| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
রাজীব নুর
আমি একজন ভাল মানুষ বলেই নিজেকে দাবী করি। কারো দ্বিমত থাকলে সেটা তার সমস্যা।
'...শুন্যে দিলাম উড়ারে ভাই যাইতে চান্দের চর,
ডানা ভাইঙ্গা পড়লাম আমি কইলকাত্তার উপর ।
তোমরা আমায় চিনোনি... '
পাকিস্তানের জাতীয় কবি আল্লামা ইকবাল-
তার বাবাকে কথা দিয়েছিলেন তিনি কবিতা লেখার বিনিময়ে কোনো অর্থ নিবেন না। সব কথা রাখা যায় না, একসময় টাকার অভাবে কবিতা দিয়েই জীবন নির্বাহ করতে হলো তাকে। কবিতার জন্য পেয়েছিলেন বৃটিশ সরকারের দেয়া নাইট উপাধি। বৃটিশদের নাইট উপাধি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরও পেয়েছিলেন, যদিও পরে অন্যায়ের প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে এই নাইট উপাধি ত্যাগ করেন। তবে এ দুজনের মিলও আছে। মিলটা কবিতা দিয়ে রাষ্ট্রে প্রভাব ফেলার। ইকবালের লেখার দ্বারা খুব প্রভাবিত আরও একজন মানুষ ছিলেন। তিনি পাকিস্তানের কায়েদ-ই-আজম মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ।
দেশভাগ কি জরুরি ছিল?
তবুও ব্রিটিশ আসার আগে হিন্দু মুসলিম তো একই দেশে ছিল পাশাপাশি। তখনও ধর্মীয় ব্যাপারটা এত প্রকট হয়ে দেখা দেয়নি। পলাশীর যুদ্ধে মুসলিম নবাবের হয়ে হিন্দুরাই তো মরণপণ লড়েছিল। তাহলে সমস্যাটা কোথায়? জিন্নার দাবি অনুসারে মুসলিমরা যদি একটি পৃথক জাতি হয়, তাহলে ভারত আসলে কী? দেশভাগের পর যা রইল, তা কি একটি জাতি নয়? আমরা কি অনেকগুলি গোষ্ঠীর একটি সমষ্টি? নাকি জিন্নার কথামতো, অনেকগুলি জাতির সহাবস্থান মাত্র?
আসলে ব্রিটিশ শাসক হিন্দু ও মুসলিম উভয় সম্প্রদায়কে ব্যবহার করেছে নিজের সুবিধা মত।
মুসলিমরা শিক্ষায় ও চাকুরিতে পিছিয়ে পড়েছে, দোষ হয়েছে হিন্দুদের। সেই অবস্থা কাজে লাগিয়েছে শাসক। মুসলিম কৃষকেরা ব্রিটিশ করের বোঝা বয়েছে; দোষ হয়েছে হিন্দু জমিদারদের। ব্রিটিশ শাসক সেটাকেও কাজে লাগিয়েছেন নিপুনভাবে। কার লাভ, কার ক্ষতি- কে তার বিচার করবে? একটি দেশ ভেঙে তিনটি দেশ। এখন তিনটি দেশেই- সন্ত্রাস, দারিদ্র, খুন, ধর্ষন, রাজনৈতিক ওলট- পালট, দুর্নীতি কি... নেই! দেশভাগে যা হওয়ার কথা ছিল, হল ঠিক তার উলটো। দুই জাতির মধ্যে বিদ্বেষ দূর করার চাইতে বরং হিন্দু, মুসলিম, শিখ প্রভৃতি পরিচয় আরও উসকে দিল।
হিন্দু ও মুসলমান কোনকালেই মিলেমিশে থাকেনি।
তারা দুই পৃথক জাতির মতই ছিল। ইংরেজদের কোনো দোষ নেই। তারা যেমনভাবে হিন্দু আর মুসলমানকে দেখেছিল, তেমনভাবেই তারা ইতিহাস লিখেছে। ভুলে গেলে চলবে না, মুঘল আমলে সামান্য কারণে দাঙ্গা হত। যদিও তখন দাঙ্গা গুলো একতরফা হত। হিন্দুদের বিরুদ্ধে। কারণ তখন মুসলিম আমল।
১৭২০ সালে কাশ্মিরে এক মুসলমানের প্রতিহিংসাবশত দাঙ্গা হয়।
১৭২৯ সালে দিল্লিতে এক মুসলমানের হত্যাকে কেন্দ্র করে দাঙ্গা হয়।
১৭৮২ সালের ডিসেম্বর মাসে আসামে মুসলিমরা হিন্দুদের মহরমের সময় তাদের ধর্মীয় অনুষ্ঠান বন্ধ রাখতে বলে, হিন্দুরা অসম্মত হয়- পরিনামে দাঙ্গা।
১৭৮৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে বেড়ার জেলায় মুসলিমরা হিন্দু ধর্মীয় উত্সবে সশস্ত্র হামলা করে।
১৮০৯ সালে বারানসিতে হিন্দুরা একটা বাড়ি বানাচ্ছিল মসজিদ আর বিশ্বেশ্বরের মন্দিরের মাঝে- তাই নিয়ে দাঙ্গা শুরু হয়।
১৮৭৪ সালে বোম্বেতে এক পার্সি প্রফেটদের উপর এক বই লিখে, সেই বই নিয়ে দাঙ্গা।
তারপর, ব্রিটিশ শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
মুসলিমদের জমানা গেছে। তাই এবার দাঙ্গা গুলোর চরিত্র কিছুটা বদলেছে। এবার একতরফা হিন্দুরা মার খেল না। তারা পাল্টা মার দিতে শিখলো।
১৮৮৯ সালে দিল্লিতে এক হিন্দুর ধর্মান্তরকরণ নিয়ে দাঙ্গা বাঁধে।
১৮৯১ সালে কলকাতায় মসজিদ বানানো নিয়ে দাঙ্গা লাগে।
১৮৯২ সালে প্রভাসপাতনে মহরম নিয়ে হিন্দুরা দাঙ্গা লাগায়।
১৮৯৫ সালে পোরবন্দর-এ হিন্দুর ঘরের পাশ দিয়ে মুসলিম ধর্মীয় মিছিল বেরোলে হিন্দুরা আক্রমন করে। এইরকম হিন্দু মুসলিমদের মধ্যে বহু দাঙ্গা হয়।
ইংরেজরা এইসব দাঙ্গা দেখে হিন্দু আর মুসলিমদের দুই পৃথক জাতি ভেবে নিল।
ভাবাটাই কি স্বাভাবিক নয়? এদিকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ব্রিটিশদের আর্থিক ক্ষতি হলে তারা ভারত স্বাধীন করার কথা ভাবতে থাকে। এতে ব্রিটিশদের দোষ কোথায়? অতএব দেশভাগের জন্য দায়ী সংকীর্ণ ধর্মীয় আবেগ আর সাম্প্রদায়িকতা। ইংরেজরা কোনভাবেই দায়ী নয়। দেশভাগের প্রধান কারণ যে ধর্ম সেটা অনেকে মানতে চায় না। কাদের স্বার্থে ব্রিটিশরা দেশভাগ করলো? দেশভাগের সময় কিন্তু কোনো হিন্দু বাধা দেয় নি বরং গান্ধীজি বাধা দিয়েছিলেন বলে নাথুরাম গডসে তাকে গুলি করেছিলেন। এর থেকে কি প্রমান হয়? হিন্দুদেরও দেশভাগে মৌন সম্মতি ছিল। এই রকম বহু উদাহরণ আছে। দেশ ভাগ হয়ে যাওয়াতে এখন যদি দাঙ্গা হাঙ্গামা কমে।
২|
১১ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:২৯
ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
মোটেই জরুরী ছিলনা , উটা ছিল বাঙলাকে নীজ দখলে রাখার জন্য কুটচালে সিদ্ধহস্ত জিন্নার কারসাজি ।
তা না হলে বাংলা আর আসাম নিয়ে গঠিত ,মুসলিম রাস্ট্র হতো ভারতাবর্ষের সেরা রাস্ট্র ।
৩|
১১ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:৪৪
মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন বলেছেন:
ধর্মীয় উগ্রবাদের কারণেই দেশভাগ হয়েছে।
দেশ ভাগ কোন সঠিক কাজ হয়নি।
এর ফল এখন আমরা ভোগ করছি।
সব চেয়ে ভালো হতো আরো ১০০ বছর বৃটিশদের অধীনে থাকা।
৪|
১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:২৬
নাহল তরকারি বলেছেন: দেশভাগের ইতিহাস বিশ্লেষণ করতে হলে শুধু সাম্প্রদায়িকতার কথা বললেই চলবে না; তৎকালীন রাজনৈতিক বাস্তবতা, মুসলমানদের নিরাপত্তাহীনতা, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা এবং লক্ষ্ণৌ চুক্তির মতো রাজনৈতিক সমঝোতার প্রেক্ষাপটও বিবেচনায় নিতে হবে। মুসলমানদের একটি বড় অংশের কাছে পৃথক রাষ্ট্রের দাবি ছিল নিজেদের রাজনৈতিক অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উপায়। দেশভাগের পেছনে ধর্মীয় বিভাজনের পাশাপাশি ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক নীতি ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের সিদ্ধান্তও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ১৯৪৭ সালে ভারত ভাগ না হলে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পথ কীভাবে তৈরি হতো, সেটিও ভাবার বিষয়। তৎকালীন অখণ্ড ভারত বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে সমর্থন করত কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। তবে পাকিস্তান রাষ্ট্রের সৃষ্টি এবং পরবর্তী সময়ে পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের ওপর রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বৈষম্য বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের পটভূমি তৈরি করেছিল।
দেশভাগের পরও ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশে দারিদ্র্য, দুর্নীতি, সাম্প্রদায়িকতা ও সহিংসতা রয়ে গেছে—এটি সত্য। কিন্তু এসব সমস্যা রয়ে গেছে বলেই দেশভাগের প্রয়োজনীয়তা ছিল না, এমন সিদ্ধান্তেও সরাসরি পৌঁছানো যায় না। তাই ইতিহাসের সব দিক বিবেচনা করে ভারসাম্যপূর্ণ বিশ্লেষণ করা জরুরি। আপনার লেখায় ব্রিটিশদের ভূমিকা ও মুসলমানদের নিরাপত্তার প্রশ্নটি আরও নিরপেক্ষভাবে বিবেচনা করে বক্তব্যটি সংশোধন করার অনুরোধ রইল।
আমার মূল অবস্থানটি আরও স্পষ্ট করুনযুক্তিগুলো আরও সংক্ষিপ্ত ও ধারালো করুন।
আমি জানি, আপনি কমেন্ট গুলো দেখবেনই না।
৫|
১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:৫৪
মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন বলেছেন:
আপনার চাচা মহাজগতের চিন্তা সাহেব এখন মন্তব্যের জবাব দেন এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে। তিনি কতটা স্মার্ট হয়ে গেছেন ভাবতে পারেন?
আমি একটি মন্তব্য করেছিলাম। তিনি সেটার জবাব দিয়েছেন এআই ব্যবহার করে।
মানুষের আর কোন সৃজনশীলতা থাকলো না।
©somewhere in net ltd.
১|
১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২৫
সুব্রত দত্ত বলেছেন: আমার পূর্ণ বিশ্বাস দেশভাগে বাঙালির ভূমিকা অগ্রগণ্য ছিল। বাঙালি একটা জাতিও বটে। মারহাবা।