নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

নিজেকে লেখক বলে পরিচয় দিতে সংকোচ হয়; লেখালেখি ইবাদতসদৃশ সাধনা বলেই লিখি। নিজেকে জানা, বিশ্বকে অনুধাবন করা এবং সর্বোপরি মহান স্রষ্টার পরিচয় অন্বেষণই আমার নীরব যাত্রার পাথেয়। দূরে সরিয়ে দেওয়া নয়-সৃষ্টিকূলকে ভালোবাসায় আগলে রাখার শিক্ষাই ইসলামের মূল বাণী।

নতুন নকিব

যবে উৎপীড়িতের ক্রন্দল-রোল আকাশে বাতাসে ধ্বনিবে না, অত্যাচারীর খড়্গ কৃপাণ ভীম রণ-ভূমে রণিবে না- বিদ্রোহী রন-ক্লান্ত। আমি সেই দিন হব শান্ত।

নতুন নকিব › বিস্তারিত পোস্টঃ

আমেরিকায় পশু কুরবানিতে মানতে হয় যেসব নিয়ম-কানুন

০৯ ই জুন, ২০২৫ সকাল ৯:২৮

আমেরিকায় পশু কুরবানিতে মানতে হয় যেসব নিয়ম-কানুন

ছবি এআই এর সহায়তায় তৈরিকৃত।

আমেরিকায় কুরবানি করা বাংলাদেশের মতো সহজ বা খোলামেলা নয়। এখানে কুরবানি পালন করতে হলে একাধিক বিষয় বিবেচনায় নিতে হয়—আইন, স্বাস্থ্যবিধি, সামাজিক রীতি এবং পরিবেশগত দিক। বাংলাদেশে কুরবানির সময় মানুষ হাট থেকে পশু কিনে এনে বাড়ির উঠোনে, রাস্তার পাশে কিংবা খোলা মাঠে জবাই করে থাকেন, যা সামাজিকভাবে স্বীকৃত ও প্রচলিত। কিন্তু আমেরিকার বাস্তবতায় এটি কার্যত অসম্ভব। সেখানে চাইলেও কেউ নিজের ইচ্ছেমতো জায়গায় পশু জবাই করতে পারেন না।

আমার কাছের একজনের এবারের কুরবানির অভিজ্ঞতা থেকে বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পেরেছি। সীমিত সংখ্যক হালাল স্লটারহাউজে কুরবানির সময় সাধারণত প্রচন্ড ভীড় হয়। তিনি একটি স্লটারহাউজে গিয়ে দীর্ঘ প্রায় ৫/৬ ঘণ্টা অপেক্ষা করে কুরবানি সম্পন্ন করতে পেরেছেন। ওখানে মূলতঃ স্লটারহাউজগুলোতে উপস্থিত হয়ে নিজের পছন্দমতো পশু কিনে তা জবাই করার সুযোগ থাকে। পাশাপাশি, অনলাইনেও অর্ডার দিয়ে পশু কুরবানি করানোর সুবিধা রয়েছে। এসব নিয়ম-কানুনের পেছনে রয়েছে বেশ কিছু যৌক্তিক ও আইনগত কারণ।

প্রথমত, আমেরিকায় পশু জবাইয়ের ক্ষেত্রে কঠোর আইন রয়েছে। বেশিরভাগ অঙ্গরাজ্যে বাসা বা খোলা জায়গায় পশু জবাই আইনত নিষিদ্ধ। নির্দিষ্ট এলাকার মধ্যে লাইসেন্সপ্রাপ্ত স্লটারহাউজেই জবাই করার অনুমতি দেওয়া হয়। পশুর প্রতি নিষ্ঠুরতা বা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে জবাই করলে তা আইন লঙ্ঘনের শামিল এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়। USDA এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষ পশু জবাইয়ের নিয়ম ও আচরণবিধি স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করে দিয়েছে।

দ্বিতীয়ত, স্বাস্থ্যবিধির দিকটি এখানে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয়। বাসার উঠোনে বা রাস্তার পাশে পশু জবাই করলে রক্ত ও বর্জ্যজনিত কারণে জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে পড়ে। এটি স্থানীয় স্বাস্থ্য আইনের গুরুতর লঙ্ঘন। যেকোনো মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণ ও সংরক্ষণের জন্য নির্দিষ্ট অনুমতি ও স্বাস্থ্য সনদ প্রয়োজন হয়। এসব কারণে ব্যক্তিগতভাবে পশু জবাই করা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়।

তৃতীয়ত, আমেরিকার সমাজব্যবস্থা অনেক বেশি সংবেদনশীল। যদিও ধর্মীয় স্বাধীনতা রয়েছে, তথাপি সমাজে বসবাসরত অন্যান্য ধর্ম বা সংস্কৃতির মানুষের অনুভূতির প্রতিও সম্মান দেখাতে হয়। যদি কেউ নিজের বাড়িতে পশু জবাই করেন, তবে প্রতিবেশীরা বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারেন বা পুলিশে অভিযোগ করতে পারেন। তদুপরি, আমেরিকায় পশু অধিকার নিয়ে সচেতনতা অনেক বেশি, ফলে জনসমক্ষে পশু জবাইয়ের দৃশ্য নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিতে পারে।

এই প্রেক্ষাপটে আমেরিকায় বসবাসরত মুসলমানরা সাধারণত লাইসেন্সপ্রাপ্ত হালাল স্লটারহাউজে গিয়ে পশু কুরবানি করে থাকেন। এসব স্লটারহাউজে ইসলামি নিয়ম মেনে পশু জবাই হয় এবং সেখান থেকেই মাংস সংগ্রহ করা যায়। অনেক সময় ইসলামিক সংগঠন বা মসজিদ অনলাইনে কুরবানির অর্ডার নেয় এবং নির্দিষ্ট দিনে কুরবানি সম্পন্ন করে থাকে। কেউ চাইলে সেই মাংস নিজে নিতে পারেন অথবা দানও করতে পারেন। কেউ কেউ খামারে গিয়ে পশু কিনে স্থানীয় নিয়ম মেনে সেখানে কুরবানি দিয়ে থাকেন।

তবে এভাবে কুরবানি করার খরচ তুলনামূলকভাবে বেশি। পশু কেনা, পরিবহন, জবাই ও প্রসেসিং—সবকিছু মিলিয়ে ব্যয় অনেক বেড়ে যায়। স্লটারহাউজগুলোতে ওখানে পশুর দামও বেশ চড়া। মাঝারি সাইজের একটি খাসির দাম সাধারণত ৫০০ থেকে ৭০০ ডলারের মধ্যে, যা বাংলাদেশি হিসেবে প্রায় ৬০,০০০ থেকে ৮৫,০০০ টাকার মত (১ ডলার ≈ ১২০ টাকা)। বাংলাদেশে যেমন আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতজন মিলে কুরবানির কাজ করে নেয়া যায়, আমেরিকায় তা সম্ভব নয়। এখানে সবকিছুই পেশাদার এবং অনুমোদিত লোকজনের মাধ্যমেই করতে হয়।

সব মিলিয়ে বলা যায়, আমেরিকায় কুরবানি একটি ধর্মীয় দায়িত্ব হলেও সেটি পালন করতে হয় আইন, স্বাস্থ্যবিধি এবং সামাজিক ভারসাম্য রক্ষা করে। মুসলমানদের উচিত স্থানীয় নিয়ম-কানুন ভালোভাবে জেনে নেওয়া, যথাযথ পদ্ধতি অনুসরণ করা এবং প্রতিবেশীদের ধর্মীয় সংবেদনশীলতা বোঝাতে সচেষ্ট হওয়া। এতে ইসলামের শিক্ষাও পালন করা যায় এবং সমাজেও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।

মন্তব্য ২০ টি রেটিং +২/-০

মন্তব্য (২০) মন্তব্য লিখুন

১| ০৯ ই জুন, ২০২৫ সকাল ৯:৫১

আধুনিক চিন্তাবিদ বলেছেন: হুমম....একেক দেশের একেক রকম নিয়ম কানুন। আমাদের দেশেও এক সময় এমন নিয়ম কানুন হবে।

০৯ ই জুন, ২০২৫ সকাল ১০:০৮

নতুন নকিব বলেছেন:



আন্তরিক ধন্যবাদ আপনাকে। ঠিকই বলেছেন, একেক দেশের একেক রকম নিয়ম কানূন।

আশা করি, আমাদের সমাজও ধীরে ধীরে সচেতন হবে।

শুভকামনা জানবেন।

২| ০৯ ই জুন, ২০২৫ সকাল ৯:৫৮

রানার ব্লগ বলেছেন: যে দেশের যে আইন তা মেনে চলা জরুরি।

০৯ ই জুন, ২০২৫ সকাল ১০:১১

নতুন নকিব বলেছেন:



জ্বি, সহমত, ধন্যবাদ আপনাকে।

স্থানীয়ভাবে রাষ্ট্রীয় নিয়ম কানূন মেনেই ধর্মীয় বিধানগুলো পালন করা সঠিক মনে করি।

শুভকামনা সবসময়।

৩| ০৯ ই জুন, ২০২৫ দুপুর ১২:০৬

নতুন বলেছেন: দুবাইতে স্লোটার হাউজে আরেকটা ভালো নিয়ম আছে।

স্লোটার করার পরে ডাক্তার পরিক্ষা করে যদি দেখে ঐ পশুটা রোগাক্রান্ত বা মাংসে সমস্যা আছে যা খাবার উপযোগী না। তবে সেটা বাতিল ঘোষনা করে।

সেই রিপোট নিয়ে বিক্রেতার দোকানে গেলে দোকানী একই দামে নতুন পশু দিতে বাধ্য থাকবে।

০৯ ই জুন, ২০২৫ দুপুর ১২:৩১

নতুন নকিব বলেছেন:



ধন্যবাদ ভাই, দারুণ তথ্য শেয়ার করেছেন। এটা গ্রাহক সুরক্ষায় এক চমৎকার ব্যবস্থা—সব জায়গায় এমন নিয়ম থাকা উচিত। তবে এইসব নিয়ম সেখানেই প্রযোজ্য যেখানে মানুষ ন্যায় নীতি এবং ইনসাফ অনুযায়ী চলে। আমাদের মত দুর্ণীতিগ্রস্ত দেশে এমন নিয়ম কবে চালু করা সম্ভব সেটা প্রশ্নের বিষয়।

৪| ০৯ ই জুন, ২০২৫ দুপুর ২:২৫

অগ্নিবাবা বলেছেন: কাল হয়েছে কলিকাল, কুকুরে চাটে বাঘের গাল, আজকাল ইহুদী নাসারাদের কাছ থেকে মুমিনরা পরিস্কার পরিছন্নতা স্বাস্থ্যবিধি শিখছে! আই অ্যাম ত অবাক।

কাফের সমাজে বাস করলে কোন কাজে তাদের সাদৃশ্য অবলম্বন করবেন না। প্রত্যেক কাজে যেন আপনার পৃথক বৈশিষ্ট্য থাকে। যেহেতু রাসুল (ﷺ) বলেন,

‘‘সে আমাদের দলভুক্ত নয়, যে আমাদেরকে ছেড়ে অন্যদের সাদৃশ্য অবলম্বন করে।’’[12]
‘‘যে ব্যক্তি যে জাতির সাদৃশ্য অবলম্বন করে সে ব্যক্তি সেই জাতিরই দলভুক্ত।’’[13]

০৯ ই জুন, ২০২৫ বিকাল ৩:০১

নতুন নকিব বলেছেন:



বাবাজি, যাক শেষ পর্যন্তু আপনি এসেছেন! এইরকম একটা পোস্টে আপনি আসবেন না, সেটা হতেই পারে না! আপনার আসার প্রয়োজন ছিল বৈকি! প্রশ্ন হচ্ছে, ইসলাম ধর্মের প্রতি অন্তরে এত হিংসা, ঘৃণা আর বিদ্বেষ নিয়ে আপনি ঘুমান কীভাবে? আমার বিশ্বাস, আপনার ঘুমের বারোটা আপনি নিজেই বাজিয়ে চলেছেন, বাবাজি! আচ্ছা, নিজেই যদি নিজের জীবনের শান্তির কেল্লা ফতে করেন, তা ফিরিয়ে দিবে, সাধ্য কার?

ইসলাম পরিচ্ছন্নতা, স্বাস্থ্যবিধি ও উপকারী জ্ঞান অর্জনকে উৎসাহিত করে—জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "প্রয়োজনে জ্ঞানার্জন করতে হলে চীনেও যাও।" (বাইহাকি)। তবে ইসলামবিরোধী বিশ্বাস বা কুপ্রথা (যেমন অশ্লীলতা, মূর্তিপূজা) অনুকরণ নিষিদ্ধ। অমুসলিমদের সাথে ন্যায় ও সদাচারের সম্পর্ক রাখতে ইসলাম নির্দেশ দেয় (সূরা মুমতাহিনা ৬০:৮)।

ভুল ধারণার জবাব:

"ইহুদি-নাসারাদের কাছ থেকে স্বাস্থ্য শিখতে দোষ নেই, যদি তা শরিয়াহসম্মত হয়। সাহাবায়ে কেরামও অমুসলিম চিকিৎসকদের কাছ থেকে চিকিৎসা শিখেছেন।"

"হাদিসে 'সাদৃশ্য' বলতে অনৈসলামিক আচরণ বোঝানো হয়েছে, যেমন অহংকার বা কুসংস্কার, উপকারী জ্ঞান নয়।"

মূল বার্তা: ইসলাম শান্তি ও প্রজ্ঞার ধর্ম। ভালো কাজে সহযোগিতা, খারাপ কাজে নিষেধ—এটাই মুমিনের নীতি।

আর এখানে দেশ বা আঞ্চলিক নিয়ম নীতি মান্য করে চলা প্রত্যেক নাগরিকের কর্তব্য। সুতরাং, আহামরি কিছু সমস্যার দেখছি না।

আপনাকে ধন্যবাদ।

৫| ০৯ ই জুন, ২০২৫ দুপুর ২:৩০

অগ্নিবাবা বলেছেন: ১। সম্ভব হলে সেখান থেকে হিজরত করে মুসলিম পরিবেশে চলে যান। যেহেতু রাসুল (ﷺ) বলেন,

‘‘যে ব্যক্তি মুশরিকদের সাথে তাদের দেশে বাস করবে, তার নিকট থেকে (আল্লাহর) দায়িত্ব উঠে যাবে।’’[1] রসূল (ﷺ) বলেন-

لَا تُسَاكِنُوا المُشْرِكِينَ، وَلَا تُجَامِعُوهُمْ، فَمَنْ سَاكَنَهُمْ أَوْ جَامَعَهُمْ فَهُوَ مِثْلُهُمْ

‘‘তোমরা মুশরিকদের সাথে বসবাস করো না এবং তাদের সাথে সহাবস্থান করো না। সুতরাং যে তাদের সাথে বসবাস করবে অথবা সহাবস্থান করবে, সে তাদেরই মত।’’[2]

‘‘কোন মুশরিকের ইসলাম আনার পর আল্লাহ তার আমল ততক্ষণ পর্যন্ত কবুল করবেন না, যতক্ষণ না সে মুশরিকদেরকে বর্জন করে মুসলিমদের মাঝে (হিজরত করে) গেছে।’’[3]

০৯ ই জুন, ২০২৫ বিকাল ৩:০৭

নতুন নকিব বলেছেন:



প্রশ্নে উল্লেখিত হাদীসগুলোর সনদ ও প্রেক্ষাপট সঠিকভাবে বুঝতে হবে। ইসলাম বিদ্বেষীরা প্রায়শই হাদীসের অংশবিশেষ তুলে ধরে বিকৃত ব্যাখ্যা করে। নিচে স্পষ্ট করা হলো:

১. হাদীসের সত্যতা ও প্রেক্ষাপট:
প্রথম হাদীসটি ("যে মুশরিকদের সাথে বসবাস করবে, সে তাদের মতো";) সহীহ নয়। এটি দুর্বল (যঈফ) সনদে বর্ণিত (আবু দাউদ, আলবানী যঈফ বলেছেন)।

দ্বিতীয় হাদীসটি ("মুশরিকদের মাঝে থাকলে আল্লাহর দায়িত্ব উঠে যাবে";) কোনো সহীহ সূত্রে পাওয়া যায় না। এটি ভিত্তিহীন দাবি।

তৃতীয় হাদীসটি (মুশরিকদের ত্যাগ না করলে আমল কবুল হবে না) সহীহ, তবে এটি প্রাথমিক যুগের (মক্কী জীবনের) বিশেষ প্রেক্ষাপটে প্রযোজ্য, যখন মুসলিমরা চরম নির্যাতনের শিকার ছিলেন এবং ঈমান রক্ষার্থে হিজরত আবশ্যক ছিল (ইবনে মাজাহ, হাদীস ৩৯৩৮)।

২. হাদীসের সঠিক ব্যাখ্যা:
ইসলামে হিজরত ফরয ছিল শুধু সেই যুগে যখন মুসলিমরা ঈমান বাঁচানোর জন্য নিরাপদ স্থান খুঁজছিলেন। বর্তমানে অমুসলিম দেশে বসবাস করা জায়েয, যদি দ্বীন পালনে বাধা না থাকে (সূরা নিসা ৪:৯৭-৯৯)।

রাসূল (ﷺ)-এর যুগে সাহাবায়ে কেরাম (রা.) অমুসলিম অঞ্চলে ব্যবসা-সফর করতেন, যেমন হাবশায় (ইথিওপিয়া) প্রথম হিজরত।

সহাবস্থানের নির্দেশ: আল্লাহ বলেন, "তোমরা অমুসলিমদের সাথে ন্যায় ও সদাচরণ করো, যতক্ষণ না তারা তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে" (সূরা মুমতাহিনা ৬০:৮)।

৩. ইসলাম বিদ্বেষীর জবাব:
"আপনি হাদীসের ভুল ব্যাখ্যা করে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন। ইসলাম কখনো অমুসলিম দেশে বসবাস নিষিদ্ধ করেনি, বরং সেখানে দ্বীন প্রচার ও উত্তম আচরণের শিক্ষা দিয়েছে। সাহাবীগণও অমুসলিম সমাজে বসবাস করেছেন (যেমন সুমামা ইবনে উসাল)।"

"বর্তমানে হিজরত ফরয নয়, বরং অমুসলিম দেশে ইসলামের সঠিক চিত্র তুলে ধরা মুমিনের দায়িত্ব।"

৪. মূল বার্তা:
ইসলামের বিধান যুগ ও প্রেক্ষাপটভেদে পরিবর্তনশীল। অমুসলিম দেশে বসবাসকারী মুসলিমদের জন্য দ্বীন পালন, দাওয়াহ ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠাই মূল লক্ষ্য—না যে হিজরত বাধ্যতামূলক। বিদ্বেষীদের উদ্দেশ্য হলো ইসলামকে "বিচ্ছিন্নতাবাদী" হিসেবে চিত্রিত করা, অথচ ইসলাম শান্তি ও সহিষ্ণুতার ধর্ম।

উৎস:

সহীহ বুখারি/মুসলিমে হিজরতের বিশেষ প্রেক্ষাপট।

ড. ইউসুফ আল-কারাদাভি, "ফিকহুল আকাল্লিয়্যাত" (অমুসলিম দেশে মুসলিমদের ফিকহ)।

ইসলামিক রুলিংস (ফতোয়া) অনুযায়ী, অমুসলিম দেশে বসবাস জায়েয, যদি দ্বীনী স্বাধীনতা থাকে।

বাবাজি, আশা করি, আপনি প্রতিমন্তব্য দু'টি মনযোগের সাথে পাঠ করবেন এবং জাল/ জয়িফ/ দুর্বল হাদিসের রেফারেন্স না দিয়ে সহিহ হাদিসের প্রতি লক্ষ্য রাখবেন।

৬| ০৯ ই জুন, ২০২৫ রাত ৯:১৬

কামাল১৮ বলেছেন: @ অগ্নি,ইসলাম বৈপরীত্যে ভরা।সবরকমের দাওয়াই আছে কোরান হাদিসে।তাই এখন আর কোরান হাদিস থেকে উদ্ধৃতি দেই না।

১০ ই জুন, ২০২৫ সকাল ৮:৩২

নতুন নকিব বলেছেন:



ইসলাম শান্তি, সহমর্মিতা এবং মানবতার পক্ষে কথা বলে। কোরআন ও হাদিসে যে সব বিষয় রয়েছে, তা মূলত নির্দিষ্ট পরিস্থিতি এবং ঐতিহাসিক প্রসঙ্গের মধ্যে বলা হয়েছে। ইসলামিক শিক্ষায় সহানুভূতি, ন্যায়, এবং বিশ্বস্ততা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এর অর্থ এই নয় যে কোরআন বা হাদিসের কোনো অংশ বৈপরীত্যপূর্ণ বা অত্যাচারী।

কোনো ধর্মের উপদেশ বা নির্দেশাবলী যদি ঠিকভাবে না বোঝা হয়, তবে তা ভুলভাবে বিশ্লেষিত হতে পারে। ইসলাম ধর্মেও পবিত্র কোরআনে বহু জায়গায় দয়া, ন্যায় বিচার এবং মানবিক আচরণের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

৭| ০৯ ই জুন, ২০২৫ রাত ১১:৪৯

রবিন_২০২০ বলেছেন: ইনফরমেশন সবটা ঠিক নয়.
আমি যে স্লটার হাউসে যাই। সেখানে গরুকে প্রথমে .২২ ক্যালিবারের রাইফেল দিয়ে মাথায় গুলি করে নিস্তেজ করা হয় তারপর ইসলামিক রীতিতে জবাই করা হয়। নিজেই জবাই করা যায়। বিশাল সাইজের গরুর বেলায় এটাই নিয়ম। স্লটার হাউসে হাড় কে ৪ ইঞ্চি সাইজে কেটে দেয় বাকিটা নিজেকে কেটে নিতে হয়। চাইলে নাড়ী ভুড়ি ও নেয়া যায়।
আপনি চাইলেই চামড়া ছাড়ানোর পর গোটা গরু নিজের গাড়িতে তুলে বাড়িতে নিয়ে আসতে পারেন। নিজের বাড়িতেই কাটাকাটি করবেন কোনো সমস্যা নেই.
অবস্যই বন্ধু বান্ধব মিলে একত্রে কোরবানি দেয়া যায়।
আপনার যদি ফার্ম হাউস থাকে তাহলে অবসসই নিজের বাড়িতে কোরবানি দিতে পারবেন।

১০ ই জুন, ২০২৫ সকাল ৮:৩৭

নতুন নকিব বলেছেন:



রবিন_২০২০, অসংখ্য ধন্যবাদ আপনার অভিজ্ঞতা শেয়ার করার জন্য। আপনি যা বলছেন, তা সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। ইসলামে কোরবানি দেয়ার ক্ষেত্রে কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে, তবে কোরবানির প্রক্রিয়া দেশের নিয়ম এবং সুবিধার উপর নির্ভর করে ভিন্ন হতে পারে।

স্লটার হাউসে গরুর মাথায় গুলি করে নিস্তেজ করার বিষয়টি আগে জানতাম না। যেখানে ফার্ম হাউস বা নিজের বাড়িতে কোরবানি দেওয়ার সুযোগ আছে, সেখানে অবশ্যই সেটি করতে পারেন, যেহেতু ইসলাম নিজের হাতে কোরবানি দেয়ার অনুমতি দেয়। এই প্রক্রিয়ায় হৃদ্যতা ও আন্তরিকতার চর্চা আরও ভালোভাবে করা যায়।

এভাবে অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেয়ার জন্য ধন্যবাদ, আপনার মন্তব্য অনেকের জন্য উপকারী হতে পারে।

৮| ১০ ই জুন, ২০২৫ রাত ২:৫৪

কাছের-মানুষ বলেছেন: এবার আমরা আমেরিকায় কয়েকজন মিলে কুরবানী দিয়েছি, প্রায় প্রতি বছরই দেই। আসলে এখানে কুরবানী দেয়া তেমন কঠিন মনে হয়নি। কোনো স্লটার হাউজের সাথে যোগাযোগ করলে তারাই গরু দেখায়, আর কুরবানীর দিন গিয়ে আমরা কুরবানী দেই—তারাই কোরবানীর সব কাজ করে দেয়।

কুরবানী ছাড়াও গরুর মাংস সাধারণত আমরা কিনি না, বরং নিজেরা গরু কিনে জবাই দিয়ে ভাগাভাগি করি। এতে খরচ অনেক কম হয়। যেমন, দোকানে গরুর মাংসের দাম যদি হয় ৭–৮ ডলার প্রতি পাউন্ড, আমরা নিজেরা গরু জবাই করলে খরচ পড়ে আড়াই থেকে সাড়ে তিন ডলার প্রতি পাউন্ড।

বাই দ্যা ওয়ে, লাস্ট ৪-৫ বছর গোরু কুরবানী দেই আমেরিকায়, আমাদের গরু আমরা প্রথমে ইসলামিক রিতিতে জবাই করি, তারপর তারা সব কাজ করে। কোন গুলি করা হয় না, আমরা আগেই বলে রাখি তাদের।

উল্লেখযোগ্য যে, আমেরিকায় স্লটার হাউজ ছাড়া যেকোনো জায়গায় কুরবানী দেওয়া যায় না।

এখানে গোরু বা খাসীর দাম বেশী না, আমি ৩ টি স্টেইটে ছিলাম বিভিন্ন সময়ে, দাম বাংলাদেশ থেকে কম হয়েছে তুলনামূলকভাবে! আগে ১২০০ ডলারের মত খরচ করতাম সব খরচ মিলিয়ে গরুতে! রোজার আগেও গরু দিলাম, একটা মনে হয় ৭০০-৮০০, আরেকটা ১৪০০-১৫০০ ডলার দিয়ে!

১০ ই জুন, ২০২৫ সকাল ৮:৪৯

নতুন নকিব বলেছেন:



প্রিয় কাছের-মানুষ,

আপনার অভিজ্ঞতা শেয়ার করার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ! বুঝাই যাচ্ছে, আমেরিকায় কুরবানির প্রক্রিয়া আমাদের দেশের তুলনায় কিছুটা ভিন্ন। তবে আপনার বর্ণনা থেকে বোঝা যায়, সেখানে স্লটার হাউজের মাধ্যমে সহজে ও সঠিকভাবে কুরবানি দেওয়া সম্ভব। বিশেষ করে গরু কিনে নিজে জবাই করার আপনার পদ্ধতিটি খুবই কার্যকর এবং খরচ সাশ্রয়ী বলেই মনে হলো।

কুরবানির খরচ কমানোর জন্য এটি নিঃসন্দেহে একটি চমৎকার উপায়। আপনার অভিজ্ঞতা অনেকের জন্য নতুন ধারণার দ্বার খুলে দিতে পারে। এছাড়া, গরু বা খাসির দাম যে তুলনামূলকভাবে বাংলাদেশ থেকে কম—এটিও একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। তবে উল্লেখ করা প্রয়োজন, প্রতিটি স্টেটে গরু বা খাসির দাম একরকম নাও হতে পারে। যেমন, আমি যার কাছ থেকে এই বিষয়টি প্রথম জেনেছিলাম, তার অভিজ্ঞতা অনুযায়ী সেখানে খাসির দাম বাংলাদেশের তুলনায় কিছুটা বেশি ছিল।

আমার মনে হচ্ছে, স্লটার হাউজগুলোতে অতি বড় গরুর ক্ষেত্রে গুলি করে নিস্তেজ করার নিয়মটা থেকে থাকতে পারে।

আপনার মন্তব্য ও অভিজ্ঞতা নিঃসন্দেহে অনেকের জন্য সহায়ক হবে। এভাবে বিস্তারিতভাবে অভিজ্ঞতা শেয়ার করার জন্য আবারও ধন্যবাদ!

৯| ১০ ই জুন, ২০২৫ দুপুর ১২:১২

রবিন_২০২০ বলেছেন: @কাছের-মানুষ , আমি যে পদ্ধতিতে কোরবানির কথা লিখেছি সেগুলো আমি তিন দশকের ও বেশি সময় ধরে ক্যালিফোর্নিয়াতে করে আসছি। এখানে কেউ ১৫০০ - ১৮০০ পাউন্ডের গরু আগে গুলি না করে জবাই করার কথা চিন্তাও করবে না (এ ক্ষেত্রে শুধুমাত্র low caliber যেমন .২২lr use করা হয় ), ছোট গরু হলে গুলি ছাড়াই কাজ চলে। আপনি যে প্রাইস রেঞ্জ দিয়েছেন সেটা ছোট গরুর।
আর অবশ্যই আমেরিকায় স্লটার হাউজ ছাড়াও কোরবানি দেওয়া যায়। বাচ্চাদের স্কুল ছুটি থাকলে আমরা আমাদের ফার্ম হাউসে গিয়েই এটা করি (এবার ও করেছি ). তবে এটা ব্যাবসায়িক ভাবে করা যায় না।

১১ ই জুন, ২০২৫ সকাল ১১:০৯

নতুন নকিব বলেছেন:



ক্যালিফোর্নিয়ায় আপনার তিন দশকেরও বেশি সময়ের অভিজ্ঞতার বিষয়টি আমি বুঝতে পেরেছি।
ইতোপূর্বে এই পোস্টে একটি মন্তব্যের উত্তরে আমি অনুমানের ভিত্তিতে বলেছিলাম— আমার ধারণা, স্লটার হাউজগুলোতে অতি বড় গরুর ক্ষেত্রে গুলি করে নিস্তেজ করার নিয়ম থাকতে পারে।

আপনি এখানে বিষয়টি স্পষ্ট করে দেওয়ায় এখন সবার কাছে ব্যাপারটি পরিষ্কার হয়ে গেল।
এছাড়া আপনি নিশ্চিত করেছেন যে, ক্যালিফোর্নিয়ায় স্লটার হাউজ ছাড়াও ব্যক্তিগতভাবে ফার্ম হাউসে কোরবানি দেওয়া যায়— তবে তা বাণিজ্যিকভাবে করা যাবে না।

আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।

১০| ১১ ই জুন, ২০২৫ সকাল ১০:৫৭

রাজীব নুর বলেছেন: বাংলাদেশে খুবই নির্মম ভাবে পশু জবাই হয়।

১১ ই জুন, ২০২৫ সকাল ১১:১৫

নতুন নকিব বলেছেন:



গাল ভরে পশুর গোশত খান তো খুব মজা করেই! ধর্মকর্মের চারধার দিয়ে না গেলেও মজা তো পুরোটাই লুটেন!! নিজেই তো একেকসময় বলেন যে, রোজা রাখেন না কিন্তু ইফতারি খেতে ভালোবাসেন!!!

এখন এসেছেন পশুর জন্য মায়াকান্না দেখাতে!!! ভাওতাবাজি আর কত করবেন!!!

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.