| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
আমি এ আর বলছি
আমি মুসলমান কিন্তু কোন সন্ত্রাসী বা জঙ্গীবাদে বিশ্বাসী না
ইতিহাসের দিকে ফিরে তাকালে দেখা যায়, মানব সভ্যতার বড় বড় চ্যালেঞ্জের সঙ্গে জড়িত ছিল পানি৷ প্রাকৃতিক সম্পদ হিসেবে এটি অনন্য৷ পরিবেশ সংরক্ষণ, জীবিকার উন্নয়ন, সর্বোপরি জীবনের প্রয়োজনে পানির প্রয়োজনীয়তা বলে শেষ করা সম্ভব নয়৷ এতো গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ পানিই মানুষের বিপদ ও নিরাপত্তাহীনতার কারণ হতে পারে৷ বিশেষ করে একুশ শতকের প্রথম পর্যায়ে এসে বিশ্বব্যাপী পানি সমস্যার কারণে হুমকিতে রয়েছে মানব উন্নয়নের ভবিষ্যৎ৷ দারিদ্র্য, অশিক্ষা এবং শক্তি ও সম্পদ বণ্টনে অসাম্যই এ সমস্যার মূল কারণ৷ পানিকে সব ধরনের রাহুমুক্ত করার জন্য বিশ্বব্যাপী এখনই চাই সবার ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস…
বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও পানি সমস্যা রয়েছে৷ ছোট এই দেশে অতিরিক্ত জনসংখ্যার ফলে পানির চাহিদা এমনিতেই বেশি৷ দেশের সর্বত্র নদ-নদী জালের মতো বিস্তৃত থাকলেও সবগুলোর উত্সই দেশের বাইরে থাকায় সঠিক পরিমাণে পানি প্রাপ্তির বিষয়টি প্রশ্নসাপেক্ষ৷ তার ওপর দেশের অভ্যন্তরে যে সামান্য কিছু বিশুদ্ধ পানির উত্স রয়েছে সেগুলোরও যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা যাচ্ছে না দেশের জনগণের শিক্ষার অভাবে৷ দেশের ভূগর্ভস্থ পানিতে আর্সেনিকের উপস্থিতি শনাক্ত হওয়ার পর সারফেস ওয়াটারের ওপর চাপ বেড়ে যায়৷ কিন্তু বাংলাদেশে নদী, পুকুরসহ অন্যান্য জলাশয়ের পানি বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দূষিত৷ গ্রামাঞ্চলে অনুন্নত স্যানিটেশন ব্যবস্থা এবং কৃষিতে অপরিকল্পিতভাবে রাসায়নিকের ব্যবহার এসব পানিকে ব্যবহার অনুপযোগী করে তুলছে৷ অন্যদিকে দেশের নীতিনির্ধারক মহলও এ ব্যাপারে খুব সতর্ক নয়৷ পানি ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব এখনো দেশের কর্তাব্যক্তিরা সঠিকভাবে অনুধাবন করতে না পারায় প্রতিনিয়ত দেশের মূল্যবান পানিসম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে৷ সবার জন্য পানির প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে এবং পানির যথেচ্ছ ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের জন্য দেশে পানি ব্যবস্থাপনা নীতিমালা এখনো সেভাবে কার্যকর করা হয়নি৷ তাই পানির মতো গুরুত্বপূর্ণ ইসুতে সঠিকভাবে পদক্ষেপ নেয়া এবং যথাযথ পানি ব্যবস্থাপনা নীতিমালা প্রণয়ন বাংলাদেশের জন্য এখন অতি জরুরি
একবিংশ শতাব্দীর বিজ্ঞানের এই স্বর্ণযুগে পানির প্রাপ্তি এবং তার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা হয়ে উঠেছে নতুন চ্যালেঞ্জ৷ বিশ্বের মোট তিনভাগ জল আর একভাগ স্থল হলেও ব্যবহার উপযোগী পানির পরিমাণ কিন্তু অত্যন্ত স্বল্প৷ পৃথিবীর তিন ভাগ পানির মধ্যে ৯৭ ভাগ হচ্ছে সাগরের লবণাক্ত পানি এবং ২ ভাগ রয়েছে বরফ আকারে৷ এগুলো পৃথিবীর মেরুবৃত্তে এর আশেপাশে জমাট বেধে আছে৷ কিন্তু পরিবেশ দূষণের ফলে বিশ্ব উষ্ণতা বেড়ে যাওয়ায় এসব বরফও এখন গলতে শুরু করেছে৷ এর ফলে বরফগলা পানি গিয়ে মিশছে সাগরের নোনা পানির সঙ্গে৷ বরফগলা পানি সাগরে পড়ার ফলে বিশ্বব্যাপী সাগরের পানির উচ্চতা বাড়তে শুরু করেছে৷ যার প্রভাব হয়েছে আরো মারাত্মক৷ সাগরের পানির উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে সরাসরি হুমকির মুখে পড়েছে মালদ্বীপসহ বিশ্বের অন্যান্য দ্বীপাঞ্চল এবং নিচু দেশগুলো৷ এমনকি আমাদের বাংলাদেশও এই হুমকির বাইরে নয়৷ বরফগলা অব্যাহত থাকলে শিগগিরই হয়তো বিশ্বের অনেক দেশকে তলিয়ে যেতে হবে সাগরের নিচে৷ বিশ্ব মানচিত্রে সমুদ্রের আকার তখন আরেকটু বাড়বে আর কমবে পৃথিবীর বুকে স্থান পাওয়া দেশের সংখ্যা৷ ৯৭ ভাগ লবণাক্ত এবং ২ ভাগ বরফের পর বাকি যে মাত্র এক ভাগ পানি অবশিষ্ট থাকে তাই হচ্ছে জীবন৷ আগের ৯৯ ভাগ পানি ব্যবহারের অনুপযোগী৷ কিন্তু মাত্র এই ১ ভাগ পানি রয়েছে বিশ্বের সব মানুষের ব্যবহারের জন্য৷ এই পানির উত্স হচ্ছে, বিভিন্ন খাল-বিল, নদ-নদী, পুকুর, জলাশয়, কূপ, ঝরনা, জলপ্রপাত এবং বৃষ্টি৷ কিন্তু এই সামান্য পরিমাণ পানিও কি আমরা ব্যবহার উপযোগী রাখতে পারছি? পানির ব্যবহার সম্পর্কে যথাযথ জ্ঞানের স্বল্পতা এবং পানি ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে অদূরদর্শিতার জন্য এই সামান্য পরিমাণ মহামূল্যবান পানিও আমাদের হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে৷ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এই সামান্য পরিমাণ ব্যবহার উপযোগী পানিকে বিভিন্নভাবে ব্যবহার অনুপযোগী করে তোলা হচ্ছে৷শিল্পোন্নত দেশগুলো নিজেদের উত্পাদিত পণ্য বর্জ্য পানিতে ফেলে পানি দূষিত করছে৷ সারা বিশ্বের ওষুধ এবং চামড়া শিল্পের বিষাক্ত বর্জ্যের শেষ ঠিকানা হচ্ছে বিভিন্ন জলাশয়ের পানি৷ এর ফলে বিশুদ্ধ পানির হাতের কাছে থাকা উত্সগুলো মারাত্মকভাবে দূষিত হয়ে যাচ্ছে৷ অন্যদিকে স্বল্পোন্নত এবং অনুন্নত দেশগুলোর মানুষের মধ্যে রয়েছে শিক্ষার অভাব৷ পানি ব্যবহারের ওপর তাদের যথাযথ জ্ঞান না থাকায় তারা নিজেদের খেয়াল খুশিমতো পানির উত্সগুলো ব্যবহার করছে৷ ইনডিয়া এবং বাংলাদেশের মতো দেশগুলোতে যথেচ্ছভাবে পানির এসব উত্স ব্যবহার করা হয়৷ গরু-ছাগলকে পানিতে গোসল করানো থেকে শুরু করে এমন কোনো কাজ নেই যেগুলো এ অঞ্চলের মানুষ পানিতে করে না৷ তাই আগামী দিনে বেচে থাকার জন্য পানির যথাযথ জ্ঞানসম্পন্ন ব্যবহার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা এখন চ্যালেঞ্জ হয়ে দেখা দিয়েছে৷ 
©somewhere in net ltd.