| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
গুলশান লেকপাড়ে রিক্সা থেকে নেমে হাটা দিছি সাহাজাদপুরের দিকে। আমার সামনে এক ভদ্রমহিলা ফোন কথা বলতে বলতে হাটছিলেন। যেহেতু বেশ ভীর তাই খুব একটা জোরে হাটতে পারা যাচ্ছেনা। মহিলার প্রায় সব কথাই কানে আসছিল। বুঝতে পারলাম বাড়ীতে রেখে আসা তার ছোট্ট মেয়ের সাথে কথা বলছিলেন। মহিলা একটু পর পর শুধু বলছেন " আম্মু তুমি কাইন্দ না, তুমি কান্দলে আমার খারাপ লাগে। আম্মু ঈদের আগেই চলে আসবো"। মিনিট তিনেকের মাঝে তিনি এই কথাটা প্রায় ১০-১২ বার বলেছেন প্রতেক পরেরবার তার কথাটা আগের চেয়ে একটু বেশী জরানো মনে হচ্ছে। একটা সমায় প্রায় কেঁদে ফেলবেন এমন অবস্থা। রাস্তার ঝাঁঝালো আলো আর লোকলজ্জা তার কান্নাটাকে বার বার থামিয়ে দিচ্ছিল। ইতোমধ্যে রাস্তাটা যেখানে দুদিকে বাক নিয়েছে সেখানে পৌঁছে গেছি। এই জায়গাটাতে আলো একটু কম। আমি ডান দিকে মোড় নিয়েছি, অনেকেই বাম দিকে। এই বার মহিলার গলা অনেক বেশী ভাঙ্গা কিন্তু কণ্ঠ বেশ উচ্চ " আম্মু...গো, আম্মু তুমি কাইন্দ না , তুমি কান্দলে আমার কইলজাটা ছিড়া যায়, তুমি বোঝনা ক্যান আম্মু"। গলাটা সংকুচিত হয়ে মাটিতে মিশবার উপক্রম, সাথে ফুপিয়ে, ফুঁপিয়ে কাঁদবার শব্দ। আর বাঁধ মানল না, বাঁধ সারাক্ষণ মানে না। বুঝলাম সল্প আলো আর কমে যাওয়া মানুষের সংখ্যা মহিলাকে সুযোগ করে দিয়েছে একটু লাঘব করার। একটু অন্য মনস্ক হয়ে গেছিলাম, মোবাইল ফোনের ভাইব্রেশনে সম্বিৎ ফিরে পেলাম। নিজের অজান্তেই শার্টের হাতা দিয়ে আমিও চোখ মুছে নিলাম, কেও দেখেনি। ফোনের স্ক্রিনে লেখা MA । ফোনটা কেটে দিয়ে একটা হোটেলে ঢুকলাম , মুখে এক ঝটকা পানি দিয়ে ফোন ব্যাক করলাম " হ্যালো মা কেমন আছেন........." । মা......... রে, মা আর কত জীবন দেখব রে মা ।
২|
১৫ ই মে, ২০১৭ দুপুর ২:২১
গরজিয়াস গা্লীব বলেছেন: আসলেই ছুঁয়ে যাবার মত এবং সত্য।নিজের অজান্তে চোখ দিয়ে পানি এসেছিল।
©somewhere in net ltd.
১|
১৫ ই মে, ২০১৭ দুপুর ১২:০২
আহমেদ জী এস বলেছেন: গরজিয়াস গা্লীব ,
খুব টাচি ....................