নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

কলমের ক্রিয়েটিভ ঋতুস্রাব যার হবে সেই প্রকৃত ব্লগার।

শাহজাদা মারজান

আমি সাধারণ মনের একজন মানুষ, সম্পূর্ন একজন বইপোকা। সব সময় তথ্যবিত্তিক ইতিহাস কিংবা অজানা জিনিস জানাতে পছন্দ করি। ব্লগ লিখতে গিয়ে এর চাইতে বেশি পরিচয় হয়ত আমার নাই।

শাহজাদা মারজান › বিস্তারিত পোস্টঃ

মানুষের তিন হাত

০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৫ রাত ১২:৫২

মায়ের গর্ভে দুই হাত থাকে প্রতিটা বাচ্চার, এই দুই হাতের মধ্যে ছেলে কোন হাতা হবে সেটা নির্ভর হয় ছেলের নিউরনের ধারন ক্ষমতার উপর। অর্থাৎ ছেলের বয়স যখন ৭ মাস তখন হাতের বুড়ো আঙুল মূখে দিবে, এখন দেখতে হবে ছেলে বাম হাত দিচ্ছে নাকি ডান হাত দিচ্ছে মুখে। আবার বয়স ৫ বছর হলে সেটা অটোম্যাটিক বুঝা যায়, বল হাতে দিলে দেখা যায় কেউ বাম হাতে করছে কেউ আবার ডান হাতে,,


জম্মগতভাবে হাতের ব্যবহার দেখলেন, এইগুলার বাইরে আরেকটা হাত পরিবেশ তাকে গলার মধ্যে ঝুলাই দেয়, সেটার নাম অজুহাত... এই হাত দিয়ে মানুষ মরন পর্যন্ত কাটিয়ে দেয়;


যেমন : বাসার জমিদার আসছে ভাড়াটিয়ার কাছে ভাড়া নিতে, ভাড়াটিয়া ভাড়া দেওয়ার সময় ৩০০ টাকা কম দিল, আর জমিদার জিজ্ঞেস করবে ভাড়া ৩০০ টাকা কম দিচ্ছেন কেন। আর ভাড়াটিয়া বলবে আপনারা বাসা নেওয়ার সময় বললেন পানি, গ্যাস, বিদ্যুতের সুব্যবস্থা, কিন্তু বাসা ভাড়া নেওয়ার পর দিনে ১০ বার কারেন্ট চলে যায়, যার জন্য মোমবাতি কিনতে আমার ৩০০ টাকা লেগেছে তাই কেটে নিলাম।


দুইহাতে মানুষ যা পারেনা অজুহাত তার চাইতে অনেক বেশি পারে, অফিসে যেতে, দাওয়াত খেতে, সুটিং স্পটে, সাক্ষাতে দেরি হলে সেখানে রয়েছে অজুহাত -- সোজা বলতে হবে পাক্কা ৩০ মিনিট জ্যামের মধ্যে আটকে ছিলাম, উপ্প বাংলাদেশ একটা দেশ মাঝে মাঝে ইচ্ছে করে মাটি দুভাগ করে ঢুকে যায়। নিজের দুইহাত তখন বেকার থাকে কাজ হয় অজুহাতে।


বিশ্ব বাজারে তেলের দাম কমেছে, পত্রিকার মধ্যে ইতোমধ্যে লেখালেখি দেখেছেন, কিন্তু না কমে বিদ্যুত বিল না কমে গাড়ীভাড়া। চাইলে গাড়ীভাড়া ২ টাকার বেশি কমানো যায়, আর বিদ্যুত বিল .৭৫ পয়সা করে কমানো যায়। তাদের অজুহাত কেউ একজন গলায় ঝুলাই দিছে, সরকার বড় অংকের বাজেট বসাইছে আমাদের ভ্যাট দিতে হয়, ভ্যাটের টাকা বেশি তাই তেলের দাম কমলেও ইউনিট বিল কমানো সম্ভব না, সেখানে দুইহাতের ব্যবহার নাই কাজ হয় অজুহাতে,


ছেলে স্কুলে ফেল করলে টিচারের দোষ, আর বউ রান্নায় ফেল করলে রাঁধুনি মসলার দোষ, কাজের মেয়ে ফাঁকি দিলে চারিত্রিক দোষ, সরকার বেপথে চললে বিরুদী দলের দোষ।


পদ্মা সেতুর জন্য কোন আর্থিক সাহায্য দেওয়া যাবেনা সরকার দূর্নীতির হালকা গন্ধ পাচ্ছে, পাবলিক দূর্নীতি কি জিনিস না জেনে খেপে গেছে ; এখন সরকার পাবলিক থামানোর জন্য বলে দিল, পদ্মা সেতু হবে আমাদের দেশের অর্থায়নে -- বিশ্বকে জানিয়ে দেওয়া হবে আমরাও পারি। দেশের ভাবমূর্তি নষ্টের জন্য যারা এই ষড়যন্ত্র করেছে তাদের আইনের কাটগড়ায় দাড়ায় বিচার হবে ইনশাল্লাহ। পাবলিক শান্তির নিশ্বাস ফেলতে শুরু করলো। পদ্মা সেতু নিয়ে কোনটা ডানহাত কোনটা বামহাত কিংবা কোনটা অজুহাত সেটা বুঝাই মুসকিল!


কেউ একজন বাংলাদেশের পতকা উপর নামাজ পড়ে পত্রিকার পাতা গরম করে দিয়েছে, আলোড়ন শুরু হয়ে গেছে উত্তেজিত সুশীল সমাজের মধ্যে, কেউ বলে রাজাকারের চামড়া তুলে নেব আমরা-- আবার কেউ বলে রাজাকারের চামড়া লাগিয়ে দিব আমরা, শ্লুগান তো একধরনের গান ও বটে, বেশি শুনলে নিজের কাছে অসহ্য লাগে, পরে যখন বলা হল আমেরিকার মধ্যে শিক্ষিত দেশে মেয়ের পতকাকে ব্রা,পেন্টি বানায় সমুদ্রে গোসল করে, ইউরোপ দেশে রাস্তার মধ্যে পতকা এঁকে উৎসব করে। তাহলে কি তারা অশিক্ষিত।

চুপ সুশীল সমাজ....
শুধু একটু আঙুল দিয়ে দেখায় দিতে হবে অজুহাতের তেলেসমাতি !

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.