| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
নববর্ষকে সামনে রেখে বাঙালির মাঝে আনন্দ, উৎসব,
আয়োজন আর বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতা অপেক্ষমান আছে
যা থাকাটাই স্বাভাবিক। আয়োজন আর আনুষ্ঠানিকতা
থাকবেই না কেন? এই উৎসব বাঙালির প্রাণের উৎসব
এটি বাঙালি সংস্কৃতির অংশ। দিনব্যাপী বিভিন্ন রকম
আয়োজনের মাধ্যমে আমরা পহেলা বৈশাখে নববর্ষ বরণ
করে থকি। জাতিতত্ত্বে আমরা বাঙালি বিধায় বাংলা
নববর্ষ বরণকে ভিন্ন মাত্রায় উদযাপন করে থাকি।
পুরাতনকে ভুলে নতুনের আগমনী বার্তায় সকলের জন্য
মঙ্গল কামনা করি। এই বৈশাখী উৎসব উদযাপন শুরু
হয়েছিল সম্রাট আকবরের আমল থেকে। বর্তমানে
বাংলা নববর্ষ বরণের অন্যতম আনুষ্ঠানিকতা হিসাবে
দাড়িয়েছে পান্তা ইলিশ খাওয়া। এই প্রথায় আমরা
এমনভাবে প্রভাবিত হচ্ছি যে পহেলা বৈশাখে পান্তা
ইলিশের বিকল্প হিসাবে অন্য কিছু ভাবতেই পারি না।
এই সময়টা ইলিশের মৌসুম নয় তারপরও বাজারে ইলিশের
দেখা মেলে ও প্রচুর চাহিদা থাকে। আর এই ইলিশ
বিক্রি হয় উচ্চ মূল্যে যা সর্বসাধারণের/বেশির ভাগের
ক্রয় ক্ষমতার বাইরে থাকে। তারপরও এই মাছ বিক্রি হয়
একমাত্র সামর্থবানরাই উপলক্ষকে মাথায় রেখে কিনে
নেন। চৈত্রের শেষের এই সময়টাতে গণমাধ্যমের খবরের
প্রতিবেদনে উঠে আসে ইলিশের চাহিদা, ঘাটতি আর
ইলিশের উচ্চ মূল্যের বাজারদরের গল্পসমূহ। সবমিলিয়ে
ইলিশকে নিয়ে সবচেয়ে বড় সুবিধাটা নিচ্ছে বিক্রেতা
বা তাদের সংশ্লিষ্টরা, তারই লাভবান হচ্ছে। এত
উচ্চমূল্যে ইলিশ ক্রয় কি ক্রেতার অর্থের অপচয় আর
অপব্যবহার নয়? আর সামর্থবানের নিকট এটা অপচয় আর
অপব্যবহার মনে হয় না বরং মনে হয় বাঙালি চর্চার
প্রকাশ ঘটানো মাত্র। উন্নয়নশীল বাংলাদেশে ধনী
দরিদ্রের বৈষম্যতো আছেই পাশাপাশি এমনসব রীতি
(পান্তা-ইলিশ) বৈষম্যের মাত্রা আরও তীব্রতর করছে।
শহর থেকে শুরু হওয়া এই রীতি বর্তমানে গ্রাম পর্যায়েও
পৌঁছে যাচ্ছে। নি:সন্দেহে ইলিশ বাংলাদেশের জন্য
একটি মূল্যবান সম্পদ। পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে ইলিশের
চাহিদার কথা মাথায় রেখে জেলেরাও বেশি পরিমাণ
ইলিশ আহরণের সর্বোচ্চ চেষ্টা করে এতে করে তারা
জাটকা ও মা ইলিশ আহরণ ও সংরক্ষণ করে। উল্লেখ্য
১১/০৪/২০১৬ তারিখে চট্টগ্রামের ফিশারিঘাটে
অভিযান চালিয়ে সাড়ে নয় টন জাটকা জব্দ করেছে
ভ্রাম্যমাণ আদালত। মৌসুমবিহীন ইলিশের অবাধ আহরণ
ও বাজারজাতকরণ কি ইলিশের ভবিষ্যত উৎপাদনের জন্য
হুমকি নয়? ইলিশের প্রজনন মৌসুমে ইলিশ আহরণ,
বাজারজাতকরণ ও সর্বপোরি সবসময় জাটকা আহরণের
উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ আছে একমাত্র ইলিশের
ভবিষ্যত আর উৎপাদন বিবেচনা করে। হয়তো কোন একদিন
পহেলা বৈশাখে পান্তা-ইলিশ খাওয়ার উপরও
নিষেধাজ্ঞা আারোপ করা হবে। অতএব, ইলিশের
উৎপাদন বৃদ্ধি ও ভবিষ্যতের বিবেচনা করে ইলিশের
এমনসব লোক দেখানো ব্যবহার বন্ধ করা কি অযৌক্তিক
কিছু হবে? বলতে পারেন আমার/তাদের টাকায় আমি/
তারা ইলিশ কিনি/কিনে তাতে অন্যের সমস্যা কি/
কেন? সমস্যা হল বৈশাখী ইলিশ ক্রয় নোংরা
প্রতিযোগিতা সৃষ্টি করে। পূর্বসূত্রে বাংলাদেশীরা
বাঙালি আর বাঙালির এই উৎসব বেঁচে থাকুক সহস্র বছর
ধরে উদযাপিত হোক নিজস্ব সংস্কৃতি ধারার মধ্য দিয়ে।
ইলিশের জন্য উৎসবের মধ্যে ভেদাভেদ সৃষ্টি না হোক।
আনন্দ উচ্ছাসের মধ্য দিয়ে সকলের নববর্ষ উদযাপন
সুন্দরভাবে কাটুক এই কামনা করছি। পাশাপাশি
সরকারকে ধন্যবাদ জানাই চাকরিজীবীদের উৎসব ভাতা
দেওয়ার জন্য।
শুভ বাংলা নববর্ষ, ১৪২৩ বঙ্গাব্দ।
সকলের মঙ্গল কামনা করছি।
-----------------
মাহীন শাহরিয়ার আকিব
চট্টগ্রাম।
©somewhere in net ltd.