নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

ইতিহাস কথা বলে,আমি নিরপেক্ষ নই, আমি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে,আমি গণজাগরণের পক্ষে,আমি গণ-মানুষের পক্ষে ।

আমি এ আর বলছি

আমি মুসলমান কিন্তু কোন সন্ত্রাসী বা জঙ্গীবাদে বিশ্বাসী না

আমি এ আর বলছি › বিস্তারিত পোস্টঃ

কামারুজ্জামানের যুদ্ধাপরাধসমূহঃ

০৮ ই মার্চ, ২০১৬ সকাল ১১:৩৪

কামারুজ্জামানের যুদ্ধাপরাধসমূহঃ

১. শেরপুর এলাকার একজন শহীদের পিতা ফজলুল হকের মতে, কামারুজ্জামানের নেতৃত্বে ১১সদস্যের আল-বদর বাহিনী ১৯৭১ সালের জুন বা জুলাই এর দিকে তার সন্তান বদিউজ্জামানকে ধরে নিয়ে যায়। ফজলুল হক বলেন তার ছেলেকে নিকটবর্তী আহমেদনগর এর পাকিস্তানী সেনা ক্যাম্পে ধরে নিয়ে যাওয়া হয় এবং হত্যা করা হয়। স্বাধীনতার পর শহীদ বদিউজ্জামানের ভাই হাসানুজ্জামান নলিতাবাড়ী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন, মামলায় বদিউজ্জামানকে হত্যার দায়ে ১৮জন অভিযুক্ত ব্যক্তির মধ্যে কামারুজ্জামানকে প্রধান আসামী করা হয়।

২. একই শেরপুর এলাকায়, জনৈক শাহজাহান তালুকদার বলেন, আল-বদর বাহিনীর সন্ত্রাসীরা ১৯৭১ সালের ২৪শে আগষ্ট প্রকাশ্য দিবালোকে তার চাচাত ভাই গোলাম মোস্তফাকে অপহরণ করে। মোস্তফাকে এরপর স্থানীয় আল-বদর ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয়, ক্যাম্পটি শেরপুর শহরের সুরেন্দ্র মোহন রোডের একটি বাড়ীতে স্থাপন করা হয়েছিল। ক্যাম্পে মোস্তফাকে নির্মমভাবে নির্যাতন করার পর আল-বদর বাহিনী তাকে নিকটবর্তী শেরী সেতুতে নিয়ে যায় এবং গুলি করে হত্যা করে। কামারুজ্জামান এই হত্যাকান্ডের নির্দেশ দিয়েছিল বলে জানা যায়। শেরপুরের আরো অনেকেই নিশ্চিত করে যে কামারুজ্জামানের সরাসরি নির্দেশে গোলাম মোস্তফা হত্যাকান্ড ঘটানো হয়েছিল।

৩. স্থানীয় প্রাক্তন ছাত্রনেতা তাপস সাহা শেরপুরে আল-বদর ক্যাম্পে নির্যাতনের অভিযোগ করেছিলেন। তিনি বলেন, এলাকার নারী, পুরুষ এবং যুবকদের ক্যাম্পে জোর করে ধরে নেয়া হতো যেখানে কামারুজ্জামানের সরাসরি তত্বাবধানে আল-বদরের সন্ত্রাসীরা বিভীষিকাময় নির্যাতন চালাতো। যেমন, তৎকালীন শহর পরিষদের একজন নির্বাচিত কার্যালয়-বাহক মজিদকে ক্যাম্পে ধরে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সারাদিন একটি অন্ধকারাচ্ছন্ন গর্তের ভেতরে ফেলে রাখা হয়।

৪. তাপস সাহা কমিশনকে জানায় যে, মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে, শেরপুর কলেজের ইসলামিক ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের তৎকালীন বিভাগীয় প্রধান সৈয়দ আবদুল হান্নানকে সম্পূর্ণ দিগম্বর অবস্থায় এবং মুন্ডিত মস্তক ও গলায় জুতার মালা পরিহিত অবস্থায় শহরের সড়কজুড়ে প্রদক্ষিণ করানো হয়। কামারুজ্জামান এবং তার দল অধ্যাপককে দুপুরবেলা সমগ্র শহরজুড়ে টেনে নিয়ে যায় এবং তাকে টেনেহিঁচড়ে নেয়ার সময় চামড়ার বেল্ট দিয়ে প্রহার করা হয়।

৫. আওয়ামী লীগ এর প্রাক্তন নেতা জিয়াউল হক বলেন, ২২শে আগষ্ট বিকেল ৫টার দিকে আল-বদরের তিনজন লোক তাকে ধরে নিয়ে যায়। এরপর তাকে একটি ক্যাম্পের অন্ধকারাচ্ছন্ন গর্তের ভেতর দু্ইদিন ফেলে রাখা হয়। তিনি বলেন, কামারুজ্জামান নির্যাতন কেন্দ্রটি চালাতো। এলাকাটি ছেড়ে চলে যেতে বলার পর তাঁকে ছেড়ে দেয়া হয়, সাথে সাথে তাঁকে এটিও বলা হয় যে, এলাকা ছেড়ে না গেলে তাঁকে হত্যা করা হবে।

৬. প্রাক্তন ছাত্রনেতা ও বর্তমানে জাতীয় পার্টির নেতা এমদাদুল হক হীরা বলেন, কামারুজ্জামানের নির্দেশে পাকিস্তানী সৈন্যরা তার ঘর জ্বালিয়ে দিয়েছিল। তিনি কমিশনে উল্লেখ করেন যে, সৈন্যরা তাঁর ঘরের আঙ্গিনার সামনে পাঁচটি বাঙ্কার স্থাপন করেছিল এবং বন্দীদের হত্যা করার পূর্বে তার আঙ্গিনার সামনে তাদেরকে একটি বড় গাছের সাধে বেঁধে ফেলতো।

৭. শেরপুরের জয় মামুদ কলেজের একজন বর্তমান শিক্ষক এবং প্রত্যক্ষদর্শী মুশফিকুজ্জামান বলেন, মধ্য আগষ্টে কামারুজ্জামানের উপস্থিতি ও নেতৃত্বে তিন আনি বাজার এলাকার ঘরবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে লুটপাট চালানো হয়।

৮. বন্দীদের এবং মৃতদেহ বহনকারী ট্রাকের চালক হিসেবে কাজ করা একজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, কামারুজ্জামান একজন মুক্তিযোদ্ধার ঘর জ্বালিয়ে দিতে পাকিস্তানী সেনাদলকে নির্দেশনা দিয়েছিল।
কামারুজ্জামান ঐ এলাকায় ডাকাতদলের নেতৃত্ব দিয়েছিল বলেও অভিযোগ আছে।

মন্তব্য ২ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (২) মন্তব্য লিখুন

১| ০৮ ই মার্চ, ২০১৬ সন্ধ্যা ৭:৪১

নীল আকাশ ২০১৬ বলেছেন: কিছু লোক কি বলল না বলল, তাই শুনে কোন যাচাই বাছাই না করেই একজন জনপ্রিয় নেতাকে লটকে দেওয়া হল। আর যার প্রত্যক্ষ ইন্ধনে হাজার মানুষের উপর প্রকাশ্যে গুলি চালানো হল, তার কিছুই হলনা।

২| ১০ ই মার্চ, ২০১৬ বিকাল ৩:১৬

phynix বলেছেন: good news

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.