| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই
দুঃখের কবিতাই শ্রেষ্ঠ কবিতা। ভালোবাসা হলো দুঃখ, এক ঘরে কবিতা ও নারী।
কিছু লোক নিজের ভুল বুঝতে পারবে না
কিছু লোক ভুল না করেও পস্তাবে
কিছু লোক কোনোদিনই ভালো হবে না
কিন্তু কিছু ভালো লোক পচে যাবে
কিছু লোক অন্যকে বুঝবে না কোনোদিন
অথচ তারা চাইবে অন্যরা তাদের বুঝুক
কিছু লোক অযথাই অন্যকে খোঁচাবে, ঠ্যাঙাবে
এতেই রয়েছে যেন জন্মের সুখ
কিছু লোক সততই অসৎ অথচ
অন্যদেরকেই ‘অসৎ’ ঠাওরাবে-
যেমন একজন খুনি সাত-সাতটা খুন করে
সাত-বার ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলে প্রাণ হারাবে
তারপর কবরে শুয়ে শুয়ে বলবে – আমি সম্পূর্ণ নির্দোষ
আদালত আমাকে অন্যায়ভাবে হত্যা করেছে-
আর তার নিমকখেকো ইতর অনুসারীদের দেখবেন-
ব্যস্ত পথের পাশে ঐ খচ্চর খুনির নামে মাজার গড়েছে
যে চুরি করে সে অন্যকে ‘চোর’ ডাকে
যাতে তার সাধুতা নিয়ে না হয় সন্দেহ
রাজাকারের বাচ্চাদেরকে দেখবেন, যাকে-তাকে ডাকছে ‘রাজাকার’
যাতে ‘তুই রাজাকারের পোলা’ তাকে না বলে কেহ
সেদিন মর্মে মর্মে বুঝবে, তোমারই সব ভুল ছিল-
যেদিন তুমি বুঝবে নিজের ভুলগুলো;
সেদিন নিজেকে নিজেই করবে না ক্ষমা
টেনে-খিঁচড়ে ছিঁড়বে মাথার চুলগুলো।
ভুল তুমি করবেই মনা-
সকলেই কমবেশি করে থাকে ভুল
মহতেরা ভুল করে অচিরেই ক্ষমা চান
নির্বোধেরা নাক-খতে শোধ করে ভুলের মাশুল।
১৯ ডিসেম্বর ২০২৩
১৬ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ২:৫১
সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: ধন্যবাদ সাইফুলসাইফসাই ভাই। শুভেচ্ছা।
২|
১৫ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১২:৫৭
স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: আমরা হোঁচট খাই,
তালগোল পাকিয়ে ফেলি, জুতোয় পা পিছলে যায়,
এ তো আমরা বোকা মানুষেরা করেই থাকি।
তাই যখন কিছু ভুল হয়, তখন কেঁদো না,
শুধু হাসো আর একটা মজার গান গাও!
১৬ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ২:৫২
সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: কমেন্টের জন্য ধন্যবাদ স্বপ্নের শঙ্খচিল ভাই। শুভেচ্ছা।
৩|
১৫ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ৭:৪৭
ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
যদিও কবিতাটি পুণ প্রকাশিত তথাপি সময়ের আবহে এর মুল্য চিরন্তন সত্য সত্য কথনেরই নামান্তর ।
এই কবিতাটি মূলত মানুষের নৈতিক মনস্তত্ত্বের এক নির্মম অথচ বাস্তব প্রতিচ্ছবি। কবি এখানে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি
বা গোষ্ঠীকে কেন্দ্র করে কথা বলেননি; বরং মানবচরিত্রের এমন কিছু চিরন্তন দুর্বলতার দিকে আলোকপাত করেছেন,
যা যুগে যুগে, সমাজে সমাজে একইভাবে পুনরাবৃত্ত হয়েছে।
কবিতার কেন্দ্রীয় দর্শন মনে হলো মানুষের সবচেয়ে বড় অন্ধত্ব চোখের অন্ধত্ব নয়, আত্মার অন্ধত্ব। যে মানুষ নিজের
ভুল দেখতে পারে না, সে পৃথিবীর সব ভুলই দেখতে পায়; কিন্তু নিজের ভেতরের অন্ধকারটুকু তার দৃষ্টির বাইরে
থেকে যায়। এই আত্মপ্রবঞ্চনাই তাকে অন্যের বিচারক বানায়, অথচ নিজের বিচার থেকে দূরে সরিয়ে রাখে।
কবিতায় গভীর মনস্তাত্ত্বিক সত্যও তুলে ধরেছেন। মানুষ প্রায়ই নিজের দোষ অন্যের ওপর আরোপ করে। আধুনিক
মনোবিজ্ঞানে একে Projection (প্রক্ষেপণ) বলা হয় নিজের অপরাধবোধ, দুর্বলতা বা অসততাকে অন্যের মধ্যে
খুঁজে বেড়ানো। যে চুরি করে সে অন্যকে ‘চোর’ ডাকে এটি শুধু একটি ব্যঙ্গাত্মক পঙ্ক্তি নয়; বরং মানুষের আত্ম
রক্ষার এক সুপরিচিত মানসিক কৌশলের কাব্যিক রূপ।
কবিতার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক মনে হলো স্বীকৃতির আকাঙ্ক্ষা ও উপলব্ধির সংকট। মানুষ নিজে অন্যকে বুঝতে
চায় না, কিন্তু নিজেকে সবাই বুঝুক এ প্রত্যাশা লালন করে। এই দ্বৈত মানসিকতা আজকের সামাজিক ও ভার্চুয়াল
জগতেরও এক গভীর সংকট। সহমর্মিতার অভাব এবং আত্মকেন্দ্রিকতার আধিক্য মানবসম্পর্ককে ক্রমেই ভঙ্গুর করে
তুলছে।
কবিতাটির মধ্যভাগে অপরাধীকে মৃত্যুর পরও নিজেকে নির্দোষ দাবি করতে দেখানো এবং তার অনুসারীদের অন্ধ
আনুগত্যের চিত্রটি একটি শক্তিশালী রূপক। এটি বোঝায় যে, মিথ্যা যখন দীর্ঘদিন প্রচারিত হয় এবং অন্ধ আনুগত্য
যখন বিবেককে গ্রাস করে, তখন অপরাধও অনেকের কাছে বীরত্বের রূপ নিতে পারে। ইতিহাসে ব্যক্তি-পূজা ও অন্ধ
অনুসরণের অসংখ্য উদাহরণ এই সত্যের সাক্ষ্য বহন করে।
শেষ স্তবকেই মনে হল এই কবিতার নৈতিক উপসংহার নিহিত। কবি হিসাবে আপনি ভুল করাকে অপরাধ বলেননি;
বরং ভুল স্বীকার না করাকেই প্রকৃত বিপর্যয় হিসেবে দেখিয়েছেন। মানুষ ভুল করবেই এটাই মানবিক। কিন্তু মহান
মানুষের বৈশিষ্ট্য হলো, তারা ভুল বুঝতে পারলে তা সংশোধন করেন এবং প্রয়োজনে ক্ষমা চাইতে দ্বিধা করেন না।
অপরদিকে নির্বোধ মানুষ অহংকারের বর্মে নিজেকে ঢেকে রাখে; ফলে ভুলের মূল্য তাকে আরও কঠিনভাবে পরিশোধ
করতে হয়।
দার্শনিক অর্থে, এই কবিতা সক্রেটিসের সেই চিরন্তন আহ্বানের প্রতিধ্বনি নিজেকে জানো। আবার ইসলামী নৈতিক
দর্শনের ভাষায় এটি মুহাসাবাতুন নফস (আত্মসমালোচনা)-এর গুরুত্বও স্মরণ করিয়ে দেয়। কারণ যে মানুষ নিজের
বিবেকের আদালতে দাঁড়াতে শেখে, সে অন্যের বিচার করতে তাড়াহুড়ো করে না।
সব মিলিয়ে, এটি কেবল একটি ব্যঙ্গকবিতা নয়; বরং মানুষের আত্মপ্রবঞ্চনা, অহংকার, নৈতিক ভণ্ডামি এবং আত্ম
সমালোচনার অপরিহার্যতা নিয়ে রচিত একটি দার্শনিক ও নৈতিক ভাষ্য। কবিতাটি পাঠককে অন্যের দিকে আঙুল
তোলার আগে নিজের অন্তরের আয়নায় একবার তাকাতে বাধ্য করে।
শুভেচ্ছা রইল ।
১৬ ই জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:১৮
সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: অসাধারণ বিশ্লেষণ করেছেন প্রিয় এম এ আলী ভাই। অনেক অনেক ধন্যবাদ আপনাকে এ রত্নতুল্য কমেন্টটির জন্য।
৪|
১৬ ই জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫৯
রাজীব নুর বলেছেন: রাগ ক্ষোভ সব কবিতায় ঢেলে দিয়েছেন।
©somewhere in net ltd.
১|
১৪ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১১:০৭
সাইফুলসাইফসাই বলেছেন: হুম ঠিক বলেছে কথাগুলো