| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
কিরকুট
আমি মানুষ, আমি বাঙালি। আমার মানবিকতা, আমার সংস্কৃতির উপর আঘাত হানতে চাওয়া, ক্ষতিগ্রস্ত করতে চাওয়া প্রাণী মাত্রই আমার কাছে পিশাচ। আমার দেশের উপর আঘাত হানতে চাওয়া প্রাণীদের পালনকারী, প্রশ্রয়দানকারী মাত্রই আমার কাছে পিশাচ, রাক্ষস। হোক সে যে কোনো সাম্প্রদায়িক কিংবা ঢেঁড়স চাষ পরামর্শক।
উর্দু ভাষার আসলে নিজস্ব কোনো স্বতন্ত্র লিপি নেই। এটি মূলত আরবি ফারসি উৎসের লিপি ব্যবহার করে লেখা হয়। ঐতিহাসিকভাবে উর্দুর বিকাশ ভারতীয় উপমহাদেশে মুসলিম শাসনামলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। মুঘল সাম্রাজ্যের সেনা শিবির, প্রশাসন এবং বাণিজ্যিক ও রাজনৈতিক যোগাযোগের প্রয়োজন থেকেই এই ভাষার ব্যবহার ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে। সৈন্য, ব্যবসায়ী ও স্থানীয় মানুষের পারস্পরিক যোগাযোগে হিন্দি, ফারসি ও আরবির মিশ্রণে যে কথ্য রূপ তৈরি হয়েছিল, তা ক্রমে উর্দু নামে পরিচিত হয়।
মুঘল যুগে বিশেষত সম্রাট শাহজাহানের সময় থেকে দরবার ও প্রশাসনিক পরিসরে উর্দুর গুরুত্ব বাড়তে থাকে। পরবর্তী সময়ে বহু খ্যাতিমান কবি সাহিত্যিক এই ভাষায় সাহিত্য রচনা করলে উর্দু একটি পরিপূর্ণ সাহিত্যভাষা হিসেবে মর্যাদা লাভ করে। উনবিংশ শতাব্দীতে এসে উপমহাদেশের বহু মুসলিম অভিজাত মহলে উর্দুকে মুসলমানদের সাংস্কৃতিক পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা শুরু হয়। তাদের ধারণা ছিল, উর্দু ভাষা মুসলমানদের ঐতিহ্য, ইতিহাস ও সামাজিক অবস্থানকে আলাদা করে চিহ্নিত করে।
এই প্রেক্ষাপটে একটি বড় বিতর্ক দেখা দেয় বিশেষ করে বাংলার মুসলমান সমাজে। প্রশ্ন ওঠে, বাংলার মুসলমানদের প্রকৃত মাতৃভাষা কী হওয়া উচিত? সে সময় সমাজের একাংশ, বিশেষত কিছু নবাব ও জমিদার শ্রেণীর মানুষ মনে করতেন যে সম্ভ্রান্ত বা আশরাফ মুসলমানদের ভাষা হওয়া উচিত উর্দু। অন্যদিকে সাধারণ মানুষের জন্য বাংলা ভাষা স্বীকৃত হতে পারে তবে সেটিও এমন এক বাংলা, যেখানে আরবি ফারসি উর্দু শব্দের প্রাধান্য থাকবে। এই ধারাকে অনেকেই মুসলমানি বাংলা নামে উল্লেখ করেছেন।
শিক্ষাবিদ নবাব আব্দুল লতিফসহ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি এই ধরনের ধারণার পক্ষে মত দিয়েছিলেন। তাদের যুক্তি ছিল, এতে মুসলমানদের স্বাতন্ত্র্য বজায় থাকবে এবং একই সঙ্গে বাংলাভাষী সমাজের সঙ্গে যোগাযোগও সহজ হবে। কারণ অধিকাংশ মানুষের মুখের ভাষা ছিল বাংলা কিন্তু আরবি, ফারসি বা উর্দু শেখা তুলনামূলকভাবে কঠিন ছিল।
উনবিংশ শতাব্দীতে এই ধারার ভাষায় কিছু সাহিত্য রচনাও শুরু হয়। তখনকার কিছু লেখক মনে করতেন, বাংলাকে পুরোপুরি হিন্দু সংস্কৃতির প্রভাব থেকে আলাদা রেখে মুসলমান সমাজের জন্য আলাদা ভাষিক পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন। সেই সময়কার অনেক পত্রিকা ও সাময়িকীর নামও আরবি, ফারসি বা উর্দু উৎস থেকে নেওয়া হয়েছিল।
পরে পাকিস্তান আমলে রাষ্ট্রভাষা নিয়ে নতুন বিতর্ক দেখা দেয়। পূর্ব বাংলার মানুষ বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দেওয়ার দাবিতে আন্দোলন শুরু করে, যার পরিণতি ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন। ভাষা আন্দোলনের পেছনে নানা সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কারণ কাজ করেছিল যার মধ্যে ভাষাগত অধিকার ও সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্যের প্রশ্ন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
এই দীর্ঘ ইতিহাসের ভেতর দিয়ে বাংলার মুসলমান সমাজে ভাষা ও পরিচয় নিয়ে নানা ধরনের ভাবনা, দ্বন্দ্ব ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। একদিকে ধর্মীয় পরিচয়, অন্যদিকে আঞ্চলিক ও সাংস্কৃতিক পরিচয় এই দুইয়ের সম্পর্ক কী হবে, তা নিয়ে আলোচনা আজও চলমান।
©somewhere in net ltd.
১|
১৫ ই মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৫:০৮
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: আমাদের কালচার হলো ইসলামিক । ভাষাভুষা কোনো বিষয় না ।