নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

শব্দকবিতা : শব্দেই দৃশ্য, শব্দেই অনুভূতি [email protected]

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই

দুঃখের কবিতাই শ্রেষ্ঠ কবিতা। ভালোবাসা হলো দুঃখ, এক ঘরে কবিতা ও নারী।

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই › বিস্তারিত পোস্টঃ

অন্ধকারের বেদনা : ঘুমন্ত স্ত্রীর দিকে তাকিয়ে

১৩ ই মার্চ, ২০২৪ রাত ১০:৩৪

চোখে তোমার প্রচুর পানি জমবে
কত হীনমন্যতায়, কত সংগ্রামে দলিত জীবনের
পরতে পরতে দুঃখরা লেপ্টে আছে।
মাঝে মাঝে মাঝরাতে, গভীর ঘুমের ভেতর
উথলে উঠবে কান্না, চোখদুটো ব্যথায় টাটিয়ে উঠবে, যেন
এখনই পর্দা ফেটে ফিনকি দিয়ে বেরিয়ে আসবে রক্ত, তখন
বাঁধ খুলে দিবে- সব পানি ঝরে যাক, নিভৃতে, অলক্ষে

তোমার বুক ভারী হবে। বহুকাল বেদনারা জমে জমে
হৃৎপিণ্ড জমাট পাথর।
তোমার নিশ্বাস আটকে আসবে। কথারা গলার
উপকণ্ঠে বিঁধে থাকবে। তোমার পাঁজর চরচর করে
ফাটবে। তুমি ককিয়ে উঠবে। তখন তুমি কাঁদবে। তখন
জোয়ারভাঙা বাঁধের মতো উদাত্ত স্বরে গলা ছেড়ে দিবে।
তখন তুমি প্রাণ ভরে কাঁদবে, নিঃশেষে বুক খালি করবে।
তোমাকে বাঁচতে হবে। দুঃখ, বেদনাগুলো ঝেড়ে ফেলে
ফুরফুরে সজীব চারার মতো প্রতিভোরে সূর্যের আলোয়
হাসতে হবে। হাসতে হাসতে অযুত আনন্দে তুমি বাঁচবে।

এই যে পার্শ্ববর্তিনী সুপ্তমগ্না নিগূঢ়া রমণী, সুদীর্ঘ জীবনে
একই আত্মায় করেছি বসবাস, হায়, একদিন সে আর
আমার পাশে শোবে না, কিংবা আমিও এক-পাশ শূন্য করে
শায়িত হব অনন্ত শয্যায়। কীভাবে একাকী বাঁচবো সেই জীবনে?
বিষম ভাবনারা জেঁকে ধরে যখন-তখন, সুগভীর মধ্যনিশীথে
বুকের কন্দর দুমড়ে মুচড়ে খান খান হয়, কণ্ঠ রুদ্ধ হয় উথাল
পাথাল কান্নায়। তখন বাঁচতে পারি না।

গতকাল মধ্যরাতে বিছানায় শুতেই বুক ভাঙতে শুরু হলো।
আগ্নেয় লাভার তীব্র উদ্‌গিরণে চোখ গলে ছিটকে ছুটতে থাকলো
অজস্র অগ্নিজোয়ার। আজ যেখানে শুয়ে আছি, হয়ত-বা কাল
আমি আর থাকব না এখানে। হয়ত-বা কাল রাতে অন্ধকারে খা-খা
জ্বলবে পাশের শয্যাটি। কীভাবে বেঁচে থাকে নিঃস্ব, জীর্ণ,
বিক্ষত একটা হৃদয়, যখন পাশ থেকে হারিয়ে যায় জ্বলন্ত
যৌবনের বিশ্বস্ত সঙ্গীটি! এভাবে কি বেঁচে থাকা যায়,
অনির্ণেয় অনাগত কাল?

আমি তবে কীভাবে হালকা করি বুক? কীভাবে চোখের পানি
আগভীর সেঁচে ফেলে শূন্য করি চোখ?

কোনো কোনো কান্না কখনো থামে না, প্রতিটা গভীর রাতে
পাঁজর ভাঙতে থাকে। প্রতিটা গভীর রাতে পুড়তে থাকে চোখ,
অবিরল জ্বলতে থাকে জীবন। দুর্বিষহ সেই জীবনের কথা ভাবলেই
ভেঙে যেতে থাকি। রাতভর কেবলই ভেঙে যেতে থাকি, যেমন এখনো
ঘুমন্ত সঙ্গিনীর ঝাঁপসা মুখের দিকে তাকিয়ে অবিরাম ভেঙে যাচ্ছি,
ভেঙে যাচ্ছি অবিরাম।

২১ আগস্ট ২০২১

মন্তব্য ১৯ টি রেটিং +৬/-০

মন্তব্য (১৯) মন্তব্য লিখুন

১| ১৩ ই মার্চ, ২০২৪ রাত ১০:৪০

মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন বলেছেন:

কবিতা অনেক সুন্দর হয়েছে ।
এমনিতেই আপনার কবিতা লেখার হাত ভালো।
বড়ই চমেৎকার।

১৩ ই মার্চ, ২০২৪ রাত ১১:০৮

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: কমেন্ট ভালো লাগলো সাজ্জাদ ভাই, আমি অনুপ্রাণিত। পাঠ ও মন্তব্যের জন্য অনেক ধন্যবাদ।

২| ১৩ ই মার্চ, ২০২৪ রাত ১০:৫১

শেরজা তপন বলেছেন: আহা বড় বেশী কষ্টের কথা! এসব ভাবতে চাইনা ...


* টাইপো "আগসট' ~ কবিদের এই ভুল চোখে লাগে :)

১৩ ই মার্চ, ২০২৪ রাত ১১:১১

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: আগস্ট যে আগসট হইয়া রহিয়াছে তা এতকাল আমার চোখে পড়িল না কেন, তাহা ভাবিয়া কষ্টিত হইতেছি :( ;)

যাই হোক, কবিতা পাঠ ও মন্তব্যে প্রীত হলাম শেরজা তপন ভাই। অনেক অনেক ধন্যবাদ। ভালো থাকবেন।

৩| ১৪ ই মার্চ, ২০২৪ রাত ১২:৩৪

মিথমেকার বলেছেন: খুবই সুন্দর কবিতা। বেশ উপভোগ করলাম, কল্পনা হল কিছু..
সম্ভবত কবিদের স্বার্থকতা হলো পাঠকের আনন্দ, যে কবিতা পাঠক উপভোগ করেন সেটাই সার্থক কবিতা। আর কিছু কিছু কবিতা তো অমর হয়ে থাকে চিরদিন।
শুভ কামনা কবি!

১৪ ই মার্চ, ২০২৪ সকাল ১১:৩১

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: সম্ভবত কবিদের স্বার্থকতা হলো পাঠকের আনন্দ, যে কবিতা পাঠক উপভোগ করেন সেটাই সার্থক কবিতা। হ্যাঁ, ঠিক বলেছেন এবং সুন্দর বলেছেন। আমি একমত। আমি একটা কথা প্রায়ই বলে থাকি, কবিতার নিজস্ব কোনো অর্থ নেই - পাঠক কবিতা পাঠ করে যা বুঝবেন, সেটাই কবিতার মূল ভাব। একটা কবিতাকে সার্থক হতে হলে তাকে পাঠকের মন ছুঁতে হবে। তবে, কবিরা যা লেখেন, আমার মনে হয়, কালেভদ্রে এমন কবিতার জন্ম হয়, যা অনেক মানুষ, গণমানুষের মন ছুঁতে সমর্থ হয়। যেটি গণমানুষের মন ছুঁয়ে যায়, সেটি নিশ্চয়ই অমর কবিতা। বনলতা সেন, বিদ্রোহী, কবর, আবার আসিব ফিরে, নিষিদ্ধ সম্পাদকীয় (এখন যৌবন যার), স্বাধীনতা তুমি - এরকম কিছু কবিতা।

কমেন্টের জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

৪| ১৪ ই মার্চ, ২০২৪ ভোর ৬:৪৯

মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন বলেছেন:





নতুন লেখকদের বই বের করা নিয়ে আপনার সেই ঐতিহাসিক পোস্টটি আবারো পাঠ করেছি।
এত দিন পরে আবার পড়ার কারণ হচ্ছে বই বের করার জন্য আবারও চেষ্টা করে যাচ্ছি ।
আশা করছি এবার আর ব্যর্থ হবো না।
বের করতে পারবো।

১৪ ই মার্চ, ২০২৪ সকাল ১১:৩৯

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: জি, সাজ্জাদ ভাই, এ পোস্টে আপনার কমেন্ট পড়েছি, উত্তরও দিয়েছি - নবীন লেখকদের জন্য - কীভাবে বই বের করবেন

আমিও আশা করি, এবার আপনি আর ব্যর্থ হবেন না। কিন্তু আগে ব্যর্থ হয়েছিলেন কেন?

যাই হোক, লিংকের পোস্টে জবাব দিয়েছি। কোনো সহায়তার প্রয়োজন পড়লে প্লিজ জানাবেন। শুভ কামনা রইল বইয়ের জন্য।

৫| ১৪ ই মার্চ, ২০২৪ সকাল ১১:৫২

পাজী-পোলা বলেছেন: রাত যত গভীর হতে থাকে, ভাঙ্গনের সুর ততই করুন হতে থাকে। যাকে ছাড়া মনেহয় এক সেকেন্ড ও চলবে না, অথচো সেকেন্ডে সেকেন্ডে তাকে ছাড়াই নিশ্বাস বইতে হয়।

১৪ ই মার্চ, ২০২৪ দুপুর ২:৪৩

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: কথাটা দারুণ বলেছেন। আবার, কথাটার ভিতরে অনেক বেদন লুকিয়ে আছে, যা বুঝলাম - যাকে ছাড়া মনেহয় এক সেকেন্ড ও চলবে না, অথচো সেকেন্ডে সেকেন্ডে তাকে ছাড়াই নিশ্বাস বইতে হয়।

৬| ১৪ ই মার্চ, ২০২৪ দুপুর ১:২০

মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন বলেছেন:



আমি খুব খারাপ সময় পার করছি।
খুবই খারাপ ।
এতো খারাপ যে বললে মানুষ বিশ্বাস করবে না।
তাই কাউকে বলি না।

১৪ ই মার্চ, ২০২৪ দুপুর ২:৪৩

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: :(

৭| ১৪ ই মার্চ, ২০২৪ দুপুর ১:৩৫

রাজীব নুর বলেছেন: আমি সাধারণত ঘুমন্ত মানুষের দিকে তাকাই না। তাকালেই মায়া লাগে।

৮| ১৫ ই মার্চ, ২০২৪ রাত ৯:০৯

মিরোরডডল বলেছেন:




তখন তুমি প্রাণ ভরে কাঁদবে, নিঃশেষে বুক খালি করবে।
তোমাকে বাঁচতে হবে। দুঃখ, বেদনাগুলো ঝেড়ে ফেলে
ফুরফুরে সজীব চারার মতো প্রতিভোরে সূর্যের আলোয়
হাসতে হবে। হাসতে হাসতে অযুত আনন্দে তুমি বাঁচবে।


লেখা ভালো লেগেছে।
ধুলো আর ধূলি একসাথে আনন্দ নিয়ে বেঁচে থাকুক আরও অনেক অনেক বছর।
কেউ যেন কাউকে ছেড়ে না যায়।


২১ শে মার্চ, ২০২৪ দুপুর ১:৫৬

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: কবিতা পড়া ও মন্তব্যের জন্য অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।

৯| ১৭ ই মার্চ, ২০২৪ ভোর ৪:৫১

সোহানী বলেছেন: ভালো লাগলো সোনাবীজ ভাই।

২১ শে মার্চ, ২০২৪ দুপুর ১:৫৬

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ আপু।

১০| ২১ শে মার্চ, ২০২৪ দুপুর ১:১৭

মাহদী হাসান শিহাব বলেছেন: চমৎকার। আপনার কবিতা পড়ে ভালো লাগলো।

২১ শে মার্চ, ২০২৪ দুপুর ১:৫৮

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: ধন্যবাদ আপনাকে। শুভেচ্ছা রইল।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.