| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |

খেলবো কিন্তু হাত মিলাব না। মুরুব্বির একটা কথা মনে পড়ে গেল। একদিন মুরুব্বি কইছিলো, "চ্যাটের পানি পেটে যায় চুমা দিলে জাত যায়।" মুরুব্বিকে প্রশ্ন করেছিলাম, কথাটার মানে কি? তিনি বলেছিলেন, ভারতবর্ষে পতিতাদের সাথে দৈহিক মিলনের সময় তারা সবকিছু করতে দিলেও ঠোঁটে চুমু খেতে দেয় না। এথেকেই এই প্রবাদ তৈরি হয়। এটা বেশ আদিম প্রবাদ।
মুরুব্বি সাথে প্রায় সময় আমি তুমুল বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে যাই। অনেকটা ইচ্ছে করেই জড়াই। কারণ তার কাছে শেখার অনেক কিছুই আছে, যা তর্ক ছাড়া জানার উপায় নাই। যাইহোক, সে সব কথা পরে হবে।
রাজনীতির উপর নির্ভর করে একটা দেশের সকল মানুষের ভালো থাকা। আপনি, আমি, আমার যতই রাজনীতি থেকে দূরে থাকি না কেনো, দিন শেষে আমাদের ভালো থাকা নির্ভর করে রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের উপর।
সাধারণত সাধারণ মানুষ রাজনীতির মারপ্যাঁচ বুঝেনা। তারা চায় দুমুঠো খেয়ে পড়ে যতটুকু পারা যায় সুখে থাকতে। কিন্তু সেটা কোনো কালেই সম্ভব হয়ে উঠে না। ইংরেজ শাসন থেকে ভারত, ভারত থেকে পাকিস্তান, পাকিস্তান থেকে স্বাধীন বাংলাদেশ। মুক্তির উপর মুক্তি আসে। কিন্তু আসলে রাজনৈতিক বেড়াজালে অবরুদ্ধ হয়ে কোনো কালেই শান্তি আসেনা সাধারণ মানুষের জীবনে।
সকল কালে সকল রাজনীতিবিদ নিজ নিজ স্বার্থে বিষ ঢেলে চলেছে জনমনে। হোক সেটা এপারে কিংবা ওপারে। আজ অনেক দিন পর লিখতে বসেছি। হয়তো এই লেখা এলোমেলো হবে। টুকটাক ভুল হবে। আগেই ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। লিখতে বসলে অনেক অভিযোগ, অনেক প্রশ্ন চলে আসে। যার উত্তর শূন্য এবং কেবলই শূন্য রয়ে যায়।।
কাঁটাতারের গন্ডি-সীমারেখা পেরিয়ে আজও কিছু মানুষ একসাথে থাকতে চায়। কিন্তু সেটা কেবল চিন্তা বা কল্পনায় সম্ভব। আসলে সবাই একসাথে এক পৃথিবীতে থাকা গেলেও একই অঞ্চলে একসাথে থাকা সম্ভব না। এটাই বাস্তবতা।।
বাংলাদেশে একটা শক্তিশালী সরকার পতনের পর বাংলাদেশের আমজনতা, যারা কোনো প্রকার রাজনীতির সাথে যুক্ত নয়, তারা আজ কতটা সুখে আছে তা নাই বা বললাম। তবে যারা যারা পালিয়ে যাওয়া দলের সমর্থক ছিলো, তারা প্রায় সবাই অত্যাচারের মাঝেই আছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। হয়তো বা সেটা হওয়াটাই অনেকটা স্বাভাবিক। কিন্তু যারা সব সময় আমজনতার কাতারে ছিলো তারা কি আদৌ স্বস্তির দেখা পেয়েছে!!! একদমই না।।
লেবেনচুসের মতো বর্তমান দেশের হাল। শত শত আশার মুখে ইতিমধ্যে ছাই পড়েছে। স্বপ্ন দেখা অধিকাংশ মানুষ আবারও আক্ষেপে বলতে শুরু করেছে, এই দেশের কিচ্ছু হবে না। আক্ষেপ হওয়াটাই স্বাভাবিক। বৈষম্যহীন সমাজ দেখতে চাওয়া প্রতিটা মানুষ যখন সকল জায়গায় বৈষম্যের দেখা পায়, তখন তাদের মন এবং স্বপ্ন ভেঙে যাওয়াই স্বাভাবিক। নিরাপত্তাহীন মানুষের জীবন বলাটা কিন্তু একদম ভুল হবে না। আর ট্যাগিং কালচার কোথায় শেষ হবার কথা ছিল! সে জায়গায় এখন মূল বিষয় ট্যাগিং হয়ে দাঁড়িয়েছে।
লেবেনচুস-এর মতো সরকারী সব লোকজন। তারা সবকিছু আগের মতোই চুষে খাচ্ছে। সাধারণ মানুষদের জন্য তাদের কোনো ফিল মানে অনুভব আমি খুঁজে পাই নাই।।
অন্যদিকে চলে গিয়েছিলাম, দুঃখিত, প্রসঙ্গে আসি।
একহাতে যদি বাজতো তালি তবে কেন দুহাত লাগায়। আসলেই! একহাতে তালি বাজে না। তালি বাজে দুইহাত মিলে। ইন্ডিয়ার পক্ষ থেকে আজ তরুণদের মাঝে যে বিষের বীজ বপন করা হয়েছে, তা ধীরে ধীরে এক প্রকাণ্ড বৃক্ষে রূপান্তরিত হবে একসময়। একটা দীর্ঘ সময় যাবত ইন্ডিয়ার ছোঁবল থেকে খেলাধুলা এবং শিল্প-সংস্কৃতি কোন কিছুই আর রেহাই পাচ্ছে না। সূচনা পাকিস্তান থেকে শুরু হয়ে যা বর্তমান বাংলাদেশের মাঝে তুঙ্গ স্পর্শ করেছে।।
অনূর্ধ্ব ১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপে বাংলাদেশ বনাম ইন্ডিয়া খেলা ছিলো আজ। খেলার শুরুতে ইন্ডিয়ান ক্যাপ্টেন বাংলাদেশের ক্যাপ্টেনের সাথে হাত মিলায় নাই আজকে। যেমনটি তারা এর আগে করেছিলো পাকিস্তানের সাথে। ব্যাপারটা দেখে আমি খুব অবাক হলাম। অনূর্ধ্ব ১৯, যারা সবাই তরুণ, যারা আগামীর ভবিষ্যৎ। চারাগাছ। কি এমন ঘৃণার জন্ম হলো তাদের মাঝে! কি হবে তাদের ভবিষ্যতের সম্পর্ক। ভাবতেই গা ছমছম করে উঠলো।
কি এক ঘৃণা নিয়ে বেড়ে উঠবে তারা। কিসের জন্য এই ঘৃণা!! কারা খুব কৌশলে এমন ঘৃণার চারা পরম যত্নে পরিচর্যা করছে তাদের মনে। কি ভয়ানক হবে যখন এই চারা গাছ বৃক্ষের আকার নেবে।।
বাংলাদেশে যেমন ভারত বিদ্বেষী মিডিয়া হাইপ উঠেছে, তার থেকে শত গুণ বাংলাদেশ বিদ্বেষী বয়ান এবং নেরেটিভ তৈরি করে যাচ্ছে ইন্ডিয়ার মিডিয়া এবং সোশ্যাল মিডিয়া ব্যক্তিরা। বাংলাদেশকে হেও করার জন্য এমন কোনো শব্দ, বিষয় বাদ রাখেনি তারা। বেশির ভাগ ইন্ডিয়ানদের দাবি, তারা বাংলাদেশের জন্ম দিয়েছে। আসলে কি পরিমাণ হতবুদ্ধি হলে এইসব বয়ান প্রচার করা যায় তা বোঝার বাকি রাখে না।
বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি তার আত্ম মর্যাদা। এবং বাংলাদেশ কোনো কালেই ভারতের মুখাপেক্ষী নয়। বাংলাদেশ ভারত ছাড়া খুব ভালো ভাবেই সার্ভাইব করতে পারবে। তাই ভারতের উচিত হবে বাংলাদেশের সাথে সকল প্রকার সম্পর্কের ইতি টানা। সকল বাংলাদেশীদের ভারত থেকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দেয়া। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী সহ সবাইকে। কিন্তু তারা তা কোনো দিনও করবে না। কেনো করবেনা জানেন!! কারণ তারা নিজেরাই সন্ত্রাসী বানানোর কারখানা। পেলে পুষে আমাদেকে আমাদের বিরুদ্ধে লিলিয়ে দিবে তারা চিরকাল। ডিভাইড এড রুল। এটাই তাদের মাষ্টার প্ল্যান।।
বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি হচ্ছে আমরা ল্যান্ড লক কান্ট্রি নই। যেমন সেভেনে সিস্টার্স, নেপাল কিংবা ভুটান। অনেকই বলে ভারত আমাদের চার দিক থেকে ঘিরে রেখেছে, যা সম্পূর্ণ ভুল। আসলে তারা আমাদের তিন দিক থেকে ঘিরে রেখেছে এবং আমাদের চলাচলের জন্য স্বাধীন সমুদ্র বন্দর রয়েছে। যা ব্যবহার করে আমরা সারাবিশ্বের সাথে আমাদের বানিজ্য চালাতে সক্ষম।। যার মানে এই যে কোন দিক থেকেই আমরা ভারতের মুখাপেক্ষী নই।।
ব্যাপারটা যখন আত্ম সম্মানের তখন না চাইলেও এ-সব কথা বলতে হয়। বর্তমান বিজ্ঞান প্রযুক্তি ও ইন্টারনেটের যুগে দাদাদের দাদাগিরি মনভাব অনেক আদিম বস্তাপচা হয়ে গেছে। যার কোনো মূল্য নেই। তারা বন্ধু সুলভ আচরণ করলে আমরাও বন্ধু সুলভ আচরণ করব। তারা ঘৃণার চাষাবাদ করলে— জন্মসূত্রে আমরা কৃষক রে ভাই। চাষাবাদ আমাদের রক্তে। আমাদের থেকে ভালো চাষাবাদ মনে হয় না কোনো কালে কেউ করতে পারবে। এবং নদীমাতৃক বাংলাদেশে যে কোনো চাষাবাদের বাম্পার ফলন হয়। হোক সেটা ঘৃণা কিংবা ভালোবাসা। যা বলার অপেক্ষা রাখে না।।
একজন সাধারণ ভারতীয় এবং একজন সাধারণ বাংলাদেশী অনেক ভালো বন্ধু। তারা মিশুক এবং একে অপরের শুভাকাঙ্ক্ষী। কিন্তু কিছু বিষাক্ত লোকদের জন্য আজ তা প্রায় বিলুপ্ত প্রায়। বাংলাদেশ যে দুধের ধোঁয়া তুলসীপাতা তাও কিন্তু না। কিন্তু এ ক্ষেত্রে ভারতের দায় অনেক বেশি।
রাজনীতির ঘৃণার বীজ তরুণ ক্রিকেটারদের মাঝে আজ বপন করে ভারত যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করলো, তা ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য ঘোর অন্ধকার ছাড়া আর কিছু বয়ে আনবে না। শান্তি চাই এবং দুইদিক থেকেই চাই
ধিক্কার ও তিব্র নিন্দা জানাচ্ছি।
ক্রিকেটারদের প্রতি নয়, দুই দেশের রাজনীতির প্রতি।।
it's just beginning...
— Ajob Linkon.
২|
১৮ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৮:৫০
রিফাত হোসেন বলেছেন: ভারত-পাকি বা অন্য কোন দেশ... সবাই নিজের স্বার্থ ভাল বুঝে। আমাদের তাই করতে হবে। প্রতিবেশীদের সাথে ভাল সম্পর্ক রাখা উচিত। তাই বলে নিজের স্বার্থকে জলাঞ্জলী দিয়ে নয়। ভারত-চীনের সাথে সম্পর্ক সাপে-নেউলে অবস্থা কিন্তু বাণিজ্যিক কারণে তারা সীমান্তে গুলির বদলে পাথর দিয়ে যুদ্ধ করে! তবে পাকিস্তান-ভারত ব্যতিক্রম। তারা সেটা সেই পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছে। বাংলাদেশের উচিত শক্তিশালী পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করা কিন্তু নিজেকে বিক্রি করে নেয়। এখানে কেউ কারো বন্ধু নয়। এটা জাপান-চীন যেই বলুন। বন্ধু হতে না পারলেও শত্রু বানানো ঠিক নয়।
ভারতের মিডিয়া শক্তিশালী। সুতরাং আমাদের সামাজিক যোগাযোগ ও সংবাদ মাধ্যমকে সৎ ও আরো শক্তিশালী করতে হবে। যাতে করে আমরা বিশ্বকে সঠিক বার্তা দিতে পারি। আল জাজিরা একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ।
৩|
১৮ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১০:১৪
মোঃ মাইদুল সরকার বলেছেন: নিন্দা জানাই ভারতীয় ডিডিয়া ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেকে যারা বিষ ছড়াচ্ছে।
©somewhere in net ltd.
১|
১৮ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ৩:০৮
স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: দিন শেষে আমাদের ভালো থাকা নির্ভর করে রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের উপর।
...........................................................................................................
আমরা আজ অবধি শিক্ষিত হতে পালামনা
রাজনীতির ঘোরপ্যাচঁ ও বুঝলামনা
কারন হলো এখনো শতকরা ৮০% লোক খেত খামারে জীবিকা নির্ভর কল্পে
তাদের জীবনের সবটা সময় ব্যায় হয়ে যায়,
টাউট, বাটপারের রাজনীতি তাদের কাম্য নয় ।