নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

I ♥ MYSELF

আরোগ্য

পৃথিবী আজ তার বার্ধক্যে এসে পড়েছে, শৈশব পেরিয়ে যৌবন ও সে হারিয়েছে, তাই বৃথা আনন্দ করো না, ক্ষণিকের সময় হাতে, নশ্বর এ পৃথিবী যেন মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে। সে মৃত্যু আসার আগে আজ তীর্থে ভ্রমণ করো, পবিত্র জলে হে পৃথিবী তুমি অবগাহন করো, ধুয়ে ফেলো তোমার গায়ের শত কালিমা, সাজিয়ে নাও বিদায়ের আগে আবার আঙিনা।

আরোগ্য › বিস্তারিত পোস্টঃ

প্রকৃতি ও প্রবৃত্তি

১৪ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ৯:৩৪

প্রকৃতির নিয়মে আমি আপাদমস্তক অবরুদ্ধ ,
জন্ম হতে ঝরা অবধি পচনশীল দেহে আবদ্ধ ,
মানব নামক প্রাণীর মাঝে স্বভাব নামক ব্যধি,
পানির মত প্রবাহিত হয় ছোঁয়াচে থেকে মহামারী,
সহজ সরল মানুষ যখন ধূর্তের সাথে চলে,
ধূর্তামি তার শিরায় বহে, ধূর্তের স্বরে কথা বলে,
শিশুসুলভ মানুষ যখন কয়েদখানায় বন্দি,
খুনীর কাছে রপ্ত করে মানুষ খুনের ফন্দি,
পশুপাখি ক্ষুধার্ত থেকে ছানার মুখে তুলে আহার,
মানব নামক প্রাণীর শুধু ভোগবিলাসের বাহার ,
শত মানবের সমাবেশ থেকে একজন স্বর্গগামী,
কেন তবে নরকবাসীদের সাথে দিনরাত কোলাকুলি?

প্রবৃত্তির সাথে লড়াইয়ে বীর প্রতিনিয়ত ব্যস্ত,
কাম, ক্রোধ, লোভ, মোহ, মদ ও মাৎসর্য,
সর্বনাশী কাম তাড়নায় লাঞ্ছনা নামক ব্যধি,
অতি উৎসাহী জন সেই তাড়নায় হারায় দুকূল সবই,
ক্রোধ যেন এক অগ্নিশিখা ছুটে ঊর্ধ্বমুখী ,
সেই উত্তাপে আঁখি বুজে নিজেই মরল পুড়ি,
চারপাশে লোভী মানুষ যেন গুপ্ত চোরাবালি,
যাই রাখো তাতে সব গিলে খায় হয়না উদরপূর্তি
মোহ মায়ার রঙীন তীর যদি আসে কভু ছুটে,
দূরদর্শী তখন আত্মরক্ষায় বিবেকের ঢাল পড়ে,
মদ তথা গর্ব দম্ভ কেবল প্রভুর শোভার আভরণ ,
সেই আভাতে দৃষ্টি নিক্ষেপ ধৃষ্টতা ও সীমালঙ্ঘন,
পরের ধনে নিজের জলে যার নাম মাৎসর্য,
নিয়তিতে যা বরাদ্দ আছে তাই নিজের ঐশ্বর্য,
হতাশা নামক বিষাদাগারে যেখানে সকলে রুগ্ন,
চৌকস সেখানে জ্ঞান আহরণে নিজেকে রাখে মগ্ন,
মাতৃগর্ভ থেকে যাত্রা শুরু মৃত্তিকার গর্ভে শেষ,
ক্ষণিকের এই পথে কেন হাসির বদলে ক্লেশ?


মন্তব্য ১১ টি রেটিং +৫/-০

মন্তব্য (১১) মন্তব্য লিখুন

১| ১৪ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১০:২২

বাজ ৩ বলেছেন: চমৎকার কবিতা।ভাই।দেহের পিছনেই যার সমস্ত কষ্ট আর পরিশ্রম ব্যায় হয়,আত্মার কোনো খোজখরব নেয়না,পরিনামে তার ভগ্যে শুধু আফসোসই জুটবে।আর যারা আত্মশুদ্ধিতে মগ্ন আছে,নামাজ,মুরাকাবা ইবাদতে মগ্ন থাকে অধিকাংশ সময়ে,তার পরমাত্মা কবরের মধ্যেও হাসতে থাকবে,এবং আরো উজ্জল হবে।দুনিয়াতেও এই ধরনের মানুষ শান্তিতে থাকে।চমৎকার কবিতায় ২৫ +(প্লাস) রইলো

১৪ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:০০

আরোগ্য বলেছেন: কবিতা পাঠে সুন্দর অনুপ্রেরণামূলক মন্তব্য করার জন্য অনেক ধন্যবাদ।


১৮+ কথা তো আগে শুনেছি তবে ২৫+ বলতে কি বুঝায়, সেই প্রশ্নের উত্তর জানার আগ্রহ রইলো। আশা করি উত্তর দিয়ে জ্ঞাত করবেন।

২| ১৫ ই জানুয়ারি, ২০২৬ ভোর ৬:৫৩

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:



দারুন সুন্দর হয়েছে কবিতা। বেশ মনযোগ সহকারে মন্ত্র মুগ্ধের ন্যয় কবিতাটি পড়লাম।সত্যিই আপনার এই
প্রকৃতি ও প্রবৃত্তি কবিতাটি সমকালীন মানবজীবনের এক বহুমাত্রিক পাঠ, যেখানে সামাজিক বাস্তবতা, নৈতিক
সংকট ও আধ্যাত্মিক বিচ্যুতি একই সূত্রে গাঁথা। আপনি এখানে মানুষকে কেবল সামাজিক সত্তা হিসেবে নয়, বরং
আত্মিক ও প্রবৃত্তিগত দ্বন্দ্বে আবদ্ধ এক অস্তিত্ব হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। ফলে কবিতাটি একদিকে যেমন বাস্তব
সমাজচিত্রের প্রতিফলন, অন্যদিকে তেমনি মানুষের অন্তর্লোকের গভীর দার্শনিক অনুসন্ধান।

কবিতার সূচনায় মানুষকে মানব নামক প্রাণী হিসেবে চিহ্নিত করা এক প্রখর বস্তুনিষ্ঠ পর্যবেক্ষণ। এতে মানুষের
তথাকথিত সভ্যতার আড়ালে লুকিয়ে থাকা হিংস্রতা, স্বার্থপরতা ও সহিংস প্রবণতা নগ্ন হয়ে ওঠে। সামাজিক
পরিসরে এই প্রবৃত্তিগুলো যখন নিয়ন্ত্রণহীনভাবে প্রবাহিত হয়, তখন তা মহামারী‌’র রূপ ধারণ করে যেখানে অন্যায়
ও অবক্ষয় সংক্রামক ব্যাধির মতো সমাজকে গ্রাস করে।এই চিত্রায়ণ একই সঙ্গে সামাজিক বাস্তবতা ও আধ্যাত্মিক
অবক্ষয়ের ইঙ্গিত বহন করে।

কবিতাটির অন্যতম শক্তি হলো প্রবৃত্তিগুলোর প্রতীকী রূপায়ণ। কাম, ক্রোধ, লোভ, মোহ, মদ ও মাংস এসব
কেবল ব্যক্তিগত দুর্বলতা নয়; এগুলোকে আপনি মানবসভ্যতার অন্তর্গত ধ্বংসাত্মক শক্তি হিসেবে চিত্রিত করেছেন।
বস্তুনিষ্ঠভাবে এগুলো মানুষের আচরণকে বিপথে চালিত করে, আর দার্শনিকভাবে এগুলো আত্মার উপর ইন্দ্রিয় ও
অহংকারের আধিপত্যের প্রতীক। ক্রোধ আগ্নেয়গিরির মতো আত্মবিনাশী, লোভ চোরাবালির মতো অতৃপ্ত ও গ্রাসী,
আর মোহ দৃষ্টিহীনতার অন্ধকার যেখানে সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য লুপ্ত হয়।

এই কবিতায় প্রবৃত্তির বিপরীতে যে শক্তিটি নীরবে উপস্থিত, তা হলো বিবেক ও আত্মজ্ঞান। আপনি দেখিয়েছেন,
মানুষ যখন সহজ ও সরল পথ ছেড়ে ধূর্ততার সঙ্গে চলতে শুরু করে, তখন সে নিজের অন্তর্গত নৈতিক কণ্ঠস্বর
হারায়। আধ্যাত্মিক দৃষ্টিতে এটি আত্মবিস্মৃতি যেখানে মানুষ স্রষ্টা-নির্ধারিত প্রকৃতির পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে নফস
বা অহংয়ের দাসে পরিণত হয়। সামাজিকভাবে এই বিচ্যুতি জন্ম দেয় শোষণ, সহিংসতা ও মূল্যবোধের অবক্ষয়।

তবে এই কবিতাটি কেবল পতনের বর্ণনায় সীমাবদ্ধ নয়। হতাশা নামক বিদ্যালয় ও জ্ঞান আহরণে মগ্ন হওয়ার
চিত্রকল্পে আপনি ইঙ্গিত দেন যে পতনও এক প্রকার শিক্ষা। বস্তুনিষ্ঠভাবে এটি মানুষের জীবনসংগ্রামের বাস্তব
সত্য, আর আধ্যাত্মিকভাবে এটি আত্মশুদ্ধির সম্ভাবনাময় সূচনা। কিন্তু এই পথ সহজ নয়; এখানে প্রয়োজন সংযম,
ধৈর্য, বিবেক ও আত্মসংযোজন যা খুব কম মানুষই গ্রহণ করতে সক্ষম।

কবিতাটির শেষাংশে উত্থাপিত প্রশ্নগুলো এর দার্শনিক গভীরতাকে পরিপূর্ণতা দেয়। ক্ষতিকর এই পথে কেন
হাসির বদলে ক্রেশ? এই প্রশ্ন একদিকে সমাজের প্রতি অভিযোগ, অন্যদিকে আত্মার প্রতি আহ্বান। আপনি কোনো
সরাসরি উপদেশ দিচ্ছেন না; বরং কবিতাটির পাঠককে আত্মসমালোচনার মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছেন।
এতে করে মনে হল কবিতাটি নৈতিক উপদেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে এক অন্তর্মুখী আত্মজিজ্ঞাসায় রূপ নিয়েছে।

সব মিলিয়ে, প্রকৃতি ও প্রবৃত্তি একটি শক্তিশালী সমন্বিত কবিতা যেখানে সমাজবীক্ষণ, নৈতিক প্রতিবাদ ও
আধ্যাত্মিক অনুসন্ধান একসূত্রে মিলিত হয়েছে। এটি আমাদের দেখায়, মানুষের প্রকৃত সংকট বাহিরের নয়;
সংকট নিহিত তার নিজের প্রবৃত্তির অনিয়ন্ত্রিত আধিপত্যে।এই কবিতা ামাদেরকে শুধু ভাবায় না, বরং নিজের
জীবনপথ ও আত্মিক অবস্থান নতুন করে বিবেচনা করতে বাধ্য করে এটাই এর সবচেয়ে বড় সার্থকতা।

যথাযথ শব্দ সম্ভার এক্রিত করে পযথোপযুক্ত শব্দ/কথার পর কথা সাজিয়ে এমন একটি কবিতা লেখা সত্যিই খুব
দুরুহ ব্যপার। মনে করে দেয় কবি গুরুর ভাষা ও ছন্দ কবিতার কথা, সেখানে আদি মহাকবি বাল্মিকী 'তমসা' নদীর
তীরে বসে প্রকৃতির রূপ ও জীবনের গভীরতাকে অনুভব করছেন । উল্লেখ্য সেখানে বাল্মিকি প্রকৃতির দান পাখী
ক্রৌঞ্চকে শীকারীর তীরে বিদ্ধ হওয়ার পর ক্রৌঞ্চীর মর্মব্যথা অনুভবে শিকারীর হিংস প্রবৃত্তির প্রতি দৃষ্টি দিয়ে
নতুন ছন্দের সন্ধানে মগ্ন হয়ে লিখে ছিলেন মহাকাব্য রামায়ন ।

সুন্দর বহুমুখী অর্থবোধক কবিতাটির জন্য ধন্যবাদ ।

শুভেচ্ছা রইল ।

১৫ ই জানুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১:২১

আরোগ্য বলেছেন: এতো বিশ্লেষণাত্মক চমৎকার একটি মন্তব্য পেয়ে প্রীত হলাম। আমার লেখাটি কারো বোধগম্য না হলে আপনার এই মন্তব্যটি তাকে সাহায্য করবে।

কবিতায় এখন হাত দিতে চাই না, মূলত লেখালেখি আপাতত কিছু সময় স্থগিত রাখতে চাইছি। কিন্তু গতকাল সন্ধ্যার পর হঠাৎ কেন জানি এ কবিতা শব্দ বন্দি করতে বসলাম। ইদানীং মাথার ভিতর শব্দের খেলা ঘুরপাক খায়। একদিন আমার এক স্যার আমাকে জিজ্ঞেস করছি আমি কোন ছন্দে লিখি তখন খুবই বিব্রত বোধ হয়েছিল। মূলত কবিতার সংজ্ঞায় আমি সেই উক্তিটি পছন্দ করি যা সম্ভবত William Wordsworth এর, "...spontaneous overflow of powerful feelings. " যে কোন ধরনের লেখার সময় আমার কাছে উপযুক্ত শব্দ চয়নটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আর কবিতার ক্ষেত্রে তা আরও বেশি অর্থ বহন করে। গদ্য লেখায় অনেক বেশি শব্দ আনা যায় কিন্তু পদ্যের বেলায় আমি মনে করি যত কম সংখ্যক শব্দ ব্যবহার করে অলংকারের মাধ্যমে ভাবনার গভীরতা তুলে ধরা। জানিনা এই লেখায় তা কতটা ধারন করতে পেরেছি কিন্তু আপনার মন্তব্য পড়ে তা সার্থক মনে হচ্ছে।

অনেক ধন্যবাদ রইলো।

৩| ১৫ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৯:৪৪

রাজীব নুর বলেছেন: কবিতা পাঠ করিলাম।

১৫ ই জানুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১:২৩

আরোগ্য বলেছেন: আচ্ছা।

৪| ১৫ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৫১

বাজ ৩ বলেছেন: ভাই (২৫+) মানে হলে,এই কবিতা পঁচিশ বছরের উর্ধ্বের মানুষ পুরোপুরি বুজতে পারবে,এর নিচের মানুষেরা পুরো বুজতে পারবেনা।কথাটা একটু মকা করলাম।আসলে আমি ২৫ টি লাইক দিয়ুেছিলাম।মিডিয়ামে এককন ৫০+ লাইক দিতে পারে কিন্তু,সামুতে দেওয়া যায়না।এজন্য টাইপ করে উঠিয়ে দিলাম।ধন্যবাম আমার কমেন্টের সুন্দর জবাব দেওয়ার জন্য

১৫ ই জানুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১:২৮

আরোগ্য বলেছেন: তাই যদি হয় তবে আমি বলবো এটা ৪০+ কবিতা, কারণ ৪০ এর পর মানুষের বুদ্ধি পরিপক্ব হয় তখন জীবনের বাস্তবতা আরো ভালো করে বোধ হয়। সে যাই হোক আপনার ২৫/৫০+ লাইকের জন্য আমার তরফ থেকে বিশেষ ধন্যবাদ।

৫| ১৫ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৫২

বাজ ৩ বলেছেন: সরি মজা করেই বলেছিলাম কথাটা

১৫ ই জানুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১:২৯

আরোগ্য বলেছেন: ঠিক আছে, মজা হিসেবে নিলাম।

৬| ১৫ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১১

নতুন নকিব বলেছেন:



গভীর মনোযোগের সাথে পাঠ করলাম। সুন্দর ভাবনা উঠে এসেছে কবিতায়। মানুষ প্রকৃতির নিয়মে জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত ক্ষয়িষ্ণু দেহে আবদ্ধ। কিন্তু মানবসমাজে প্রবৃত্তি (স্বভাব) ও ষড়রিপু (কাম, ক্রোধ, লোভ, মোহ, মদ, মাৎসর্য) মহামারীর মতো ছড়িয়ে পড়ে। মানুষ সহজ-সরল থেকে ধূর্ততা, হিংসা, খুন-খারাবি শিখে নেয়, পশুদের তুলনায় শুধু ভোগ-বিলাসে মত্ত থাকে।

একদিকে খুব কম মানুষই সৎ ও জান্নাতগামী হয়, অন্যদিকে নরকীয় প্রবৃত্তির সঙ্গে দিনরাত মিশে থাকে। প্রবৃত্তির এই ছয় শত্রুর সঙ্গে প্রতিনিয়ত লড়াই করতে হয়। অতিরিক্ত কাম লাঞ্ছনা ডেকে আনে, ক্রোধ নিজেকে পুড়িয়ে মারে, লোভ কখনো তৃপ্ত হয় না, মোহ মায়ায় ফেলে, মদ (অহংকার) সীমালঙ্ঘন ঘটায়, আর মাৎসর্য (হিংসা) পরের সুখ দেখে জ্বলে।

জীবনের এই ক্ষণিক পথে কেন হাসির বদলে শুধু ক্লেশ, বিষাদ আর যন্ত্রণাই বেশি?

অত্যন্ত গভীর, চিন্তাশীল ও মানবপ্রকৃতির কঠোর সত্য উন্মোচনকারী একটি সুন্দর কবিতা লিখেছেন।
অসংখ্য ধন্যবাদ এত সুন্দর করে মনের কথা প্রকাশ করার জন্য।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.