| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
ছবি
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে দাঁড়িয়ে আছি প্রায় চল্লিশ মিনিট। এক জায়গায় এতক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলে সাধারণত দুই ধরনের সন্দেহ হয়- এক, লোকটা কিছু করতে এসেছে। দুই, লোকটার করার কিছু নেই। আমি কোনোটাই না। আমি এসেছি রাষ্ট্রীয় প্রয়োজন নিয়ে।
দুনিয়া কী ভাবলো, সেটা নিয়ে আমার মাথাব্যথা নেই। আমার মাথাব্যথা একটাই—কার্ড।
হঠাৎ পিছন থেকে মোটা গলার শব্দ।
: আপনি কে?
ঘুরে দেখি এক ভদ্রলোক। ভদ্রলোক বললাম সৌজন্যে। আসলে তিনি ছিলেন এক চলমান ভুঁড়ি, যার সঙ্গে মানুষ অংশটা পরে যুক্ত করা হয়েছে। শরীরের সঙ্গে ভুঁড়ির অনুপাত ঠিক ছিল না। যেন আলাদা প্রকল্পে বানানো।
: কী ব্যাপার, কথা বলেন না কেন?
: জ্বি, একটা জরুরি কাজে এসেছি।
: এপয়েন্টমেন্ট আছে?
: না। এপয়েন্টমেন্ট থাকলে তো ভেতরে থাকতাম, বাইরে আপনার সঙ্গে পরিচয়পর্ব করতাম না।
: এপয়েন্টমেন্ট ছাড়া কেউ ঢুকতে পারবে না। গেট থেকে সরে দাঁড়ান।
: ছোট্ট একটা কাজ। পাঁচ মিনিটের।
লোকটা চোখ ছোট করলো। তারপর কণ্ঠ নরম হলো।
: আমাকে বলেন। দেখি কী করা যায়।
আমি সঙ্গে সঙ্গে বুঝলাম—এটা সাহায্যের কণ্ঠ না, এটা কমিশনের কণ্ঠ। মুরগি ধোয়া শেষ, এখন মসলা মাখানোর ধাপ।
: জলদি বলেন। রোদের মধ্যে দাঁড়ায় কথা বলতে ভালো লাগে না।
: আসলে আমার ফেসবুক মনিটাইজেশন অন হয়েছে।
লোকটা থমকে গেল।
: কি অন হয়েছে?
: মনিটাইজেশন।
: এইটা কি রোগ নাকি?
: না, টাকা আসার ব্যবস্থা।
লোকটার চোখে সম্মান নেমে এলো।
: আলহামদুলিল্লাহ! টাকা আসবে? তাহলে তো বসে কথা বলা দরকার। আসেন।
তিনি আমাকে রাস্তার পাশের এক মিষ্টির দোকানে নিয়ে গেলেন। এসি রুম। বসার সঙ্গে সঙ্গে বললেন-
: একটা আনারের ড্রিংক দেন ভাইকে। ঠান্ডা। বেশি ঠান্ডা।
আমি অবাক। এই দেশে আত্মীয়রাও এত যত্ন করে না।
ড্রিংক হাতে দিয়ে লোকটা সামনে ঝুঁকল।
: এখন খুলে বলেন।
: টাকা আসবে, কিন্তু একটা সমস্যা আছে।
: কী সমস্যা?
: ডুয়েল কারেন্সির ডেবিট কার্ড লাগবে।
: ডুয়েল মানে?
: দুই মুদ্রা। দেশি-বিদেশি। ডলার ঢুকবে, টাকা বের হবে। আধুনিক জিনিস।
লোকটা গভীরভাবে মাথা নেড়ে বুঝার ভান করলো।
: এইটা ব্যাংক দিবে না?
: দিবে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী এখন যেভাবে সবাইকে ফ্রি কার্ড দিয়ে যাচ্ছেন, ভাবলাম সরাসরি উৎসে গেলে দ্রুত হবে।
: মানে?
:এই যে ভোটার কার্ড, স্বাস্থ্য কার্ড, স্মার্ট কার্ড, কৃষি কার্ড, সুবিধা কার্ড, সেবা কার্ড, ভবিষ্যতে হয়তো হাঁস-মুরগিরও কার্ড আসবে... তো আমি ভাবলাম আমারটাও দিয়ে দিলে ক্ষতি কী?
লোকটা এত জোরে হাসলো যে পকেটে থাকা চাবি কেঁপে উঠলো।
: ভাই, আপনি মানুষ ভালো। আগে বলেন নাই কেন?
: আপনি কি ব্যবস্থা করতে পারবেন?
: চেষ্টা করবো। আপনি একটা কাগজে লিখে দেন।
দোকান থেকে কাগজ-কলম এলো। আমি লিখলাম:
Dual Currency Card Needed for Meta Monetization. Urgent National Interest.
“Urgent” শব্দটার ওপর তিনবার দাগ টেনে বোল্ড করে দিলাম।
লোকটা কাগজ হাতে নিয়ে কৃতজ্ঞতার হাসি দিলো। এমন হাসি আজকাল খুব কম দেখা যায়। যেন কেউ তাকে মানুষ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।
যাওয়ার আগে ক্যাশিয়ারকে বললো-
: ভাই যা খেতে চায় দিবেন। বিল নিবেন না। আমি আসতেছি। উনি বিল দিলে আমি যে লজ্জা পাবো, সেই লজ্জা কবর পর্যন্ত যাবে।
এই বলে লোকটা ভেতরের দিকে রওনা দিল।
সে যেতেই ক্যাশিয়ার ছেলে পাশে এসে ফিসফিস করলো-
: স্যার, আপনি উনার সাথে ফাজলামি করলেন?
: কেন?
: ডেবিট কার্ড দেয় ব্যাংক। আপনি নিতে আসছেন প্রধানমন্ত্রীর কাছে!
আমি দীর্ঘশ্বাস ফেললাম।
: বাবা, এই দেশে যিনি কার্ড বুঝেন না তিনি গেটে চাকরি করেন। আর যিনি কার্ড বুঝেন তিনি মিষ্টির দোকানে ক্যাশিয়ার। এটাকেই প্রশাসনিক ভারসাম্য বলে।
ছেলেটা চুপ।
বিকেল নেমেছে। ঢাকার গরম কমে মিষ্টি বাতাস বইছে। মন ভালো হয়ে গেল।
ভদ্রলোকের “বিল দিয়া লজ্জা দিবেন না” অনুরোধ রক্ষা করতে আমি শুধু এক গ্লাস ড্রিংক খেয়ে উঠিনি। রাষ্ট্রের সম্মান রাখতে ২ কেজি সন্দেশ, ৬ ক্যান আনারের ড্রিংক, আর আধা কেজি কাজুবাদাম প্যাকেট করলাম।
লোকটা আর ফেরেনি।
আমি মনে করি, সে এখনও কোথাও দৌড়াচ্ছে-রাষ্ট্রের কার্ড ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে।
২৮ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৮:০২
এস.এম. আজাদ রহমান বলেছেন:
হা হা হা
ভাইয়্যা চিঠি না কার্ড?
২|
২৮ শে এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৫:২৫
রাজীব নুর বলেছেন: পড়লাম।
২৮ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৮:৩৯
এস.এম. আজাদ রহমান বলেছেন: ধন্যবাদ রাজীব ভাই।
©somewhere in net ltd.
১|
২৮ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৭:৫৭
স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: যিনি কার্ড বুঝেন তিনি মিষ্টির দোকানে ক্যাশিয়ার।
...........................................................................
যাহার জন্য প্রযোজ্য
এই ধরণের চিঠি বাজেয়াপ্ত করা উচিৎ
কারন আমাদের সবাইকে,
পবিত্র হয়ে আবার নূতন করে পড়া লেখা শুরু করা উচিৎ ।