| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
মহাজাগতিক চিন্তা
একদা সনেট কবি ছিলাম, ফরিদ আহমদ চৌধুরী ছিলাম, এখন সব হারিয়ে মহাচিন্তায় মহাজাগতিক চিন্তা হয়েছি। ভালবাসা চাই ব্লগারদের, দোয়া চাই মডুর।
সূরাঃ ৩১ লোকমান, ১২ নং আয়াতের অনুবাদ-
১২। আমরা লোকমানকে হিকমাত দান করেছিলাম এবং বলেছিলাম যে আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর।যে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে সে তো তা’ করে নিজের জন্য। আর কেউ অকৃতজ্ঞ হলে আল্লাহ তো ধনি ও প্রশংসিত।
* হযরত লোকমানকে আল্লাহ চিকিৎসাহিকমাত দিয়েছেন। তাঁর থেকে বড় হিকমাত সামরিক হিকমাত দিয়েছেন আল্লাহ মহানবিকে (রা.)। এর মাধ্যমে মুসলিমগণ মুসলিম শাসন পায়। মুসলিমদের জন্য মুসলিম শাসন কতটা জরুরী সেটা আমরা ভারতের হিন্দু শাসন দেখে বুঝতে পারি। মহানবরি (সা.) পর হযরত ইব্রাহীম (আ.) ও মহানবরি (সা.) আহলে বাইত আব্বাসীয় মুসলিম বিশ্ব আমির খলিফাগণ ও তাঁদের অনুসারি তুর্কী হানাফী সুলতানগণ বারশত বছর সামরিক হিকমাত সমৃদ্ধ ছিলেন। তাঁরা মুসলিমদের বিশাল রাষ্ট্র শাসন করেছেন। রাসূল (সা.) অসংকলিত অভিন্ন ফিকাহ প্রচার করেছেন। এটি বাদ দিয়ে সাহাবায়ে কেরাম (রা.) হাদিস প্রচার করেন। তাঁদের সাথে মোনাফেক নিজেদের কথাকে হাদিস হিসাবে প্রচার করে মহানবির (সা.) অভিন্ন ফিকাহ নষ্ট করে। অভিন্ন ফিকাহ নষ্ট হওয়ার কারণে মুসলিম বহু দলে বিভক্ত হয়। তখন ইমাম আবু হানিফা অভিন্ন ফিকাহ সংকলন করেন। হযরত ইব্রাহীম (আ.) ও মহানবরি (সা.) আহলে বাইত আব্বাসীয় মুসলিম বিশ্ব আমির খলিফা হারুনুর রশিদ ইমাম আবু হানিফার (র.) অভিন্ন ফিকাহ পরিশোধন করে হানাফী মাযহাব নামে অনুমোদন করলে দুই তৃতীয়াংশ মুসলিম এর অনুসারী হয়। এরপর ছিয়াশি মুসলিম বিশ্ব আমির হানাফী মাযহাবের অনুসারী হয়। হানাফী বিরোধীদের অনুসারী নয় কোন মুসলিম বিশ্ব আমির। রাসূলের (সা.) পর আল্লাহ মুসলিম বিশ্ব আমিরের অনুসরন ফরজ করায় মুসলিম বিশ্ব আমিরের অনুসারি হানাফী হেদায়াত প্রাপ্ত এবং তাঁদের বিরোধীরা পথভ্রষ্ট ও জাহান্নামী। তাদের বিভ্রান্ত হওয়ার কারণ তারা মুসলিমদের মাঝে বিভেদ সৃষ্টিকারী।তাদের কোন নেতা মুসলিমদের বিশ্ব শাসক নয়। যেমন এখন সৌদি বাদশা, ইরানের ইমাম, আফগান আমির মুসলিমদের বিশ্ব শাসক নয়। রাসূল (সা.) মুসলিমদের বিশ্ব শাসক ছিলেন। তিনি মুসলিমদেরকে ঐক্যবদ্ধ রেখেছেন। আঞ্চলিক শাসক মুসলিমদেরকে ভিন্ন ভিন্ন দলে বিভক্ত করে। সেজন্য আঞ্চলিক শাসকদের ইসলাম ঐক্যবদ্ধ ইসলাম নয়। আল্লাহ ঐক্যবদ্ধ ইসলামের কথাও বলেছেন।
সূরাঃ ৩১ লোকমান, ২ নং থেকে ৫ নং আয়াতের অনুবাদ-
২। এগুলি জ্ঞানগর্ভ কিতাবের আয়াত।
৩। পথ-নির্দেশ ও দয়াসরূপ সৎকর্ম পরায়নদের জন্য।
৪। যারা সালাত কায়েম করে, যাকাত দেয়, আর তারাই আখিরাতে নিশ্চিত বিশ্বাসী।
৫। তারাই তাদের প্রতিপালকের নির্দেশিত পথে আছে এবং তারাই সফলকাম।
* কোরআনের পথ-নির্দেশ হলো অভিন্ন ফিকাহ। এর পরিবর্তে আয়াত মানসুখ ও হাদিস বাতিল হয়। আল্লাহ সত্যবাদীগণের সাথে থাকতে আদেশ করেছেন। রাসূল (সা.) থেকে একমাত্র সত্যবাদী খেতাব প্রাপ্ত ছিলেন হযরত আবু বকর (রা.)। তাঁর বিরোধী হযরত আলী (রা.) ছিলেন পশুপ্রধানের খেতাব প্রাপ্ত। অভিন্ন ফিকায় হযরত আবু বকর (রা.) খলিফা হলে হযরত আলী (রা.) এর বিরোধীতা করে। অভিন্ন ফিকাহের পরিবর্তে বাতিল হওয়া হাদিস দিয়ে হযরত আলী (রা.) হযরত আবু বকরের (রা.) খেলাফতের বিরোধীতা করেন।আল্লাহ তিনি ও তাঁর আহলে বাইতের যারা হযরত আবু বকরের (রা.) খেলাফতে অসন্তুষ্ট তাঁদের হত্যাকান্ডের ব্যবস্থা করেন। ইদানিং এ ধারায় হযরত আলীর (রা.) আহলে বাইত ইমাম আলী খামেনী নিহত হন। তবে হযরত আলীর (রা.) আহলে বাইতের যারা হযরত আবু বকরের (রা.) খেলাফতের বিরোধী নন অন্য কোন কারণ না থাকলে তাঁরা হত্যাকান্ডের বাইরে থাকছেন। হানাফীরা হযরত আবু বকরের (রা.) খেলাফতের অকুন্ঠ সমর্থক। আল্লাহ তাদেরকে রহমত ও বরকতে মুড়িয়ে দিয়েছেন। হযরত ইব্রাহীম (আ.) ও মহানবরি (সা.) আহলে বাইত আব্বাসীয় মুসলিম বিশ্ব আমির খলিফাগণ ও তাঁদের অনুসারি তুর্কী হানাফী সুলতানগণ প্রায় বারশত বছর মুসলিম বিশ্ব শাসন করেছে। এখনো তুর্কী হানাফীরা বীর। তাদের বখতিয়ার মাত্র সতেরজন সৈন্য নিয়ে বাংলা জয় করেন।এখন বাংলাদেশীরা একটি হানাফী সংখ্যাগরিষ্ট মুসলিম রাষ্ট্র। যারা গেরিলা যুদ্ধে বিশ্বসেরা। হানাফী আফগান অজেয় এবং হানাফী পাকিস্তান আনবিক শক্তির অধিকারী। সামরিক শক্তির হিকমাত প্রাপ্তদের ধারে কাছেও অহানাফী কোন পক্ষ নাই। তাহলে তারা হেদায়াতে আছে সেটা কিভাবে বলা যায়?
সূরাঃ ৩১ লোকমান, ১৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৩। স্মরণ কর, যখন লোকমান উপদেশাচ্ছলে তার পুত্রকে বলেছিল, হে পুত্র! আল্লাহর সাথে শিরক করবে না। নিশ্চয়ই শিরক সবচেয়ে বড় জুলুম।
* অহানাফী সালাফী পক্ষ আল্লাহকে আরশে সীমাবদ্ধ করে সীমাবদ্ধদের কাতারে আল্লাহকে শরিক করে শির্কে লিপ্ত হয়। হানাফীরা এধরণের শির্কের থেকে মুক্ত। তারা বলে আল্লাহ তাঁর আরশ হতে অসীমে বিদ্যমাণ। তিনি নভমন্ডল ও ভূমন্ডলের নূর। কোন নাপাক নূরকে স্পর্শ করতে পারে না বলে আল্লাহ পবিত্র। আল্লাহ মানুষের সাথেই থাকেন। মানুষ টয়লেটে প্রবেশ করতে আল্লাহকে এর বাইরে রেখে যায় না। তবে টয়লেটে মানুষকে নাপাক স্পর্শ করতে পারলেও টয়লেটের নাপাক আল্লাহকে স্পর্শ করতে পারে না। টয়লেটে আল্লাহ থাকতে পারেন না বলে সালাফীরা মানুষকে বিভ্রান্ত করে।
সূরাঃ ৩১ লোকমান, ১৫ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫। তোমার পিতা-মাতা যদি আমার সমকক্ষ দাঁড় করাতে তোমার সাথে জিহাদ করে যে বিষয়ে তোমার কোন জ্ঞান নেই।তাহলে তুমি তাদের কথা মানবে না, তবে পৃথিবীতে তাদের সাথে সদভাবে বসবাস করবে এবং যে বিশুদ্ধ চিত্তে আমার অভিমুখী হয়েছে তার পথ অবলম্বন কর, অতঃপর তোমাদের প্রত্যাবর্তন আমারই নিকট এবং তোমরা যা করতে আমি সে বিষয়ে তোমাদেরকে অবহিত করব।
* আল্লাহকে আরশে সীমাবদ্ধ করা হলে সীমাবদ্ধকে আল্লাহর সমকক্ষ করা হয়। বাস্তবে আরশ থেকে নূরের মাধ্যমে আল্লাহ অসীমে বিস্তৃত। নূরের মাধ্যমে তিনি মানুষের ঘাড়ের নিকটেও বিদ্যমাণ। নূরের মাধ্যমে আল্লাহ সর্বত্র বিরাজমাণ তো বটেই এমনকি তিনি সর্বত্রের বাইরেও বিদ্যমাণ। কারণ আল্লাহ সর্বত্রের থেকেও বড়। যারা আল্লাহকে আরশে সীমাবদ্ধ করে তারা আল্লাহকে ছোট করে। এসব ঘৃণিত আকিদা থেকে হানাফীরা মুক্ত।
সূরাঃ ৩১ লোকমান, ১৬ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৬। হে পুত্র! ক্ষুদ্র বস্তুটি যদি সরিষার দানা পরিমাণও হয় এবং উহা যদি থাকে শিলাগর্ভে অথবা আকাশে কিংবা মাটির নীচে, আল্লাহ তাও উপস্থিত করবেন।আল্লাহ সূক্ষ্মদর্শী, সম্যক অবগত।
* আল্লাহর জ্ঞান ও উপলব্ধি ভরাট বস্তুর ভিতরেও পৌঁছে যায়্ এভাবে তিনি সকল ক্ষেত্রে সব চেয়ে বড়। তাঁকে কোন কিছুর সমাণ করা সবচেয়ে বড় অপরাধ। হানাফীরা আল্লাহকে কোন কিছুর সমান বা তাঁকে কোন কিছু থেকে ছোট বলে না। সাধারণত তিনি নিরাকার। আকারে অসীমত্ত না থাকায় এটি আল্লাহর পছন্দ নয়। তবে বান্দার সাথে দেখা দেওয়ার প্রয়োজনে আল্লাহ আকার ধারণ করে নূরের মাধ্যমে নিজের অসীমত্ত প্রকাশ করবেন।
সূরাঃ ৩১ লোকমান, ২৭ নং আয়াতের অনুবাদ-
২৭। পৃথিবীর সমস্ত বৃক্ষ যদি কলম হয় আর সমূদ্র হয় কালি এবং এর সাথে আরো সাত সমূদ্র যুক্ত হয় তবু আল্লাহর কথা শেষ হবে না। আল্লাহ পরাক্রমশালী প্রজ্ঞাময়।
* যাঁর প্রশংসা অসীম তিনি অসীম নন এটি অবাস্তব চিন্তা। আল্লাহ আরশ থেকে নূরের মাধ্যমে অসীমত্বে বিরাজমাণ। আল্লাহ উপরে মানে তাঁর প্রধান অবস্থান উপরে। আকাশ ও জমিনে কুরসিতে তাঁর পা বিদ্যমাণ। কেউ যেখানেই সেজদা করুক না কেন সে আল্লাহর পায়ে সিজদা করে।ভরাট বস্তুর ভিতরে আল্লাহর নূর প্রবেশ করতে পারে বিধায় ভরাট বস্তুর ভিতরেও আল্লাহ দেখতে পান। আল্লাহকে হানাফীদের অসমি বিশ্বাস একটি বিশুদ্ধ বিশ্বাস। যারা আল্লাহকে অসীম থেকে ছোট করে তারা আল্লাহর অসীমত্বের কুফরী করে। হানাফীরা এ ধরণের কুফুরী থেকে মুক্ত।
সূরাঃ ৩১ লোকমান, ৩৪ নং আয়াতের অনুবাদ-
৩৪। কিয়ামতের জ্ঞান কেবল আল্লাহর নিকট রয়েছে, তিনি বৃষ্টি বর্ষণ করেন এবং তিনি জানেন যা জরায়ুতে আছে। কেউ জানে না আগামী কাল সে কি অর্জন করবে এবং কেউ জানে না কোন স্থানে তার মৃত্যু ঘটবে।নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সবিশেষ অবহিত।
* আল্লাহ সব কিছু জানেন। যারা সসীম তারা সব কিছু জানে না। আল্লাহ তাদের মত নন বিধায় তিনি তাদের মত সসীম নন। যেহেতু তিনি সসীম নন সেহেতু তিনি অসীম। তাঁকে অসীম বলা তাঁকে সম্মান করা, তাঁকে সসীম বলা হলো সসীমের সাথে তাঁর শিরক করা। হানাফীরা হলো শিরক থেকে মুক্ত একনিষ্ঠ । আর একনিষ্ঠের আরবী হলো হানাফী। তাদের সাথে না থেকে কারো পক্ষে সঠিক থাকা সম্ভব নয়।
০৬ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:২৭
মহাজাগতিক চিন্তা বলেছেন: আমি যে প্রমাণ দিয়েছি অন্য মাজহাবের মানুষ সে প্রমাণ দিতে পারবে না। কারণ কোরআনে শুধুমাত্র একটি মাজহাবের সঠিকতার প্রমাণ আছে। সেজন্য আমি ২০১৬ সাল থেকে এমন প্রমাণ দিয়ে যাচ্ছি কিন্তু কেউ আমার বিরোধীতা করছে না।
২|
০৬ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৮
মহাজাগতিক চিন্তা বলেছেন:
ইসলাম আল্লাহ, রাসূল ও সাহাবায় (রা.) সমাপ্ত নয়, বরং এটি আমির ও ওলামা পর্যন্ত বিস্তৃত
সূরাঃ ২, বাকারা। ১০৬ নং আয়াতের অনুবাদ-
১০৬। আমরা কোন আয়াত মানসুখ বা রহিত করলে অথবা ভুলে যেতে দিলে তা’হতে উত্তম বা তার সমতুল্য কোন আয়াত আমরা প্রদান করে থাকি।তুমি কি জান না যে আল্লাহ সর্ব বিষয়ে সর্ব শক্তিমান।
সূরাঃ ৫৩ নাজম, ৩ নং ও ৪ নং আয়াতের অনুবাদ-
৩। আর সে মনগড়া কথা বলে না।
৪। এটাতো ওহি যা তার প্রতি ওহি হিসেবেই পাঠানো হয়।
সূরাঃ ৬২ জুমুআ, ২ নং আয়াতের অনুবাদ।
২। তিনিই উম্মীদের মধ্যে একজন রাসুল পাঠিয়েছেন তাদের মধ্য হতে, যে তাদের নিকট আবৃত করে তাঁর আয়াত সমূহ; তাদেরকে পবিত্র করে এবং শিক্ষা দেয় কিতাব ও হিকমত; এর আগে তো এরা ছিল ঘোর বিভ্রান্তিতে।
সূরাঃ ৪ নিসা, ৫৯ নং আয়াতের অনুবাদ-
৫৯। হে মুমিনগণ! যদি তোমরা আল্লাহ ও আখিরাতে বিশ্বাস কর তবে তোমরা (ইতায়াত) আনুগত্য কর আল্লাহর, আর (ইতায়াত) আনুগত্য কর রাসুলের, আর যারা তোমাদের মধ্যে আমির।কোন বিষয়ে তোমাদের মধ্যে বিরোধ দেখাদিলে উহা উপস্থাপিত কর আল্লাহ ও রাসুলের নিকট। ওটা উত্তম এবং পরিনামে ভাল।
সূরাঃ ৩৫ ফাতির, ২৮ নং আয়াতের অনুবাদ-
২৮। এভাবে রং বেরং- এর মানুষ, জন্তু ও আন’আম রয়েছে। নিশ্চয়ই আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে (ওলামা) আলেমরাই তাঁকে ভয় করে।নিশ্চয়্ই আল্লাহ পরাক্রমশালী ক্ষমাশীল।
* কোরআন ও এর বিবরণ হাদিস এবং এ দু’টির শিক্ষার্থী সহাবার (রা.) আমলে কোরআন-হাদিসের মানসুখ তালিকা নাই। সুতরাং এর জন্য আমির ওলামার অভিমুখী না হয়ে উপায় নাই। যারা আমির ওলামার অভিমুখী হওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে ইসলামকে আল্লাহ, রাসূল (সা.) ও সাহাবায় (রা.) সীমাবদ্ধ করে তারা জন্তু ও আনআম (গবাদি পশু) সদৃস রং বেরং- এর মানুষ। এরা সরল-সাদা জান্নাতী মানুষ নয়।
সূরাঃ ৩৫ ফাতির, ৪৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
৪৩। পৃথিবীতে অহংকার প্রকাশ এবং কূট ষড়যন্ত্রের কারণে (অকল্যাণ)।কূট ষড়যন্ত্র এর আহলকে(এর সাথে সংযুক্ত সকল ব্যক্তি) পরিবেষ্ঠন করে। তবে কি এরা অপেক্ষা করছে পূর্ববর্তীদের সুন্নতের? কিন্তু তুমি আল্লাহর সুন্নাতে কখনও কোন পরিবর্তন পাবে না এবং আল্লাহর সুন্নতে কোন ব্যতিক্রমও দেখবে না।
সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতাম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে তাঁর পথ হতে বিচ্ছিন্ন করবে। এভাবে আল্লাহ তোমাদেরকে নির্দেশ দিলেন যেন তোমরা সাবধান হও।
সূরা: ৯ তাওবা, ১২২ নং আয়াতের অনুবাদ-
১২২। আর মু’মিনদের এটাও উচিৎ নয় যে (জিহাদের জন্য) সবাই একত্রে বের হয়ে পড়বে। সুতরাং এমন কেন করা হয় না যে, তাদের প্রত্যেক বড় দল হতে এক একটি ছোট দল (জিহাদে) বের হয় যাতে অবশিষ্ট লোক ফিকাহ (দীনের গভীর জ্ঞান) অর্জন করতে থাকে। আর যাতে তারা নিজ কওমকে ভয় প্রদর্শন করে, যাতে তারা সাবধান হয়।
সূরা: ৪৫ জাছিয়া, ৬ নং আয়াতের অনুবাদ-
৬। এগুলি আল্লাহর আয়াত, যা আমি তোমার নিকট যথাযথভাবে তিলাওয়াত করছি। সুতরাং আল্লাহর এবং তাঁর আয়াতের পরিবর্তে তারা কোন হাদিসে বিশ্বাস করবে?
* আল্লাহর সুন্নাত অভিন্ন ফিকাহ আল্লাহর বিধান। এর পরিবর্তে আয়াত মানসুখ ও হাদিস বাতিল। রাসূল (সা.) অভিন্ন ফিকাহ প্রচার করলেও সাহাবা প্রচার করেন হাদিস। এদিকে মোনাফেক নিজের কথাকে হাদিস হিসাবে প্রচার করলে রাসূল (সা.) প্রচারিত অভিন্ন ফিকাহ নষ্ট হয়। নষ্ট অভিন্ন ফিকাহের অনুসারি মুসলিম বহু দলে বিভক্ত হয়।
সূরাঃ ৬২ জুমুআ, ২ নং থেকে ৪ নং আয়াতের অনুবাদ।
২। তিনিই উম্মীদের মধ্যে একজন রাসুল পাঠিয়েছেন তাদের মধ্য হতে, যে তাদের নিকট আবৃত করে তাঁর আয়াত সমূহ; তাদেরকে পবিত্র করে এবং শিক্ষা দেয় কিতাব ও হিকমাত; এর আগে তো এরা ছিল ঘোর বিভ্রান্তিতে।
৩। আর তাদের আখারিনের (অন্যান্য) জন্যও যারা এখনো তাদের সহিত মিলিত হয়নি। আল্লাহ পরাক্রমশালী প্রজ্ঞাময়।
৪। ওটা আল্লাহরই অনুগ্রহ, যাকে ইচ্ছা তিনি ওটা দান করেন। আর আল্লাহ তো মহা অনুগ্রহশীল।
* আল্লাহর অনুগ্রহে তাবে তাবেঈ যুগে অভিন্ন ফিকাহ চালুর সময় নির্ধারিত হয়। তার আগে ইমাম আবু হানিফা (রা.) কর্তৃক অভিন্ন ফিকাহ সংকলিত হয়। তার আগে সাহাবার জন্য রাসূলের (সা.) মান্যতা এবং তাবেঈর জন্য সহাবার (রা.) মান্যতা সাব্যস্ত হয়।
সূরাঃ ২ বাকারা, ১২৪ নং আয়াতের অনুবাদ-
১২৪। আর যখন তোমার প্রতিপালক ইব্রাহীমকে কয়েকটি বাক্য (কালিমাত) দ্বারা পরীক্ষা করেছিলেন, পরে সে তা পূর্ণ করেছিল; তিনি বললেন নিশ্চয়ই আমি তোমাকে মানব জাতির ইমাম বানাব; সে বলেছিল আমার বংশধরগণ হতেও; তিনি বলেছিলেন, আমার প্রতিশ্রুতি জালেমদের প্রতি প্রযোজ্য হবে না।
সূরাঃ ১১ হুদ, ৬৯ নং থেকে ৭৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
৬৯। আমার ফিরিশতাগণ তো সুসংবাদ নিয়ে ইব্রাহীমের নিকট এসেছিল। তারা বলল, সালাম, সেও বলল, সালাম।সে অবিলমন্বে এক কাবাবকৃত গো-বৎস নিয়ে আসলো।
৭০। সে যখন দেখলো তাদের হাত এর দিকে প্রসারিত হচ্ছে না, তখন সে তাদেরকে অবাঞ্চিত মনে করলো এবং তাদের সম্বন্ধে তার মনে ভীতি সঞ্চার হলো। তারা বলল, ভয় করবে না, আমরা তো লুতের সম্প্রদায়ের প্রতি প্রেরিত হয়েছি।
৭১। তার স্ত্রী দন্ডায়মান ছিল। অতঃপর সে হেসে ফেলল। অতঃপর আমি তাকে ইসহাকের এবং তার পরবর্তী ইয়াকুবের সুসংবাদ দিলাম।
৭২। সে বলল, কি আশ্চর্য! সন্তানের জননী হব আমি? যখন আমি বৃদ্ধা এবং আমার স্বামী বৃদ্ধ! এটা অবশ্যই এক অদ্ভুত ব্যাপার!
৭৩। তারা বলল আল্লাহর কাজে তুমি বিস্ময় বোধ করতেছ? হে আহলে বাইত তোমাদের প্রতি রয়েছে আল্লাহর রহমত ও বরকত । তিনিতো প্রশংসিত সম্মানিত।
সূরাঃ ৩৩ আহযাব, ৩২ নং ও ৩৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
৩২। হে নবী পত্নিগণ! তোমরা অন্য নারীদের মত নও। যদি তোমরা আল্লাহকে ভয় কর তবে পর পুরুষের সহিত কোমল কন্ঠে এমনভাবে কথা বলবে না, যাতে অন্তরে যার ব্যাধী আছে, সে প্রলুব্ধ হয়। আর তোমরা ন্যায় সঙ্গত কথা বলবে।
৩৩। আর তোমরা নিজগৃহে অবস্থান করবে এবং প্রচীন যুগের মত নিজদিগকে প্রদর্শন করে বেড়াবে না।তোমরা সালাত কায়েম করবে ও যাকাত প্রদান করবে। আর আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অনুগত থাকবে। হে আহলে বাইত (নবি পরিবার)! নিশ্চয়ই আল্লাহ চান তোমাদের থেকে অপবিত্রতা দূর করতে এবং তোমাদেরকে সম্পূর্ণরূপে পবিত্র করতে।
সূরাঃ ৩ আলে-ইমরান, ১০৫ নং আয়াতের অনুবাদ-
১০৫। তোমরা তাদের মত হবে না যারা তাদের নিকট সুস্পষ্ট প্রমাণ আসার পর বিচ্ছিন্ন হয়েছে ও নিজেদের মাঝে মতভেদ সৃষ্টি করেছে। তাদের জন্য মহাশাস্তি রয়েছে।
সূরাঃ ৮ আনফাল, ৬০ নং আয়াতের অনুবাদ-
৬০। তোমরা তাদের মোকাবেলার জন্য যথাসাধ্য শক্তি ও অশ্ব-বাহিনী প্রস্তত রাখবে। এর দ্বারা তোমরা সন্ত্রস্ত রাখবে আল্লাহর শত্রুকে, তোমাদের শত্রুকে, এছাড়া অন্যদেরকে যাদের সম্পর্কে তোমরা জাননা, আল্লাহ জানেন।আল্লাহর পথে তোমরা যা ব্যয় করবে এর পূর্ণ প্রতিদান তোমাদেরকে দেওয়া হবে এবং তোমাদের প্রতি জুলুম করা হবে না।
সূরাঃ ৮ আনফাল, ৬৫ ও ৬৬ নং আয়াতের অনুবাদ-
৬৫। হে নবি! মু’মিন দিগকে যুদ্ধের জন্য উদ্বুদ্ধ কর। তোমাদের মধ্যে কুড়িজন ধৈর্যশীল থাকলে তারা দুইশতজনের উপর বিজয়ী হবে।তোমাদের মধ্যে একশত জন থাকলে এক হাজার কাফিরের উপর জয়ী হবে।কারণ তারা বোধশক্তিহীন সম্প্রদায়।
৬৬। আল্লাহ এখন তোমাদের ভার লাঘব করলেন।তিনিতো অবগত আছেন যে তোমাদের মধ্যে দূর্বলতা আছে।সুতরাং তোমাদের মধ্যে একশত জন ধৈর্যশীল থাকলে তারা দুইশতজন উপর বিজয়ী হবে।তোমাদের মধ্যে এক হাজার থাকলে আল্লাহর অনুমতিক্রমে তারা দুই হাজারের উপর বিজয়ী হবে।আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে রয়েছেন।
* হযরত ইব্রাহীম (আ.) বংশিয় এবং হযরত ইব্রাহীম (আ.) ও মহানবির (সা.) আহলে বাইত আব্বসীয় খলিফা মুসলিম বিশ্ব আমির তাবে তাবেঈ হারুনুর রশিদ ইমাম আবু হানিফা (র.) সংকলিত অভিন্ন ফিকাহ পরিশোধন করে হানাফী মাযহাব নামে অনুমোদন করলে দুই তৃতীয়াংশ মুসলিম কর্তৃক এটি অনুসারিত হয়। এখনো হানাফী মাযহাবের অনুসরনের এ সংখ্যা কমেনি। কিন্তু যারা ইসলামকে সাহাবা যুগে সীমাবদ্ধ করে আমির-ওলামার কুফুরী করে তারা হানাফীদের সাথে মতভেদে লিপ্ত হয়। তাদের জন্য মহাশাস্তি রয়েছে এবং তাদের সে মহাশাস্তি হলো জাহান্নাম। কারণ তারা মুসলিমদের মাঝে বিভেদ সৃষ্টি করে ইসলামে পথভ্রষ্ট বাহাত্তরটি দল তৈরী করেছে। অন্যদিকে হযরত ইব্রাহীম (আ.) বংশিয় এবং হযরত ইব্রাহীম (আ.) ও মহানবির (সা.) আহলে বাইত আব্বসীয় খলিফা মুসলিম বিশ্ব আমিরগণ ও তাঁদের হানাপী অনুসারীগণকে আল্লাহ সূরাঃ ১১ হুদ, ৭৩ নং আয়াত অনুযায়ী রহমত ও বরকতে মুড়িয়ে দিলেন। তারা মুসলিম বিশ্বের শাসন ক্ষমতা পেল প্রায় বারশ বছর। এখনও হানাফী পাকিস্তানের নিকট আছে শত্রুকে সন্ত্রস্ত রাখার পারমানবিক অস্ত্র। হানাফী আফগান অজেয়। হানাফী তুর্কী বীর। তাদের বখতিয়ার খিলজী মাত্র সতের জন সৈন্য নিয়ে বাংলা জয় করেন। সেই বংলার একাংশ বাংলাদেশী হানাফী গেরিলা যুদ্ধে বিশ্বসেরা।মুসলিমদের বেশীরভাগ অঞ্চল, জনসংখ্যা ও দেশ হানাফীদের। বিশ্বের এক তৃতীয়াংশ জনসংখ্যা হয়ে বিশ্ব চালকের আসনে বসতে এগিয়ে চলছে হানাফীরাই। অন্যদের কাজ হলো হনাফী বিরোধীতার অযথা ফিতনা সৃষ্টি করা।
সূরাঃ ৮ আনফাল, ৬৭ থেকে ৬৯ নং আয়াতের অনুবাদ-
৬৭।দেশে ব্যাপকভাবে শত্রুকে পরাভূত না করা পর্যন্ত বন্দী রাখা কোন নবির উচিত নয়। তোমরা পার্থিব সম্পদ কামনা কর। আল্লাহ চান পরকালের কল্যাণ। আল্লাহ পরাক্রমশালী প্রজ্ঞাময়।
৬৮। আল্লাহর পূর্ব বিধান না থাকলে তোমরা যা গ্রহণ করেছ সেজন্য তোমরা মহাশাস্তিতে আক্রান্ত হতে।
৬৯। যুদ্ধে যা লাভ করেছ তা’ বৈধ ও উত্তম বলে ভোগ কর। আর আল্লাহকে ভয় কর, আল্লাহ ক্ষমাশীল, দয়ালু।
সূরাঃ ৪৮ ফাতহ, ২৯ নং আয়াতের অনুবাদ-
২৯। মোহাম্মাদ আল্লাহর রাসুল; তাঁর সহচরগণ কাফিরদের প্রতি কঠোর এবং নিজেদের মধ্যে পরস্পরের প্রতি সহানুভূতিশীল; আল্লাহর অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টি কামনায় তুমি তাদেরকে রুকু ও সিজদায় অবনত দেখবে।তাদের লক্ষণ তাদের মুখমন্ডলে সিজদার প্রভাব পরিস্ফুট থাকবে: তওরাতে তাদের বর্ণনা এরূপ এবং ইঞ্জিলেও তাদের বর্ণনা এরূপই। তাদের দৃষ্টান্ত একটি চারা গাছ, যা থেকে নির্গত হয় নতুন পাতা, অতঃপর ইহা শক্ত ও পুষ্ট হয় এবং পরে কান্ডের উপর দাঁড়ায় দৃঢ়ভাবে যা চাষীদের জন্য আনন্দ দায়ক। এভাবে মুমিনদের সমৃদ্ধি দ্বারা আল্লাহ কাফিরদের অন্তর্জালা সৃষ্টি করেন। যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে আল্লাহ তাদেরকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ক্ষমা ও মহাপুরস্কারের।
* পূর্ব বিধান রাসূল (সা.) ও সাহাবার (রা.) প্রতি ক্ষমার কারণে তাঁদের অভিন্ন ফিকাহের দায় মুক্তি আছে। অভিন্ন ফিকার জন্য তাবেঈকে একজন সাহাবীর (রা.) অনুসারী হতে বলা হয়েছে। অভিন্ন ফিকাহ চালুর পর এর বাইরে থেকে জান্নাত পাওয়ার সম্ভাবনা নাই।কোরআন অনুযায়ী তাতে তাবেঈ যুগে অভিন্ন ফিকাহ চালু হলো। অথচ অজ্ঞ লোকেরা ইসলামকে সাহাবা (রা.) যুগে সমাপ্ত করে অভিন্ন ফিকাহ অস্বীকার করে। অথচি তারা যে অভিন্ন ফিকাহ হানাফী মাযহাবের বিরোধীতা করে তাদের এ বিরোধীতার অনুসারী নয় কোন মুসলিম বিশ্ব আমির। কিন্তু হানাফী মাযহাবের অনুসারী ছিল প্রায় ছিয়াশি মুসলিম বিশ্ব আমির। আমিরের অনুসরন আল্লাহ বাধ্যতা মূলক করায় আমিরের বিরোধী হয়ে হানাফী মাযহাবের বিরোধীতা করায় জান্নাত পাওয়ার কোন সম্ভাবনা নাই।
©somewhere in net ltd.
১|
০৬ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৮
নতুন বলেছেন: আপনি যেই যুক্তি দিয়েছেন তেমন যুক্তি অন্য মাজহাবের মানুষও দেবে যে কোরান অনুযায়ী তাদের মাজহাব সঠিক।