নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আস্ সালামু আলাইকুম্

আনাড়ী রন্ধন শিল্পীর ব্লগ B-)। ব্লগের বাজে-মানহীন লেখাগুলোর মাস্টার পিস দেখতে চাইলে এই ব্লগারের পোষ্ট গুলো পড়ে দেখতে পারেন। কথা দিচ্ছি, নিরাশ হবেন না। B-)

নীল-দর্পণ

নগণ্য একজন মানুষ। পছন্দ করি গল্পের বই পড়তে, রান্না করতে। খুব ইচ্ছে করে ঘুরে বেড়াতে। ইচ্ছে আছে সারা বাংলাদেশ চষে বেড়ানোর।

নীল-দর্পণ › বিস্তারিত পোস্টঃ

একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি!

২৬ শে মে, ২০২৬ বিকাল ৩:২২


২১বছর বয়সী তরতাজা ছেলেটি মায়ের কোলে মাথা দিয়ে কালেমা শাহাদাত ও সূরা আর-রহমান অর্ধেক তেলাওয়াত করেই আল্লাহর জিম্মায় চলে যায়! ৩৪বছর এই স্মৃতিকে বুকে ধরে অবশেষে সেই মা চলে যান আল্লাহর জিম্মায় কালেমা পাঠ করতে করতে। ছেলের শোকে চোখের পানি ফেলতে দেখেনি কেউ তাকে । ধৈর্য ধারন করেছেন। আমৃত্যু এই বিশ্বাসের উপর অটল ছিলেন, "যা কিছু হয় , আল্লাহর তরফ থেকেই হয়"।
রিজিক এবং হায়াত মওতের বিষয়ে আল্লাহর উপর অগাধ বিশ্বাস ছিল তাঁর।
৬৪ বছর ৬মাসের জীবন সংগীকে বেঁচে থাকতে এক মূহুর্তের জন্যে কাছ থেকে সরতে দেননি যিনি তিনিই সেই সংগীকে একলা ফেলে চলে গেলেন! বুঝতে কি পেরেছিলেন যে চলে যাচ্ছেন? নয়তো কেন বোনকে ডেকে বলবেন, আমার ছেলে মেয়ে নাতী নাতনীদের উপর মুখ কালো করে রাখিস না, তোর ভাইসাবরে দেখে রাখিস।

কারো নামে কটুকথা, বদনাম, অভিযোগ কিছুই করেননি কোন দিন। বেশি মনোঃকষ্ট পেলে বলেছেন আমি কারো কাছে কিছু বলবো না, আমি খালি আল্লাহর কাছে বলবো!

নানুবুজি, আপনেতো সেই ভাগ্যবতী যার শোকে তার স্বামী সারাক্ষণ চোখের পানি মোছেন, হাউমাউ করে কাঁদেন। কয়টা স্বামী তার স্ত্রীর শোকে চোখের পানি মোছে! আপনার রুহ কি দেখতে পায় এটা? আপনাকে শেষ গোসল দিয়ে এসে আপনার একমাত্র আদরের মেয়ে, আম্মা অজ্ঞান হয়ে পড়ে গেছিলো। আপনার দাফন তখনো হয়নি, রুহ তো দেখছিলো কে কী করছে। বেঁচে থাকতেই জানতেন আপনার মেয়ে কতটা ভালোবাসে আপনাকে, কিন্তু এটা কি জানতেন, আপনি আর সারাক্ষণ মা ডাকদিবেন না সেই কষ্টে ছেলের বউ মাঝরাতে চিতকার করে খিঁচুনী উঠে অজ্ঞান হয়ে যাবে ?
আমার সাড়ে চার বছরের জুনায়রা দুইবার আপনার কবরে গিয়ে ডেকে এসেছে, কবর খুলে আপনাকে দেখতে চেয়েছে। ওকে বোঝাতে পারিনি আপনি নাই দুনিয়াতে। ভেবেছে আপনি কিছু খান না তাই অসুস্থ হয়ে আছেন!

আমি বিশ্বাস করি মায়ের পরে কিংবা মায়ের মত নিঃস্বার্থ ভাবে যে ভালোবাসে সে হল নানু। আপনার চলে যাওয়ার সাথে সাথে একটা সিঁড়ি ভেংগে গেল, একটা সম্পর্কের সুতো ছিঁড়ে গেল।
আপনার মেয়ে কালও কান্না করেছে এই বলে যে , গতবছর এই দিনেও দুনিয়াতে ছিলেন, আপনার ছেলে খাসী কিনে আসতেই সাথে সাথে ঢাকা ফোন দিয়ে জানিয়ছেন। আর কেউ যখন তখন ফোন দিবেনা।

আপনার অসীম ধৈর্য্য আর অগাধ বিশ্বাসের কারনে আল্লাহ অবশ্যই আপনাকে মাফ করবেন, জান্নাতের উঁচু মাকামে আপনাকে ঘর দিবেন। আপনার জুয়েল আর আমার ইউশা-হাফসাকে নিয়ে আমাদের জন্যে অপেক্ষা করেন নানুবুজি।

মন্তব্য ১০ টি রেটিং +২/-০

মন্তব্য (১০) মন্তব্য লিখুন

১| ২৬ শে মে, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৫

শায়মা বলেছেন: নানুবুজি ভালো থাকুন ওপারের দেশে। আল্লাহ উনাকে জান্নাত দান করুন।

২৬ শে মে, ২০২৬ রাত ১০:৫৭

নীল-দর্পণ বলেছেন: আমিন

২| ২৬ শে মে, ২০২৬ বিকাল ৪:৪০

রাজীব নুর বলেছেন: মৃত্যু সব কিছু থামিয়ে দেয়।

২৬ শে মে, ২০২৬ রাত ১০:৫৭

নীল-দর্পণ বলেছেন: সত্যিই…

৩| ২৬ শে মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:০৩

সাইফুলসাইফসাই বলেছেন: হুম দীর্ঘশ্বাস

২৬ শে মে, ২০২৬ রাত ১১:০৬

নীল-দর্পণ বলেছেন: হ্যাঁ, সত্যিই

৪| ২৬ শে মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৭

স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন:
আপনার অসীম ধৈর্য্য আর অগাধ বিশ্বাসের কারনে আল্লাহ
অবশ্যই আপনাকে মাফ করবেন,

.................................................................................
যা কিছুই ঘটে তার কিছু কার্যকারন থাকে,
আমরা জাতিতে মূর্খ তাই , অনেক কিছুই বুঝতে পারিনা ।
শোকের ঘটনা সকল পরিবারে আছে, আমার পরিবারেও আমি
গুরুজনের অভাব বোধ করছি, কিন্ত এই শোককে
শক্তিতে রুপান্তর করাটাই হলো জীবনের গতি ময়তা ।

২৬ শে মে, ২০২৬ রাত ১০:৫৯

নীল-দর্পণ বলেছেন: জীবন চলবে তার গতিতেই, মাঝে মাঝে স্মৃতিরা এসে একটু সময়ের জন্যে থামিয়ে দেয় সব

৫| ২৬ শে মে, ২০২৬ রাত ১০:৩২

মেহবুবা বলেছেন: এই শূন্যতা বয়ে বেড়াতে হবে আজীবন! আল্লাহ্ তোমার নানুবুজীকে চিরশান্তি দান করুক সেই দুয়া করি।

২৬ শে মে, ২০২৬ রাত ১১:০৫

নীল-দর্পণ বলেছেন: হাজারো স্মৃতি সামনে চলে আসে তখন মনে হয় সব কিছু থমকে যায়! বৃষ্টির দিন কাদায় যাতে হেঁটে যেতে না হয় সেজন্যে আমাকে বলতেন তাঁর গলা শক্ত করে ধরে কোলে উঠতে, আমি তাই করতাম। আমাকে কোলে নিয়ে নানুবুজি হেঁটে যেতেন।

ঘুটঘুটে অন্ধকার রাতে হারিকেন জ্বালিয়ে এবাড়ি ওবাড়ি যেতেন।

উনি রান্না করতেন আর আমি কত দুপুর যে উঠোনে খেলেছি কখনো সংগীদের নিয়ে কখনো একাকী…

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.