নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

মানুষ মরে গেলে পঁচে যায় আর বেঁচে থাকলে বদলায়

সৈয়দ কুতুব

নিজের অজ্ঞতা নিজের কাছে যতই ধরা পড়ছে প্রচলিত বিশ্বাসের প্রতি ততই অবিশ্বাস জন্মাছে!

সৈয়দ কুতুব › বিস্তারিত পোস্টঃ

একজন ইমাম এত নৃশংস হত্যাকাণ্ডে নেতৃত্ব দেবেন কেন ?

০৮ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:২৬


১৮ ডিসেম্বর ২০২৫, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা। ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার জামিরদিয়া এলাকায় একটি গার্মেন্টস ফ্যাক্টরির গেটে শুরু হয় অস্বাভাবিক গোলমাল। মিনিটের মধ্যে সেখানে জড়ো হয় দেড়শো মানুষের উত্তেজিত ভিড়। তাদের টার্গেট ২৭ বছর বয়সী এক সাধারণ গার্মেন্টস শ্রমিক - দিপু চন্দ্র দাস। অভিযোগ, তিনি ধর্ম অবমাননা করেছেন। মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে দিপুকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়, তার লাশ রশি দিয়ে বেঁধে প্রায় এক কিলোমিটার টেনে নিয়ে যাওয়া হয়, বিবস্ত্র করে গাছে ঝুলিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। পুরো ঘটনার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়লে দেশ স্তম্ভিত হয়ে যায়। কিন্তু এই নৃশংসতার আড়ালে লুকিয়ে আছে এক গভীর ষড়যন্ত্রের গল্প।

সেদিন ছিল বিশ্ব আরবি ভাষা দিবস। পাইওনিয়ার নিট কম্পোজিট লিমিটেড ফ্যাক্টরিতে এই উপলক্ষে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। দিপু সেই ফ্যাক্টরিতে প্রায় তিন বছর ধরে কাজ করছিলেন। তিনি ছিলেন তারাকান্দা উপজেলার মুকামিয়াকান্দা গ্রামের মানুষ, বিবাহিত এবং দেড় বছরের এক শিশু কন্যার বাবা। কাজের সুবিধার জন্য ভালুকার ডুবালিয়াপাড়া এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। একজন সাধারণ পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্য। তার পরিবার জানায়, দিপু শিক্ষিত এবং ধর্মসচেতন ছিলেন। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং পরিকল্পিত।

অনুষ্ঠান চলাকালীন হঠাৎ দিপুর বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ উত্থাপিত হয়। কথিত আছে, তিনি ফ্যাক্টরির কাছের চায়ের দোকানে বসে নবী (সা) সম্পর্কে কটূক্তিমূলক মন্তব্য করেছেন। তবে র‍্যাবের তদন্তে পরবর্তীতে স্পষ্টভাবে জানানো হয় যে ধর্ম অবমাননার কোনো প্রত্যক্ষ প্রমাণ পাওয়া যায়নি। যাদের সাথেই কথা বলা হয়েছে, তারা সবাই বলেছেন যে তারা শুনেছেন কেউ একজন এমন কিছু বলেছে, কিন্তু কেউই সরাসরি দিপুকে এমন কিছু বলতে দেখেননি বা শোনেননি। এই "শুনেছি" এবং "বলা হচ্ছে" টাইপের গুজবই ছিল পুরো ঘটনার ভিত্তি।

আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, দিপুর বাবা রবি চন্দ্র দাস এবং বোন চম্পা দাস দাবি করেন যে উৎপাদন বৃদ্ধি নিয়ে বিরোধের জের ধরে পরিকল্পিতভাবে দিপুকে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এই দাবিটি যখন পুরো ঘটনার প্রেক্ষাপটে বিশ্লেষণ করি, তখন অনেক কিছুই পরিষ্কার হতে শুরু করে।

ঘটনার শুরু হয় ফ্যাক্টরির ভেতর থেকে। সন্ধ্যার পর কিছু শ্রমিক দলবদ্ধ হয়ে দিপুর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং তার বিরুদ্ধে নবীকে কটূক্তি করার অভিযোগ তুলতে থাকে। এই খবর মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ে এবং মিনিটের মধ্যে ফ্যাক্টরির বাইরে জড়ো হতে থাকে বিপুল সংখ্যক মানুষ। ঠিক এই সময়ে ঘটে যা পুরো বিষয়টিকে সন্দেহজনক করে তোলে। ফ্যাক্টরির বাইরে স্লোগান দিয়ে মানুষজন জড়ো করতে থাকে কাশর এলাকার মসজিদের ইমাম ইয়াছিন আরাফাত নামের এক ২৫ বছর বয়সী যুবক।

প্রশ্ন হলো, একজন ইমাম যিনি ফ্যাক্টরিতে কাজ করেন না, যিনি সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন না, তিনি কীভাবে এত দ্রুত এই ঘটনার খবর পেলেন এবং কেন তিনি ফ্যাক্টরির গেটে এসে মানুষ জড়ো করতে শুরু করলেন? কে তাকে খবর দিয়েছিল? ফোনে, নাকি কেউ গিয়ে? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর তদন্তে এখনো পাওয়া যায়নি।

ইয়াছিন আরাফাত এই ঘটনার একদম কেন্দ্রীয় চরিত্র। তিনি হবিরবাড়ি ইউনিয়নের দক্ষিণ হবিরবাড়ি এলাকার বাসিন্দা এবং গত ১৮ মাস ধরে একই ইউনিয়নের কাশর এলাকায় শেখবাড়ি মসজিদে ইমামতি এবং মদিনা তাহফিজুল কুরআন মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করছিলেন। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনিই ফ্যাক্টরির গেটে স্লোগান দিয়ে লোকজন জড়ো করেন, উত্তেজিত জনতাকে উসকানি দেন এবং দিপুকে নির্মমভাবে মারধর করেন। শুধু তাই নয়, দিপুকে হত্যার পর তার নিথর দেহ রশি দিয়ে টেনে-হিঁচড়ে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে স্কয়ার মাস্টারবাড়ি এলাকায় নিয়ে যাওয়া এবং সেখানে লাশ পোড়ানোর পুরো ঘটনায় তিনি সরাসরি নেতৃত্ব দেন। এই ধরনের সংগঠিত এবং পরিকল্পিত কাজ কোনো তাৎক্ষণিক ক্রোধের বহিঃপ্রকাশ নয়। এটি একটি সুচিন্তিত পরিকল্পনার অংশ।

ভৌগোলিক বিশ্লেষণ করলে আরও অনেক কিছু পরিষ্কার হয়। পুরো ঘটনা ঘটেছে হবিরবাড়ি ইউনিয়নের মধ্যে, যেটি ভালুকা উপজেলার ১০ নম্বর ইউনিয়ন। এই ইউনিয়নের অধীনে ১৬টি গ্রাম বা এলাকা রয়েছে। দিপু যে পাইওনিয়ার ফ্যাক্টরিতে কাজ করতেন সেটি অবস্থিত জামিরদিয়া এলাকায়, যেটি ডুবালিয়াপাড়ার অংশ। দিপু নিজে থাকতেন ডুবালিয়াপাড়ায়। ইমাম ইয়াছিন আরাফাত কাজ করতেন কাশর এলাকায়, যেটি একই হবিরবাড়ি ইউনিয়নের অন্তর্গত। তার বাড়ি ছিল দক্ষিণ হবিরবাড়িতে, যেটিও এই একই ইউনিয়নে। আর লাশ পোড়ানো হয় স্কয়ার মাস্টারবাড়ি এলাকায়, যেটিও এই ইউনিয়নের মধ্যেই পড়ে এবং ফ্যাক্টরি থেকে মাত্র এক কিলোমিটার দূরে। অর্থাৎ, পুরো ঘটনা একটি ছোট্ট ভৌগোলিক এলাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ, যেখানে সবাই সবাইকে চেনে, স্থানীয় ক্ষমতার কাঠামো পরিষ্কার এবং একজন মসজিদের ইমামের যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে।

এই ভৌগোলিক সংযোগ গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটি প্রমাণ করে যে ইয়াছিন আরাফাত এই এলাকার মানুষ, এই এলাকার লোকজনকে চেনেন, তাদের ওপর প্রভাব বিস্তার করতে পারেন এবং খুব সহজেই তাদের মবিলাইজ করতে সক্ষম। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়, ফ্যাক্টরির ভেতরের একটি ঘটনা সম্পর্কে একজন বাইরের ইমাম কীভাবে এত দ্রুত জানতে পারলেন? এর একটাই যুক্তিসঙ্গত উত্তর - ফ্যাক্টরির ভেতরে কেউ তাকে খবর দিয়েছে। কেউ যার স্বার্থ ছিল দিপুকে সরিয়ে দেওয়ার, কেউ যিনি জানতেন যে ইয়াছিন আরাফাতকে ব্যবহার করলে এই কাজটি সহজেই করা সম্ভব। আর এখানেই আসে ফ্যাক্টরি কর্তৃপক্ষের ভূমিকা, যা অত্যন্ত সন্দেহজনক এবং উদ্বেগজনক।

র‍্যাবের তদন্তে উঠে আসে যে ফ্যাক্টরির ফ্লোর ইনচার্জ এবং কোয়ালিটি ইনচার্জ দিপুকে চাকরি ছাড়তে বাধ্য করার পর উত্তেজিত জনতার কাছে তুলে দেন। পুলিশের অতিরিক্ত সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান যে গ্রেপ্তারকৃত ছয় আসামি ফ্যাক্টরির ভেতরে উপস্থিত কর্মচারীদের উসকানি দিয়েছে, স্লোগান দিয়ে ফ্যাক্টরির বাইরে সংবাদ ছড়িয়ে দিয়েছে এবং দিপুকে চাকরিচ্যুতির জন্য চাপ সৃষ্টি করেছে। র‍্যাবের ময়মনসিংহ কমান্ডার মো. সামসুজ্জামান বলেন যে পরিস্থিতি টালমাটাল হয়ে গেলে ফ্যাক্টরি রক্ষার জন্য সেখানকার কর্মকর্তারা দিপুকে কথিত জনতার হাতে তুলে দিয়েছে। আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, বিকেল পাঁচটার ঘটনা রাত আটটায় পুলিশকে জানানো হয়েছে। তিন ঘণ্টা দেরি। কেন? কী করা হচ্ছিল এই তিন ঘণ্টায়? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর এখনও পাওয়া যায়নি।

এই পয়েন্টগুলো মিলিয়ে দেখলে একটি ছবি পরিষ্কার হয়। ফ্যাক্টরির ভেতরে একটি গ্রুপ ছিল যারা দিপুকে সরাতে চাইছিল। দিপুর পরিবারের দাবি অনুযায়ী, উৎপাদন বৃদ্ধি নিয়ে বিরোধ ছিল। সম্ভবত দিপু তার কাজে ভালো ছিলেন, সম্ভবত তার প্রমোশন হওয়ার কথা ছিল, অথবা তিনি কারো স্বার্থে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। ফ্যাক্টরির কোনো ইনচার্জ বা সুপারভাইজার হয়তো তাকে সরাতে চাইছিলেন। কিন্তু সরাসরি চাকরিচ্যুত করা বা অভিযোগ আনা সম্ভব হচ্ছিল না। তখন তারা খুঁজে পান একটি নিখুঁত সমাধান - ধর্ম অবমাননার মিথ্যা অভিযোগ। আর এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য তারা ব্যবহার করেন স্থানীয় একজন ধর্মীয় নেতাকে, যার প্রভাব আছে, যিনি মানুষকে দ্রুত জড়ো করতে পারেন। ইয়াছিন আরাফাত ছিলেন সেই পারফেক্ট টুল।

গ্রেপ্তারকৃতদের তালিকা দেখলে আরও কিছু প্যাটার্ন চোখে পড়ে। প্রথম ১০ জনের মধ্যে ফ্যাক্টরির ফ্লোর ইনচার্জ মো. আলমগীর হোসেন, কোয়ালিটি ইনচার্জ মিরাজ হোসেন এবং ডুবালিয়াপাড়া এলাকার বেশ কয়েকজন স্থানীয় যুবক রয়েছে। কাশর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হয়েছে আশিকুর রহমান এবং কাইয়ুম নামের দুই যুবক। এটি প্রমাণ করে যে কাশর এলাকার একটি গ্রুপ সক্রিয়ভাবে এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিল। এরা সম্ভবত ইমাম ইয়াছিনের অনুসারী ছিল। নয়জন আসামি ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন, যার মধ্যে ফ্যাক্টরির দুই ইনচার্জও রয়েছেন। তারা কী স্বীকার করেছেন সেটা জনসমক্ষে আসেনি। কিন্তু এটা পরিষ্কার যে ফ্যাক্টরির ভেতর থেকে একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র হয়েছিল।

ঘটনার সময়রেখা দেখলে পরিকল্পনার স্বাক্ষর আরও স্পষ্ট হয়। বিকেল পাঁচটার দিকে ফ্যাক্টরিতে ঘটনা শুরু হয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই ইয়াছিন আরাফাত হাজির হন এবং স্লোগান দিয়ে মানুষ জড়ো করতে থাকেন। সন্ধ্যার মধ্যে দেড়শো মানুষের একটি ভিড় তৈরি হয়ে যায়। দিপুকে ফ্যাক্টরির ভেতরে মারধর করা হয়, বাইরে জনতা তাকে হাতে পাওয়ার দাবি জানাতে থাকে। পরিস্থিতি সামাল দিতে না পেরে ফ্যাক্টরির প্রোডাকশন ম্যানেজার দিপুকে তখনই বরখাস্ত ঘোষণা করেন। কিন্তু জনতা শান্ত হয় না। রাত নয়টার দিকে দিপুকে ফ্যাক্টরি থেকে জোর করে বের করে আনা হয়। তাকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। তারপর তার নিথর দেহ রশি দিয়ে বেঁধে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের স্কয়ার মাস্টারবাড়ি এলাকায় টেনে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে বিবস্ত্র করে একটি গাছে ঝুলিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। রাত আড়াইটার দিকে পুলিশ এসে অর্ধপোড়া লাশ উদ্ধার করে। পুরো ঘটনায় নয় থেকে দশ ঘণ্টা সময় লেগেছে। এই পুরো সময়টায় কোথায় ছিল স্থানীয় প্রশাসন? কোথায় ছিল পুলিশ? ফ্যাক্টরি কর্তৃপক্ষ কেন তিন ঘণ্টা পর পুলিশকে খবর দিয়েছে?

হত্যার পর লাশ পোড়ানোর ঘটনাটিও অত্যন্ত পরিকল্পিত। একটি গাছে ঝুলিয়ে লাশ পোড়ানো কোনো তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নয়। কেউ জানত যে এটি করতে হবে। কেউ জানত কোথায় নিয়ে যেতে হবে। স্কয়ার মাস্টারবাড়ি একটি জনবহুল এলাকা, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে। সেখানে লাশ পোড়ানোর উদ্দেশ্য ছিল পাবলিক মেসেজ পাঠানো। এটি একটি ভীতি প্রদর্শন। এটি দেখানো যে ধর্মের নামে যেকোনো কিছু করা যায়, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী কিছু করতে পারবে না। আর পুরো ঘটনার ভিডিও করা এবং সেটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়ার পেছনেও একই উদ্দেশ্য - ভয় দেখানো, শক্তি প্রদর্শন করা। এই ধরনের পাবলিক এক্সিকিউশন ইতিহাসে মাফিয়া, কার্টেল বা সন্ত্রাসী সংগঠনগুলো করে থাকে। এটি কোনো সাধারণ জনতার কাজ নয়।

ইয়াছিন আরাফাতকে কে নিয়োগ দিয়েছিল? তার মোটিভ কী ছিল? একজন মসজিদের ইমাম এবং মাদ্রাসার শিক্ষক এত নৃশংস হত্যাকাণ্ডে নেতৃত্ব দেবেন কেন? এর কয়েকটা সম্ভাব্য ব্যাখ্যা থাকতে পারে। প্রথমত, তিনি আদর্শগতভাবে র‍্যাডিকাল ছিলেন এবং ধর্মের নামে যেকোনো সহিংসতায় বিশ্বাস করতেন। দ্বিতীয়ত, তাকে আর্থিক বা অন্য কোনো সুবিধা দেওয়া হয়েছিল। তৃতীয়ত, তার নিজের কোনো ব্যক্তিগত এজেন্ডা ছিল - হয়তো এলাকায় প্রভাব বিস্তার করা, ভয় তৈরি করা, নিজের শক্তি প্রদর্শন করা। অথবা এই তিনটার কম্বিনেশন। কিন্তু যেটা স্পষ্ট সেটা হলো, ফ্যাক্টরির ভেতরের কেউ তাকে ব্যবহার করেছে। হয়তো তারা জানত যে ইয়াছিনকে একটু ইনসিটিগেট করলেই তিনি কাজ করবেন। হয়তো তারা তাকে কিছু দিয়েছে। হয়তো তাদের মধ্যে আগে থেকেই কোনো সম্পর্ক ছিল। এই সংযোগটা খুঁজে বের করা অত্যন্ত জরুরি।

হত্যাকাণ্ডের পর ইয়াছিন আরাফাত আত্মগোপনে চলে যান। দীর্ঘ ১২ দিন তিনি পলাতক ছিলেন। কিন্তু তিনি কোথায় ছিলেন? তিনি ছিলেন ঢাকার ডেমরা থানার সারুলিয়া এলাকায় বিভিন্ন মাদ্রাসায়। শুধু তাই নয়, তিনি সেখানে সুফফা মাদ্রাসায় শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। একজন খুনি, যার বিরুদ্ধে চারদিকে খোঁজ চলছে, সেই ব্যক্তি কীভাবে এত সহজে একের পর এক মাদ্রাসায় আশ্রয় পাচ্ছে এবং চাকরি পাচ্ছে? এটি শুধু সম্ভব যদি একটি নেটওয়ার্ক থাকে যারা তাকে সাহায্য করছে। এটি প্রমাণ করে যে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে একটি সংযোগ রয়েছে, যারা এই ধরনের অপরাধীদের আশ্রয় দিতে দ্বিধা করে না। প্রশ্ন হলো, কারা এই মাদ্রাসাগুলো পরিচালনা করে? তাদের ফান্ডিং কোথা থেকে আসে? তাদের সাথে কোনো র‍্যাডিকাল নেটওয়ার্কের যোগাযোগ আছে কি? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর না পেলে আমরা কখনো এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করতে পারব না।

দিপু চন্দ্র দাসের পরিবার ন্যায়বিচার চায়। তার বাবা, মা, স্ত্রী এবং দেড় বছরের শিশু কন্যা - যারা রাতারাতি সবকিছু হারিয়েছে - তারা চায় আসল অপরাধীদের শাস্তি হোক। কিন্তু প্রশ্ন হলো, আমাদের বিচার ব্যবস্থা কি তাদের সেই ন্যায়বিচার দিতে পারবে? শুধু ইয়াছিন আরাফাত এবং তার কয়েকজন সহযোগীকে শাস্তি দিলেই কি যথেষ্ট হবে? নাকি আমাদের খুঁজে বের করতে হবে যে কারা এই হত্যাকাণ্ডের পেছনের মাস্টারমাইন্ড? ফ্যাক্টরির কোন ইনচার্জ বা ম্যানেজার এই ষড়যন্ত্রের মূল পরিকল্পনাকারী? তাদের উদ্দেশ্য কী ছিল? কেন দিপুকে সরাতে চেয়েছিল?

এই প্রশ্নগুলোর উত্তর পাওয়ার জন্য প্রয়োজন গভীর এবং নিরপেক্ষ তদন্ত। প্রয়োজন ফ্যাক্টরির সব রেকর্ড, সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর জিজ্ঞাসাবাদ, মোবাইল ফোনের কল রেকর্ড বিশ্লেষণ, ব্যাংক ট্রানজেকশন চেক করা, ইয়াছিনের সাথে কাদের যোগাযোগ ছিল তা খুঁজে বের করা। শুধু ভূপৃষ্ঠের অপরাধীদের গ্রেপ্তার করলে হবে না, যারা মূল শেকড়, তাদেরও চিহ্নিত করতে হবে।

দিপু চন্দ্র দাস হত্যাকাণ্ড একটি জটিল মামলা। এটি একটি সাধারণ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা নয়, এটি একটি টার্গেটেড কিলিং যা ধর্মের আবরণে ঢাকা দেওয়া হয়েছে। এটি একটি সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড যেখানে ব্যবহার করা হয়েছে স্থানীয় ক্ষমতা কাঠামো, ধর্মীয় নেতা এবং সাধারণ মানুষের ধর্মীয় অনুভূতি। এই ঘটনার সঠিক তদন্ত এবং সব অপরাধীর শাস্তি নিশ্চিত না হলে এ ধরনের ঘটনা আবার ঘটবে। আর প্রতিবার একজন নিরীহ মানুষ, একটি পরিবার চিরতরে ধ্বংস হয়ে যাবে। দিপু চন্দ্র দাসের শেষ কথা ছিল তার পরিবারের জন্য উদ্বেগ। তার স্ত্রী এবং দেড় বছরের মেয়ে এখন একা। তাদের জীবন থেমে গেছে সেই ভয়াবহ রাতে। আর এই ট্র্যাজেডির জন্য দায়ী শুধু যারা সরাসরি হত্যায় জড়িত ছিল তারা নয়, দায়ী আমাদের পুরো সমাজ ব্যবস্থা, যা এই ধরনের অন্যায়কে বারবার ঘটতে দিচ্ছে।

ভিডিও দেখুন : Click This Link

মন্তব্য ৪৩ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (৪৩) মন্তব্য লিখুন

১| ০৯ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:০২

ইফতেখার ভূইয়া বলেছেন: অপরাধী যেই হোক, আইনানুগ শক্ত বিচার হওয়া জরুরী। আইনের সুশাসন না থাকায় দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টি করছে অনেকেই, এগুলো শক্ত হাতে দমন করা হলে অপরাধ নিয়ন্ত্রন করা কঠিন হয়ে যাবে। ধন্যবাদ।

০৯ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১০:২৯

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: প্রকৃত অপরাধীর শাস্তি হওয়া উচিত।

২| ০৯ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১:২০

মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন বলেছেন:
বিধর্মীদের হত্যা করা জায়েজ

০৯ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১০:৩০

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: গণতান্ত্রিক দেশে উহা মৃত্যুদন্ডের সমতূল্য ক্রিমিনাল অফেন্স।

৩| ০৯ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১:৫০

আব্দুল হাদী আল নাফী খান বলেছেন: আপনার প্রশ্নের সরল উত্তর হচ্ছে, যারা আপনার মত এত ভালো বুঝে তাদের অনেকেই ইমামতিতে যায়না। মানুষের জ্ঞান অর্জন আর তার অনুশীলন - দুইটা দুই জিনিস। এতা হলে শিক্ষিত মানুষ দুর্নীতি করতো না। গ্রামের মসজিদের ইমাম- পড়াশোনাই কতটুকু করে- আর ফিলোসফিক্যালি কতই বা এনরিচড! অনেকেই গ্রামে থেকেও হতে পারে- ব্যক্তি চেষ্টায়, সেটা আলাদা ব্যাপার।
আর পাঁচ দশটা ডিসিপ্লিনের মত সেও ইসলামী পড়াকে হয়তো পরীক্ষা পাশ কিংবা উপার্জনের জন্যে পড়েছে- মর্মে স্থান দেয়নি।
কিন্তু যাই হোক- মিডিয়ার উপস্থাপিত বা পুলিশের দেয়া তথ্যে আর বিশ্বাস করি না- উনি অপরাধী নাকি তা নিয়ে আমি নিউট্রাল- হতেও পারে - নাও পারে।

০৯ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১০:৩০

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: সংশয় থাকা অতি উত্তম জনাব।

৪| ০৯ ই জানুয়ারি, ২০২৬ ভোর ৬:২৭

অগ্নিবাবা বলেছেন: আমি ১৫ বছর কোরান হাদিস এবং ক্লাসিক্যাল তফসির পড়ে এই সিদ্ধান্তে এসেছি যে, এই ইমাম ইসলামী মতে সঠিক কাজই করেছে, শাতিমে রাসুলের একমাত্র শাস্তি ম্ৃত্যদন্ড, সেটা কার্যকর করার দায়ীত্ব মুমিন মুসলমানের। এই ব্লগে কার বুকের পাটা আছে কোরান হাদিসকে চ্যালেঞ্জ করবে? রোগ বুঝতে হলে রোগের কারন খুজতে হয়, রোগীর লক্ষন বুঝে ওষুধ দিলে রোগ নির্মুল করা যায় না। ইদানিং কুতুব ভাই প্যানপ্যানানি পোস্ট দিচ্ছে, পোস্টে ধার নাই। তবে কুতুবভাই একজন সমজদার আদমি, তিনি সুযোগ বুজঝে পল্টি নেবেন। ধন্যবাদ।

০৯ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১০:৩২

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: আপনার ধারণা ভুল।

৫| ০৯ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৮:২০

নতুন নকিব বলেছেন:



ইমাম আর মুয়াজ্জিন বলে কথা নয়, অপরাধী যে-ই হোক, কঠোর বিচার চাই।

মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন বলেছেন: বিধর্মীদের হত্যা করা জায়েজ

-মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন কোথায় পেলেন অত্যন্ত নিন্দনীয় এই কথাটি? তিনি এইভাবেই ইসলাম ধর্মের বিভিন্ন বিষয়ে অত্যন্ত আপত্তিকর, বানোয়াট, মনগড়া, জঘন্য মন্তব্যগুলো ধারাবাহিকভাবে করে আসছেন। তাকে অনুরোধ করবো, তিনি নিজের কথার সপক্ষে প্রমান উপস্থাপন করুন।

০৯ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১০:৩৪

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: আসলেই মনগড়া কথা বলেন তিনি। খালেদা জিয়া মারা যাওয়ার আগে তিনি দাবী করেছিলেন এক মাস আগে নাকি তিনি মারা গেছেন।

৬| ০৯ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৮:৩৫

অগ্নিবাবা বলেছেন: নকিব ভাই, সাজ্জাদ ভাইরে দোষ দিয়ে লাভ কি? হাদিস বি ডি তেই তো লেখা আছে, আপনার রাগ তো হাদিস বিডি কেই দেখানো উচিত।
https://www.hadithbd.com/hadith/link/?id=41215

পরিচ্ছেদঃ ১. যতক্ষণ পর্যন্ত মানুষ “লা-ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ’ না বলবে ততক্ষণ পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে কিতাল করতে আমি আদেশপ্রাপ্ত হয়েছি

২৬০৭। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর মৃত্যুর পর আবূ বকর (রাযিঃ) যখন খলীফা নির্বাচিত হন, তখন আরবের কিছু সংখ্যক লোক কাফির হয়ে যায়। উমার ইবনুল খাত্তাব (রাযিঃ) আবূ বকর (রাযিঃ)-কে বললেন, আপনি এদের বিরুদ্ধে কিভাবে অস্ত্ৰধারণ করবেন, অথচ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মানুষ যে পর্যন্ত না "আল্লাহ তা’আলা ব্যতীত আর কোন প্ৰভু নেই" এই কথার স্বীকৃতি দিবে সেই পর্যন্ত আমি তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে আদিষ্ট হয়েছি। আর যে ব্যক্তি বললো, “আল্লাহ ব্যতীত আর কোন প্ৰভু নেই" সে আমার থেকে তার মাল ও রক্ত (জীবন) নিরাপদ করে নিল। তবে ইসলামের অধিকার সম্পর্কে ভিন্ন কথা। আর তাদের প্রকৃত হিসাব-নিকাশ রয়েছে আল্লাহ তা’আলার দায়িত্বে।

আবূ বকর (রাযিঃ) বললেনঃ আল্লাহর শপথ নামায ও যাকাতের মধ্যে যে ব্যক্তি পার্থক্য করে আমি তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবোই। কেননা যাকাত সম্পদের হাক্ক। কেউ উটের একটি রশি দিতেও যদি অস্বীকার করে, যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে দিত, আল্লাহর কসম! আমি তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবোই। তারপর উমার ইবনুল খাত্তাব (রাযিঃ) বলেন, আল্লাহর শপথ! আমি দেখতে পেলাম আল্লাহ যেন যুদ্ধের জন্য আবূ বকরের অন্তর উন্মুক্ত করে দিয়েছেন। অতঃপর আমি বুঝতে পারলাম যে, তার সিদ্ধান্তই যথার্থ।

সহীহঃ সহীহাহ (৪০৭), সহীহ আবূ দাউদ (১৩৯১-১৩৯৩), বুখারী ও মুসলিম।

আবূ ঈসা বলেন, এই হাদীসটি হাসান সহীহ। শু’আইব ইবনু আবী হামযা (রহঃ) যুহরী হতে, তিনি উবাইদুল্লাহ ইবনু আবদিল্লাহ হতে, তিনি আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ)-এর সূত্রে একই রকম বর্ণনা করেছেন। এই হাদীস মামার-যুহরী হতে, তিনি আনাস (রাযিঃ) হতে, তিনি আবূ বকর (রাযিঃ) হতে এই সূত্রে ইমরান আল-কাত্তান বর্ণনা করেছেন। এ বর্ণনাটি ভুল। ’ইমরানের ব্যাপারে মা’মার হতে বর্ণিত বর্ণনাতে বিরোধিতা করা হয়েছে।

০৯ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১০:৩৫

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: দিপু দাসের ক্ষেত্রে ঘটনা ভিন্ন।

৭| ০৯ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৯:০৯

নতুন নকিব বলেছেন:



অগ্নিবাবা বলেছেন: আমি ১৫ বছর কোরান হাদিস এবং ক্লাসিক্যাল তফসির পড়ে এই সিদ্ধান্তে এসেছি যে, এই ইমাম ইসলামী মতে সঠিক কাজই করেছে, শাতিমে রাসুলের একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদন্ড, সেটা কার্যকর করার দায়ীত্ব মুমিন মুসলমানের।

-@প্রিয় অগ্নিবাবা,

এই একই জিনিষ নিয়ে আর কত! ইহা নিয়ে তো গত কয়েক দিন পূর্বেই আপনার সাথে আমার একটি পোস্টে মোটামুটি আলোচনা হয়েই গেল। আমি তো ধরেও নিয়েছিলাম, আপনি প্রশ্নের উত্তরটা তখন পেয়ে গেছেন। যা হোক, এই পোস্টে এসে জানতে পারলাম যে, আপনার প্রশ্নের উত্তরটা এখনও পাননি। আপনার জন্য একই প্রশ্নের উত্তর আবারও দিচ্ছি-

হাদিসে সরাসরি এমন কোনো নির্দেশনা নেই যে, শাতিমে রাসুল (রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে অপমান করা) এর শাস্তি যে কেউ ব্যক্তিগতভাবে বা দলগতভাবে দিতে পারবে। বরং ইসলামী ফিকহের অধিকাংশ আলেমের মতে, এটি একটি হদ বা রাষ্ট্রীয় শাস্তি, যা শুধুমাত্র ইসলামী কর্তৃপক্ষ (সুলতান, ইমাম বা কাজি) প্রয়োগ করতে পারে। ফিতনার আশঙ্কায় ব্যক্তিগতভাবে বা দলগতভাবে হত্যা করা সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ।

কুরআনুল কারিমে রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে অপমানের জন্য কোনো দুনিয়াবী শাস্তি নির্ধারিত নেই। বরং কুরআন বলে যে এটি আখিরাতের বিষয়, আল্লাহ নিজে শাস্তি দেবেন (যেমন সূরা আল-আহযাব ৩৩:৫৭)। নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে অপমানের অনেক উদাহরণ কুরআনে আছে (মুনাফিকরা, কাফিররা), কিন্তু কখনো মৃত্যুদণ্ডের নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। বরং ধৈর্য ধারণ করতে বলা হয়েছে (সূরা আল-মুযযাম্মিল ৭৩:১০)।

তবে আপনার জ্ঞাতার্থে জানিয়ে রাখতে চাচ্ছি, ইসলাম-বিদ্বেষীরা যে হাদিসগুলো উল্লেখ করে দাবি করে থাকে যে, শাতিমে রাসূলের জন্য ব্যক্তিগত শাস্তি জায়েজ, মূলতঃ সেগুলোর প্রসঙ্গ ভিন্ন। যেমন-

১। অন্ধ সাহাবীর হাদিস (সুনান আবু দাউদ ৪৩৬১, সহিহ):

এক অন্ধ সাহাবী তার উম্মে ওয়ালাদ (দাসী যে তার সন্তানের মা) কে হত্যা করেন কারণ সে বারবার রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে গালি দিত। এই ঘটনায় নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “তার রক্তের কোনো দাম নেই” (অর্থাৎ কোনো কিসাস বা দিয়ত নেই)।

ব্যাখ্যা: এটি নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর যুগের বিশেষ একটি ঘটনা। এই ঘটনা সম্মন্ধে ইবনে তাইমিয়া রহিমাহুল্লাহ সহ ইসলামী স্কলারদের মতামত হচ্ছে, এটি সাধারণ নিয়মের বাইরে বিশেষ একটি ঘটনা। হদ শাস্তি একমাত্র রাষ্ট্রেরই দায়িত্ব। কিছু আলেম বলেন, যদি রাষ্ট্র না থাকে তাহলে মুসলিমরা যথাসাধ্য করতে পারে, কিন্তু এটি সংখ্যালঘু মত এবং ফিতনার আশঙ্কায় এটিও নিষিদ্ধ। অধিকাংশ ইসলামী স্কলার বলেন, ব্যক্তিগত/ দলগতভাবে হত্যা গুনাহ এবং এই মতের উপরেই সর্বসম্মত ও সর্বজনগ্রহণযোগ্য ফতোয়া।

২। কা'ব বিন আশরাফের হত্যা (সহিহ বুখারি ৪০৩৭):

কা'ব কবিতা লিখে রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে অপমান করতো এবং কুরাইশদেরকে যুদ্ধে উসকে দিত। কা'ব বিন আশরাফের অপরাধ ছিল অনেকগুলো। তিনি শুধু শাতিমে রাসূল -এর শাস্তিপ্রাপ্ত হননি। তাকে শাস্তি দেওয়ার পেছনে ছিল চুক্তি ভঙ্গ, রাষ্ট্রদ্রোহিতা এবং যুদ্ধের উসকানি প্রদানের মত বিবিধ অপরাধ।

ব্যাখ্যা: এটি শুধু শাতিমে রাসূলের ঘটনা ছিল না, বরং চুক্তিভঙ্গ, রাষ্ট্রদ্রোহিতা এবং যুদ্ধের উসকানিও এর সাথে যুক্ত ছিল। নবী সা. রাষ্ট্রপ্রধান অর্থাৎ, রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নির্বাহী হিসেবে নির্দেশ দেন, ব্যক্তিগত প্রতিশোধের জন্য নয়।

এই হাদিসগুলো থেকে সকল মাযহাবের আলেমগণ যথা, হানাফি, মালিকি, শাফেয়ী, হাম্বলি শাতিমে রাসূলের শাস্তি মৃত্যু বলে ফতোয়া দেন, কিন্তু রাষ্ট্র ছাড়া তার প্রয়োগ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। অর্থাৎ, প্রয়োগটা শুধুমাত্র রাষ্ট্রই করতে পারবে।

মূলকথা, ইসলাম-বিদ্বেষীরা কিছু হাদিসের মূল শিক্ষাকে বিকৃত করে, ইসলামী শরিয়তের অনুসরনীয় সর্বসম্মত ও সর্বজনগ্রহণযোগ্য মূলনীতি ফতোয়াকে পাশ কাটিয়ে দাবি করে যে ইসলামে যে কেউ হত্যা করতে পারে, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এটি সম্পূর্ণ ভুল। সঠিক বিধান হচ্ছে, শাতিমে রাসূলের শাস্তি শুধুমাত্র রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষই প্রয়োগ করতে পারবে। ব্যক্তিগতভাবে বা দলগতভাবে এই শাস্তি প্রয়োগ করার কোন সুযোগ নেই। ইহা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ, গুনাহ এবং ফিতনার কারণ। নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজেও অনেক অপমান সহ্য করেছেন এবং ক্ষমা করেছেন।

দুঃখিত! আমি এই বিষয়ে বারংবার মন্তব্য চালাচালি করার মত যথেষ্ট সময় হয়তো দিতে পারবো না। এই কারণে প্রিয় অগ্নিবাবার কাছে আমার অপারগতার জন্য আগেই ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।

ভালো থাকুন প্রিয় অগ্নিবাবা। শুভকামনা আপনার জন্য।

০৯ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১০:৩৭

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: অগ্নিবাবা নিজে পোস্ট না দিলেও কমেন্টস করে পোস্ট থেকে বড়ো।

৮| ০৯ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৯:৩৯

অগ্নিবাবা বলেছেন:

নকিব ভাই, যেহেতু আপনার হাতে সময় নেই তাই আর কথা বাড়ালাম না। তবে আপনার যুদ্ধ আমার সাথে না, আপনার যুদ্ধ হওয়া উচিত নিজের সাথেই। আপনিও ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন। ধন্যবাদ।

০৯ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১০:৩৯

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: দিপু দাসের ক্ষেত্রে কোনোটাই ঘটেনি।

৯| ০৯ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১০:৫৮

রাজীব নুর বলেছেন: বিজ্ঞান বাদ দিয়ে ধর্মীয় জ্ঞান মাথায় ভর করলে এরকম অবস্থাই হয় না।

০৯ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:০৯

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: বিজ্ঞান গবেষণা করে যারা তারাও মারছে।

১০| ০৯ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৩১

নতুন বলেছেন: এটা আমাদের দেশের ধর্মঅন্ধতার সাইড ইফেক্ট।

আপনি দিপু দাসের হত্যার খবরের পোস্টগুলিতে অনেকেই দেখবেন আলহামদুলিল্লাহ বলেছেন, লাভ এবং লাইক রিয়েক্ট দিয়েছেন।

অনেক ওয়াজবাজেরাও বির্ধমীদের প্রতি বিদ্বেষ ছড়ায় এবং রাসুল সা: এবং কোরান অবমাননাকারীরর মৃত্যুদন্ড নিয়ে মত প্রকাশ করে।

০৯ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৩৩

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: হ্যাপী নিউ ইয়ার। আপনার জ্ঞাতার্থে জানিয়ে রাখি যারা কমেন্টে আলহামদুলিল্লাহ বলছে এরা আল বটর বাহিনী !

১১| ০৯ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৪২

নতুন বলেছেন: লেখক বলেছেন: হ্যাপী নিউ ইয়ার। আপনার জ্ঞাতার্থে জানিয়ে রাখি যারা কমেন্টে আলহামদুলিল্লাহ বলছে এরা আল বটর বাহিনী !


দেশের ইমেজ নস্ট করতে এমন কাজে উতসাহ দিচ্ছে কিছু গোস্ঠি। :(

আর কিছু মুর্খ এমন কাজ করছে ইমানী দায়ীত্ব ভেবে!!!

০৯ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: এরা বাংলাদেশ কে অন্ধকার যুগে দেখতে চায়। খুব শীগ্রই এদের পতন ঘটবে।

১২| ০৯ ই জানুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ২:১০

সত্যপথিক শাইয়্যান বলেছেন:




ভুল ভাবে ইসলাম অনসরণকারীরাই দিপুকে হত্যা করেছে।

০৯ ই জানুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: ইহা ভাবনার বিষয় ।

১৩| ০৯ ই জানুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৫:৫৪

মাথা পাগলা বলেছেন: ইবলিশের ম্যাজিক চলছে।

০৯ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:০০

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: শেখ হাসিনার মাদরাসা কানেকশন ও হতে পারে।,

১৪| ০৯ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১২

মাথা পাগলা বলেছেন: ১৬ বছরে হাসিনার উচিত ছিলো এসব আগাছা দূর করা, যা না করে উল্টাটা করেছেন। কওমী জননী ছাড়া এই মুহুর্তে এদের কেউ কণ্ট্রোল করতে পারবে না। দেশ পরিচালনায় ইউনুসের কোন জ্ঞান নাই, তিনি ভেবেছিলেন রহিমা-করিমা বেগমদের নিয়ে যেমন গ্রামীন ব্যাংক পরিচলানা করবেন সেই অভিজ্ঞতা দিয়েই সব হবে। তবে তিনি নিজের এবং নিজের পরিবারের জন্য আখের গুছিয়ে নিয়েছেন। দুই মাস পর চলে যাবেন। ঠিক যেমন হাসিনা আর তার পরিবাররা বিদেশে বসে মজা নিচ্ছে।

দেখেন আবার তারেক সাহেব দলের পদ বিক্রি করেই ৩~৪ হাজার কোটি টাকা ইনকাম করে আবার বিদেশ চলে যায় কি না। =p~

০৯ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: সবাই ইনকামে বিজি ছিলো। শেখ হাসিনার পিয়ন ৪০০ কোটি কামাইসে , উনার পরিবার হাজার কোটি কামিয়েছে।

১৫| ০৯ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ৯:০৬

আদিত্য ০১ বলেছেন: এই যে শুনেন, আপনাক আগেই সতর্ক করেছি? তৌহিদী জনতা, বৈষম্যবিরোধি, জামাত, এনছিপিকে নিয়ে কোন নেগেটিভ কথা বলবেন না। তারা যা করবে তাই সঠিক-তাই আইন। আইন তাদের কথায় চলবে। বিক্রমপুরি সাহেব ডিসি মাসুদের ব্যাপারের তদন্ত করে সব পজিটিভ পাওয়াতে সে এখন আছে। আর এভাবেই সবার তদন্ত হইয়েছে হচ্ছে। এখন সামুর ব্লগারদের নিয়েও তদন্ত হবে। ৫ আগস্টের পর তৌহিদী জনতা, বৈষম্যবিরোধি, জামাত, এনছিপি যা করবে যা বলবে তাই আইন তাই সঠিক। তারা দেশকে স্বাধিন করেছে। ৫ আগস্টে পুলিশ পুড়িয়ে মেরেছে তারা করেছে তাই সঠিক। তারা জেহাদ করেছে। এই যে দিপুকে পুড়াইছে এইটাও তাদের আইন করেছে। তারা যা বলবে যা করবে তাই সঠিক তাই আইন। দায়মুক্তি নিয়ে অধ্যাদেশ হবে আরেকটা। আপনাকে এর আগেই সতর্ক করা হচ্ছে। এই পোস্ট এডিট করে তৌহিদী জনতা, বৈষম্যবিরোধি, জামাত, এনছিপির পক্ষে লিখবেন যে দিপুকে পুড়িয়ে মারা জায়েজ কারন তৌহিদী জনতা, বৈষম্যবিরোধি, জামাত, এনছিপি করেছে।

০৯ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ৯:২৮

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: তদন্ত হলে হোক। আমি যা বুঝি তাই লিখছি ।

১৬| ০৯ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ৯:১০

আদিত্য ০১ বলেছেন: এইবার শেষ বারের মত সতর্ক করা হচ্ছে আপনাকে আপনি আর এমন কিছু লিখবেন না যা তৌহিদী জনতা, বৈষম্যবিরোধি, জামাত, এনছিপি বিরুদ্ধে যায়। এত বড় দৃষ্টতা দেখাবেন আর তাজুল আঙ্গুল চোষে লেবেন চোষ খাবে। আপনার ব্লগিং তো বন্ধ হবেই, আপনি আর চৌদ্দ শিকের বাইরে আলো বাতাস দেখতে পারবে না।
আপনাকে ওয়ার্নিং করা হচ্ছে এমন কিছু লিখবেন না যা তৌহিদী জনতা, বৈষম্যবিরোধি, জামাত, এনছিপি বিরুদ্ধে যায়।

তৌহিদী জনতা, বৈষম্যবিরোধি, জামাত, এনছিপি যা বলবে যা করবে তাই আইন। এইটা শেষ কথা। এর বাইরে কিছু নাই। তারা যা বলবে ঐটাই ইসলাম

০৯ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ৯:২৮

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: হা হা । মাল খেয়ে টাল হয়ে গেছেন ।

১৭| ০৯ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:২৬

সূচরিতা সেন বলেছেন: হত্যা কোনও সমাধান নয়। বিচার করবে আদালত।

০৯ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:৩০

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: আপনার সাথে সহমত ।

১৮| ১০ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:০৭

আদিত্য ০১ বলেছেন: লেখক বলেছেন: হা হা । মাল খেয়ে টাল হয়ে গেছেন ।

তাজুলকে কি বলে দিবো, ইতোমধ্যে কিন্তু বলেছে যে কেউ এমন কিছু লিখবেন না যা তৌহিদী জনতা, বৈষম্যবিরোধি, জামাত, এনছিপি বিরুদ্ধে যায়। এত বড় দৃষ্টতা দেখাবেন না। আনিস আলমগিরের কিন্তু জামিন হয় নাই। ট্রাম্পও রেহাই পাবে না। এখনও ভয় পান না

১০ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:২২

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: না। কারণ আমার মামী জামাতের রুকন :)

১৯| ১০ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:১১

আদিত্য ০১ বলেছেন: লেখক বলেছেন: তদন্ত হলে হোক। আমি যা বুঝি তাই লিখছি ।

কি ভয় পাচ্ছেন! হে হেহ হেহ। হাসিনার যুগ শেষ। যা চাইবেন তাই লিখবেন। এই ইউনুসের যুগে হবে না। এখন প্রথম আলো ডেইলি স্টার আমাদের পকেটে। অধ্যাদেশ হইছে। আরেকটা হবে। আমাদের তাজুলের ইশারায় বিচারক খায় ঘুমায় উট বস করে। আমরা আইন বানাই।

১০ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:২৩

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: এরকম আইন শেখ হাসিনা ও বানিয়েছিলেন ! জনগণ জাগলে কারো রেহাই নাই।

২০| ১০ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:৩২

আদিত্য ০১ বলেছেন: লেখক বলেছেন: এরকম আইন শেখ হাসিনা ও বানিয়েছিলেন ! জনগণ জাগলে কারো রেহাই নাই।

এই বোকা জনগনরে যেভাবে গাধা বানাইছি হাসিনার বিরুদ্ধে উস্কায়ে দিয়ে। তাতে এই গাধার পাল জাগবে না। ওদের চামড়া বেচে দিলেও কিছু বলবে না। বলবে ইউনুসকে মমি বানায়ে রাখতে চাই। জামাতে বট বাহিনী আছেই। আর তাজুল আছে। আমরা সবযায়গায় লোক বসাইছি। আমাদের শেষ অস্ত্র ইসলাম ধর্ম, ঐটা দিয়ে ঘায়েল করবো। আমরা ঠিক এভাবে ১৯৭১ এ রাজাকার আলবদর আলশামস বানাইছি। এখন ২০২৪ এ বানাইছি ছাত্র জনতা, তৌহিদী জনতা, বৈষম্যবিরোধি, এনছিপি। আমাদের সাথে কেউ পাবে না। পারতো আওয়ামীলীগ, কিন্তু ওইটাকে খুব ইব্লিশি কৌশলে নিজেরা ছাত্রদের গুলি করে মেরে দোষ চাপাইছি আওয়ামীলীগের ওপর। কেইস দিয়া রাখছি। এখন যেই কিছু বলবে খুনে কেইস দিবো। ফ্যাসিবাদি আর খুনি এই স্লোগানে একবারে শেষ কইরা দিবো। আমাদের কিচ্ছু করতে পারবেন না

১০ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১:০০

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: দেখেন যা ভালো মনে করেন ।

২১| ১০ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:৩৭

আদিত্য ০১ বলেছেন: শুনেন হাসিনার যুগে অনেক আরামে কি বোর্ড চেপে অনেক কিছু কইছেন। আর ট্রল করছেন। এখন কিচ্ছু করা যাবে না। হাসিনা কিছু করে নাই। এইটা হাসিনার যুগ না। এইটা ইউনুসের যুগ, এই যুগে সবকিছু করতে হবে আমাদের পক্ষে। এরপর তারেক আসলেও তাই। আমরা সবাই মুখে এক অন্যে বিরুদ্ধে কথা বললেও- ওটা আসলে নাটক; আমরা সবাই ভিত্রে ভিত্রে এক। বোকা জনগন বুঝে কি! জনগন গাধা-ওদের চামড়া বেইচা খাবো এইবার। কিছু বললেই ফ্যাসিবাদ আর খুনির কেইজ মাইরা জেইলে দিবো।

১০ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১:০১

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: শেখ হাসিনার সময়ে আমি সামুর কথা ভুলে গিয়েছিলাম।

২২| ১০ ই জানুয়ারি, ২০২৬ ভোর ৪:১৭

ক্লোন রাফা বলেছেন: কারন উনি ইমাম নন বলেই/ নিজে যা সেটা করে দেখিয়েছেন। অর্থাৎ উনি একজন খুনি। কাজেই সেই কাজ করে দেখিয়েছেন।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.