| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
আমি এ আর বলছি
আমি মুসলমান কিন্তু কোন সন্ত্রাসী বা জঙ্গীবাদে বিশ্বাসী না
সাম্প্রতিক সময়ে সারা বিশ্বের আলোচিত আতঙ্কের নাম জিকা ভাইরাস। ফুটবলের দেশ ব্রাজিলে মশকবাহী এই ভাইরাসের সংক্রমণে এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ৭৪৫ শিশু মাইক্রোসেফালি বা অপরিপক্ক মস্তিস্ক নিয়ে জন্ম নিয়েছে। ঝুঁকির মুখে আছে আরও লাখো শিশু।
এই অবস্থায় উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে ব্রাজিলের গর্ভবতী মায়েদের। মনে সব সময় এক প্রশ্ন, সন্তানটি সুস্থ হবে তো?
দেশটিতে প্রতিদিন হাজারও গর্ভবতী মা তার সন্তানের অবস্থা জানতে ছুটছেন হাসপাতালে। দেখতে চাচ্ছেন অনাগত সন্তানটির অবস্থা কী?
কাউকে কাউকে দেশটির কামপিনা গ্রানজে এলাকার একটি হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে অধিকতর পরীক্ষা নিরীক্ষার জন্য। সেখানকার চিকিৎসকরাই জিকা আক্রান্ত মায়েদের নিবিড় পর্যবেক্ষণ করছে।
এখানেই পরীক্ষার পর হয়তো কারো মুখে হাসি ফুটে। আর কেউ মনে ভয় নিয়ে বাড়ি ফেরেন।
চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে বিবিসির এক খবরে বলা হয়েছে, জিকা আক্রান্ত এইসব মায়েদের ভালোবাসার কোনো ঘাটতি দেখা যাচ্ছে না। মায়েরা শেষ পর্যন্ত তার মাইক্রোসেফালি আক্রান্ত সন্তান নিয়েই বাঁচতে চান।
এক কেস স্টাডিতে দেখা গেছে, দেশটির কামপিনা গ্রানজে এলাকার একটি হাসপাতালে একজন মা এসেছেন তার সন্তানটি কেমন আছে তা পরীক্ষা করে দেখতে। উদ্বিগ্ন ওই মাকে গর্ভের শিশুর হৃদস্পন্দন শুনিয়েছেন ডাক্তার। স্ক্যানিংয়ে দেখা গেল গর্ভের শিশুটি কন্যা শিশু।
শিশুর শক্তিশালী হৃদস্পন্দন শুনে দুশ্চিন্তার মধ্যেও মুখে একটু হাসি ফুটে উঠলো মা এডনা মেনদোসার। কিন্তু ডাক্তার বলছেন, আল্ট্রাসাউন্ডে শিশুর মাথা খানিকটা ছোট দেখা যাচ্ছে।
এই দৃশ্য দেখার পরে এডনা বলেন, এর পরেরবার স্ক্যান করতে আসার সময় হয়তো খানিকটা শান্ত বোধ করবো। কিন্ত এখন বুকের মধ্যে দুরুদুরু করছে। খুবই দুশ্চিন্তায় আছি।
তিনি বলেন, তবে যাই হোক আমি সন্তানকে আগলে রাখতে চাই বুকে। তাকে নিয়েই শুরু করতে চাই মাতৃত্বের জীবন।
সেখানে আসা আরেক মা আলেসান্দ্রা আমোরিম বলছেন, এই সন্তানকে তিনি জীবন দিয়ে ভালবাসবেন। তার চার মেয়ে। চেয়েছিলেন এবারের সন্তানটি ছেলে হবে। সে আবার মাইক্রোসেফালিতে আক্রান্ত।
তবে তা নিয়ে তার আক্ষেপ নেই। তিনি বলেন, ঈশ্বর আমাকে যে শিশুটি পাঠিয়েছে সে একটি বিশেষ শিশু। আমিও সেভাবেই তাকে যত্ন করবো। পৃথিবীতে এমন কোনো শক্তি নেই যা আমাকে এই শিশুর ভবিষ্যত নিশ্চিত করা থেকে দূরে রাখবে। সেই এখন আমার জীবন।
এদিকে জিকার চিকিৎসক আদ্রিয়ানা মেলো জানান, কখনও শুধু ছোট মাথা পাওয়া যাচ্ছে অথবা ছোট ক্যলসিফিকেশন পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু কিছু কেইস আছে যেগুলো আরও গুরুতর। যাতে দেখা যাচ্ছে শিশুটির কোনো মস্তিষ্কই তৈরি হয়নি, ভেতরে তরল পদার্থ এবং তার মাথার হাড় ও পেশী পরিপক্কতা পায় না।
এ কারণে মাইক্রোসেফালি আক্রান্ত শিশুদের এই মায়েদের জীবন পুরোটাই বদলে গেছে বলে জানান আদ্রিয়ানা।
তার ভাষায়, ব্রাজিলের গর্ভবতী নারীরা অপেক্ষা করছেন কোনো এক কঠিন সময়ের। তবে সন্তানের অবস্থা যাই হোক তাকে নিয়েই ভালো থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন
সংগৃহীত
©somewhere in net ltd.
১|
১৩ ই মার্চ, ২০১৬ রাত ১০:৪১
বিজন রয় বলেছেন: ভাল শেয়ারিং।
+++