| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
আমি চিনতাম এমন কয়েকজন ভার্চুয়াল ক্ষনজন্মাদের কথা মনে পড়ছে ৷ বিশেষ করে মৃত্যুর অল্প দুরত্ব থেকে ওদের লেখা স্ট্যাটাস/ব্লগের কমেন্টস গুলো পড়লে চোখের পানি ধরে রাখা যায় না ৷ আজকে তেমনি কয়েকজন ক্ষনজন্মাদের নিয়ে আমার এই স্ট্যাটাস ৷
আহসানউল্লাহ ভার্সিটির ইভান আর সাব্বিরের কথা মনে আছে যারা গত বছর পহেলা বৈশাখের আগেরদিন কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে বেড়াতে গিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছিল "দূরে চলে যাচ্ছি অনেক দূরে" এবং "চলে যাচ্ছি দোস্ত ! একদম নেটওয়ার্কের বাইরে !!” তারপর সত্যি সত্যিই ইভান চলে গেল মানুষের থেকে অনেক দুরে আর সাব্বির চলে গেল একদম নেটওয়ার্কের বাইরে ৷ যেখানে কোন মোবাইল, সিম কার্ড নাই ৷ তারপর তাদের দেওয়া স্ট্যাটাসে তার বন্ধু বান্ধব চেনা অচেনা কত মানুষের বুক ফাটা আর্তনাদ দেখেছি ৷ চোখের পানি ধরে রাখতে পারিনি ৷ তাদের টাইমলাইনকে মনে হয়েছে যেন ভার্চুয়াল মুর্দা বাড়ি ৷ তারা চলে গিয়েছিল আমাদের স্তব্ধ করে যাওয়ার আগে রেখে গিয়েছিল আমাদের জন্য কিছু চিহ্ন ৷ আচ্ছা তারা কি সত্যি সত্যি জানতো যে কিছক্ষন পরেই নেটওয়ার্কের বাইরে কিংবা মানুষ থেকে অনেক দুরে চলে যাবে ?
“ভিটামিন টি" এর অভিনেতা সায়েম সাদাত ! মাত্র সাতাশ বছর বয়সেই ঝড়ে গেলেন ৷ দীর্ঘদিন প্রেম করে বিয়ে করেছিলেন বিয়ের মাত্র দশদিনের মাথায় একেবারে না ফেরার দেশে ৷ ফেসবুকে বিয়ের ছবি আপলোড দিয়েছিল ৷ সেই ছবিতে বন্ধু বান্ধব, সহকর্মী ভক্তদের অভিনন্দনের মন্ত্যবে ভরে গিয়েছিল ৷ কে ভেবেছিল মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে একই ছবি হয়ে যাবে এক অশ্রুসিক্ত কমেন্টসের সাগর? কে ভেবেছিল অকালেই ঝরে যাবে তরুন এই প্রান যার স্বপ্নজুড়ে ছিল সুন্দর একটি সংসার আর সুন্দর একটি ক্যারিয়ার ৷ সব কিছু গোছিয়ে যখন একটা ফ্লাটফর্মে এসে ধারালেন তখনই যমদূত এসে হাজির ৷ তার এমন প্রস্থানে আমরা দেখেছিলাম আরও একটা ভার্চুয়াল শোকের মাতম ৷
ব্লগার নোবেলবিজয়ী টিপু ! ২০১০-১১ সালের দিকে সামু সহ কয়েকটি টেক ব্লগে নিয়মিত ব্লগিং করতেন ৷ "ব্লাডক্যান্সার বিষয়ক কিছু কথন" শিরোনামে সামুতে একটা ব্লগ পোষ্ট করেছিল যদিও ব্লগটি পোষ্ট করার পর তেমন কোন সাড়া পাইনি কিন্তু যখন তিনি ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান তখন সবার টনক নড়ে ৷ হুমড়ি খেয়ে পরে তার সেই ব্লগে ৷
ব্লাডক্যান্সার বিষয়ক কিছু কথন শিরোনামে যে ব্লগটি তিনি লিখেছিলেন তাতে ক্যান্সারের ধরন, লক্ষন, চিকিৎসা পদ্ধতি বিষয়ে আলোকপাত করেছিলেন ৷ ব্লগের শেষ পর্যায়ে তিনি লিখেছিলেন "এত বড় পোস্ট কেন করলাম? কেউত পরবে না? এই পোস্ট অন্য কারো জন্য নয়, নিজের জন্য। আমার খুব কাছের একজন এই মরণব্যাধিতে আক্রান্ত, আমি জানি খুব বেশি দিন নেই তার, তারপরেও তাকে এই মিথ্যাটুকুই সারাদিন বলি 'কিচ্ছু হবে না' "
এমন সরল স্বীকারোক্তির পরও কেউ বুঝতেও পারল না টিপু ভাই তার নিজের বিষয়েই বলেছিল ৷ মৃত্যুর পর সবাই বুঝতে পারে ৷ তারপর দেখেছিলাম ব্লগীয শোকের মাতম সে কি মাতম কি আহজারি ৷ একেকটি মন্তব্য যেন একেকটি স্ফুলিঙ্গ, একেকটি বাক্য শরীরে সৃষ্টি করে একেকটি শিহরন ৷
আমাদের মধ্যে থেকেও এভাবে অকালে চলে যাবে অনেকেই হয়তো আমি নিজেও তখন আইডি, স্ট্যাটাস সবি থাকবে শুধু কমেন্টসের উত্তর দেওয়ার লোকটি থাকবে না ৷
©somewhere in net ltd.