিগত সম্পর্ক, পাড়া-মহল্লা ও সামাজিক বন্ধনেও চাপ তৈরি করে। বাংলাদেশের মতো মেরুকরণপ্রবণ সমাজে এটি দীর্ঘমেয়াদি বিভাজন তৈরি করতে পারে, যা গণতন্ত্রের জন্য স্বাস্থ্যকর নয়।

এই প্রেক্ষাপটেই আমার অবস্থান স্পষ্ট। আমি মনে করি, বর্তমান বাংলাদেশে গণভোট সমস্যার সমাধান নয়। আমাদের বেশি দরকার শক্তিশালী ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠান, স্বচ্ছ রাজনৈতিক সংস্কৃতি এবং মানুষের অংশগ্রহণমূলক আলোচনা। তাই এই বাস্তবতায় আমি গণভোটের পক্ষে নই তাই আমি না ভোট দেওয়াকেই বেশি যুক্তিসংগত মনে করি।


না কে জয়যুক্ত করুন



মন্তব্য ১২ টি রেটিং +২/-০

মন্তব্য (১২) মন্তব্য লিখুন

১| ২৬ শে জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:২৮

রাজীব নুর বলেছেন: আমিও না ভোটের পক্ষে।

২৬ শে জানুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:১৬

কিরকুট বলেছেন: আমার ভোট আমি দেব। যেথা ইচ্ছা সেথা দেব।

২| ২৬ শে জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৫৪

আমি নই বলেছেন: আমাদের বেশি দরকার শক্তিশালী ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠান, স্বচ্ছ রাজনৈতিক সংস্কৃতি এবং মানুষের অংশগ্রহণমূলক আলোচনা।

আপনার কি মনে হয় রাজনৈতিক দলগুলো আপনার চাওয়া পুরন করবে?

আমি সিউর করবেনা, এমনকি যারা ক্ষমতায় থাকবে তারা জবাবদিহিতা, স্বচ্ছ রাজনৈতিক সংস্কৃতি এগুলো নিয়ে আলোচনাও করবেনা। তাদের মুল লক্ষই হবে পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, বড় বড় ফ্লাইওভার টাইপের প্রজেক্ট যেগুলো দিয়ে নিজেদের পকেট ভারি করা সম্ভব।

২৬ শে জানুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:১৬

কিরকুট বলেছেন: আপনার যুক্তি সঠিক।

৩| ২৬ শে জানুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১২:৩১

এ পথের পথিক বলেছেন:

২৬ শে জানুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:১৫

কিরকুট বলেছেন: ভালো তো, ওনাকে দেশে এসে হ্যা ভোট দিতে বলেন।

৪| ২৬ শে জানুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৫

স্বকীয়তা বলেছেন: আপনি যে কারণ গুলি বললেন তা সবই তো হ্যাঁ ভোটে সমাধান হচ্ছে। আপনার দেয়া যুক্তি আর আপনার নেয়া ফয়সালা তো পরস্পর বিরোধী। আপনি একটু সুইজারল্যান্ডের খোঁজ নিয়েন, তারা প্রায় দুইশ বছর ধরে নিয়মিত গণভোট করে আসছে। বছরে ২-৫ বার তারা গণভোট করে। প্রতিনিয়ত গণভোটের কারনেই তারা পৃথিবীর সবচেয়ে স্থিতিশীল রাজনীতি তৈরী করতে পেরেছে। এই গণভোটে হ্যাঁ ভোট দিলে আমরাও উন্নত দেশগুলোর মত সংসদ থেকে বিচার বিভাগ স্বাধীন হবে। এই একটি পরিবর্তনই জনগনকে সংসদ দাসত্ব থেকে মুক্ত জনসাধারণকে ক্ষমতা ও মর্যাদাবান করবে
আপনি একবার নিজের আইকিউটা পরীক্ষা করিয়েন তো।

২৬ শে জানুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:১২

কিরকুট বলেছেন: প্রথমত, “হ্যাঁ ভোটে সব সমস্যা সমাধান হয়ে যাচ্ছে” এই দাবি নিজেই ধরে নেয় যে প্রক্রিয়াটি নিখুঁত, নিরপেক্ষ এবং বাস্তবায়নযোগ্য। আমার যুক্তি ছিল ঠিক উল্টো জায়গায়। সমস্যাটা সিদ্ধান্তে নয়, সমস্যাটা সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরিবেশে। যখন নির্বাচন ব্যবস্থা, প্রশাসন, গণমাধ্যম ও রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর আস্থা সংকটে থাকে, তখন একটি গণভোটে হ্যাঁ বা না যেটাই আসুক, তার ফলাফল বাস্তবে কতটা জনগণের ইচ্ছা প্রতিফলিত করবে, সেটাই প্রশ্ন।

দ্বিতীয়ত, সুইজারল্যান্ডের উদাহরণ টানা জনপ্রিয় হলেও সেটি প্রায়ই ভুলভাবে ব্যবহার করা হয়। সুইজারল্যান্ডে গণভোট সফল হয়েছে কারণ সেখানে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান, স্বাধীন বিচার বিভাগ, বিকেন্দ্রীকৃত ক্ষমতা, উচ্চ রাজনৈতিক শিক্ষা এবং স্বচ্ছ প্রশাসনিক সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে। তারা গণভোট করে স্থিতিশীল হয়েছে এমন না,তারা স্থিতিশীল বলেই গণভোট কার্যকর করতে পেরেছে। বাংলাদেশ ও সুইজারল্যান্ডের সামাজিক কাঠামো, রাজনৈতিক ইতিহাস ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা এক নয়। একই ওষুধ সব রোগে কাজ করে না।

তৃতীয়ত, বলা হচ্ছে “হ্যাঁ ভোট দিলেই সংসদ থেকে বিচার বিভাগ স্বাধীন হবে।” বাস্তবতা হলো, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা শুধু একটি ভোটে আসে না। আসে সংবিধানের প্রয়োগে, আইনের শাসনে, রাজনৈতিক সদিচ্ছায় এবং দীর্ঘমেয়াদি সংস্কৃতিতে। যদি রাজনৈতিক ক্ষমতা কাঠামো অপরিবর্তিত থাকে, তাহলে কাগজে-কলমে স্বাধীনতা বাস্তবে কার্যকর নাও হতে পারে। ইতিহাসে এর উদাহরণ খুব একটা কম নয়।

চতুর্থত, জনগণকে “সংসদ দাসত্ব” থেকে মুক্ত করার প্রশ্নে গণভোট একমাত্র পথ নয়। বরং শক্তিশালী সংসদীয় বিরোধী দল, জবাবদিহিমূলক সরকার, স্বাধীন গণমাধ্যম ও স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার বিকাশ জনগণের ক্ষমতা বাড়াতে বেশি কার্যকর। গণভোট এসবের বিকল্প হতে পারে না।

সবশেষে ব্যক্তিগত আক্রমণের প্রসঙ্গটি। মতভেদ মানেই কারও বুদ্ধিমত্তা মাপার উপদেশ দিতে হবে এমন না । যুক্তির জবাব যুক্তি দিয়েই দেওয়া উচিত। গণতন্ত্র মানে শুধু ভোট নয়, ভিন্নমত সহ্য করার ক্ষমতাও।

সংক্ষেপে বললে, আমার যুক্তি আর আমার সিদ্ধান্ত পরস্পরবিরোধী নয়। আমি গণভোটকে তাত্ত্বিকভাবে নয়, বাংলাদেশের বর্তমান বাস্তবতায় বিচার করেছি। আর সেই বাস্তবতায় আমি মনে করি, এই গণভোটে না ভোট দেওয়াই যুক্তিসংগত অবস্থান।

৫| ২৬ শে জানুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১:৩৯

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: স্বকীয়তা@জনাব কিরকুট মোটেও কম আইকিউ ওয়ালা মানুষ না ; উনার একটা পলিটিকাল আইডিওলজী আছে । ইহা কম আইকিউ দিয়ে গোপন করা যাবে না ।

২৬ শে জানুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:১৫

কিরকুট বলেছেন: আইকিউ নিয়ে কথা বলে কোনো রাজনৈতিক অবস্থান খণ্ডন করা যায় না। একমত হওয়া বা না হওয়া আলাদা বিষয়, কিন্তু ব্যক্তিগত আক্রমণ যুক্তির বিকল্প হতে পারে না।

৬| ২৬ শে জানুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩২

আহমেদ রুহুল আমিন বলেছেন: সময় পরিবর্তনশীল, তাই সময়ে সবকিছুই পরিবর্তন হতে বাধ্য । একটি আধুনিক রাস্ট্র গড়তে মান্ধাত্বা আমলের চিন্তাধারা নিয়ে পড়ে থাকলে এই রাস্ট্র আরো দুইশত বছর পিছনে পড়ে থাকবে । তাই সময় এসেছে এই রাস্ট্র কাঠামো পরিবর্তনে ‘হ্যা’ ভোটকে স্বাগত জানানো । তাই এখনকার একটি সুন্দর স্লোগান হচ্ছে- “... ‘ শিশুদের জন্য হ্যাঁ বলুন(এটি ইউনিসেফের একটি পুরোনো স্লোগান)- আর রাস্ট্র কাঠামো পরিবর্তনে ‘হ্যাঁ’ বলুন ।”

২৭ শে জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:০২

কিরকুট বলেছেন: আপনার উত্তর এখানে

https://youtu.be/A2bPuhXs0S0?si=COS6aTLg8ywLfHpH


সময় বদলায় ঠিকই, কিন্তু সব পরিবর্তনই যে উন্নতি আনে, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। স্লোগান বদলালেই রাষ্ট্র আধুনিক হয় না, আর ইউনিসেফের স্লোগান টেনে রাষ্ট্র কাঠামো বদলানোর যুক্তি দিলে সেটা ভাবনার গভীরতার চেয়ে আবেগের ঘাটতিই বেশি প্রকাশ করে। ইতিহাস বলে, না ভেবে হ্যাঁ বলা জাতিকে সামনে নয়, সব সময় পিছনেই নেয়।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.