| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
মায়াস্পর্শ
মনের বিপরীতে পার করে এসেছি সহস্রকাল, হঠাৎ এক উদ্ভ্রান্ত অবয়বে বেঁচে থাকি এপার ওপার।
(শালবন ভ্রমণ)
২০১২ সাল। সদ্য পাশ করে বের হয়েছি। কঠিন সময় পার করছিলাম। এদিক-সেদিক স্টেজ শো করে যে পেমেন্ট পেতাম, বাড়িতে ফিরতে ফিরতেই প্রায় শেষ হয়ে যেত। সকালে মায়ের হাতে ৪০০-৫০০ টাকা দিয়ে দিতাম।
প্রত্যেকটা শোতেই যে ভালো পেমেন্ট পাওয়া যেত, তা নয়। কখনো কখনো শো করার পরও টাকা পাওয়া যেত না। শো অর্গানাইজাররা অনুষ্ঠান শেষ হলেই পালিয়ে যেত, আর আমরা পড়ে যেতাম বিপদে। সাউন্ড ভাড়া, ট্রান্সপোর্ট খরচ—অন্তত এগুলো নিজেদেরই কোনোভাবে ম্যানেজ করে দিয়ে দিতে হতো।
দেখতে দেখতে দিন কাটতে লাগলো হতাশায়। ভেবেছিলাম মিউজিককে ক্যারিয়ার হিসেবে নেবো। কিন্তু আল্লাহ হয়তো নিজ হাতে আমাকে বাঁচিয়েছেন। শখকে শখের মতোই ভালোবাসা উচিত। খুব দ্রুত সেখান থেকে লাভ আশা করা মানে নিজের শখের গলা টিপে ধরার মতো।
দেশের সামগ্রিক সাংস্কৃতিক পরিবেশ বারবার মনে করিয়ে দিচ্ছিল -মিউজিককে ভবিষ্যতের একমাত্র ভরসা হিসেবে নেওয়া হয়তো ঠিক হবে না। যাই হোক, সেদিকে আর এগোনো হয়নি।
কমার্শিয়াল মিউজিক ছেড়ে দিয়ে একটা বিরতি নিলাম। কিন্তু মনের এক কোণে মিউজিকের জন্য অবারিত ক্ষুধা রয়েই গেল।
২০১৩ সালে এলাম ঢাকায়। ঢাকা মানে আসলে গাজীপুর। একটা চাকরি খুব দরকার ছিল। নিজের আত্মীয়-স্বজন কেউ নেই। কলেজের এক বন্ধুর মেসে গিয়ে উঠলাম।
নিজের কাছে কিছু জমানো টাকা ছিল, সেটা সঙ্গে নিয়েছিলাম। বন্ধু একটা কোম্পানিতে নতুন চাকরি নিয়েছে, ফ্রেশার। তিন বেলা খাবার আর বাইরে ঘোরাঘুরি,এইভাবেই দিন যাচ্ছিল।
একদিন সকালে পুরোনো EPZ গেলাম। মাসের প্রথম দিকে সেখানে প্রতিটি গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে শ্রমিক নিয়োগ করা হয়। দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখলাম মানুষের সংগ্রাম। জীবন আসলেই কঠিন।
কয়েকদিন পর একটা সুযোগ এলো,একটি ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিতে ইন্টারভিউ দেওয়ার। গাজীপুরের শালবনের ভেতর দিয়ে যেতে হয়েছিল তখন। গেলাম ইন্টারভিউ দিতে।
রিটেন পরীক্ষা নিলো, টিকে গেলাম। তারপর ভাইভা। আমি তখন অনেক লিকলিকে ছিলাম। আমাকে দেখে সামনে বসা একজন স্যার একটু ইতস্তত করলেন।
তিনি সরাসরি প্রশ্ন করলেন,
-নেশা পানি করেন?
কি করে তাকে বুঝাই যে হতাশার মধ্যে পড়ে, নির্ঘুম রাত কাটাতে কাটাতে আমার চোয়াল বসে গেছে!
হালকা হেসে বললাম,
-না স্যার। আমার খাওয়াদাওয়া আর ঘুমের কোনো ঠিক-ঠিকানা নেই, তাই এই অবস্থা।
পাশে বসা আরেকজন ভদ্রলোক বললেন,
-ছেলেটার মধ্যে কিন্তু স্পিড আছে।
কয়েকটা থার্মোডাইনামিক্সের ফর্মুলা ধরলেন। গটগট করে বলে দিলাম।
তারপর জিজ্ঞেস করলেন,
-ইঞ্জিনের টেম্পারেচার কত থাকে?
বললাম,
-প্রায় ৮০°C থেকে ১০৫°C।
হেসে বললেন,
-চলবে।
একটু হাফ ছেড়ে বাঁচলাম।
শেষে এলো আসল বিষয়—বেতন। সেখানে আমার কোনো নেগোসিয়েশন করার সুযোগ ছিল না। বেতন ঠিক হলো ৪৫০০ টাকা। পদ-জুনিয়র অফিসার।
তখন আমাদের এলাকার কোব্বাত নানার কথা মনে পড়লো। সাতমাথায় বসে ভিক্ষা করেন উনি।
চাকরি শুরু করলাম।
বৈষম্য একজন ফ্রেশারের আত্মবিশ্বাস কতটা কমিয়ে দিতে পারে, সেটা তখন বুঝতে পারলাম।
ওষুধ কোম্পানির পরিবেশ ছিল একদম পরিষ্কার, জীবাণুমুক্ত। কয়েকদিন পর শুনলাম সেখানে পলিটিক্স আছে।
জিজ্ঞেস করলাম,
-কোন দল বেশি? লীগ না বিএনপি?
একজন বললো,
-কর্পোরেট দল।
এদের হাতের আঙুল নয়টা, কিন্তু সবাই অনেক ভদ্র।
শালবনের ভেতরে একটা বাড়িতে একটা ছোট ঘর ভাড়া নিলাম। ভাড়া ৭০০ টাকা।
রান্নাবান্নায় তখন একদম কাঁচা। বাড়ির মালিকের স্ত্রীকে চাচী বলে ডাকতাম। তার সাথে চুক্তি হলো,তিনি আমাকে খাবার খাওয়াবেন। শুধু রাতে আর শুক্রবার দুই বেলা।
মাসে ৪০০ টাকা।
তার বেগুন দিয়ে মুরগির ভুনার কথা কোনোদিন ভুলবো না।
বেশ ভালোই চলছিল।
আসলে ভালো চলছিল না।
মনের মধ্যে ভালো লাগতো না। বাড়ি ছেড়ে আসার কষ্ট ছিল অনেক। ঘরে শুয়ে একা একা মাঝে মাঝে কান্না করতাম।
পাশের ঘরের আনিসুল এসে বলতো,
-প্রেমে হিট খাইছো নাকি মিয়া?
আমি শালগাছগুলোর দিকে তাকিয়ে থাকতাম। মনে হতো, ওই শালপাতার ভেতরেই মা-বাবা, বোনদের দেখতে পাচ্ছি।
কে বলেছে পুরুষ মানুষ কাঁদে না?
যে বলে, সে ধোঁকাবাজ।
চলবে......
১৮ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৪
মায়াস্পর্শ বলেছেন: সত্যি বলেছেন ভাই, তবে বউ কিন্তু জীবনের অনেক বড় একটা সাপোর্ট, যদি দুজনের মনের, মতের মিল থাকে।
২|
১৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:২৮
সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: আপনার বর্ণনা মনকে ছুঁয়ে গেল।
আমি জীবনে এত কষ্ট করেছি তা বর্ণনার অতীত। এখন ভালো আছি আল্লাহর রহমতে।
আপনার জন্য শুভ কামনা থাকলো।
১৯ শে জুন, ২০২৬ রাত ২:২০
মায়াস্পর্শ বলেছেন: আমিও আল্লাহর রহমতে অনেক ভালো আছি। আপনার সুন্দর মন্তব্যের জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ।
৩|
১৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:৫৮
ঢাকার লোক বলেছেন: জানিনা আপনি এখন কোথায় কেমন আছেন, ভালো থাকুন নিরন্তর, এই প্রার্থনা !!
১৯ শে জুন, ২০২৬ রাত ২:২২
মায়াস্পর্শ বলেছেন:
আমি বর্তমানে দেশের বাইরে চাকরি করছি। আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহর অশেষ রহমতে বেশ ভালো আছি।
জীবনে কষ্ট না থাকলে হয়তো এর প্রকৃত সৌন্দর্য উপলব্ধি করা যেত না। জীবনকে খুব কাছ থেকে দেখার সৌভাগ্য আমার হয়েছে। অনেক ধন্যবাদ, ভাই। সব সময় ভালো থাকবেন।
৪|
১৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:০৩
শায়মা বলেছেন: হুম তার মানে তুমি গায়ক!
তার পর কবি!!!
১৯ শে জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩
মায়াস্পর্শ বলেছেন: আপু, আসসালামু আলাইকুম। আশা করি ভালো আছেন। কোনোরকমে গুছিয়ে-গাছিয়ে লিখে যাওয়ার চেষ্টা করি আর কী।
কবি হলাম আর কবে! যতটুকু পারি, মনের অনুভূতিগুলো তুলে ধরার চেষ্টা করি। সব সময় ভালো থাকবেন। সুন্দর মন্তব্যের জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ।
৫|
১৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:৫০
করুণাধারা বলেছেন: পড়তে ভালো লাগলো। চলতে থাকুক লেখা...
১৯ শে জুন, ২০২৬ রাত ২:২২
মায়াস্পর্শ বলেছেন: অনেক অনেক ধন্যবাদ, শ্রদ্ধেয়। আপনার আন্তরিকতা ও উৎসাহ সত্যিই অনুপ্রেরণা জোগায়।
৬|
১৯ শে জুন, ২০২৬ রাত ১:১৫
রূপক বিধৌত সাধু বলেছেন: আপনার কষ্ট বুঝতে পারছি। ওই সময় আমি অনার্স সেকেন্ড ইয়ারে পড়ি; একটা টিউশনি খুঁজে পেতে কত চেষ্টা! অথচ জোটাতে পারিনি। কোনোমতে যদি তিন হাজার টাকা জোগাতে পারতাম, জীবনটা এত খারাপ হতো না। মেস খরচ আর খাওয়া-দাওয়ায় ওই টাকা যথেষ্ট ছিল।
১৯ শে জুন, ২০২৬ রাত ২:২৪
মায়াস্পর্শ বলেছেন: জীবনে কষ্ট না থাকলে হয়তো এর প্রকৃত সৌন্দর্য উপলব্ধি করা যেত না। জীবনকে খুব কাছ থেকে দেখার সৌভাগ্য আমার হয়েছে। অনেক ধন্যবাদ, ভাই। সব সময় ভালো থাকবেন।
©somewhere in net ltd.
১|
১৮ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১২
স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: কে বলেছে পুরুষ মানুষ কাঁদে না?
...........................................................
পুরুষ মানুষের কান্না কেউ প্রত্যাশা করেনা ।
সবাই চায় পুরুষ মানুষ তাদের ছাতা,
মায়ের ভরসা একমাত্র হাতের লাঠি,
আর বউ চায় , রাতে মজা নিবা নাও, দিনটা আমার
যা চাইবো চাই দিতে হবে ! নাহলে বাপের বাড়ী চললাম ।