নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

মানুষ মরে গেলে পঁচে যায় আর বেঁচে থাকলে বদলায়

সৈয়দ কুতুব

নিজের অজ্ঞতা নিজের কাছে যতই ধরা পড়ছে প্রচলিত বিশ্বাসের প্রতি ততই অবিশ্বাস জন্মাছে!

সৈয়দ কুতুব › বিস্তারিত পোস্টঃ

আফগানিস্তানে একজন বেগম রোকেয়া কোনোদিন জন্মাবে ?

০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ২:২৮


২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের পর বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদের চিহ্ন মুছে ফেলার এক অভিনব অভিযান শুরু হয়েছিল। শেখ হাসিনার ছবি, আওয়ামী লীগের কুশপুত্তলিকা, শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য, কিছুই বাদ যায়নি। বড় বড় মূর্তি ভেঙে ফেলা হলো, কোথাও মূর্তির মাথায় প্রস্রাবও করা হলো। তখন চারদিকে একটা কথাই শোনা যাচ্ছিল, ফ্যাসিস্টদের সব চিহ্ন মুছে ফেলতে হবে। এসব ঘটনায় অনেকের আপত্তি থাকলেও খুব বেশি মানুষকে মুখ খুলতে দেখা যায়নি। কিন্তু সেই অভিযানের পরিধি যে একসময় বেগম রোকেয়া পর্যন্ত পৌঁছাবে, সেটা বোধহয় অনেকেই ভাবেননি।

বাংলাদেশের নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়ার ছবিতে ‘মাগি’ লিখে দেওয়া হলো। বেগম রোকেয়া কি ফ্যাসিস্ট ছিলেন? তিনি কি আওয়ামী লীগের রাজনীতি করতেন? তিনি কার পাকা ধানে মই দিয়েছিলেন ? মেয়েদের পড়াশোনার সুযোগ তৈরি করেছিলেন, নারীদের ঘরের বাইরে আসতে বলেছিলেন, নিজের পায়ে দাঁড়ানোর কথা বলেছিলেন। তাহলে তাঁর ছবিতে কালি মাখানোর কারণ কী?

জেন-জি অবশ্য নারী জাগরণের অগ্রদূত বলতে শেখ হাসিনাকে মনে করে। কিন্তু যারা বেগম রোকেয়ার ছবিতে অশ্লীল শব্দ লিখল, তাদের কাছে রোকেয়ার অপরাধটা কী ? আসলে জুলাইয়ে অংশ নেয়া তৌহিদী জনতার কাছে বেগম রোকেয়া অনেক আগে থেকেই অপছন্দের মানুষ। তাদের বক্তব্য, এই ধরনের মহিলার কারণেই বাংলাদেশের মেয়েরা স্কুল-কলেজে গিয়ে নষ্টামি করছে। তারা ধর্ষণ করে প্রতিদিন ধরা খাচ্ছে, সেটা নিয়ে কোনো কথা বলা যাবে না । নারীর চরিত্র নিয়ে তাদের চিন্তার শেষ নেই, কিন্তু পুরুষের অপরাধ নিয়ে সেই একই উদ্বেগ দেখা যায় না।

তৌহিদী জনতার ব্যথাটা আমরা বুঝতে পারি। মেয়েরা যখন ধীরে ধীরে কলকারখানায়, বিশেষ করে গার্মেন্টসে কাজ নিতে শুরু করল, তখন তাদের হাতে টাকা আসতে শুরু করল। তারা আর আগের মতো পুরোপুরি অন্যের ওপর নির্ভরশীল থাকল না। নিজেরা কষ্ট করে টাকা জমায়, প্রতি মাসে কাপড় কেনে, দল বেঁধে ফুচকা খায়, জাটকা ইলিশ দিয়ে রান্না করা খাবার খায়। বাড়িতে টাকা পাঠায়, প্রেম করে, নিজেদের পছন্দমতো জীবনযাপন করে। কিন্তু তৌহিদী জনতার মাসনা, সুলাসা ও রুবায়া হতে তারা রাজি নয় ।

যখন ছোট ছিলাম, বস্তি এলাকায় থাকতাম। আমাদের ভাড়াটিয়া ছিল স্থানীয় এক মসজিদের খাদেমের মেয়ে। মেয়েটি ও তার স্বামী বাজারে সবজি বিক্রি করত। সেই মেয়ে প্রায়ই বলত, গার্মেন্টসের মেয়েরা মালিকের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করে। গার্মেন্টসে চাকরি করলে আর চরিত্র থাকে না। আসলে দরিদ্র মানুষের চরিত্র নিয়ে ভেবে তেমন লাভ নেই । পুরুষের ক্ষেত্রে আবার একই নিয়ম চলে না।

বেগম রোকেয়ার প্রতি তৌহিদী জনতার ক্ষোভ দেখে ২০২৪ সালের পর অবাক হয়েছিলাম। কিন্তু গত ২৯ অক্টোবর ইসলামিক স্কলার জাকির নায়েকের বক্তব্য শুনে আরও বেশি অবাক হলাম। আফগানিস্তানে মেয়েদের শিক্ষার বিষয়ে তিনি যা বলেছেন, তাতে মনে হলো, মানুষকে বাস্তব পরিস্থিতি বোঝানোর বদলে পরিস্থিতিটাই অন্যভাবে ঘুরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

জাকির নায়েক বলেছেন, সংবাদমাধ্যমে আফগানিস্তানের পরিস্থিতি নিয়ে যা প্রচার করা হচ্ছে, তার সব সত্য নয়। তিনি দাবি করেছেন, তালেবানের প্রতিনিধির সঙ্গে কথা বলে জেনেছেন, আফগানিস্তানে মেয়েদের ষষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনার সুযোগ আছে। ষষ্ঠ শ্রেণির পরের শিক্ষা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে, কারণ নারীদের জন্য পরিবেশ নিরাপদ নয় এবং পর্যাপ্ত নারী শিক্ষক নেই।

তাঁর যুক্তি, উপযুক্ত শিক্ষক ও নিরাপত্তার ব্যবস্থা না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষা পিছিয়ে দিলে সমস্যা কোথায়? তিনি আরও বলেছেন, মেয়েরা ইসলামিক স্টাডিজ, শরিয়াহ ও আরবি বিষয়ে উচ্চশিক্ষা, এমনকি মাস্টার্স ও পিএইচডিও করতে পারছে। তাই আফগান নারীরা উচ্চশিক্ষা থেকে বঞ্চিত, এমন দাবি নাকি ভুল তথ্য।

তালেবান ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে মেয়েদের ষষ্ঠ শ্রেণির পর স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দেয়। ২০২২ সালের ডিসেম্বরে নারীদের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে নারীদের চিকিৎসা, নার্সিং ও ধাত্রীবিদ্যা-সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ নেওয়ার সুযোগও বন্ধ করে দেওয়া হয়। অর্থাৎ শুধু সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় নয়, নারী চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মী তৈরির পথও সংকুচিত করা হয়েছে। ইউনিসেফের ২০২৬ সালের আগস্টের হিসাব অনুযায়ী, ২৬ লাখের বেশি আফগান মেয়ে মাধ্যমিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। আফগানিস্তানই এখন বিশ্বের একমাত্র দেশ, যেখানে মেয়েদের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা কার্যত বন্ধ। (

এখন জাকির নায়েকের যুক্তিটা একটু যাচাই করা দরকার। তিনি বলছেন, নিরাপত্তা নেই, তাই মেয়েদের পড়াশোনা বন্ধ। নারী শিক্ষক নেই, তাই মেয়েদের পড়াশোনা বন্ধ। কিন্তু নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব কার ? রাষ্ট্রের। নারী শিক্ষক তৈরি করার দায়িত্ব কার? শিক্ষা ব্যবস্থার। রাষ্ট্র যদি নিরাপত্তা দিতে না পারে, তার ব্যর্থতার শাস্তি মেয়েরা পাবে কেন? নারী শিক্ষক না থাকলে নতুন নারী শিক্ষক তৈরির জন্য মেয়েদের পড়াশোনার সুযোগ বাড়াতে হবে, নাকি স্কুল-কলেজের দরজা বন্ধ করে দিতে হবে ? যে মেয়েটি আজ দশম শ্রেণিতে পড়ার কথা, তাকে স্কুলে যেতে না দিয়ে দশ বছর পর নারী শিক্ষকের অভাবের সমাধান হবে কীভাবে?

এখানে আরও একটি বিষয় আছে। তালেবান নারীদের কাজ করার ওপরও নানা বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। নারী শিক্ষকদের কর্মক্ষেত্র সংকুচিত হয়েছে, নারী পেশাজীবীদের কাজের সুযোগ কমেছে। ইউনিসেফের হিসাব অনুযায়ী, ২০২২ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে আফগানিস্তানে প্রাথমিক শিক্ষায় নারী শিক্ষকের সংখ্যা প্রায় ৯ শতাংশ কমেছে। ২০৩০ সালের মধ্যে দেশটি ২০ হাজার নারী শিক্ষক এবং ৫ হাজার ৪০০ নারী স্বাস্থ্যকর্মী হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে।

অর্থাৎ একদিকে নারীদের শিক্ষা ও কাজের সুযোগ সংকুচিত করা হচ্ছে, অন্যদিকে নারী শিক্ষক ও স্বাস্থ্যকর্মীর অভাবকে মেয়েদের শিক্ষা বন্ধ রাখার কারণ হিসেবে দেখানো হচ্ছে। এ যেন নিজেরাই সমস্যা তৈরি করে পরে সেই সমস্যাকে নিষেধাজ্ঞার পক্ষে যুক্তি হিসেবে ব্যবহার করা। জাকির নায়েকের আরেকটি বক্তব্য হলো, আফগান নারীরা শরিয়াহ, কোরআন ও ইসলামিক স্টাডিজে মাস্টার্স-পিএইচডি করতে পারছে। ভালো কথা। কিন্তু একটি দেশের সব মেয়ের কি ধর্মীয় বিষয়ে উচ্চশিক্ষা নেওয়ার ইচ্ছা থাকবে? কেউ চিকিৎসক হতে চাইবে, কেউ প্রকৌশলী, কেউ বিজ্ঞানী, কেউ শিক্ষক, কেউ অর্থনীতিবিদ।

একজন মেয়ে শরিয়াহতে পিএইচডি করতে পারছে বলে অন্য মেয়েদের চিকিৎসাবিদ্যা, বিজ্ঞান কিংবা সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার অধিকার বন্ধ করে দেওয়া যায় ? ধর্মীয় বিষয়ে পড়াশোনার কিছু সুযোগ থাকা আর মেয়েদের জন্য পূর্ণাঙ্গ উচ্চশিক্ষার ব্যবস্থা থাকা এক বিষয় নয়। একটি সীমিত সুযোগ দেখিয়ে পুরো শিক্ষা ব্যবস্থায় নারীদের প্রবেশাধিকার আছে বলে দাবি করা বাস্তবতাকে আড়াল করা ছাড়া আর কী?

জাকির নায়েকের বক্তব্যের সবচেয়ে আপত্তিকর দিক হলো, তিনি অনির্দিষ্টকালের নিষেধাজ্ঞাকে সাময়িক স্থগিতাদেশ হিসেবে উপস্থাপন করছেন। পাঁচ বছর ধরে মেয়েরা স্কুলে যেতে পারছে না, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে পারছে না, চিকিৎসা শিক্ষার সুযোগ হারিয়েছে। অথচ বলা হচ্ছে, পরিস্থিতি নিরাপদ হলে আবার পড়তে পারবে। সেই নিরাপত্তা কবে আসবে, নারী শিক্ষক কীভাবে তৈরি হবে, নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা আছে কি না, এসব প্রশ্নের উত্তর নেই।

এবার বেগম রোকেয়ার সময়ের বাংলার সমাজের সঙ্গে তালেবানের আফগানিস্তানের তুলনা করা যাক। রোকেয়ার সময় বাংলার মুসলিম সমাজেও মেয়েদের পড়াশোনা নিয়ে প্রবল সামাজিক বাধা ছিল। মেয়েদের স্কুলে পাঠানো ভালো চোখে দেখা হতো না। অনেক পরিবার মেয়েদের বাংলা-ইংরেজি শেখাতেও চাইত না। কিন্তু তখন বাধাটা মূলত সামাজিক ও পারিবারিক ছিল। সেই বাধা অতিক্রম করে পড়াশোনা করার, পরিবারের কারও সাহায্য নেওয়ার এবং মেয়েদের জন্য স্কুল প্রতিষ্ঠা করার কিছু সুযোগ ছিল।

রোকেয়ার ভাই ইব্রাহিম সাবের ও বোন করিমুন্নেসা তাঁকে বাংলা ও ইংরেজি শিখতে সাহায্য করেছিলেন। তাঁর স্বামী সাখাওয়াত হোসেনও তাঁর পড়াশোনা ও নারীশিক্ষার উদ্যোগে সহযোগিতা করেছিলেন। ১৯০৯ সালে ভাগলপুরে মেয়েদের স্কুল চালু করেন। পরে ১৯১১ সালে কলকাতায় সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন। অভিভাবকদের বুঝিয়েছেন, মেয়েদের স্কুলে পাঠাতে রাজি করিয়েছেন, পর্দার ব্যবস্থা করে যাতায়াতের সুযোগ করেছেন। অর্থাৎ যে সমাজে মেয়েদের পড়াশোনা নিয়ে আপত্তি ছিল, সেই সমাজের মধ্যেই তিনি লড়াই করে শিক্ষার পথ তৈরি করেছিলেন।

এখানেই দুই সমাজের মৌলিক পার্থক্য। রোকেয়ার সময় কোনো বাবা মেয়েকে পড়াতে চাইলে, কোনো ভাই বোনকে শেখাতে চাইলে কিংবা কোনো স্বামী স্ত্রীকে সহযোগিতা করতে চাইলে তাঁদের সামনে রাষ্ট্রীয় নিষেধাজ্ঞা ছিল না। সামাজিক বাধা ছিল, কিন্তু সেই বাধা অতিক্রম করার পথও ছিল। আফগানিস্তানে আজ কোনো বাবা মেয়েকে ষষ্ঠ শ্রেণির পর স্কুলে পাঠাতে পারবেন না। কোনো ভাই বোনকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করাতে পারবেন না।

কোনো মেয়ে চিকিৎসক হতে চাইলে তাকে সেই প্রশিক্ষণ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে না। পরিবারের সবাই সমর্থন করলেও রাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা অতিক্রম করা সহজ নয়। রোকেয়ার সময় সমাজ মেয়েদের পড়াশোনায় বাধা দিত, আর তালেবান রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ব্যবহার করে সেই বাধাকে আইনে ও নীতিতে পরিণত করেছে। তাই রোকেয়ার সময়ের বাংলার সমাজ রক্ষণশীল হলেও তালেবানের আফগানিস্তানের মতো রাষ্ট্রীয়ভাবে মেয়েদের শিক্ষার দরজা বন্ধ করেনি।

তাহলে আফগানিস্তানে একজন বেগম রোকেয়া কীভাবে জন্মাবে ? তাঁর ভাই তাঁকে পড়াশোনা শেখাতে চাইলে পারবেন? তাঁর স্বামী তাঁকে সহযোগিতা করতে চাইলে পারবেন? তিনি নিজে মেয়েদের জন্য স্কুল প্রতিষ্ঠা করতে চাইলে পারবেন? একজন মেয়েকে প্রথমে পড়তে দিতে হবে, তারপর সে শিক্ষক হবে, চিকিৎসক হবে, সমাজ সংস্কারক হবে। কিন্তু পড়ার সুযোগই যদি না থাকে, তাহলে ভবিষ্যতের নারী শিক্ষক, চিকিৎসক কিংবা সমাজ সংস্কারক তৈরি হবে কোথা থেকে? রোকেয়া নিজের সময়ের সামাজিক বাধা অতিক্রম করে স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। আজ আফগানিস্তানে একজন নারী সেই কাজ করতে গেলেও রাষ্ট্রীয় বাধার মুখে পড়বেন।

বেগম রোকেয়ার লড়াই শুধু মেয়েদের স্কুলে পাঠানোর লড়াই ছিল না। তিনি মেয়েদের নিজের বুদ্ধি ব্যবহার করার, নিজের পায়ে দাঁড়ানোর এবং নিজের জীবনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার চেয়েছিলেন। তাঁর সময়েও অনেকে মনে করতেন, মেয়েদের বেশি পড়াশোনা করানোর দরকার নেই। মেয়েদের কাজ সংসার করা, স্বামীর সেবা করা। আজও সেই মানসিকতার মানুষ আছে। পার্থক্য হলো, তখন তারা সামাজিক বাধা তৈরি করত, এখন কেউ কেউ সেই বাধাকে ধর্মের ভাষায় প্রতিষ্ঠা করতে চায়।

বাংলাদেশের যেসব মেয়েরা আজ স্কুল-কলেজে যাচ্ছে, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছে, গার্মেন্টসে কাজ করছে, চিকিৎসক হচ্ছে, শিক্ষক হচ্ছে, তাদের এই জায়গায় আসার পেছনে বহু মানুষের দীর্ঘদিনের লড়াই আছে। আফগানিস্তানে একজন বেগম রোকেয়া কোনোদিন জন্মাবে কি না, তার উত্তর শুধু আফগান মেয়েদের হাতে নেই। একটি মেয়েকে রোকেয়া হতে হলে তাকে আগে পড়তে দিতে হবে। তার পাশে দাঁড়ানোর মতো পরিবার, সহযোগিতা করার মতো শিক্ষিত মানুষ, আধুনিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং রাষ্ট্রীয় সমর্থন থাকতে হবে।

রাষ্ট্র যদি স্কুলের দরজা বন্ধ করে দেয়, বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতে না দেয়, চিকিৎসা শিক্ষার সুযোগ কেড়ে নেয়, তাহলে একজন রোকেয়া তৈরি হওয়ার পথই বন্ধ হয়ে যায়। অথচ জাকির নায়েক সেই নিষেধাজ্ঞাকে সাময়িক অপেক্ষা বলে ব্যাখ্যা করছেন। মানুষকে কি এভাবেই বাস্তবতা থেকে দূরে রাখা হয়? স্কুল বন্ধ, বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ, চিকিৎসা শিক্ষা বন্ধ, আর ব্যাখ্যা দেওয়া হচ্ছে মেয়েদের শিক্ষা বন্ধ হয়নি, শুধু একটু দেরি হচ্ছে ! তাহলে এই দেরি শেষ হওয়ার অপেক্ষায় আফগানিস্তানের আর কত প্রজন্মের মেয়েকে জীবন পার করতে হবে ?

তালেবানের নারী শিক্ষানীতির পক্ষে জাকির নায়েক-ঢাকা মেইল




মন্তব্য ৭ টি রেটিং +৩/-০

মন্তব্য (৭) মন্তব্য লিখুন

১| ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ২:৫৪

শ্রাবণধারা বলেছেন: রোকেয়ার বেগম রোকেয়া হয়ে ওঠার সামাজিক এবং পারিবারিক পরিবেশটা আপনি মোটামুটি ভালো লিখেছেন।

তবে আসলে তাঁর বেগম রোকেয়া হয়ে ওঠার সামাজিক কারণটা ছিল রামমোহন রায়, বিদ্যাসাগর, রবীন্দ্রনাথ।

আফগানিস্তানে এখন যে পরিস্থিতি, তাতে করে সেখানে কেয়ামতের আগ পর্যন্ত বেগম রোকেয়ার জন্মানোর সম্ভাবনা নেই। শরিয়তি মুসলমানি সমাজ অনুর্বর এবং বন্ধ্যা সমাজ। এই সমাজে জ্ঞান সৃষ্টি হয় না, বড়জোর জাকের নায়েকের মতো কতগুলো প্রাচীন ধারণার পাহারাদার জন্মায়।

২| ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ ভোর ৫:০৪

মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন বলেছেন:
আফগানে জন্মানোর আপাতত কোন সম্ভাবনা দেখি না।

৩| ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ৭:১৭

স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: জেন-জি অবশ্য নারী জাগরণের অগ্রদূত বলতে শেখ হাসিনাকে মনে করে।
কিন্তু যারা বেগম রোকেয়ার ছবিতে অশ্লীল শব্দ লিখল, তাদের কাছে রোকেয়ার অপরাধটা কী ?

,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,
অনেক সময় নেগেটিভ এপ্রোচ সমাজে বুমেরাং হয় ।
আজকালের জেন -জি' রা বেগম রোকেয়া সম্পর্কে জানেনা এটা বিশ্বাস করতে আমার কষ্ট হচ্ছে ।
তবে যারা ঐসব ঘটায়াছে, তারা মাদ্রাসা শিক্ষার্থী আর জঙ্গী দ্বারা প্রশিক্ষিত ।তাই তাদের
প্রতিনিধিত্ব সমাজের প্রতিফলন ঘটায়না ।
পরিবেশ ও পরিস্হিতির সুযোগে যা ঘটেছে, তা দু:স্বপ্ন বলতে হবে । তবে আর যেন না ঘটে তার
প্রতিকারের ব্যবস্হা নেয়া ।

...............................................................................................................................
আফগান বা পাকীরা বিশ্বে তাদের আচার আচরনের জন্য ধিকৃত, তাই বেগম রোকেয়া বা রবীন্দ্রনাথ
নিয়ে হৈ চৈ করে অপশক্তি তেমন সুবিধা করতে পারে নাই । বরং ঐ সব ঘটনার পর সুধী সমাজ নীরবতা
ভেঙ্গে এগিয়ে আসছে, আমরা আবারও বেগম রোকেয়া, রবীন্দ্রনাথ, নজরুল নিয়ে আলোচনা করছি
এবং নতূন প্রজন্মরা আরও কিছু জানতে আগ্রহী হয়ে উঠবে ।

৪| ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ৭:২৪

সুলাইমান হোসেন বলেছেন: আমার মতে আফগানে কোনো বেগম রোকেয়ার প্রয়োজন নেই।এবং আফগানদের অভ্যান্তরিন বিষয় নিয়ে অন্যদের মাথা ঘামানোর কোনো দরকার নেই।

৫| ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৪৯

নতুন বলেছেন: আমাদের দেশের তালেবানেরা দেশের নারীদের বোরকার ভেতরে ঢুকাতে পেরেছে। এখন বোরকা/পর্দার জিনিস বিক্রি দেশের লাভজনক ব্যবসা।

মাদ্রাসা শিক্ষা যতদিন নিয়ন্তিত হবেনা ততদিন নারী বিদ্বেষ চলতেই থাকবে। :|

৬| ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:১০

Aivon বলেছেন: Viddo AI is an AI-powered creative platform designed to simplify video, image, and music generation. It provides a variety of AI tools that allow users to turn text prompts and images into engaging videos, generate high-quality visuals, and create original music. With access to advanced AI models and intuitive creative features, Viddo AI helps content creators, marketers, and businesses produce professional digital content more efficiently without complicated editing processes.
Viddo AI: https://viddo.ai/

৭| ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:২১

মহাজাগতিক চিন্তা বলেছেন: তৌহিদী জনতার অনেক কাজ ভীষণ আপত্তিকর।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.