নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

শেহজাদ আমান

শেহজাদ আমান

একজন সাংবাদিক ও সৃষ্টিশীল লেখক

শেহজাদ আমান › বিস্তারিত পোস্টঃ

বিশ্বকাপ ২০২৬ঃ গোল্ডেন বল মেসিকে না দেওয়া অন্যায়, অযাচিত ও ভুল সিদ্ধান্ত

২০ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৫:২০



ইদানিং, বিশ্ব ফুটবলের ক্যালকুলেশনগুলো কিছুই বুঝতেছি না। উয়েফারও না, ফিফারও।

২০২৪ ইউরোতে টুর্নামেন্টের সেরা পারফরমার ছিল লামিন ইয়ামাল। সবাই ভেবেছিল, সেই ওই টুর্নামেন্টে 'সেরা খেলোয়াড়'-এর পুরষ্কার জিতবে। কিন্তু অবাক করার মতো ব্যাপার হলো সেবার জিতছিল এই রদ্রি; লামিন ইয়ামালকে জাস্ট দেওয়া হলো 'সেরা উদীয়মান খেলোয়াড়'-এর পুরষ্কার।

আর এবারের বিশ্বকাপের বেলায় তো স্বীকৃতিটা আরও হাস্যকর। এবারও সেই সেরা খেলোয়াড়ের পুরষ্কার 'গোল্ডেন বল' পেল সেই রদ্রি! যার কোনো গোল নেই, কোনো এসিস্ট নেই। খালি মিডফিল্ড হোল্ড করে রাখছিল বলেই দেওয়া হলো যেন...হস্যকর, অতি জঘন্যভাবে হাস্যকর! এমনটা হলে তো সেই ২০১০ সালে স্পেনের বুসকেটস বা জাভিই গোল্ডেন বল পেতেন, বা ২০১৪ সালে জার্মানীর টনি ক্রুস বা শোয়েনস্টাইগার। সেটা কিন্তু হয়নি! কেননা, ফুটবল শেষ পর্যন্ত গোলেরই খেলা। জাদুকরি পারফরমেন্সের খেলা!

কিন্তু, ৮ গোল, ৫ এসিস্টের মেসিকে ছাড়ায়ে 'রদ্রি'র হাতে 'গোল্ডেন বল'-এর পুরষ্কার দেওয়ার মাধ্যমে পু্রো জিনিসটাকেই নিদারুণভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করে দিয়েছে ফিফা।

ফিফা বা উয়েফার লোকজন বা এডজুডিকেটররা কি মদ-গাঁজা খেয়ে এসব করে কিনা, সেটাই প্রশ্ন? নাকি, রদ্রির কাছে তাদের কোনো গোপন মুহূর্তের ভিডিও আছে?

রদ্রিকে গোল্ডেন বলের পুরষ্কার দিয়ে এমনকি রদ্রিকেও নিঃসন্দেহে ছোট ও বিতর্কিত করল ফালতু ফিফা। ট*ক্সিক ব্রাজিল সাপোর্টারদের মতো বলব না যে ফিফা ষড়যন্ত্র করেছে। আমি বলব, সেরা খেলোয়াড় নির্বাচনের এই প্রসেসটা এত প্রশ্নবিদ্ধ ও হাস্যকর যে তা মেনে নেওয়া সম্ভব না। এটা স্রেফ ফিফা ও এর এডজুডিকেশন প্রসেসের মারাত্মক ত্রুটি ও অযোগ্যতা। মেসির প্রতি তারা যা করল, এটা একেবারেই অ*ন্যায় ও অমা*নবিক হয়েই থাকল!

রদ্রির এবারের বিশ্বকাপের পারফরম্যান্স স্রেফ বেশ ভালো! স্পেনের ফাইনাল ম্যাচ জেতা নিয়েও আমার কোনো আপত্তি নেই! যোগ্যতর দল হিসেবেই অতি স্বাভাবিকভাবে তারা জিতছে! তবে, মেসি তো স্রেফ অতিমানব ছিলেন এবারের বিশ্বকাপে, খালি ফাইনালটা বাদে! তাই, এমন অতিমানবীয় পারফরমেন্সের পরও মেসি গোল্ডেন বল না পেলেও আমাদের কাছে সে সবসময়ই 'গোল্ডেন বয়'ই থাকবে, সন্দেহ নেই! তবে, রদ্রিকে দেওয়া এই গোল্ডেন বল ফিফার অযোগ্যতা ও চরম প্রশ্নবিদ্ধ আচরণ এবং অতি হাস্যকর ভাঁড়ামো হিসেবেই ইতিহাসে রয়ে যাবে, এটাও সন্দেহ নেই!

মন্তব্য ১১ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (১১) মন্তব্য লিখুন

১| ২০ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৫:৩৪

স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: 'গোল্ডেন বল'-এর পুরষ্কার দেওয়া উচিৎ ছিলো এমবাপেকে !
দল হেরে গেলে ও তার গোল করার দক্ষতার জন্য প্রাপ্য ছিল ।

২| ২০ শে জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:০২

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: এআই কে জিগাইসিলাম যে মেসি না পেলে কে পেতে পারে ? জবাব দিয়েছিলো রডরিগো । খেলার আগের ঘটনা । :)

৩| ২০ শে জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:০৩

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: লুকা মদরিচের বল পাওয়াটা এখনো মেনে নিতে পারি নাই । ক্রোয়েশিয়া ওভাররেটেড দল।

২০ শে জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১২

শেহজাদ আমান বলেছেন: ২০০৭ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আফ্রিদি ভাইজানের 'প্লেয়ার অব দ্য টুর্নামেন্টে'-এর পুরষ্কার জয়ের কথা মনে পইড়া গেল আইজকা রদ্রির 'গোল্ডেন বল' জেতা দেখে।
যুবরাজ সিং-এর অত্যন্ত প্রভাবশালী ও বিস্ফোরক পারফরমেন্সের পরও মারাত্মক ত্টিরুপূর্ণ সিস্টেমের কারণে সেরা খেলোয়াড়ের পুরষ্কার যায় আফ্রিদির হাতে। অথচ, আফ্রিদি ভালো খেলেছিল স্রেফ শ্রীলংকা এবং বাংলাদেশ , স্কটল্যান্ডের মতো দুর্বল প্রতিপক্ষের সাথে। তাঁর সেই 'প্লেয়ার অব দ্য টুর্নামেন্ট' পুরষ্কার জেতা দেখে বিস্ময়ে হতবাক হয়েছিল বিশ্বের বেশিরভাগ ক্রিকেটবোদ্ধা ও সমর্থকেরা। অবাক নিশ্চয় আফ্রিদি নিজেও কম হয়নি!

৪| ২০ শে জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৩৪

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: ফুটবল হলো গোল এবং নৈপুণ্যের খেলা। ফিফা যদি অন্যায় করে থাকে, সেটা হয়েছে এমবাপের সাথে। গোল্ডেন বল এবং গোল্ডেন বুট দুটোই এমবাপে পেতে পারতো। ইয়ামাল কিছু না পাওয়ায় একটু অবাক হয়েছি। মেসির সিলভার বল পাওয়া ঠিক আছে, ব্রোঞ্জ হলেও সেটা অন্যায় হতো না। তবে মার্টিনেজ এবারও গোল্ডেন গ্লাভস পাওয়ার জন্য যোগ্য ছিল বলে মনে হয়েছিল আমার। স্রেফ মার্টিনেজের কারণে আর্জেন্টিনা অন্তত একহালি গোল খাওয়া থেকে ফাইনালে বেঁচে গেছে।

সবার বিশ্লেষণ একরকম হবে না। সবকিছুর অন্তরালে কিছু পলিটিক্স থাকে, সেটাও মেনে নিতে হবে। এই পলিটিক্সের কারণেই হয়ত মিশরকে ছিটকে পড়তে হয়েছে, আর্জেন্টিনা ফাইনালে আসতে পেরেছে। ঠিক একই রকমের ঘৃণ্য পলিটিক্সের কারণে আমার বাংলাদেশকে ২০১৫ ওয়ার্ল্ডকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে হারিয়ে দেয়া হয়েছিল।

২০ শে জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৩৮

শেহজাদ আমান বলেছেন: আপনার মন্তব্য ভালো লেগেরছে। তবে, ফুটবলকে আপনার আরেকটু বেশি বুঝোতে হবে অ্যান্টি-আর্জেন্টাইন মেন্টালিটি থেকে বেরিয়ে এসে!

৫| ২০ শে জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৩

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: ফুটবলকে আপনার আরেকটু বেশি বুঝোতে হবে অ্যান্টি-আর্জেন্টাইন মেন্টালিটি থেকে বেরিয়ে এসে!

মানুষ কেন নিরপেক্ষভাবে কিছু বলতে পারে না, এ নিয়ে অনেক পোস্ট লিখেছি, অনেক মতামত দিয়েছি বিভিন্ন জায়গায়। বস্তুত কারো পক্ষেই নিরপেক্ষ হওয়া সম্ভব নয়। যদি ধরেও নিই যে আপনি নিরঙ্কুশ নিরপেক্ষ দৃষ্টিকোণ থেকে একটা বিষয় বিশ্লেষণ করেছেন, আপনার বিশ্লেষণ যার ভালো লাগবে, সেই আপনার পক্ষে চলে আসবে, ভালো না লাগলে বিপক্ষে। আল্টিমেটলি আপনি কারো না কারো পক্ষে চলে যাচ্ছেন, প্রকারান্তরে বিপক্ষে।

প্রতিটা বিশ্বকাপ ফুটবলে আমার একটাই মোটিভ থাকে, ভিন্নদেশকে সাপোর্ট করা নিয়ে আমাদের মধ্যে যেন কোনো বাকবিতণ্ডা, কুৎসিত ভাষায় গালিগালাজ, মারামারি, খুনাখুনির ঘটনা না ঘটে। অন্যদেশের প্রতি ভালোবাসা, সাপোর্ট থাকতেই পারে, কিন্তু তা যেন সংযত থাকে, মাত্রা ছাড়িয়ে না যায়। গত বছর ২৭ জন খুন হয়েছিল এ সাপোর্ট করাকে কেন্দ্র করে। এবার ১৫জনের কথা শোনা যায়। গতকালের ফাইনালের পর আজকে কী ঘটেছে এ সোনার দেশে, তা এখনো জানা যায় নি, কামনা করি আর কোনো দুর্ঘটনা না ঘটুক। কিন্তু এগুলো হলো অত্যন্ত অনভিপ্রেত ঘটনা। এ ঘটনাগুলো যাতে না ঘটে, সে ব্যাপারে অ্যাক্টিভ থাকা, প্রচারণা চালানো আমাদেরই কর্তব্য। আমাদের সবচাইতে বড়ো কাজ যেটা করা উচিত তা হলো, কোনো পোস্ট বা কমেন্ট লেখার সময় অন্য দলের সাপোর্টারদেরকে কটাক্ষ করে কিছু না বলা।

বাংলাদেশের ফুটবল কিংবা ক্রিকেটের জন্য যদি কোনোদিন কেউ চিৎকার দিয়ে থাকেন, এক ফোঁটা চোখের পানি ফেলে থাকেন, তবে সেই ব্যক্তিই প্রকৃত দেশপ্রেমিক। আইসিসি চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর সারাদেশ আনন্দের বন্যায় ভেসেছিল, সেই ক্রেজ বহুদিন ছিল, ফুটবল ক্রেজ নিভে গিয়েছিল। তার মধ্যেও বাংলাদেশ সাফ চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় দেশ কিছুটা উত্তাপ ফিরে পেয়েছিল। মেয়েরা চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় দেশে ফুটবল ক্রেজ ফিরে আসতে শুরু করেছিল। সান মারিনোকে হারিয়ে ছেলেদের ফুটবল একটু ক্রেজ এনে দিয়েছে। তবে, অনেক টুর্নামেন্টেই বাংলাদেশের পরাজয় দেশবাসীর হৃদয় ভেঙে চুরমার করেছে। যারা ঐ চুরমারের শামিল ছিলেন, তাদেরই দেশের প্রতি মায়া আছে।

আপনার অন্য লেখা কখনো পড়েছি কিনা মনে পড়ে না। যাদের লেখা ভালো, কমেন্টে ম্যাচিউরিটি থাকে, তাদের লেখা আমি পড়ি ও কমেন্ট করি। কমেন্টের উত্তর দেয়ায় আরো প্রাজ্ঞ হবেন, এ আশা রাখি। শুভ কামনা আপনার জন্য।

২০ শে জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩২

শেহজাদ আমান বলেছেন: আমার কমেন্টই শুরু হয়েছে- আপনার মন্তব্য ভালো লেগেছে- এই কথা দিয়ে। এরপরও আপনার এত সেন্টি খাওয়ার কারণ কী? আমার কাছ থেকে আর কতটা সীমাহীন সৌজন্যতা আশা করেছিলেন আপনি? আর, আপনি যে ব্রাজিল সমর্থক- আমার এই অনুমান কি ভুল? ভুল হলে আমি দুঃখিত এটুকু বলতে পারি?

৬| ২০ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১১:০৬

ইফতেখার ভূইয়া বলেছেন: মানবীয় খেলায় অতিমানব হলেতো সমস্যা B-) যাইহোক, আপনার দৃষ্টিভঙ্গি আমি বুঝতে পারি। তদুপরি, গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যেটা সেটা হলো যারা পুরষ্কার দিচ্ছেন তারা খুব সম্ভবত আপনার মতো করে বিবেচনা করছে না। তাদের প্যারামিটার ক্লিয়ারলি আপনার আমার চেয়ে ভিন্ন। এটা মেনে নেয়া ছাড়া খুব বেশী কিছু আর করার নেই। ধন্যবাদ।

৭| ২১ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১২:১৪

জ্যাক স্মিথ বলেছেন: মেসির প্রতি অবিচার করা হয়েছে।

৮| ২১ শে জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:২৯

সৈয়দ মশিউর রহমান বলেছেন: বিচারক প্যানেলে অনেক ফুটবলবোদ্ধা আছেন তারা নিশ্চয়ই কম হিসেব করেননি?

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.