| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |

ডায়োজেনিস সিন্ড্রমে আক্রান্ত মানুষের ঘর
আমার একজন ঘনিষ্ঠ আত্মীয়ের কিছু অদ্ভুত আচরণ দেখে বুঝতে চাচ্ছিলাম যে তার এমন আচরণ কোনো মানসিক সমস্যা কিনা। তার আচরণের বর্ণনা দেই ইন্টারনেটে, আর তখন জানতে পারি Diogenes syndrome সম্পর্কে।
গত কয়েকদিন ধরে যে মায়ের মৃত্যু নিয়ে সরব হয়ে আছে মিডিয়া এবং সামাজিক মাধ্যম, সেই মায়ের ঘরের ছবি দেখে আবার মনে পড়লো Diogenes syndrome এর কথা। ঘরের ছবি দেখে মনে হয়েছে সেই মা Diogenes syndrome এ ভুগছিলেন।view this link
গুগলকে প্রশ্ন করার পর Diogenes syndrome সম্পর্কে যা জানায় তা কপি- পেস্ট করে দিলাম নিচে:
মানুষের নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে থাকার এই অবস্থাকে চিকিৎসা ও মনোবিজ্ঞানের ভাষায় ডায়োজেনিস সিনড্রোম (Diogenes syndrome) বলা হয়। এটিকে অনেক সময় 'সেনাইল স্কোয়ালর সিনড্রোম' বা 'হোর্ডিং ডিসঅর্ডার'-এর একটি চরম পর্যায়ও বলা হয়ে থাকে।
এটি মূলত একটি আচরণগত ব্যাধি। এর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো নিচে দেওয়া হলো:
১) চরম আত্ম-অবহেলা: আক্রান্ত ব্যক্তি নিজের ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার প্রতি সম্পূর্ণ উদাসীন হয়ে পড়েন। তারা নিয়মিত গোসল করেন না, অপরিচ্ছন্ন পোশাক পরেন এবং খাওয়া-দাওয়ারও কোনো যত্ন নেন না।
২) অপরিচ্ছন্ন বাসস্থান: ঘরবাড়ি অত্যন্ত নোংরা, অগোছালো ও অস্বাস্থ্যকর অবস্থায় রাখেন এবং ময়লা-আবর্জনা জমিয়ে রাখেন।
৩) সামাজিক বিচ্ছিন্নতা: মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ এড়িয়ে চলতে পছন্দ করেন এবং পরিবার বা বন্ধুদের থেকে নিজেকে সম্পূর্ণ গুটিয়ে নেন।
৪) সমস্যা অস্বীকার করা: নিজের এই নোংরা জীবনযাপন সম্পর্কে তাদের মধ্যে কোনো লজ্জা বা সমস্যাবোধ থাকে না। কেউ সাহায্য করতে বা পরিষ্কার করতে চাইলে তারা তীব্র বাধা দেন।
গ্রিক দার্শনিক ডায়োজেনিসের নামানুসারে এই সিনড্রোমের নামকরণ করা হয়েছে, কারণ তিনি অত্যন্ত সাদাসিধে ও ন্যূনতম সুবিধায় জীবনযাপন করতেন। এই অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে Wikipedia এবং Healthline দেখুন। এটি সাধারণত বিষণ্নতা, ডিমেনশিয়া, বা মানসিক আঘাতের (trauma) কারণে বয়স্কদের মধ্যে বেশি দেখা যায়।
এই সবগুলো বৈশিষ্ট্যই দেখা যায় আমার সেই আত্মীয়র মধ্যে। তিনি নিজের বিশাল এপার্টমেন্টে থাকেন একাকী, তিনি অকৃতদার। তার বয়স এখন ৭৭ বছর, তিনি কোন কাজের লোক রাখেন না। ফলে তাঁর বাসস্থান অপরিচ্ছন্ন (বৈশিষ্ট্য ২)। পাড়া-প্রতিবেশী আত্মীয়-স্বজন কেউ তার ঘরে ঢুকতে পারে না। একসময় আত্মীয়দের সাথে যাতায়াত ছিল। গত চার বছর ধরে সেই যাতায়াত কমতে কমতে এখন একেবারে বন্ধ, কাউকেই বাসায় ঢুকতে দেন না (বৈশিষ্ট্য ৩)।
অথচ এই বাসাটি এক সময় বেশ সাজানো গোছানো ছিল। তারপর একসময় দেখা গেল ঘর ভরে গেছে জঞ্জাল দিয়ে। পলিথিনের প্যাকেট, তেলের বোতল, মিষ্টির বাক্স, মিল্ক ভিটার প্যাকেট এধরণের জিনিস বছরের পর বছর জমতে থাকলে একসময় ঘরে আর পা ফেলার জায়গা থাকলো না! এই সময়ও কাউকে কাউকে তিনি বাসায় আসতে দিতেন, তাঁরা তাকে বলতেন এসব জিনিস ফেলে দিতে। তাতে তিনি প্রচন্ড রেগে যেতেন, যেন তার মহামূল্যবান সম্পদ কিছু ফেলে দিতে বলা হয়েছে (বৈশিষ্ট্য ৪)! যেহেতু তিনি নিজে রান্না করে খেতেন, তাই যারা তাকে দেখতে যেতেন তারা উনার জন্য খাবার দাবার নিয়ে যেতেন। এই খাবারও তিনি খেতেন না ঠিকমতো। দুইটা বড় ফ্রিজে সব ঠেসে রাখতেন। ফলে ফ্রিজ খুললেই পঁচা খাবারের গন্ধ পাওয়া যেত। তিনি সেগুলোই খেতেন, সম্ভবত তাজা খাবার খুব কমই খেয়েছেন (বৈশিষ্ট্য ১)।
তিনি বিমান বাহিনীতে চাকরি করতেন, রিটারমেন্ট নিয়ে সরকারি চাকরি করেন কয়েক বছর। শারীরিক এবং মানসিক ভাবে সুস্থ একজন মানুষ। তিনি অনেক সম্পদেরও মালিক যদিও কাউকে বলেননি কোথায় কোথায় তাঁর কী আছে! সম্ভবত এ ব্যাপারে কাউকে বিশ্বাস করতে পারেন না।
আগে তাঁকে ফোন করলে মাঝে মাঝে ফোন ধরতেন। কিন্তু বছরখানেক থেকে ফোন ধরাও বন্ধ করে দিয়েছেন। তবু আমি মাঝে মাঝে ফোন করি, আজকেও করেছি। ফোনের রিং হওয়া শুনে বুঝতে পারি যে তিনি সুস্থ আছেন, যেহেতু ফোনে চার্জ দিতে পারছেন।
বাসায় গেলে দরজা খোলেন না। কয়েকবার এমন হবার পর এখন আর বাসায় যাই না, কারণ এত কষ্ট করে যাবার পর দরজা না খোলায় মন খারাপ হয়।
উনার প্রায় সব siblings বিদেশে থাকেন। তারা সকলেই উনার ব্যাপারে উদ্বিগ্ন, কিন্তু কিছুই করতে পারেন না! তিনি অসুস্থ হলেও কেউ জানতে পারে না, কারণ তিনি জানতে দিতে চান না। এখন উনি যদি অসুস্থ হয়ে মারা যান, ঘরের ভেতরে মরে পড়ে থাকলেও কেউ জানতে পারবে না! তখন ঘর ভেঙে তাঁর লাশ উদ্ধার হবে, সকলে উঠে পড়ে লাগবে তার জীবিত ভাই-বোনদের দোষারোপ করতে যে কেন তাঁর খোঁজ খবর রাখা হয় নি, ঠিক যেমন এখন নুরজাহান বেগমের ছেলেমেয়েদের দোষারোপ করা হচ্ছে। আসলে এমন মানুষের খোঁজ নিতে গেলে দরজা ভেঙে ঢুকতে হয়। আবার মানসিক সমস্যার চিকিৎসা করতে গেলেও জোর করে ধরে নিয়ে যেতে হবে, তখন আত্মীয়-স্বজন আর পাড়া প্রতিবেশীরা বলবে অসহায় মানুষটাকে পাগল সাজাতে চাচ্ছে!!
এই মানসিক ব্যাধি সম্পর্কে অনেকেই জানেন না, অথচ আমাদের আশেপাশেই এমন অনেক মানুষ দেখা যায়। ইদানিং আমারও Hoarding disorder শুরু হয়েছে!
নুরজাহান বেগমের ঘরের ছবি। যুগান্তর অনলাইন থেকে নেয়া।
প্রথম ছবির সূত্র: view this link
০৪ ঠা জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:০৯
করুণাধারা বলেছেন: মিরপুরে বসবাসরত বৃদ্ধা নুরজাহান বেগমের মৃ'ত্যুর ঘটনায় তার ছেলে যুগ্ম-সচিব এ কে এম আনিসুর রহমানের বি'রুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
খবরটা আমিও দেখেছি সৈয়দ কুতুব। আমাদের দেশীয় আইনে পিতা-মাতার ভরণপোষণের দায়িত্ব সন্তানের এমন বিধান আছে, তবে দায়িত্ব পালনে গাফিলতি করলে কী শাস্তি হবে তার বিধান বলা আছে কিনা জানিনা। যেমন একজন সরকারি কর্মকর্তাকে তার কর্মস্থল থেকে স্ট্যান্ড রিলিজ করার বিধান আছে কিনা... আমার মনে হয় তাঁকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া দরকার ছিল।
মন্তব্যের জন্য অনেক ধন্যবাদ সৈয়দ কুতুব।
২|
০৪ ঠা জুন, ২০২৬ রাত ২:৫১
প্রজ্জলিত মেশকাত বলেছেন: আপনি কিভাবে নিশ্চিত হচ্ছেন যে নুরজাহান বেগমের হোর্ডিং ডিসর্ডার ছিলো!! না জেনেই অতিরিক্ত উদারমনা হয়ে জাজমেন্ট দিয়ে দেন। আপনার আত্মীয়ের যে বর্ণনা দিয়েছেন সেটা হোর্ডিং ডিসর্ডারের মধ্যেই পড়ে। আর ডায়োজেনিস সিনড্রোম কোন সাইকিয়াট্রিক টার্ম না।
০৪ ঠা জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৪
করুণাধারা বলেছেন: আপনি কিভাবে নিশ্চিত হচ্ছেন যে নুরজাহান বেগমের হোর্ডিং ডিসর্ডার ছিলো!! না জেনেই অতিরিক্ত উদারমনা হয়ে জাজমেন্ট দিয়ে দেন।
আমি পোস্টে কোথায় বলিনি যে নুরজাহান বেগমের হোর্ডিং ডিসঅর্ডার ছিল। আমি বলেছি, ছবিতে নুরজাহান বেগমের ঘর, যা প্রচন্ড অপরিচ্ছন্ন, তা দেখে মনে হয়েছে তিনি ডায়োজেনিস সিন্ড্রমে ভুগছিলেন।
তার ছেলেমেয়েরা অবশ্যই দোষী তাকে দেখাশোনা করেন নি তাই। কিন্তু কোনো আত্মীয় বা পাড়া প্রতিবেশীও কেন তাকে কখনো দেখতে যাননি? তার এই সামাজিক বিচ্ছিন্নতাও ডায়াজেনিস সিনড্রমের লক্ষণের সাথে মিলে যায়।
আর ডায়োজেনিস সিনড্রোম কোন সাইকিয়াট্রিক টার্ম না।
ডায়োজেনিস সিনড্রোম কোন সাইক্রিয়াটিক টার্ম হওয়া না হওয়ায় কি আসে যায়? গুগল করে দেখতে পেয়েছি এটা একটা আচরণগত ব্যাধি, সেটার লিংকও আমি দিয়ে দিয়েছি।
৩|
০৪ ঠা জুন, ২০২৬ রাত ৩:৫২
স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: সাধারণত বিষণ্নতা, ডিমেনশিয়া, বা মানসিক আঘাতের (trauma)
কারণে বয়স্কদের মধ্যে বেশি দেখা যায়।
.........................................................................................
আমাদের সামাজিক ও পারিবারিক বন্ধন যেভাবে ভেঙ্গে যাচ্ছে
তাতে সমাজে এই ধরনের অভিশাপ , ব্যধি আরও বাড়তে থাকবে ।
আমাদের সূধী ও জ্ঞানী লোকের উচিৎ বিষয়টি নিয়ে উচ্চ পর্যায়ে
কথা বলা এবং সূদুর প্রসারী সমাধান করা আবশ্যক ।
০৪ ঠা জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৭
করুণাধারা বলেছেন: আমাদের সামাজিক ও পারিবারিক বন্ধন যেভাবে ভেঙ্গে যাচ্ছে
তাতে সমাজে এই ধরনের অভিশাপ , ব্যধি আরও বাড়তে থাকবে ।
আমাদের সামাজিক ও পারিবারিক বন্ধন ভেঙে যাচ্ছে। এক সময় পাড়া প্রতিবেশীদের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক ছিল এখন আমরা অনেকে জানিনা পাশের ফ্ল্যাটে কে থাকেন, মরে গেলে কখনো জানতে পারি কখনো জানতে পারি না। আমরা কেবল ছুটে চলেছি, হারিয়ে ফেলেছি বেশিরভাগ মানবিক গুণাবলী। ![]()
৪|
০৪ ঠা জুন, ২০২৬ ভোর ৪:৩৩
ভুয়া মফিজ বলেছেন: আমি কিছু বলতে গেলেই সেটা রাজনৈতিক ব্ক্তব্য হয়ে যায় রাজশাহীর সেই অতি প্রচলিত বাণীর মতো......বুইল্লে পরে বুইলবেহিনি বুইলছিলো!!! তারপরেও কিছু কথা বলা উচিত।
আমাদের সমাজে মোটা দাগে মানসিক সমস্যা বলতে আমরা একমাত্র বুঝি 'পাবনার পাগলা গারদ' অথবা 'নাঙ্গা হয়ে ভর দুপুরে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ'। এর বাইরে 'মানসিক সমস্যা কাহাকে বলে, কতো প্রকার ও কি কি' আমরা ঠিক মতো জানিই না। এর জন্য মূলতঃ দায়ী আমাদের পশ্চাৎপদ মানসিকতা। এই মানসিকতা আসে প্রকৃত শিক্ষার অভাব থেকে আর সেই প্রকৃত শিক্ষা সমাজে ছড়িয়ে দেয়ার দায়িত্ব আমাদের রাজনীতিবিদদের। আপনার নিশ্চয়ই মনে আছে, আগে একবার ''হিচকি'' নিয়ে লিখেছিলাম!!! তাছাড়া আমাদের ব্লগেও তো বেশকিছু মানসিক রোগী আছে..........তাদের খবর কে রাখে? কে তাদের দুঃখ, ব্যথা-বেদনা বোঝে!!! ![]()
নুরজাহান বেগমের বিষয়টা অতি বেদনার। আমাদের সমাজে বৃদ্ধ মা-বাবাকে অবহেলা করার পরিমান দিন দিন বাড়ছে। এখন তদন্ত করে দেখতে হবে, উনি কোন মানসিক সমস্যায় (Hoarding disorder বা অন্য কিছু) ভুগছিলেন কিনা, ভুগে থাকলে উনার চিকিৎসার কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়েছিল কিনা। আর কোন মানসিক সমস্যা না থেকে থাকলে উনার এই অবস্থার জন্য সন্তানদেরকে অবশ্যই কঠোর শাস্তির আওতায় আনা দরকার।
ইদানিং আমারও Hoarding disorder শুরু হয়েছে! যে কোনও মানসিক সমস্যার প্রাথমিক ধাপ আমাদের অনেকের মধ্যেই থাকে। এটা নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নাই; এর সহজ সমাধান আছে। তবে কোন বিষয় জটিলতার দিকে গেলেই চিন্তার বিষয়। BTW, Hoarding disorder এর প্রাথমিক পর্যায়ে আমিও আছি। দুঃখের বিষয় হলো, আমার বউ কিছুদিন পর পর সব অপ্রয়োজনীয় জিনিস (তার ভাষায়) বাড়ি থেকে ঝেটিয়ে বিদায় করে!!! ![]()
০৪ ঠা জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:২৯
করুণাধারা বলেছেন: আমি কিছু বলতে গেলেই সেটা রাজনৈতিক ব্ক্তব্য হয়ে যায় শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে আপনি কথা বললে তো রাজনৈতিক বক্তব্য বলেই ধরা হবে।
আমি আপনার সাথে ১০০% সহমত। শিক্ষার অভাবেই আমাদের মধ্যে পশ্চাৎপদ মানসিকতা গড়ে উঠেছে। কিন্তু শিক্ষার উন্নয়ন কখনোই হবে না। কারণ শিক্ষার উন্নয়ন যারা করতে পারে সেই বিশেষ মানুষেরা সাধারণ মানুষ সম্পর্কে মনে করেন, "যত কম জানে, তত বেশি মানে"।
মানসিক সমস্যা নিয়ে কাজ করার সবচেয়ে বড় সমস্যা, যিনি এই সমস্যায় ভুগছেন তিনি কখনোই বুঝতে পারেন না যে তিনি মানসিকভাবে অসুস্থ। তারপর আমাদের দেশে মানসিক সমস্যা নিয়ে অজ্ঞতার কারণে এটা একটা লজ্জার বিষয় বলে মনে করা হয়। তাই পরিবারের কেউ মানসিক অসুস্থ বলে বোঝা গেলেও পরিবারের বাকিরা তাকে জোর করে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যান না। ধরুন আমাদের সেই আত্মীয়র কথা। অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে থাকা, নষ্ট হয়ে খাদ্য খাবার ফলে তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু তিনি এটা স্বাভাবিক বিষয় বলে মনে করেন তাই ধরে বেঁধে না নিলে তাকে চিকিৎসার জন্য নেয়া সম্ভব না। বয়োজ্যেষ্ঠ বলে সম্মান করে তাঁকে ধরে বেঁধে নেয়াও যায় না।
নুরজাহান বেগমের প্রতি অবহেলা হয়েছে কিনা তা যাচাই করে দেখতে হবে। যদি দেখা যায় সন্তানদের অবহেলা ছিল, তাহলে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।
মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে আমার আগ্রহ সবসময় আছে। আপনার পোস্টে এ নিয়ে মন্তব্য করতে যাবো!
৫|
০৪ ঠা জুন, ২০২৬ সকাল ৯:৩১
নূর আলম হিরণ বলেছেন: এই সমস্যার শুরু হওয়ার লক্ষণ দেখা দেওয়ার সময় তার সন্তানদের কি ভূমিকা ছিল?
দীর্ঘদিনের একাকীত্ব
বয়সজনিত মানসিক পরিবর্তন
কোনো বড় মানসিক আঘাত বা শোক থেকেও এই সমস্যার উদ্ভব হতে পারে। মা যতই যোগাযোগ না করুক, ঘরে না ডুকতে দিক তার খবরাখবর কোনো বা কোনোভাবে নিতেই হবে। মরে ৭দিন হয়ে গেল অসুস্থ মায়ের(আপনার ভাষ্যমতে অসুস্থ্য) খোঁজ নেওয়ার প্রয়োজন বোধ করলো না! মায়ের ঘরে একটা সিসি ক্যামেরা লাগিয়েও মাকে দুর থেকে পর্যবেক্ষণ করতে পারতো।
০৪ ঠা জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৩৪
করুণাধারা বলেছেন: এই সমস্যার শুরু হওয়ার লক্ষণ দেখা দেওয়ার সময় তার সন্তানদের কি ভূমিকা ছিল?
আমি জানি না সন্তানদের ভূমিকা কি ছিল। আপাত দৃষ্টিতে মনে হচ্ছে তাঁরা মাকে চরম অবহেলা করেছেন। অবশ্যই ছেলেরা সিসিটিভি লাগাতে পারতেন। মায়ের দেখাশোনা করাটা তাদের দায়িত্ব ছিল। কেন সেটা তারা পালন করলেন না সেটা অনুসন্ধান করে দেখতে হবে।
তবে আমার মনে হচ্ছে, তার ছেলেরা ভেবেছেন তাদের মা তাঁর মেয়ের সাথে ভালো আছেন, তাই তেমন ভাবে মায়ের খোঁজখবর করতেন না। কিন্তু সম্ভবত মেয়েও মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন, তিনিও মায়ের দেখাশোনা করতে পারতেন না। মিরপুরের উচ্চ শিক্ষিত দুই বোন রিতা মিতাও কিন্তু মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন।
অসুস্থ মায়ের(আপনার ভাষ্যমতে অসুস্থ্য)।
অসুস্থ্য, ভুল বানান যুক্ত এই ভাষ্য আমি কোথাও দেইনি। আপনি কারো প্রতি বিরূপ মনোভাব পোষণ করতে পারেন, কিন্তু মিথ্যা দোষারোপ করা অনভিপ্রেত।
৬|
০৪ ঠা জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫
শ্রাবণধারা বলেছেন: পত্রিকায় পড়ে জানলাম, নুরজাহান বেগম মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। তিনি তাঁর মেয়ের সাথে থাকতেন, আর তাঁর মেয়েও মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। কিন্তু এ কারণে তাঁদের কখনো চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হয়নি। সেই মেয়ে মায়ের মৃত্যুর সময় কোথায় ছিল সেটা অবশ্য জানা যায়নি।
তাঁর ঘরের ভেতরের ছবিটি দেখলে আতঙ্কিত হতে হয়। কী ভয়াবহ দৃশ্য! ডায়োজেনিসকে অবশ্য আমি চিনতাম। গ্রিক দর্শনের ইতিহাসে তাঁর মতো সাধুস্বভাবের দার্শনিক বোধ হয় আর একজনও নেই। তবে ডায়োজেনিস সিনড্রোম নামে যে একটি সিনড্রোম আছে, এবং সেটি যে এত ভয়াবহ হতে পারে, তা আমার জানা ছিল না।
০৪ ঠা জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১
করুণাধারা বলেছেন: খবর পড়ে এবং মেয়ের ভিডিও দেখে আমার মনে হয়েছে মেয়েও মানসিকভাবে অসুস্থ। দুই নারীর জীবনেই ছিল একাকীত্ব। আপনার কি মনে আছে মিরপুরের ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার দুই বোন রিতা মিতার কথা। তাঁরাও দুজন মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন।
মনে হচ্ছে, নুরজাহান বেগমের ছেলেরা বোনের কাছে মাকে রেখে দিয়েই নিজেদের দায়িত্ব পালন করেছেন। ঈদের দিন ছেলে এই ঘরে মায়ের জন্য খাবার নিয়ে এসে খাইয়েছেন! এই ঘরে কোনো সুস্থ মানুষ বসে থাকতে পারে!! এমন অবস্থা হতে অন্তত কয়েক মাস লেগেছে। মেয়ের ছবি দেখে মনে হয়েছে তিনিও অপুষ্টিতে ভুগছেন।
ডায়োজেনিস সিনড্রোম সম্পর্কে প্রথম জেনে আমিও অবাক হয়েছিলাম। আমার ধারণা একাকীত্ব থেকে এই অবস্থার উদ্ভব হয়।
আরেকটা কথা বলি, দেশে যেমন আমার একজন নিকটাত্মীয় সম্পর্কে আমি মনে করি যে তিনি ডায়োজেনিস সিনড্রোমে আক্রান্ত, আমেরিকায় তেমনি আমার একজন নিকটাত্মীয়া এতে আক্রান্ত বলে মনে হয়। তিনিও মা মেয়ে দুজন থাকেন। সেখানে সুবিধা এটাই যে, নিয়মিতভাবে সোশ্যাল ওয়ার্কার এসে ঘরের পরিচ্ছন্নতা, তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে যান। ফলে তারা ভালই আছেন। আমাদের দেশে সেই সুবিধা নেই।
©somewhere in net ltd.
১|
০৪ ঠা জুন, ২০২৬ রাত ১২:৪৪
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: মিরপুরে বসবাসরত বৃদ্ধা নুরজাহান বেগমের মৃ'ত্যুর ঘটনায় তার ছেলে যুগ্ম-সচিব এ কে এম আনিসুর রহমানের বি'রুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মংলা বন্দর থেকে তাকে বদলি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে ।প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, আনিসুর রহমান আগামী ৪ জুনের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থল হতে অবমুক্ত হয়ে বদলিকৃত কর্মস্থলে যোগদান করবেন; অন্যথায় তিনি ৪ জুন অপরাহ্ণে বর্তমান কর্মস্থল হতে তাৎক্ষণিক অ'বমুক্ত (Stand Released) বলে গণ্য হবেন।